# নাম- '
যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'(আধ্যাত্মিক)
পর্ব- ১৩
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম মার্গটের জন্য ভগবান ভাগ্যলিপি কিরকম আঁকলেন,যার মধ্যে ছোট্ট মার্গটের জীবন কোন অপেক্ষায় রইল?
অল্প বয়সে বাবার মৃত্যুতে সংসারের অভাব আরো তীব্র। অভাবী কন্যা মেরীর সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে এলেন পিতা হ্যামিল্টন। তিনি দুই বোন মার্গারেট ও মে'কে ১৮৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে পাঠালেন ইয়র্কশায়ারের 'ক্রশলি হিথ' আবাসিক স্কুলে।
কংগ্রিগেশনালিস্ট চার্চের অধীন এই বিদ্যালয়ে মূলত ধর্মযাজক পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করে। এখানকার নিয়ম শৃঙ্খলা বড়ই কঠোর। সকলের প্রতি প্রধান শিক্ষিকা মিস ল্যারেটের কড়া নজর। এখানকার পরিবেশ ছোট্ট মার্গারেটের মানসিকতার সঙ্গে খুব মিলেছে। খুব খুশি। এখানে শিক্ষার প্রথম সোপান আত্মত্যাগ ও দীনতার শিক্ষা। রুটিন বাঁধা দিনের শেষে, তিনি সকল ছাত্রীদের নিয়ে বসতেন, প্রত্যেকের ভুল ত্রুটি কোথায় ধরিয়ে দিতেন।
এই স্কুলে এসে মার্গটের লাভ হল, আরো আপন করে পেলেন বাইবেল চর্চাকে। আর সংযমী আত্মশাসন, সাথে সাথে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেলেন। কঠোর শৃঙ্খলার মরুভূমিতে পেলেন নিজস্ব আনন্দময় জগতকে। আবাসিকরাও মার্গটে খুব ভালবাসা উজাড় করে দিত। মার্গট সকলের মধ্যমণি হয়ে উঠতেন। সকলে সমবেত হলে ভূতের গল্প চলত, বাইবেলের গল্পে আসর খুব জমত।
জুলাই মাসে ও বড়দিনের ছুটিতে দুই বোনকে এক শিক্ষিকা ফ্লিটউড স্টেশনে এসে ট্রেনে তুলে দিতেন। ট্রেন থেকে নেমে জাহাজে চেপে আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিতেন। দাদু হ্যামিল্টন বেলফাস্ট বন্দরে নামিয়ে নিতেন। ওত ছোট বোনকে নিয়ে এভাবে যাতায়াতে কোথাও ভয় তাঁকে গ্রাস করতো না,বরং খুব উপভোগ করতেন। মনে উৎসাহ টগবগ করত। দাদুর কোলে আদর খাওয়ার আনন্দ ভেবে।
দাদুর কাছে ছোট্ট ভাইটিকেও পেয়ে যেতেন। মা মেরি বাবার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। দাদুর কাছে এসে প্রাপ্তির ভাঁড়ার উপচে পড়ত। দাদু হোমরুল আন্দোলনের নেতা। নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে সভা সমিতিতে যেতেন। দাদুর কাছেই তাঁর ধর্মবোধ ও স্বদেশপ্রেমের দুই ভাব হৃদয়ে যুগলবন্দী ঘটত। তারপর ছুটি শেষ হয়ে যেত। আবার স্কুলে যাওয়া। সঙ্গে বাক্স বোঝাই করে বইপত্তর নিয়ে নিতেন। ক্লাসের সিলেবাসের চেয়ে বাইরের পড়ার জগতই তাঁকে বেশি করে টানত। বইগুলোর মধ্যে থাকত যেমন শেক্সপিয়ার, মিলটন, আয়ারল্যান্ড মুক্তি আন্দোলনের শহীদ এলসমারের জীবনী, বিপ্লবীদের স্মৃতিকথা। এসবই ছিল তাঁর রবিবারের ভোজ।
ইতিমধ্যে পেলেন নতুন প্রধান শিক্ষিকা মিস অ্যাঞ্জেলা লুইসা কলিনজ। তিনি সবার থেকে অনেক আলাদা তা মার্গারেট অচিরেই বুঝতে পারলেন। মার্গারেট একদিন তো কলিনজের কাছে বলেই বসলেন - "ভগবান আছেন মানলাম, তাঁকে আমি জানতে চাই, বুঝতে চাই।" তারপর কি হল আসবো পরের পর্বে...
(চলবে)
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
সত্যি দাদা মনে হচ্ছে এক্ষুনি পরের পর্ব হাতে পেলে খুব ভাল লাগত।
উত্তরমুছুনআছে তো। দেব। ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💥💥💫💫💅💅💅
মুছুনঅনেক সুন্দর হচ্ছে। অনবদ্য👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤🙏🙏
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর রচনা,তথ্য সমৃদ্ধ।
উত্তরমুছুন