বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

# বিষয় - আধ্যাত্মিক ( পর্ব - ৬)

   # নাম - 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি ' ।।
                 

(আধ্যাত্মিক)
                  পর্ব-৬

     ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
   ব্রাহ্মসমাজে দু'জনেই  উপাসনা সঙ্গীত গাওয়ার জন্য সমাজের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ গান লিখতেন,আর সুর-তাল সহযোগে অপূর্ব কন্ঠে গাইতেন, ততোধিক সুন্দর কন্ঠে আরেক জন যে গান গেয়ে থাকেন,তা রবীন্দ্রনাথের অল্প-স্বল্প জানা ছিল। যে কিনা শৈশবে বৈষ্ণব চরণ বসাকের সঙ্গে 'সঙ্গীত কল্পতরু' নামে সঙ্গীত সঙ্কলন সম্পাদনা করেছিলেন। যাঁর সঙ্গীত সম্পর্কে মত ছিল , ঈশ্বরকে স্মৃতি পথে  রাখবার প্রধান সহায় সঙ্গীত। আর তা যদি হয় উপাসনা সঙ্গীত তাহলে তো কথাই নেই। তাই সঙ্গীত সম্পর্কে বলা হয়,"Music is the mediator between the spiritual and the sensual life."(Von Beethoven)
      এই ধারায় রবীন্দ্রনাথ হিন্দুস্থানি ধ্রুপদ ভেঙে ব্রাহ্মসমাজের জন্য উপাসনা সঙ্গীত রচনা করতেন। এর মূলে রামমোহন রায় ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অনুপ্রেরণা। অবশ্যই অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ,জ্যোতিরীন্দ্রনাথ প্রমুখ ছিলেন পথপ্রদর্শক। তাঁদের প্রবল ভক্তি রসস্রোতধারার ঘরানায় রবীন্দ্রনাথ এনেছেন অভিনব শৈলি,যাতে দেখা যায় রাগের  মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে রাগের বহিঃর্ভূত ভাবপ্রধান হয় গানগুলি। যেমন "আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু,বিরহ দহন লাগে..."-গানটিতে চারটি রাগ(ললিত,বিভাস,যোগিয়া,আশাবরী)-কে একযোগে প্রয়োগ করে রাগের নির্দিষ্ট ছককে ভাঙতেই সুর হয়ে গেল ভাবপ্রধান। গাইয়ে রবির শিক্ষাগুরু ছিলেন ওস্তাদ বিষ্ণু চন্দ্র চক্রবর্তী ও রাধিকা প্রসাদ গোস্বামী।
    আর নরেন্দ্রনাথের সঙ্গীত চর্চার পিতা বিশ্ব নাথ দত্ত ছিলেন প্রথম গুরু। রাইপুর থেকেই পিতার সাহায্যে হিন্দুস্তানি ধ্রুপদে দক্ষতা অর্জন এত অল্প সময়ে,যা অভাবনীয় ছিল। ক্রমে উপাসনা সঙ্গীতের ধারায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, খেয়াল, টপ্পা,ঠুংরিতে অগাধ ব্যূৎপত্তি ও অগাধ ব্যাপ্তি জন্মে। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে ওস্তাদ বেণী মাধব অধিকারীর কাছে নিয়মিত তালিম নিতেন। বেণী ওস্তাদের গুরু আহম্মদ খাঁ নরেনের সঙ্গীত প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন-
   'তোর কাছে আমাদেরো শেখার আছে।'
   বেণী ওস্তাদ বলতেন-
   '...থামিসনি নরেন,তোর গান থামলে মনে হয় পৃথিবীর গান বন্ধ হয়ে যাবে...'।
   আহম্মদ খাঁ ডেকে বললেন-
   'তোকে আমি হিন্দির সঙ্গে উর্দু আর ফার্সি গানও শেখাব।'
  ওস্তাদ উজির খাঁ বললেন -
      'তোর মতো শিষ্য পাওয়া ভাগ্যের কথা।'
   কানাই লাল ঢেঁড়ি, জগন্নাথ মিশ্র নরেনের দেবদূত কন্ঠস্বরে মন্ত্র-মুগ্ধ হতেন।
       রবীন্দ্রনাথ ও নরেন্দ্রনাথের সঙ্গীত ঘরানায় ব্রাহ্মসমাজই অনুঘটকের কাজ করেছিল। ১৮৮১ সাল ছিল সেই এক যুগান্তকারী ঘটনা!
             (চলবে)

  @ copyright reserved for Mridul Kumar Das. 


১১টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ এই অধ্যায়। দুই হীরের দ্যুতি।।

    উত্তরমুছুন
  2. দারুণ বিষয় নিয়ে লিখছো।খুব ভালো লাগলো।চালিয়ে যাও ভাই।

    উত্তরমুছুন
  3. ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনুপ্রাণিত। ❤❤🙏🙏

    উত্তরমুছুন
  4. দুই বিদগ্ধ মানুষের সুর রসে সিক্ত হলাম।

    উত্তরমুছুন

বন্ধ ঘরের জানালা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বন্ধ ঘরের জানালা ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ফাইনাল পরীক্ষার শেষে তিন্নি আর ওর ভাই টুবাই এসেছে মামাবাড়িতে। এসে দাদু দিদা মামা মামীদের আদর যত্নে ওরা ...