রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

বিষয় : সমালোচনা (আধ্যাত্মিক) #নাম : খন্ডিতা # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 


আমার বধুঁয়া আন বাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া... রাধিকা ক্ষুব্ধ কৃষ্ণের প্রতি। মনে মনে ভেবে নিয়েছেন এতো প্রত্যাখ্যান। বৈষ্ণব পদাবলী ও সাহিত্য অনুসারে কৃষ্ণকে পাবার রস বিভাজনের সর্বোচ্চ পর্যায় মধুর। বাৎসল্য সাখ্য ইত্যাদি পেরিয়ে মাধুরে ভক্ত পূর্ণাঙ্গ রূপে সমর্পিত এবং সাধন স্তরের শেষ পর্যায়ে উপনিত হয়। মানুষের জীবন চক্রের মধ্যদিয়ে জীবন সত্য বা বৈষ্ণব সাধনা তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অতি সহজ করে বলা হয়েছে বলেই হয়ত সাধারনের কাজে সহজে গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। তাই সাধারণ মানবী প্রেমিকার মতো মান অভিমান চাওয়া পাওয়া ইর্ষা অভিযোগ দিয়ে ভরা রাধা। মাধুর রসে এসে রাধাকে পাই। ধীরে ধীরে কৃষ্ণের নামে দর্শনে অনুভবে কৃষ্ণকে মন মন্দিরে স্থাপন করেছে। নিত্য তার অভিসার। এমন ভাবেই বৈষ্ণব পদগুলি ভাগ করা হয়েছে রাধার আবেগের পর্যায়ে। আক্ষেপ অনুরাগের পর্যায়ে জ্ঞানদাসে রাধা সমাজ ও ভক্তির মাঝে দ্বিধান্দোলিতা। প্রম গর্বিনী এখানে অশ্রুসিক্তা। এত কলঙ্ক মেখে যার জন্য ঘর ছাড়ল সেই যদি অন্য ভক্তে আশ্রিত হয় তবে তো ক্ষুব্ধ হবেই রাধা। বিদ্যাপতি অভিসারিনী রাধার কষ্টকর পথচলাকে গভীর ভাবে এঁকেছেন। সেই কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে, সেই উৎকন্ঠা সয়েও তুমি যখন আমার নিও তখন নায়িকার যে ক্ষুব্ধ রূপ বর্নিত তাই খন্ডিতা , মান ও কলহান্তরিতা নামে পরিচিত। এই অবস্থায় রাধা বেশ কিছু পথ চলে এসেছে কিন্তু এখনও বাকি। মনের মাঝে এখনও ঈর্ষা মান অভিমানের ঢেউ বাকি। এখানে সে বারে বারে নিজেকে উপেক্ষিত ও প্রত্যাখ্যাত মনে করেছে। কিন্তু সব থেকে কাছে যে তাকে কি ফেলা যায়? কৃষ্ণ বলেছেন রাধা আছে তাই তার অস্তিত্ব। রাধার মধ্যে কৃষ্ণ বিরাজমান। এসব কিছু শুনতে চায় না রাধা। এখানে বাঙলা ভাষার পদাবলী সাহিত্যকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছেন জয়দেব " দেহি পদ পল্লবমুদারম্। "


ধন্যবাদ🙏সুপ্রভাত বন্ধুরা🌼

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

৩টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...