আগে যা ঘটে ছিলো : কলেজ ক্যান্টিনে পল্লবীর ভুতে বিশ্বাস নিয়ে বন্ধুরা ঠাট্টা তামাশা করলে পল্লবী রেগে যায় এবং বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ জানায় সে তাদের ভুতে বিশ্বাস করিয়ে ছাড়বে।সুমিত আর গণেশ চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করে।দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ থাকার পরে হটাৎ ওরা পল্লবীর কাছ থেকে msg পায়।ওরা মুঙ্গেরে চায়ের দোকানির কাছে ওদের গন্তব্য সার্কিট হাউসের ইতিহাস শুনতে থাকে।গল্প শেষে দোকানী ওদের সেখানে যেতে মানা করতেই একটা অঘটন ঘটে।তারপর------
"আরে রামজি ,কাট লিয়া রে"দোকানীর ভীত সন্ত্রস চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে সুমিত আর গণেশ দেখে একটা কালো বিড়াল জাতীয় কোনো পশু অকস্মাৎ ঘরের কোন থেকে দোকানির উপর হামলা চালিয়েছে।দোকানী হাত ঝটকাতে সে প্লাস্টিকের দরজা ভেদ করে খৃপ্ত গতিতে বাইরে বেরিয়ে গেলো।দোকানীর মুখ লক্ষ্য করে জন্তুটা আক্রমন করেছিলো সেখান থেকে গল গল করে রক্ত ঝরছে।সুমিত তাকে সাহায্য করতে এগোতেই দোকানী চিৎকার করে ওঠে নিকাল যাও মেরি দুকান সে,তুমকো মানা কিয়া ইসলিয়ে শয়তান মুঝপে হামলা কিয়া।অভি ইসিবক্ত নিকলো ইহাসে।একপ্রকার ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ওঁদের জল কাদায় বাইরে বের করে দিয়ে দোকানের ভাঙা দরজা বন্ধ করে দেয়।গণেশ বলে আজব লোক মাইরি একটু আগে খাতির করে গল্প করছিলো ,কোথাকার কোন একটা বুনো জন্তু ওকে আক্রমন করলো।আমাদের ঘাড় ধরে বার করে দিলো!ওটা কি আমাদের পোষা মাল নাকি।রাগে অন্ধ হয়ে নীচে পরে থাকা কাদা মাটির একটা ঢেলা তুলে নিয়ে প্রবল আক্রোশে দোকানের বন্ধ দরজায় ছুড়ে মারলো।
নির্জন রাস্তায়,অবিরাম বৃষ্টি, শন শনে হাওয়া।দিনের বেলায়ও মেঘের দাপটে অন্ধকার হয়ে রয়েছে।একবার মনে মনে ভাবলাম পল্লবীর হটাৎ পাওয়া msg এ এই ভাবে না এলেই ভালো হতো।অচেনা যায়গা ভুতের ভয় না করলেও খুনে গুন্ডার অভাব নেই বিহারের এই দেহাতী গ্রাম গুলোয়।বিস্তীর্ণ জলে ভরা চাষের জমির মাঝে সরু ইঁটের রাস্তা , রাস্তা বললে ভুল হয় কাদার উপর দিয়ে আমরা দুজন একাকী চলতে লাগলাম।ভাগ্গিস দুজনে বর্ষাতি এনেছিলাম না হলে ছাতা নিয়ে এই হাওয়ায় চলা যেতো না।কিন্তু লোকালয় বিহীন রাস্তায় উদ্ভ্রান্তের মতো আর কতটা দূরে সার্কিট হাউস সেটা আমরা বুঝতে পারছিলাম না।হটাৎ আমার বাম পকেটে msg টোন বেজে উঠলো।ফোনটা বের করে দেখি সেই রজতের নম্বর থেকে msg ,আরো তিন কিলোমিটার এগোলেই ডান দিকে নদীর তীর ধরে সোজা রাস্তায় মিনিট ২০হাঁটলে সার্কিট হাউস পেয়ে যাবি।এদিক ওদিক তাকিয়ে কোনো জনমানব দেখতে পাই না,কিন্তু এটুকু বুঝতে পারছি অলক্ষে কেউ যেনো আমাদের লক্ষ্য রাখছে।তবেকি পল্লবী আর রজত প্লান করে আমাদের ভয় দেখাতে চায়।মিসিং ফিসিং ঢপের এখানে এসে দুজন বিয়ে করে হানিমুন করতে এসেছে।সেই সুযোগে চ্যালেঞ্জের প্ল্যান টা পল্লবী কষে নিয়েছে।বন্ধুদের সঙ্গে দেখাও হবে আর ভুতের ভয় দেখানো হবে।কারণ এই ধরনের দুস্টু বুদ্ধিতে পল্লবীর জুড়ী মেলা ভার।হটাৎ গণেশ চিৎকার করে ওঠে সুমিত সামনে দেখ।আমি ভীত চোখে দেখি ওই কর্দমাক্ত পথে আমাদের ঠিক আগে আগে একটা কালো মতো জন্তু চলেছে।জন্তুটা বড়ো অদ্ভুত দেখতে না বেড়ালের মতো ছোট না কুকুরের মতো বড়ো।খানিকটা ভোডাফোনের কুকুরটার মতো।তবে এটা কুকুর নয় আমি সিওর।জন্তুটা কিছুটা গিয়ে পিছন ফিরে তার হলুদ জ্বল জ্বলে চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে থেমে দাঁড়িয়ে আছে।আমরা সামনে এগোতেই সে সামনের দিকে চলতে থাকে।এ যেনো মহাপ্রস্থানের পথে চলেছি আমরা জন্তুটা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে।
বিশাল সার্কিট হাউসে সামনে আমরা যখন পৌঁছুলাম তখন ঘড়ি বলছে বিকেল চারটা কিন্তু আশেপাশের গাছ পালায় ঢাকা সার্কিট হাউসে যেনো অন্ধকার নেমে এসেছে,ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা শব্দে পরিবেশ আরো মায়াময়ী হয়ে উঠেছে।প্রধান ফটকের উপর ফার্ন জাতীয় কোনো গুল্ম লতায় ঢাকা।আশেপাশে কাউকে দেখাও যাচ্ছে না।এবার আমার রজত আর পল্লবীর উপর খুব রাগ ধরলো,এ কি ধরনের রসিকতা।আফটার অল আমাদের যেখানে ডেকেছে সেখানে নিজেদের থাকা উচিত ছিলো।হটাৎ গণেশের ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে।এতক্ষন তো আমাদের কারো ফোনেই টাওয়ার ছিলো না।বোধহয় এখন টাওয়ার এসেছে।গণেশ দেখি বেশ উচ্চস্বরে অপর প্রান্তের মানুষটিকে খুব ঝরছে।"তোরা ছাবলামী করছিস ,এতটা পথ একটা গাড়ী পাঠাস নি,একটা লোক পাঠাস নি,এখন ঢোকার দরজায় তালা।পল্লবী ইয়ার্কির একটা সীমা থাকে'বুঝলাম পল্লবীর ফোন।আমি গণেশ কে বলি দে দে ফোনটা আমাকে।গণেশ রাগত ভাবে আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়।আমি ফোনটা নিয়ে হ্যালো হ্যালো করতে দেখি অপরপ্রান্ত নিশ্চুপ।ফোনটা নিজের দিকে করতে ডিসপ্লে দেখে আমার চক্ষুস্থির হয়ে যায় একটুও টাওয়ার নেই।আমি গণেশের দিকে ফোনটা বাড়িয়ে বলি কি বললো পল্লবী।গণেশ একটু বিরক্ত হয়ে বললো কি আর বলবে।ও খুব খুশী হয়েছে আমরা এসেছি বলে,এক্ষুনি কেয়ারটেকার আসছে সার্কিট হাউস খুলে দেবে।আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না এই সব হাবিজাবি কথা।গণেশের কথা শেষ হয় না দূরে একটা আলোর বিন্দু দেখতে পাই। সেই আলো আসতে আসতে বড়ো হতে হতে আমাদের কাছে এগিয়ে আসে।একজন দেহাতী মানুষ একহাতে দুটো হ্যাজাক আর এক হাতে পুটুলী বাঁধা কিছু,খাটো কাপড়,মাথায় গামছা,একটা বেঢপ ছাতা মাথায় আমাদের সামনে এসে বললো"বাউজি হামি রতনলাল আছে।আজ শুভে আপকা আনে কা তার মিলা, ম্যায় ইস হাভেলিকা দেখ ভাল করতা"আমি বুঝলাম কতো দেখভাল সে করে তার নমুনা বাড়ির ঢোকার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে।কিন্তু এটা আমি বুঝতে পারলাম না আমাদের এখানে আসার তার কে করলো।হটাৎ করে গণেশ আর আমি বেরিয়ে পড়েছি।দুজন ভিন্ন অন্য কেউ তো এ ব্যাপারে বিন্দু বিসর্গ জানে না।কে তবে পর্দার আড়ালে আমাদের লক্ষ্য করে চলেছে।রতনলাল আবার বলে"বাবু এ লিজিয়ে মাকান কা চাবি,নিচে কা দোনো রুম মে সে কই ভি লে লিজিয়ে। ম্যায় সাফ করকে রাখে হ্যায়, সামনে বালা গাঁও মে মেরা ঘর শুভে আকে টিফিন উফিন করা দুঙ্গা।"আমি বলি তারমানে রাতে তুমি এখানে থাকো না।রতনলাল মাথা ঝুকিয়ে ঘাড় নেড়ে না বলে।গণেশ কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলে,ডর লাগতা হ্যায়।আমি জিজ্ঞাসা করি কিসের ভয়।রতনলাল কথা বাড়ায় না প্রধান দরজার থেকে কিছু দূরে একটা ছোট দরজার তালা খুলে,নিজের কাঁধের ঝোলা থেকে দুটো টিফিন কেরিয়ার আমার হাতে দিয়ে বলে"ইসমে রাত কা খানা, রোটি মানস, পানী রুম মে শুভে রাখে হ্যায়, জলদি খা কে শো জানা।"এই বলে দ্রুত চলে যেতে চায়,হটাৎ কি মনে করে ফিরে এসে বলে "বাবু কুছ ভি হো যায় রাত মে রুম কি বাহার মত আনা"কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে সামনের কোনো একটা গাছ থেকে প্যাঁচা, কি ছাতার পাখির ডাক অট্টহাসি র মতো নিরবতা ভেঙে চুর চুর করে দেয়।রতনলালের মুখ ভয়ে সাদা ছাইয়ের মতো হয়ে যায়।সে প্রায় দৌড়ে বাড়ির দিকে ছুট দেয়।আমরা খানিকটা হতবম্বের মতো তার যাওয়ার পথে চেয়ে থাকি।তারপর দরজা ঠেলে সার্কিট হাউসের ভিতর ঢুকি।সামনের দিকটা একটা বিরাট মাঠের মতো,দুটো বার পোঁতা মনে হচ্ছে এটা একটা ব্যাডমিন্টন কোর্ট এখন আগাছায় ঢেকে গেছে।একটু এগোতেই দেয়াল ঘেষে একটা তিরপল চাপা দেওয়া মোটর গাড়ী রয়েছে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায়।তিরপলটায় অজস্র ছিদ্র,নাম্বার প্লেটে শেষ দুটো অক্ষর দেখা যাচ্ছে 13।
গণেশ গিয়ে একটা ঘরের দরজা খোলে।দরজাটা খোলার সঙ্গে সঙ্গে একটা পরিচিত মিষ্টি গন্ধ আমাদের নাকে এসে লাগলো।দুজন দুজনের দিকে চাইলাম,এ গন্ধ আমাদের খুব পরিচিত কিন্তু কিভাবে দুজনেই বুঝতে পারলাম না।ঘরে ঢুকে দেখি একটা সুসজ্জিত পালংক,পাশেই টেবিল তার নিচে একটা কুঁজো,খাটের সামনা সামনি একটা পুরোনো কাঠের সুসজ্জিত আলমারী তার উপরে একটা আয়না লাগানো।হ্যাজাকের আলো উঁচু করে ধরতেই খাটের কোনের দিকে লক্ষ্য যায়।ওখানে কালো মতো ওটা কি।আমাদের হতচকিত করে একটা বিশ্ৰী শব্দ করে যেটা ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো সেটা আর কিছুই ছিলো না সকালে দেখা সেই জন্তুটা আর ঠিক সেই সময় আমরা দুজনেই। অস্ফুট শুনতে পেলাম কেউ যেনো বলছে ওয়েল কাম ফ্রেন্ড।
ঘরের লাগোয়া বাথরুমে একটু ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসি।একটু শীত শীত লাগছিলো এই সময় চায়ের খুব প্রয়োজন ছিলো।হটাৎ গণেশ বলে সুমিত টেবিলের উপর একটা ফ্যাক্স ছিলো খেয়াল করেছিলি।আমি টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখি সত্যি সেখানে একটা ফ্লাক্স রাখা,আমি অবাক হয়ে ভাবতে থাকি এতো বড়ো ফ্লাক্স কি ভাবে আমার চোখ এড়িয়ে গেলো।তারপর ভাবলাম রতনলাল হয়তো রেখে গেছিলো তারা হুড়োয় ভুলে গেছে।গণেশ ফ্লাক্স খুলে বলে আরে ইয়ার একেবারে গরম চা ধোঁয়া বেরোচ্ছে।আমরা আর ফ্লাক্স রহস্য উদঘাটন করার ইচ্ছা প্রকাশ না করেই কাঁচের গ্লাসে ঢেলে চুমুক মারলাম।আহ কতদিন বাদে যেনো এই চা খাচ্ছি।গণেশ বললো সুমিত দেখ একেই বলে বিহারীরা জাত ভাই।চায়ের টেস্ট দেখ একেবারে কলেজ ক্যান্টিনের মনুয়ার চায়ের মতো।আমি ভাবি ঠিকই তো এতো সেই ক্যান্টিনের চায়ের স্বাদ।এসব কি কাকতলীয়??
অতো পথ হেঁটে এসে এমনিতেই ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম,আর খিদেটাও জম্পেশ পেয়েছিলো।তাড়াতাড়ি দুজনে রুটি মাংস খেয়ে শুয়ে পড়লাম ।বাইরে একটানা বৃষ্টি পড়ে চলেছে,ঠাণ্ডাও বেশ ।পল্লবীর এহেন ব্যবহারে আমরা বেজায় ক্ষুব্ধ একবার দেখা পর্যন্ত করলো না,এটা কি ধরনের সভ্যতা।এদিকে আর এক বিপদ দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করার উপায় নেই খিলটা ভাঙা।যাই হোক মেন দরজায় তালা দিয়ে দরজা চেপে আমরা শুয়ে পড়লাম।নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।তখন কতো রাত জানিনা হটাৎ একটা মেয়ের প্রচন্ড আর্তনাদে ঘুম ভেঙে গেলো।সারাঘরে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ঠিক মর্গের ভিতরে যেমন মাংস পচা গন্ধ বেরোয়।বাইরে কারা জেনো দৌড়া দৌড়ী করছে।গণেশের ও ঘুম ভেঙে গিয়েছিল।দুজনেই ভয় পেয়ে গোয়েছিলাম,না সেটা ভুতের ভয় নয় হয়না বা বন শিয়ালের তাদের চিৎকার খানিকটা আর্তনাদের মতো,এবং তাদের গায়েও ওই বিকট গন্ধ বেরোয়।আমাদের সাথে অস্ত্র বলতে কিছু নেই দুটো টর্চ ছাড়া।এদিকে দরজায় ভিতর থেকে লক করার উপায় নেই।ভীত সন্ত্রস্ত আমরা প্রথমে দরজার দিকে লক্ষ্য করি।না সেটা বন্ধ আছে,দুজনে কাল বিলম্ব না করে টেবিলটা টেনে সেখানে আটকে দিই।বাইরে সেই দৌড়া দৌড়ী চলছে এবার যেনো সেটা আমাদের ঘরের বাইরে।হটাৎ একটা দমকা হওয়ায় বাগানের দিকের জানলাটার পাল্লা খুলে গেলো।আধা অন্ধকারে বাইরে দুটো ছায়া মূর্তি।নির্ঘাত চোর ডাকাত মনের সমস্ত সাহস সঞ্চয় করে টর্চের বোতাম টিপলাম।বাইরে যে দৃশ্যের সামনে আমরা পড়লাম তার জন্য আমরা তৈরী ছিলাম না।আমাদের সমস্ত রোমকূপ খাড়া হয়ে গেলো।
----- চলবে----

বেশ ভালো লাগলো। পরের টার অপেক্ষায় রইলাম।
উত্তরমুছুনবেশ ভালই এগোচ্ছে। চলুক আছি সঙ্গে। ধন্যবাদ। 👌👌👍👍💯💯❤❤💫💫💥💥
উত্তরমুছুনগায়ের রোম খাড়া হয়ে গেল।দ্রুত পরেরটা চাই।
উত্তরমুছুন