# নাম- 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি'।।
(আধ্যাত্মিক)
(পর্ব- ৩)
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
ঠাকুরের ভক্তের আর শেষ নেই। কাতারে কাতারে মানুষের ঢল নেমেছে ঠাকুরের কথা শুনতে। ভক্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
গৃহী ভক্তদের কাছে ঠাকুর তাদের মতো দেহধারী মানুষ। আবার অবতারও। অবতার বলে মানে কারণ ঠাকুর এতো ভালো ভালো কথা বলেন,হৃদয় মন প্রাণ একেবারে জুড়িয়ে যায়! যেন প্রাত্যহিক ভাব বিনিময়ের ভাষায় গীতার ভাষ্যকার। যেন অজ্ঞানীকে জীবনের চতুর্দিকে ছড়িয়ে থাকা ঘটনাগুলোর যত সহজ উদাহরণ দিয়ে ততোধিক সহজ ভাষায় শিক্ষা দেন।
এই শিক্ষা লাভে কে নেই- ক্ষুদ্র-বৃহৎ, উচ্চ-নীচ,উত্তম-অধম,সংসারী-বৈরাগী,মাতাল-কামুক... আরো কত কত! এর কি আর শেষ আছে! দক্ষিণেশ্বরে বসে এক ভাব-পাগল ঠাকুর আটপৌঢ়ে কথায় অমৃত বিতরণ করছেন।
ঠাকুর অবতারের মান্যতা পেয়ে গেছেন। এই জনপ্রিয়তার মাঝে ঠাকুর এবার ভক্তের পরীক্ষা নেবেন। ঠাকুর পরীক্ষা করে দেখতে চাইলেন, এরা কেমন ভক্ত! তবে ভক্ত যে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কিন্তু ভক্তদের একটা সংশয় যে ঘিরে আছে সে ব্যপারে নিঃসংশয়।
এই সংশয় থাকতে থাকতে ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ মানে ঠাকুরের লীলা শেষ হলেই তারপর ঠাকুর হবেন ইতিহাস। তা কি হয়। না হতে দেওয়া যায়। জগৎ যতদিন ঠাকুরের লীলা ততদিন। না হলে কীসের ঠাকুর।! কিসের অবতার!
তাই গলায় ধারণ করলেন কর্কট রোগ। রক্ত-বমি সহ নানা উপসর্গে ঠাকুর কাহিল। তাই দেখে গৃহী ভক্তদের মনে সংশয় - ঠাকুর যদি অবতার হন তাহলে 'সিদ্ধাই'-এর জোর দেখাচ্ছেন না কেন? তাহলে এতদিন ধরে যে অবতার মানা হল তা কি বৃথা! আর সাধারণের মত রোগ জ্বালায় যদি ভুগবেন তো সাধারণের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? কিসের জন্য অবতার বলে মানা হলো? ঠাকুরকে ঘিরে নানা সংশয়ের বেড়াজালে যে যার মত নিজেকে আবদ্ধ করে দূরে সরে থাকল। আসলে দূরে সরিয়ে দিলেন ঠাকুর নিজেই। এই যে যাঁরা দূরে সরে থাকলেন,আর দূরে থেকে ঠাকুরের দিকে নজর দিয়ে বসে থাকলেন,এহেন ভক্তদের ঠাকুর বললেন 'বাইরের থাক' (স্তর)। আর 'ভেতরের থাক'- এ যাঁরা হবেন ঠাকুর নিজেই ঠিক করে দিলেন তাঁরা কারা। তাঁরা হলেন নরেন্দ্রনাথ ও গুরুভাই রাখাল,বাবুরাম,নিরঞ্জন,যোগীন্দ্র,
কালী,শশী,তারক,লাটু,শরৎ, গোপাল। এই এগারো জনকে প্রথমেই একসাথে গেঁথে দিয়ে সূচনা করে যান ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘ।
এঁরা কিভাবেই বা সংঘভাবে আবদ্ধ হলেন। বা ঠাকুর আবদ্ধ করলেন!
ঠাকুর বড়ই অসুস্থ। ঠাকুরকে সুস্থ করে তুলতে নরেনসহ সকল গুরুভাইদের খুব দরকার। সেই সেবার জন্য প্রত্যেকেই ঘর ছাড়লেন। এলেন একই ছাতার তলায়। ঘর ছাড়ার আগে পর্যন্ত ঠাকুরকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকেই ঘণিষ্ঠ সম্পর্কে 'আপনি', 'আপনার' সম্বোধনে বাঁধা পড়তেন। বেশ দূরত্ব বোঝা যেত। ঠাকুর তাঁদের সবাইকে সেবার সুযোগ করে দিতেই তাঁরা 'তুই'- 'তাকারি'-তে গড়াল। এল অন্তরের টান। তাঁরা হলেন সংঘবদ্ধ। আর ঠাকুর নরেনকে বুঝিয়ে দিলেন পরবর্তী কর্মপদ্ধতির কথা। ঠাকুরও বলে দিলেন নরেনই বিশ্বসংসার সামলাবে। অমৃতলোকে যাত্রার আগে নরেনকে বলে গেলেন ঠাকুর - যিনিই রাম তিনিই কৃষ্ণ একদেহে 'শ্রীরামকৃষ্ণ'
ঠাকুরের সেবার উদ্দেশ্যে সেই যে তাঁরা ঘর ছেড়ে ছিলেন,আর ঘরে ফিরলেন না। সকলে সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা নিলেন।
ঠাকুর নেই। কাজের আসল শুরু তো এবার। প্রতিষ্ঠিত হল শঙ্করাচার্যের মতো মঠ ও মিশন। এই মঠ ও মিশনের মাধ্যমে ঠাকুর হলেন চলমান। আজও চলেছেন - ঠাকুর, শ্রীমা, স্বামী বিবেকানন্দ।
কিভাবে নরেন্দ্রনাথ দত্ত স্বামী বিবেকানন্দ হলেন, সেই রূপান্তরের কথায় যথাসময়ে আসব, নতুবা সলতেটা ঠাকুর পাকিয়ে কিভাবে প্রদীপ জ্বেলে ছিলেন ঠাকুরের এই লীলা কথা যে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
(চলবে)
@copyright reserved for Mridul Kumar Das.
খুব ভালো লাগলো। চলুক।
উত্তরমুছুনপ্রভাতে গুরু নাম শুনিলে দিন যায় ভালো🙏🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনদারুন
উত্তরমুছুনপ্রাণ ভরিয়ে দিলি ।🌺🌺🌺🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনজ্বলন্ত প্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হব, সেই আশায় আমি।চলতে
উত্তরমুছুনথাকুক অপূর্ব এই লেখনী।