মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

পরিচয়। কলমে--(- পারমিতা মন্ডল।)

নাম---পরিচয়।
কলমে-- পারমিতা মন্ডল।

(গল্পের আকারে লেখার চেষ্টা করলাম ।)

আজ পাঁচ বছর হলো তোমাদের ছেড়ে চলে এসেছি । এখন আমি অনেক ভালো আছি, নিজের মতো করে । আগে যে খুব খারাপ ছিলাম তা নয়। তবে বিয়ের বাইশ বছর পর যখন তুমি বললে , আমি কোন কাজের নয়, আমি কিছুই  পারিনা , অকম্মার ঢেকি , তখন একবারের জন্য হলেও মনে হয়েছিল ,এই তোমাকে আমি চিনি না । 

যে মানুষটার সাথে আমি  এতো বছর ঘর করলাম সে অন্য কেউ । যার জন‍্য আমি আমার সমস্ত স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলাম । নিজের জন্য একটুও সময় না রেখে তোমাকে কিভাবে আরো ভালো রাখা যায় , কিভাবে তোমার আরো উন্নতি হয় তার জন্য রাতদিন খেটেছিলাম । সে মনে হয় তুমি নয়। যাকে ভালোবেসে জীবনের বাইশটা বছর কাটিয়ে দিলাম , একবারের জন্য নিজের কথা না ভেবে  সে তুমি নয়।

আজ তুমি অনেক বড় চাকরি করো । আর আমি বেকার। আমি বোকামি করেছি । নিজেকে সময় দেইনি একটুও। ভাবিনি নিজের জন্য । তাই তো তোমার কাছে তোমার ছেলের কাছে আজ আমি ফুরিয়ে যাওয়া ব‍্যাকডেটেট একটি মানুষ ।  আমার ছেলে , যাকে কষ্ট পেতে দেইনি জীবনে একটুও ,সেও যখন বলল , আমি কিছুই পারিনা । আমাকে নিয়ে লোক সমাজে যাওয়া যায় না , তখন বিশ্বাস করো , সবচেয়ে বেশী রাগ হয়েছিল নিজের উপর। কেন নিজেকে তৈরী করিনি ? কেন একটু সময় নিজের জন্য রাখিনি ?

  আজ যদি তোমাদের জন্য নিজের পুরোটা না দিয়ে ,নিজের জন্য সময় রাখতাম, নিজের ক‍্যরিয়ার গড়তাম তাহলে আজ হয়তো একথা আমাকে শুনতে হতো না । জীবনের বাইশটা বছর আমি তোমাদের জন্য ব‍্যায় করে ফেলেছি । ভুলে গিয়েছিলাম আমিও মানুষ। আমার ও কিছু চাওয়া পাওয়া আছে।  ভেবেছিলাম তোমাদের সুখই আমর সুখ । তোমরা ভালো থাকলে আমি ভালো থাকবো । তাই কখনোই নিজের জন্য সময় ব‍্যায় করিনি। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগা সব ভুলে গিয়ে শুধু তোমরা কিভাবে ভালো থাকবে সেই চিন্তা করেছি। আমি ভুল করেছি । আর আমার মতো ভুল বেশীর ভাগ মেয়েই করে। 

 ছেলে আজ প্রতিষ্ঠিত । তুমিও ভালো আছো তোমার মতো করে। কিন্তু আমার কোন অস্তিত্ব ছিল না তোমাদের কাছে। সারাদিন তোমাদের ফাইফরমাস খাটা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। তারপর উঠতে বসতে তোমার অপমানটা ছিল উপরি পাওনা। তাই ছেড়ে চলে এলাম । দেখি নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারি কিনা নতুন করে ? হ‍্যাঁ, আমি পেরেছি। তোমাদের ছেড়ে আসার পর অনেক সময় বেঁচে গিয়েছিল নিজের সাথে কাটানোর জন্য। আর তাকে কাজে লাগিয়ে  আমি আবিষ্কার করেছি আমার নতুন প্রতিভা । আজ আমি একজন সফল লেখিকা। কাগজে আমার নাম দেখে থাকবে। 

যাকে একদিন তোমরা বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলে , যার পরিচয় দিতে কুন্ঠা বোধ করতে, আজ হয়তো তার পরিচয়ে গর্ববোধ করবে। আমি তোমাকে দোষ দেবোনা। দোষ ছিল আমার। আমি নিজের জন্য সময় রাখিনি।  কিন্তু আমার প্রথম প্রয়োজন তো আমি নিজেই ছিলাম । তাই নিজেকে তৈরী করা, একান্ত ভাবে নিজের সাথে সময় কাটানো খুব দরকার প্রতিটি মানুষের।  পরিবারকে ভালো রাখার সাথে সাথে নিজেকেও ভালো রাখতে হবে। এবং যুগের সাথ তাল মিলিয়ে চলতে হবে । যাতে বাইরে থেকে কেউ আঘাত করে চুরমার করে দিতে না পারে। নিজের আলাদা জগত থাকলে যে কোন বড় আঘাত সামলে নেওয়া যায়। 

  

৪টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...