রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

চিলেকোঠার শকুন (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)

 চিলেকোঠার শকুন


#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী

তারিখ : ১৯/০৭/২০২১


ছোট্ট মেয়েটার রোজ নিম্নাঙ্গে ব্যথা, রক্তপাত । দাদুভাই কেন যে এই খেলাতা খেলে কে দানে! আবাল কাউকে বলতেও বালণ কলেতে । বলে দিলে নাকি আমি আল দাদুভাই দুজনেই মলে যাবো । বাবালে, কাউকে বোব্ব না ।


আজকাল চিলেকোঠার ঘরের নাম শুনলেই ভয় হয় ছোট্ট বাবলির । এই খেলার শুরু খুব একটা বেশীদিন নয়, এই সবে সপ্তাহ দুয়েক । সেদিন দুপুরে ও একা খেলছিল চিলেকোঠার ঘরে বসে । দাদুভাই এসেছিল আচারের বয়াম নিতে । হটাৎ ওকে দেখে ঢুকে এলো ঘরে । ওর আচার খাওয়া বারণ । খেলেই  গলায় ইনফেকশন হয় ।


দাদুভাই বললো, "আচার খাবে মামণি!"

বাবলি : হুম, তুমি দেনো মা-কে বলে দিয়োনা । মা মালবে ।

দাদুভাই : ঠিক আছে, বলবো না । আচার দেবো অনেকটা, আগে একটা খেলা খেলবো দুজনে মিলে ।

বাবলি : তাই! তুমি খেব্বে আমাল ছাথে!


সেই শুরু হল খেলার ।


তখনকার চার বছরের বাবলি আজ বাইশ বছরের তরুণী । চিলেকোঠার ঘরটা আজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে । ওই ঘরেই দাদুভাইয়ের শ্রাদ্ধ আজ । চিলেকোঠার ঘরে পড়ে ছিল দাদুভাইয়ের প্রাণহীন দেহটা । সবাইকে খবরটা দিয়েছিল কাজের মেয়ে বকুল । ছুটে গেছিল সবাই ছাদে । চিলেকোঠার ঘরের মাঝামাঝি চিৎ হয়ে পড়ে আছে দাদুভাই । চোখদুটো বিস্ফারিত । নিম্নাঙ্গ ভেসে যাচ্ছে রক্তের স্রোতে ।


সেদিকে দেখে বাবলি আর বকুল একে অপরকে চোখের ইশারায় বলে উঠলো, "ভালো মানুষ ছিলেন, বাচ্চাদের সাথে খেলতে বড়ই ভালোবাসতেন ।  এভাবে চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি । সবই ঠাকুরের ইচ্ছা ।"

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...