শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

#নাম- মাতৃভাষা ও বিতর্ক। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ বিতর্ক সভা। 
  # বিষয় - *বিতর্ক।*
 #নাম - *মাতৃভাষা।*
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

     ভাষা ভাবের বাহক। ভাব বিনিময়ের ভাষার একটা কথ্যভাষা। আরেকটি লেখ্যভাষা। সকল ভাষার এই দুটি রূপ লক্ষনীয়। আবার ভাষার লিখিত ও কথ্যের মধ্যে আবার কথ্যভাষাই ভাষার গতি নির্ণয় হয়েছে। যেমন বৈদিক লিখিত ভাষা থেকে কিন্তু পালি ও প্রাকৃত ভাষা আসেনি। এসেছে কথ্য সংস্কৃত থেকে। মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা।
  আমরা বাঙালি বাংলা ভাষা  বলি। ভাষাগত জাতির পরিচয়ে আমরা বাঙালি জাতি। তাই মাতৃভাষা বাংলা। এই মাতৃভাষা নিয়ে যত গন্ডগোল। কারণ আন্তর্জাতিক হতে হলে কমিউনিকেশন ভাষা ইংরেজি। মাতৃভাষার উপর তখন কোপ। সব দেশে এ এক কঠিন বিধিলিপি। আর ভারতবর্ষের মত বহুভাষী দেশের কপালে তো বেশী দুর্ভোগ। ইংরেজির গুরুত্ব কমাতে একসময় বিশ্বে ভোলাপুক,এসপারেন্ত নামক কৃত্রিম ভাষা এল। কিন্তু ইংরেজির কাছে ধোপে টিকল না। ব্যাকরণগত কাঠামোর দুর্বলতার জন্য। ইংরেজি বিশ্বের বলিষ্ঠ ভাষা আজও মর্য্যাদায় আসীন। কারণ বিশ্বব্যাপী ইংরেজি ভাষার সাম্রাজ্যবাদী দিগ্বিজয়ে ইংরেজির গঠনটাই বলিষ্ঠ রূপ পেয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শাসন গেছে কিন্তু ইংরেজি ভাষার সাম্রাজ্যবাদ বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি,বরং আরো বলিষ্ঠ হয়েছে। ভারতবর্ষ ব্রিটিশ উপনিবেশের জন্য কি ইংরেজি পদে পদে গতিবিনা গুরুত্ব। তা কিন্তু নয়। যেমন জাপানে বা চীনে তো ব্রিটিশরা উপনিবেশ করতে যায়নি। তাহলে তারা ইংরেজির মহিমা স্বীকার করে ইংরেজি ভাষাকে ধ্যান জ্ঞান করেছিল কেন? জাপানে ইংরেজি শেখানো এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। শুধু কি চিন,জাপান এখন কোরিয়া,মালয়েশিয়া, তাইওয়ান,ফিলিপাইন- পূর্ব এশিয়ার তাবৎ দেশগুলো সরকারিভাবে স্থির করে ফেলেছে ইংরেজি বিনা গতি নেই। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর তো এমনই মনোভাব- 'ইংলিশ ইজ দ্য ল্যাঙ্গোয়েজ অব টুডে'জ ওয়ার্ল্ড,হোয়াই উই লাইক ইট অর নট।' এ সম্পূর্ণ এক ব্যবহারিক বুদ্ধির কাছে আত্মসমর্পণ।
   বৈদেশিক শাসন যখন যেমন এসেছে সেই শাসক তার ভাষাকে সরকারী কাজের ভাষা করেছে। যেমন- একসময় দমভোর আরবী ফার্সী ভাষা শিখতে হয়েছিল,সরকারী চাকরীর জন্য। আবার ইংরেজরা আসতে ইংরেজি ভাষা। আর তার হাত থেকে বাঁচার জন্য মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের মত জোর প্রচার করেও হালে পানি না পাওয়ার ওষ্ঠাগত প্রাণ অবস্থা হয়েছিল। এই মাতৃভাষার ব্রাত্য হওয়ার জন্য একটি মধ্যপন্থা ব্যাখ্যা - শিশুর চারমাস বয়স পরে যদি মাতৃদুগ্ধের পাশে সেরেলাক শিশুর পুষ্টির সহায়ক হয়,তাহলে মাতৃভাষার পাশে ইংরেজি ভাষার একটা পুষ্টিকর অবস্থার আপত্তি কোথায়? সত্যিই করে বলতে কেনো ভাষা যদি ইংরেজি হয়,সিস্টেমের সেভাবেই চল হয়,তাহলে ইংরেজি না শিখে উপায়ন্তর আছে কি? নেই তো। 
  বাংলা অধূনা বাংলাদেশের মাতৃভাষা। বিশ্ব তাই জানে। ভারতের হিন্দী। সেখানে একটা প্রদেশের মাতৃভাষা বাংলা দিয়ে তো আর দেশের ভাষা হতে পারে না। যেখানে বহুভাষী দেশের নানা ভাষা,দেশের কমন কোনো ভাষা তো একটা চাই। ইংরেজি তার সহায় হল। 
  বিজ্ঞান চর্চার সমস্তটাই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি,বায়োলজি,ম্যাথেমেটিক্সের কোনো টার্মের বাংলা পরিভাষা আছে কি? অক্সিজেন,হাইড্রোজেন, পটাসিয়াম,নাইট্রোজেন,পার অক্সাইড থেকে শুরু করে জীববিজ্ঞান,পদার্থবিজ্ঞান সব তো ইংরেজির পরিভাষার ছড়াছড়ি। রেল দফতরের সব ইংরেজি শব্দ। ব্যাঙ্ক, বীমাকোম্পানীর সব ইংরেজি শব্দের কেবল ব্যবহার। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে সব ওষুধের নাম ইংরেজি,ওষুধ কোম্পানি সহ ওষুধের নাম ইংরেজি। ইংরেজিতে গড়গড়িয়ে বললে  কেউকেটা। রবীন্দ্রনাথ 'গীতাঞ্জলি'র জন্য নোবেল পেলেন ইংরেজি অনুবাদ থেকে। শুতে,উঠতে, বসতে,খেতে ইংরেজি ভারতের বহুভাষী দেশের কমন কমিউনিকেশন ভাষা। সাংসদ অধিবেশন হবে,ভাষা হয় হিন্দী নয় ইংরেজি। বাংলাভাষা সংসদে বললে কেউ বুঝতে পারবে না। কেজো ইংরেজি ভাষা না শিখলে চাকরি জুটবে না। সবাই যতই বাংলা ও বাঙালি বলে গলার শিরা ফুলিয়ে গলা ফাটাক না কেন,বাংলা শিখলে চাকরীর বাংলার বাইরে কোনো গুরুত্ব নেই। এই যে বাংলাভাষায় ইঞ্জিনিয়ার বিভাগে পড়াশোনার চল আসতে চলেছে,সেই চাকুরী বলতে তো বিদেশে। বাংলার বাইরে। তখন ইংরেজি সম্বল। তাহলে মাতৃভাষার গুরুত্ব কোথায় রইল? 
    শাসক সম্প্রদায় বা যে দেশনেতা মাতৃভাষার জন্য খুব গলা ফাটান,তিনিই আবার নিজের সন্তানকে বিদেশে পড়াতে পাঠান ইংরেজিতে ভরসা করে।
  তবে হ্যাঁ,ইংরেজিকে মাতৃভাষা বলে গ্রহণ করতে খুব খুব মনোঃকষ্ট আছে,আবার এও ছাড়া এক পাও চলার উপায় নেই। তারচেয়ে বললে কেমন হয় ইংরেজি পিতৃভাষা। সে যাই হোক কি মাতৃ,কি পিতৃ কি যায় আসে,মাতৃভাষার আছে মাতৃভাষায়। আর কেনো ইংরেজি যতদিন কাজের হয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকবে,সে মাতৃভাষার জন্য গলাফাটানো,আর ইংরেজির আদ্যশ্রাদ্ধ যতই করা হোক,ইংরেজি মাতৃভাষা বলতে যতই বিবেকের দংশন হোক,ইংরেজিকে মাতৃভাষার মতো রপ্ত না করলে পেটে ভাত জুটবে না।
 এখন যা আর্থ সামাজিক অবস্থা মাতৃভাষা ও বিদেশী ভাষা হাত ধরাধরি করে চলে,আর মাতৃভাষার চেয়ে ইংরেজি ভাষায় রপ্ত যত বেশী হবে,তত সমাজের একজন কেউকেটা বলে প্রমাণ করতে পারবে। তাই ইংরেজি ভাষা ধনীর অট্টালিকা থেকে গরীবের পর্ণকুটির ইংরেজির তরঙ্গ অহরহ ধেয়ে চলে।
            ******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার।

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...