# বিষয় - 'বিশ্ব এইডস দিবসে
#নাম- 'এইডস ভাইরাস'
✍ মৃদুল কুমার দাস।
করোনা ভাইরাসে বিশ্ব কাবু। এইডস ভাইরাসের কবলে বিশ্ব এখনও নিরাপদ নয়। করোনার মতো বিশ্বকে দ্রুত গ্রাস না করলেও ১৯৮০-র দশকে ভয়ঙ্কর রূপেই হানা দিয়েছিল। এই রোগ সংক্রমণের সবচেয়ে বড় কারণ যৌন সংসর্গ,তাই রক্ষণশীল সমাজের বদলে যেখানে ব্যাভিচার বেশি সেখানেই এই মারণ রোগ ছিল লাগাম ছাড়া। এই রোগের প্রকোপ উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকা ছিল তুলনামূলক বেশি- কাতারে কাতারে মানুষ মৃত্যুর মিছিলে সামিল হয়েছিলেন।
ভাইরাস বিচিত্র জড় বস্তু। নিজে কোনোরূপ বংশ বিস্তার লাভ করতে পারে না। কিন্তু জীব কোশে ঢুকলেই শুরু হয়ে যায় বংশ বৃদ্ধি।
এইচ আই ভি হলো রেট্রো ভাইরাস। মানে উল্টো কাজে খুব পারদর্শী। অন্যরা যেখানে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড(DNA) থেকে রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (RNA) বানায়,সেখানে রেট্রোভাইরাস বানায় RNA থেকে DNA। শরীরে ঢুকেই HIV আক্রমন করে শ্বেতকণিকাকে। যাদের নাম 'টি কোশ'। বুকের ওপরের দিকে থাইমাস গ্রন্থিতে এই কোশ বড় হয় বলে একে 'টি কোশ' বলে।
রোগ প্রতিরোধে এই টি কোশ প্রধান ভূমিকা নেয়। আর এই টি কোশেই প্রথমে HIV আশ্রয় নেয়। টি কোশ নিজের কাজের বদলে HIV-র দাসের পরিণত হয়। টি কোশ তখন নতুন নতুন HIV তৈরির কারখানা হয়ে ওঠে।
এই HIV র বিরুদ্ধে প্রথম ১৯৮৭ সালে আমেরিকা ওষুধ বের করে। নাম অ্যাজিডোথাইসিডিন( AZT)। এর কাজ হলো টি কোশে HIV বংশবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই AZT আশানুরূপ ফল দানে ব্যর্থ হলো। কারণ পরিসংখ্যান বিচারে ভুল ছিল।
গবেষণায় জানা গেল এইডস এগোয় তিন পর্যায়ে। প্রথম সপ্তাহে রোগ প্রবল। দ্বিতীয় ধাপে রোগের লক্ষণ বেশ প্রশমিত। এটি একটি লঙ্ প্রসেস- কারো কারো ক্ষেত্রে বছর দশেক গড়াতে পারে। আর তৃতীয় তথা অন্তিম দশায় রোগ জানিয়ে বসে। আর রোগী মৃত্যুদিন গোনে।
যখন প্রথম পর্যায়ে শুরু হচ্ছে তখন জ্বর,গায়ে চাকা চাকা দাগ বা মামারা শুরু হয়। এই সময় টি কোশের সংখ্যা দশ ভাগ কমে যায়। আর তার স্থলে ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে মানব দেহের সর্বশক্তিমান ক্ষমতা দিয়ে লড়তে থাকে। তাই দ্বিতীয় পর্যায় একটি লম্বা প্রসেস। আর পর্যায় রোগীর অন্তিম দশা।
ATZ ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৯৪ সালে এলো প্রোটিয়েজ ইনহেবিটর। এটি ভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ করে। অর্থাৎ টি কোশে ভাইরাস যাতে না বাড়ে সেই ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে।
এই দ্বিতীয় স্তরটিই ভেরি ইন্টারেসটিং।
এই নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণায় নামলেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড দাই হো ও অ্যালান এস পেরেলসন। হো জীব বিজ্ঞানী,আর পেরেছেন থিওরিটিক্যাল ইমিউনোলজিস্ট।
এঁরা দু'জন ক্যালকুলাসের সাহায্যে ভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ে সংখ্যার গতিবিধি-রেট পর্যবেক্ষণে নামলেন। অর্থাৎ এই সময় ভাইরাসের রেট কীভাবে বাড়ে কমে তারই পরিসংখ্যান বিচার করা।
এই দ্বিতীয় পর্যায়ে ভাইরাসের চরিত্র বুঝতে পারলেন যে ভাইরাস এই সময় ঘুমিয়ে থাকে না। বরং দ্রুত হারে সংখ্যা বৃদ্ধিতে সক্রিয় থাকে। আর দেহের রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষের ফলে রোগীর দেহে লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। হাজার কোটি ভাইরাস উৎপন্ন হলে হাজার কোটি কোশও সমানে টক্কর দিতে থাকে।
হো ও প্রয়োগ দেখালেন এই যে লড়াই,তার জন্য কোশকে বাইরে থেকে সাহায্যের দরকার। সেই সাহায্য একটি ওষুধে হবে না,ভাইরাস তাকে সহজেই বশে এনে ফেলবে। তাই ককটেল থেরাপিতে একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। এই একাধিক ওষুধের বিরুদ্ধে ভাইরাস লড়তে নামে বলেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীর শরীরে এইডসের প্রকোপ দীর্ঘসূত্রী হয়।
হো ও পেরেলসনের এই ককটেল থেরাপি এইডস চিকিৎসার নতুন দিগন্ত সুচিত করলেন। ককটেল থেরাপিতে চিকিৎসায় রোগ নির্মূল হয়নি সত্য,তবে এই চিকিৎসার ফলে রোগীর আয়ু ক'টা বছর বাড়তে সাহায্য করেছে।
হো-এর এই অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে 'টাইম' পত্রিকার বিচারে ম্যান অফ দ্য ইয়ার হন। আর পেরেলসন ২০১৭ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইমিউনোলজিতে অবদানের জন্য পান 'ম্যাক্স ডেনমার্ক প্রাইজ'।
আজ বিশ্ব এইডস দিবসে এই দুই বিজ্ঞানীদের জানাই অন্তরের শ্রদ্ধা ভক্তির প্রণাম ও ভালবাসা। ❤❤🙏🙏
অনেক তথ্য জানতে পারলাম, আপনার লেখায়।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ, গুরুদেব।💐
ধন্যবাদ। অনুপ্রাণিত। ❤❤💫💫💥💥
উত্তরমুছুন