ঊষর মরুর বুকে(অনুগল্প)
©সুদেষ্ণা দত্ত
অনিতা জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছে।বসন্তের পাতা ঝরার দুপুরে দূরে শোনা যাচ্ছে ফেরিওয়ালার ‘পুরোনো কাগজ,খাতা বিক্রি’র একটানা সুর।ফেরিওয়ালার সঙ্গে মনে মনে সেও হারিয়ে যাচ্ছে বাড়ী বাড়ী --যদি কোথাও খুঁজে পায় তার জীবনের ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’খানি।চুলে পাক ধরা তার বসন্তের শুস্কতাতেও হৃদয়ের কিছুটা জায়গা জুড়ে রয়ে গেছে বৃষ্টিস্নাত নরম মাটি।
হটাৎ সমরের ডাকে চমক ভাঙে।কি গো!তোমার ভাবসাগরে ডুব দেওয়া হল।এদিকে যে দুদিন পর ছেলের বিয়ে সে খেয়াল আছে!আঠাশ বছরের পুরনো স্বামী সমরের এহেন ধারাল কথাও তার রক্তাক্ত হৃদয়ে আজ আর রক্ত ঝরায় না।চিরকালের ‘বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না’ স্বভাবের অনিতা আজ নির্মোক ছেড়ে বলে ওঠে—’এ বাড়ীতে কাজের কথা ভোলার সুযোগ আবার কে কবে দিয়েছে’!আবহাওয়া গরম বুঝে নরম হয় সমর।
ছেলে সায়ন এসে ঘরে ঢোকে।মা-বাবার কথপোকথন শুনে সেও হাওয়া বুঝে মা’কে জড়িয়ে ধরে বলে,এখনো আমার উপর অভিমান করে আছ মা।দেখবে রাবেয়া খুব ভাল মেয়ে।খাঁটি হীরে চিনতে তোমার শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলে ভুল করেনি।এই বিয়েতে অনিতার ঘোর আপত্তি ছিল।সবাই ভাবে ধর্মীয় গোঁড়ামিই এর প্রধান কারণ।তার হৃদয়ের গভীরের ক্ষত সে এতকাল ব্যান্ডেজ বেঁধে রেখেছে।সায়ন-রাবেয়ার বিয়েতে যে সে আর রাবেয়ার বাবা রফিকের মুখোমুখি হয়ে তার এতদিনের জমা কষ্টে জলসিঞ্চন করতে চায় না।এতদিন নানা অজুহাতে সে রফিকের বাড়ী যাওয়া এড়িয়ে গেছে।কিন্তু বিয়ে হলে সেটা সম্ভব নয়।অনিতা ভাবে সমাজ,পরিবার আজ কত উদার!যে কাজটা তিরিশ বছর আগে রফিক করতে পারেনি,আজ সায়ন তা পেরেছে।
রাবেয়া এখন সায়নের স্ত্রী।স্মৃতির ছেঁড়া পাতা কিছুটা হলেও অন্যভাবে জোড়া লেগেছে।কিন্তু দুটো হৃদয়ে রেখে গেছে তার শুকিয়ে যাওয়া কালো দাগ।
ঊষর মরুর বুকে
গোলাপ কি ফোটে সুখে!
রক্তক্ষরণ অবিরত
নদী-নালা উপছে ক্ষত।
ছবি—গুগুল সৌজন্য
All copyrights are reserved for Sudeshna Dutta

দারুণ লেখনী । অপূর্ব👌🏻👌🏻👌🏻👌🏻
উত্তরমুছুন❤️
উত্তরমুছুনTor lekha pore ami mugdho.
উত্তরমুছুনTor lekha pore mugdho holam.
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর। 🌹🌹
উত্তরমুছুনদারুণ একটা গল্প! অসাধারণ! 👌👌💯💯💯❤❤💫💫💥💥💅💅
উত্তরমুছুনখুব খুব ভালো লাগলো.. From Aditi..
উত্তরমুছুনঅসাধারন!! অনবদ্য লেখনী
উত্তরমুছুনএত্ত সুন্দর লেখার জন্য অনেক ভালোবাসা জানাই, সু❤️😍
উত্তরমুছুনবেশ ভালো....
উত্তরমুছুন