বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয় - আলোচনা (প্রবন্ধ)# নাম : স্মৃতির ২৫ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বিষয় - *বাঙালিয়ানার মধ্যে বড়দিন কাটানোর বিগত অভিজ্ঞতা দাও সবাই। 


✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝


আজ খুব ভালো লাগবে লিখে। কারন এই ২৫শে ঘরে নিজেকে বন্দী করেছি। বন্দী কথাটা এই প্যান্ডামিকে একদিনও বলিনি। আজ বলছি। কারণ আজ সেদিন যেদিন বাঙালী, মূলত কোলকাতা ও তার আশেপাশের মানুষ আনন্দে মাতে। ছোট থেকে এমন দেখেই বড়ো হয়েছি। প্রাকৃতিক হিমেল আবহাওয়ার জন্য হোক বা ছুটি ছুটি ভাবের জন্য হোক, এই দিনটি খুশির দিন। 🍊কমলালেবু কেক চকলেট পিকনিকের দিন। আমরা মফস্বলে বড়ো হয়েছিলাম তবুও তখন এই আগ্রহ প্রবল ছিল। আগের দিন কোলকাতা বা ওখানের বড়ো দোকানে অডার দেওয়া থাকত। ওই সময় এ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হত, পিসির ছেলে মেয়েরা আসতো। সে এক হৈ হৈ ব্যাপার। তারপর পিকনিক, নদীর ধারে, সুন্দরবন বকখালি ফ্রেজার গঞ্জ, কিছু না পেলে নিজেদের বিশাল বাগান।আলিপুর চিড়িয়াখানা, সর্কাস।এ সব

মজা 😃 আনন্দ আজও ছুঁয়ে যায়, লিখতে বসে সেই চেঁচামেচি শুনতে পাচ্ছি। সেই ব্যস্ততা, সেই বাচ্ছা আমাদের হুটপাটি। কাকা কাকিমাদের অনাবিল হাসির আওয়াজ। বাঙালির বড়ো দিন এমন হাসির মহল না হলে হয় না। বাঁধনহারা একটা দিন। ফ্রাইরাস ফিসফ্রাই ভেজিটেবল চপ চিকেনের প্রিপারেশন আর খাবার ও মিষ্টি। নলেনগুড়ের সন্দেশ মোয়া একটা করে হাতে যদি দিয়ে যায়। খেলবো এক্কাদোক্কা সারা দুপুর জুড়ে। ব্যাডমিন্টন ভাইবোনদের সাথে, মা কাকিমা পিসিরা। এমন দিন অনেক পেয়েছি ,অন্ততঃ কলেজ যাওয়া পর্যন্ত। কখনও মাসি মামাদেরর দলের সাথে চন্দননগর, বেথুয়াডহরি, নীমপিঠ। বিশাল ট্রাকে গান চালিয়ে বেরিয়ে পড়া ত্রিশ জনের দল, আহা!! মনে হয় স্বর্গে আছি। 

একটু বড়ো হলাম বন্ধুবান্ধব, বড়ো দিন পার্ক স্ট্রিট, হোটেলগুলো, কিন্তু এসব সকালে, রাতে এলাউ ছিল না। তাই সন্ধ্যায় ফিস্টে পরিবারের সাথে আমি।  সখের বাজার সাহেবের মাঠে বাজি পোড়ানো দেখা, সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের চন্ডিরমেলা দেখা।আমার বিয়ে হওয়া পর্যন্ত। তারপর অন্য ইনিংস, অন্য কোন দিন। এরমধ্যে নৌকায় পিকনিক করেছিলাম সারাদিন, ফলতা থেকে ডায়মন্ডহারবার। সারাদিন নৌকা ভাড়া করে হৈচৈ। আমার এমন হতো পরিবার আর বন্ধুরা এক হয়েও মজা হয়েছে।সত্যি এখন ভাবি এখনকার বাচ্ছারা এই সব দিন দেখছে, ভয় সাবধানতা, সেই অনাবিল সোনালী দিন গুলোতে তাদের হাত ধরে নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। এখন ধর্মীয় গোঁড়ামির অসহিষ্ণু মুহুর্তে মনে হয় চিৎকার করে বলি খ্রিষ্টমাস 🍰আমার তোমার ছিল না। সব বাঙালীর বড়ো দিন ছিল। খুব ছোট যখন জানতাম না আমি খ্রীষ্টান নোই। মার হাত ধরে চার্চে গেছি বাবা উৎসাহ দিয়েছে ঘর সাজাতে। দাদু কিছু না হলে বলত- বড়ো দিন ছোট কেন?  করুনাময় ঈশ্বরের কাছে বলবো আনন্দে ভরে থাক বাঙালী , কিছু না ভেবে। 

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...