#বিষয়- 'অনুগল্প'
# নাম - 'স্মৃতির সংবহন'
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
রোজ ভ্যানে-রিক্সায় মিষ্টি ঝন্টু আর সব্জির বালু সাতটার মধ্যে গলিতে ঢোকে। এই না বললেও বিশ বছর ধরে।
রমা তার শাশুড়ির আমল থেকে এই দু'জনকে দেখে আসছে রটিনের হেরফের হয় না। ঝন্টু আগে,বালু পরে। শাশুড়ি শূন্যস্থানে রমাও অভ্যাস সমানভাবে রপ্ত করতে চায়। দেখেছে বাগানের সব্জির বদলে বালুর বাপ রতনের কাছে বদলা সব্জির নিতে। রমাও তাই করতে ইচ্ছুক। তাই বালুই তার ভরসা। এসবের আহ্লাদও বটে।
রমার বাড়ির পেছনে সব্জির মধ্যে লঙ্কা চারা,বেগুন চারা ক'টা পুতেছে। বালুকে বলে কয়ে আনিয়েছে। একটা লাউ গাছ,শিমুল গাছ হয়েছে আপনা থেকে বীজ পড়ে।দুটোই যৌবনের হল্লা তুলে বাওয়ার বা দৌড় দেওয়ার জন্য রমার অনিওর মার্ক সেট গোর জন্য সময় গুনছে। কিন্তু রমা নিতান্তই নিরুপায়। তাকে যে দৌড়নোর সুযোগ দেবে তার উপায় পাচ্ছে না। সে সরঞ্জাম কই। রোজ বালুর কাছে সব্জি কেনার সময় শোনাবে "দাম নিয়েছে বটে জাতের বেগুন ও লঙ্কা চারা আনোনি। গাছগুলো গতাচ্ছে না। বালু তোর বাসি সব্জির মতই শুকনো লাগে ওদের। কিন্তু লাউ ও শিম গাছ খুব টগবগিয়ে ছুটবে মনে হয়।"
বালু বলে "তাহলে দেখান দেখি আপনার গাছের অবস্থা কি!" রমা তখন বালুকে বলে "আরেকটু বড় হোক।"
রমা রোজ একথা ও কথা বলতে বলতে সব্জির দাম যতটা পারে কমায়। বালুর তাতে রাগ হয় না। ডবল দাম,ওজনের কারসাজি একটু আধটুতে পশিয়ে যায়। রমা দেবীরও বালুর সঙ্গে দর কষাকষি করে সব্জি কেনাটাও বেশ মজার।
বালুকে হাতে রাখতে হবে। গাছ ক'টা বড় হলে সব্জির বদলা সব্জি নেবে।
মনে মনে শাশুড়ির স্মৃতি জেগে ওঠে। একদিন বালুকে দিয়ে গাছগুলো যত্ন আত্তি করায়। লাউ ও শিমের পুব- পশ্চিমে দুটো ভারা বাঁধায়।
লঙ্কা গাছে, বেগুন গাছে ফলন বলতে ফলন। যেন বালুর হাতের ছোঁয়া অপেক্ষায় ছিল। শাশুড়ির শূন্যস্থান পূরণ হয়। বালুর কাছে রোজ সব্জি বদলা কেনে। বালুও লাভ পায় রমার সব্জি বেচে। রমার স্মৃতি পথে শাশুড়ির স্মৃতি ঐ লাউ,শিমুল,লঙ্কা,বেগুনে বেঁচে থাকে, রোজ পর্ব দিকে সূর্য ওঠার মতো লাগে।
দারুণ লাগলো দাদা👌🏻👌🏻👌🏻👌🏻
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥💅💅
মুছুনখুব ভালো লাগলো👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥🙏🙏
উত্তরমুছুনঅসাধারন প্রকৃতি প্রেমের এক গল্প পড়লাম দাদা
উত্তরমুছুনদারুন লিখ্লি রে 👌👌👌👌
উত্তরমুছুনগুরুদেবের লেখায় প্রকৃতি প্রেম ফুটে উঠেছে 👌👌
উত্তরমুছুন