নমস্কার পরিবারবৃন্দ। ভ্রমণ সম্মন্ধে আমার অনেকগুলো অভিজ্ঞতা আছে। তার মধ্যে একটা বিশেষ ঘটনা আমি উল্লেখ করতে চাই।
তখন আমরা মুম্বাই থাকি। আমার এক নিকট বন্ধু, যে সামরিক বাহিনীতে খুব উচ্চপদস্থ কর্মচারী। গোপনীয়তার জন্য আমি তার নাম উল্যেখ করছি না। সে আমাদের ফ্ল্যাটে সপরিবারে ঘুরতে এসেছিলো। সপরিবার বলতে অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী, এক কন্যা সন্তান (৪-৫ বছর হবে), আর উনার শ্যালিকা। আমরা দুটো পরিবার মিলে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম মুম্বাই এর বিভিন্ন জায়গা। আমার বন্ধু সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মচারী হওয়ায় আমরা সকল জায়গার নিরাপত্তা যাচাই এর বিশেষ সুবিধা পাচ্ছিলাম। অর্থাৎ আমাদেরকে খুব একটা কষ্ট করতে হচ্ছিলো না সিকিউরিটি চেকিং এ। এতে করে আমরা একটু বেশি উদাসীন আর হৈ হুল্লোড় করতে করতে ঘুরছি। তার সাথে আমাদের সঙ্গে ছিলো ৩-৪ জন দেহরক্ষী। আমরা তখন যেনো আকাশ হাতে পেয়ে গেছি। গেট ওয়ে অফ ইন্ডিয়া ঘুরে মেরিন ড্রাইভ এর দিকে যাবো। তখন কোনো বিশেষ কারণে মুম্বাই তে বিশেষ সতর্কীকরণ অবলম্বন করা হয়েছিল, সেই কারণে গাড়ি একটু দূরে দাঁড় করিয়ে আমরা পায়ে হেটে মেরিন ড্রাইভের দিকে যাচ্ছিলাম। আমি আমার মেয়ে অর্থাৎ সানার হাত ধরে হাটছিলাম। আমি একটু সামনের দিকে হাটছিলাম। বন্ধুর মেয়ে অর্থাৎ অনন্যার প্রতি আমি বিশেষ নজর রেখে চলছিলাম। প্রচন্ড ভিড় ওই সময়। আমি সামনের দিকে থাকায় বার বার ঘুরে সবাইকে দেখছিলাম, যে সবাই ঠিক ঠাক এগুচ্ছে কি না। হঠাৎ খেয়াল হলো অনন্যা কোথাও নেই। জিজ্ঞেস করলাম বন্ধুকে, তখন ওও যেনো সম্বিৎ ফিরে পেলো। অনন্যা কোথাও নেই। দেহরক্ষীরাও কিছু বলতে পারছে না, না অন্য কেউ কিছু বলতে পারছে। সবার প্রাণ বেরিয়ে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে ততক্ষনে। যে রাস্তা দিয়ে হেটে আসছিলাম আমরা, বন্ধু সেই রাস্তা দিয়ে উল্টে ছুট লাগালো। ওর সাথে আমরা দৌড়ে পারছিলাম না। ভিড়ে ভিড়। চারদিকে হাজার হাজার লোকজন, দেশি, বিদেশী, হকার সব। খুব শীঘ্রই দেখতে পেলাম আমার বন্ধু অনন্যাকে কোলে করে নিয়ে ফিরছে। গাড়ি থেকে নেবে যখন আমরা এগুচ্ছিলাম, সবাই অনন্যাকে ধরতে ভুলে গেছে। সে গাড়ি থেকে নেবে আমাদের পেছন পেছন একটু খানি হেটে, আমরা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ায়, ও একজায়গায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলো।
আমার বন্ধু আমার পায়ে পড়বে কি আমায় মাথায় রাখবে বুঝতে পারছে না। আমি যদি খেয়াল না করতাম, আর ১০ মিনিট দেরি হলেই নাকি অনন্যাকে কে আর চিরদিনের জন্য খুঁজে পাওয়া যেতো না।
ধন্যবাদ, সবাই ভালো থাকবেন।
🥺🥺😢😥
উত্তরমুছুনঅভিজ্ঞতা সতত সমৃদ্ধ। ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।👍👍👌👌💫💫💥💥💯💯❤❤
উত্তরমুছুনওইদিন তুমি না থাকলে কি যে হতো ভাবতেও গায়ে কাঁটা দেয় ।
উত্তরমুছুনশুনেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো😨😨😨😨😨ভাগ্যিস সেদিন আপনি ছিলেন,তাই একটা শিশু চিরকালের জন্য মা বাবা থেকেও অনাথ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলো
উত্তরমুছুনভাগ্যিস সেদিন তুমি ছিলে।অনন্যার কথা ভেবে আমারই আতঙ্কে বুক শুকিয়ে যাচ্ছে।
উত্তরমুছুনদেখো তোমাকে ইশ্বরই হয়তো পাঠিয়েছেন ওই সময় অনন্যার
উত্তরমুছুনকথা খেয়াল করতে। তুমি ছিলে বলেই ও আবার নতুন জীবন পেলো।
👍👍👍👌👌💐💐