ভ্রমণে গন্ডগোল
***************
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
ঘটনা ১):-
-------------
তখন ক্লাস টেনে পড়ি । পুরী বেড়াতে গেছি গরমের ছুটিতে । আমার এক বান্ধবীর পরিবারও সাথে ছিল । বেশ ভালো একটা হোটেলে উঠেছি । আনন্দে কটা দিন কেটে গেল । ফেরার দিন রাত্রে হোটেলের বাসে করে আমাদেরকে স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হলো । ট্রেন সবে ছেড়েছে । এমনসময় আমার মেজ জেঠু দেখলেন ওনার টাকার আর ক্যামেরা রাখা ব্যাগটা সাথে নেই । ওনার তো আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার জোগাড় । তাড়াতাড়ি চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে পড়লেন । তখনকার দিনে মোবাইল ফোনও ছিল না সবার কাছে । আমরা বসে টেনশন করছি কি হয়!!! কি হয়!!!! ট্রেন অনেকদূর চলে গেছে । খুরদা রোড জংশনে ট্রেন থামতে হটাৎ দেখি, আমার জেঠু ট্রেনে উঠলেন । হাতে ব্যাগটি ধরা । জিজ্ঞাসা করে জানা গেল সব ঠিক আছে ব্যাগের ভেতরে । হোটেলের লবিতে কেউ ওটা রেখে দিয়েছিল । জেঠু হোটেল পৌঁছতেই খুঁজে পেয়ে গেছেন । সেই প্রথমবার একটা কথা শিখলাম, কোনোভাবে ট্রেন মিস করে গেলে হাইওয়েতে গাড়ি ধরে নিলে, স্টেশন ছেড়ে চলে যাওয়া ট্রেনটি ধরা যায় ।
ঘটনা ২):-
------------
সেবারে বেড়াতে গিয়েছি মথুরা - বৃন্দাবন । সারাদিন ঘুরে হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় বসে বিশ্রাম করছি । পাশের চেয়ারটা খালি । আমি আনমনা চেয়ে আছি বাইরে রাস্তায় দিকে । পাশের চেয়ারে কেউ এসে বসলো । আমি ভেবেছি হয়তো মা কিংবা কাকিমা বসেছে । ক্লান্ত আর ভারী হয়ে আসা মাথাটা পাশে বসা ব্যক্তির কাঁধে রাখতেই আমার হাড়গোড় কেঁপে উঠলো, দাঁতে দাঁত লেগে গেলো । ওমা!!! দেখি এক প্রকান্ড হনুমান বসে আছে চেয়ারে । আমি অজ্ঞান হই আর কি । তারস্বরে চিৎকার করছি, কিন্তু গলা দিয়ে শুধু গোঁ গোঁ শব্দ বেরোচ্ছে । ভাগ্যিস সেই সময় হোটেলের এক সাফাই কর্মী মহিলা সেখানে ঝাঁটা দিতে এসেছিলেন । আমার অবস্থা দেখে হেই, হৈ করে ঝাঁটা হাতে নিয়ে হনুমানকে ভাগালেন । সে যাত্রায় অজ্ঞান হওয়া বা হনুমানের হাতে সপাটে চড় খাওয়া থেকে খুব জোর বেঁচে গেছি ।
ঘটনা ৩):-
-------------
বেড়াতে যাচ্ছি দীঘা । হাওড়া থেকে দুরন্ত এক্সপ্রেস ধরবো । সাথে বাবা, মা, বোন । মাত্র তিনদিনের জন্য যাচ্ছি, তবুও শীতকাল তো, বেশ বড়ো দুটো ব্যাগ হয়েছে শীতের কাপড়ে ঠাসা । স্টেশনে গিয়ে কুলি ধরা হলো । আমার মায়ের খুব হাঁটুতে ব্যথা । কিন্তু, মাথায় জিনিস চাপিয়ে কুলি ছুটেছে ঊর্ধ্বশ্বাসে । মা কিছুতেই পেরে উঠছে না । আমি আপনমনে আনন্দে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে চলছিলাম । হঠাৎ শুনি মা নিজের বিখ্যাত হিন্দিতে কুলির উদ্দেশ্যে কিছু বলছে চেঁচিয়ে । স্টেশনের হট্টগোলে ভালো করে কান পেতে শুনলাম মা বলছে, "কি বলছি বুঝতা নেহি । তখন থেকে বোলতা হ্যায় পায়ে ব্যথা । কেন এত জোরে জোরে ছুটতা হ্যায় । এরকম করেগা তো একটা টাকাও নেহি দেগা ।" মায়ের বাক্যবাণ মনে হয় কুলি বেচারার কানে পৌঁছেছিল । অবাক চোখে অপলক তাকিয়ে মায়ের কথা বোঝার আপ্রাণ চেষ্টা করছে বেচারা । মা আবার বললো, "আমার কথা শোনেগা, তাহলে টাকা পায়েগা, নাহলে জিনিস রেখে ভাগো ।" কুলি মনে হয় পুরো বাক্যের মধ্যে "ভাগো" শব্দটি বুঝতে পেরেছিল । তৎক্ষণাৎ মাথা থেকে জিনিস নামিয়ে হাওয়ার বেগে প্লাটফর্মের ভীড়ে হারিয়ে গেল । পড়লাম আতান্তরে । বাবার শরীরও ওই দুটো বড় ব্যাগ বইতে অক্ষম । তবুও চেষ্টা করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ট্রেনে তুললাম ব্যাগদুটো । তারপর থেকে মা যখনই হিন্দি বলে, আমরা সাবধান করে দিই সেই ঘটনা মনে করিয়ে ।
Copyright © All Rights Reserved
Piyali Chakravorty

😄😄😄😄😄😄😄😄👏👏👏👏👏👏👏👏❤❤❤❤❤❤🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫
উত্তরমুছুন😂😂😂😂😂😂🍫🍫🍫🤗🤗🤗🤗🤗
মুছুনফাটাফাটি 😆😆😆😆 পাশের সিটে অনুমান।।👌👌👌❤️❤️❤️🖤🖤🖤🖤😘😘😘😘
উত্তরমুছুন😂😂😂😂😂🍫🍫🍫🤗🤗🤗🤗
মুছুনতিনটে ঘটনাই বেশ সুন্দর।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদাভাই🙏
মুছুন😀😀😀🤓🤓🤓🤓
উত্তরমুছুন😂😂😂😂😂😂😂😂
মুছুন🤣🤣🤣🤣🤣
উত্তরমুছুন😂😂😂😂
মুছুনখুব সুন্দর লিখেছো।
উত্তরমুছুন😂😂😂😂😂🍫🍫🍫🤗🤗🤗🤗
মুছুনখুব সুন্দর লিখেছো।
উত্তরমুছুন😂😂😂😂😂🍫🍫🍫🤗🤗🤗🤗
মুছুনদারুণ। দারুণ! অসাধারণ। 👍👍👌👌💫💫💥💥💯💯💯❤❤💅💅💅
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদা🙏🙏🙏🙏
মুছুনতিনটি ঘটনা তিন রকম।কিছু শিক্ষা, কিছু মজা--বেশ ভাল লাগল।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ বন্ধু🤗🤗🤗🤗
মুছুনআমার বাবা এইরকম বিখ্যাত হিন্দি বলে 😂😂😂😂
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো