বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০

আজো কিছু ঘটে



আজকে যে ঘটনা র কথা লিখছি সেটা আমার সংগে ঘটেছিল যখন তখন আমি সদ্য মাধ্যামিক পাশ করেছি। আমাদের পরিবারের এবং সঙ্গে এক পাড়াতুত দাদা হরিদ্বারে যেদিন পৌঁছুলাম সে সময় টা ছিলো জানুয়ারির শেষ,ওখানে তখন খুব ঠান্ডা এবং কুয়াশা ঢাকা।যাইহোক ওটা আমাদের প্রথম দূরে ভ্রমন স্বাভাবিক ভাবে সবাই খুব আনন্দে ছিলাম।আজকের হরিদ্বারে র সঙ্গে সেদিনের হরিদ্বারে র কোনো মিল নেই।সালটা ১৯৮৭ তখন সেখানে এতো গ্যাঞ্জাম ছিলো না। মনসা পাহাড়ের নাম প্রত্যেকে জানেন,রোপ ওয়ে তখন সেখানে চালু হয়নি।সবাই পায়ে হেঁটে সিঁড়ি পথ ধরে মনসা পাহাড়ে উঠতো।আমি আর আমার সেই দাদা মনসা পাহাড় দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম আমরা ঠিক করলাম আর একবার পাহাড়ে উঠবো।যথারীতি একদিন ভোর থাকতে উঠে আমরা রওনা দিলাম।বাইরে কুয়াশা ঠান্ডা রাস্তায় জনপ্রাণী নেই,সাধারণত ভোরের দিকে আসে পাশের চায়ের দোকান,দাদা বৌদির হোটেল খুলে যায় বেলার প্রস্তুতি করার জন্য।সেদিন কিন্তু সেগুলো খোলে নি।তখন বয়েস কম ওসবের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে আমরা যখন মনসা পাহাড়ের সিঁড়ি কাছে এলাম তখন দেখি একটা চায়ের দোকানে সবে উনুন ধরিয়েছে,তা আমরা গিয়ে চা হবে কিনা জিজ্ঞাসা করায় দোকানী বলে দেরি হবে,সবে এখন রাত দুটো।তারকথা শুনে আমরা হকচকিয়ে যাই তারমানে। আমাদের তো ভোরে বেরোনোর কথা!দাদা বলে কি রে আবার এতো পথ ভেঙে আশ্রমে ফিরবি,তার চেয়ে চল পাহাড়ে উঠতে থাকি ভোর ভোর পৌঁছে যাবো ,ভোরের আরতি দেখবো।আমিও না করিনা দুজনে সেই অন্ধকার কুয়াশা ঢাকা জনমানব শুন্য পথে পাহাড়ে উঠতে শুরু করলাম।ছমছমে গম্ভীর পাহাড়ী পথে শিরশিরানী হওয়া কিছুটা ওঠার পরে ভয় যে লাগছিলো না সেই মিথ্যা টা বলবোনা তবুও একে অপরের সাহস হয়ে আমরা এগিয়ে যেতে লাগলাম।কিছুটা এগোনোর পর একটা বাঁক আসতেই একটা গুরুগম্ভীর স্বরে আমাদের একজন বলে উঠলো "বেটা কুছ দে কে যা,ভোলে নাথ তেরা সাথ হ্যায়।চমকে তাকিয়ে দেখি পাহাড়ের খাঁজে একটা গর্ত টাইপের জায়গায় ধুনী জ্বালিয়ে বসে না শুয়ে এক নাগা সাধু।বসে না শুয়ে কথাটা বললাম কারণ আপনারা বললে বিশ্বাস করবেন না সেই গর্তটা এতোটাই ছোট ছিলো যেখানে একটা মানুষের ঢোকা অসম্ভব।সবথেকে ভয়ের সে যে হাতটা পেতে আমাদের কিছু দিতে বলছিলো সেই হাতটা এতটা সাদা মনে হচ্ছিল বহু যুগ যদি কোনো মানুষকে বরফের তলায় রাখা হয় তাহলে তার দেহ ওই রকম সাদা হতে পারে।কিছুটা ভয় কিছুটা বিরক্তি অবিশ্বাস নিয়ে দাদাকে বললাম চলো তো এসব ভাওতাবাজি র চক্করে পড়বো না।সাধুর দিকে তাকিয়ে বলি আমাদের কাছে কিছু নেই।আমার কথা শেষ হবার সাথে সাথে সেই ছাই ভস্ম মাখা মুখ ভর্তি সাদা দারির ফাঁকে লুকিয়ে থাকা লাল চোখটা ধক করে জ্বলে উঠলো।জলদগম্ভীর গলায় বলে ওঠে"ঝুটা মত বোল, ভগবান তেরা সাথ নেহি দেগা"আমরা তাড়াতাড়ি সেখান থেকে আগের দিকে রওনা দিই।আরো খানিকটা ওঠার পর আমরা সবিস্ময়ে দেখি সামনের রাস্তা দিয়ে ছোট বড়ো অনেক পাথরের টুকরো আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে।কোনো ক্রমে নিজেদের সে যাত্রায় রক্ষা করলাম।আমরা সে সময় রীতিমতো প্রাণ ভয়ে আতঙ্কিত, যাইহোক পাহাড়ের চুড়ো অব্দী বাকি পথ আর সেরকম কিছু অঘটন ঘটলো না।।মনসা দেবী কে প্রণাম করে তাঁর প্রসাদ খেয়ে মনে মনে ঠিক করলাম ফেরার পথে ওই সাধুর কাছে ক্ষমা চেয়ে কিছু দিয়ে যাবো।কিন্তু আপনারা বিশ্বাস করবেন না সারা পথে সেই গর্ত বা সেই সাধুর কোনো অস্ত্বিত্ব আমরা পেলাম না।এমনকি তন্ন তন্ন করেও কোথাও কোনো ছাই ভস্ম বা আগের দিনের সেই পাথর কিছুই নেই যেনো মনে হচ্ছিল ভোরের আগেই কে পরিষ্কার করে গেছে।বিপদ অলক্ষে হাঁসছিল তার প্রভাব কিছুক্ষনের মধ্যে পেলাম।মনসা পাহাড় ভেদ করে দুন যাবার লাইন চলে গেছে।আমরা। পাহাড়ের নীচে নেমে সেই লাইন পেরিয়ে ওপারে যাবার মনস্থির করেছিলাম কিন্ত শেষ ধাপি থেকে মনে হলো  কে যেনো টেনে হেঁচড়ে আমাদের লাইনের উপর এনে ফেললো তারপর কি ভাবে যেনো আমরা লাইন পার হবার সঙ্গে সঙ্গে দুন এক্সপ্রেস বেরিয়ে গেলো।স্থানীয় লোকেরা আমাদের গালি গালাজ করতে লাগলো,তারা নাকি চিৎকার করে আমাদের সাবধান করেছিলো আমরা শুনিনি।কিন্তু বিশ্বাস করুন আমরা কিছুই শুনতে পাইনি এমনকি দুনের ওই দৈত্য ইঞ্জিনের আওয়াজ  সেদিন আমরা শুনতে পাইনি।
   এরপর বাড়ি ফিরে এসেও অভিশাপ আমাদের পিছু ছাড়েনি।একবছরের মধ্যে আমার সেই দাদা বাইক এক্সিডেন্ট করে মাস ছয়েক বাড়িতে পড়ে রইলো।আর আমি একদিন রাতে দোতলার বাথরুম ভেঙে নীচে পড়ে গেলাম এবং একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলেও আমার একটা পায়ের মাঝখানের আঙ্গুল চলে গেলো এবং তিনটে আঙ্গুল চিরজীবনের মতো নরা চড়া বন্ধ হয়ে গেলো।
   তাই আজো পৃথিবীতে কিছু আছে যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই।

১০টি মন্তব্য:

  1. কি অবাক কান্ড! আছে হয়ত ,কে জানে বুঝে না বুঝে কত অপরাধ হয়ে যায়। খুব ভালো লেখা। 👏👏

    উত্তরমুছুন
  2. বাহ্! দারুণ অভিজ্ঞতা। ধন্যবাদ। 👍👍👌👌💫💫💥💯💯❤❤

    উত্তরমুছুন
  3. খুব ভালো লাগলো দারুণ গল্প 👌👌👌💐💐💐💐😊😊😊😊

    উত্তরমুছুন
  4. সত্যি আজকে এটা গল্পের মতো লাগে।কিন্তু এই ঘটনার পর আমি প্রবল ঈশ্বর বিশ্বাসী হয়ে উঠি।

    উত্তরমুছুন
  5. খুব ভালো লাগল ।সত্যি বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না ।

    উত্তরমুছুন
  6. ভয়াবহ।গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...