#নাম - 'জুতো মেরে,গরু দান।"
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
আজ তোমাদের চেতনা ও আত্মসম্মান নিয়ে বলি তাহলে-
"মানুষ মান ও হুশ নিয়ে মনুষ্য পদবাচ্য। আর এই মান ও হুশকে বলে চেতনা। চেতনা একপ্রকার গুণ। এই গুণের জন্য মানুষ সকল জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জীব।
উদ্ভিদের চেতনা দিয়ে জগতে শ্রষ্টা তাঁর প্রকাশের ঠিক সুবিধা করতে পারছিলেন না। তাই আরেক প্রকার প্রাণের প্রকাশের খুব দরকার হয়ে পড়েছিল। শ্রষ্টারও চেতনার খামতি ছিল। তা পূরণ করতে গাছের পর মানুষকে আনলেন শ্রষ্টা আরো স্বয়ং সম্পূর্ণ হবেন বলে।
শ্রষ্টার জগতে চেতনার দুই প্রতিনিধি গাছ ও মানুষ। শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে শ্রষ্টার কাছে উভয়ের জোর সওয়াল। এই চেতনায় প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কাকে করা যাবে তাই নিয়ে শ্রষ্টা তো পড়লেন মহা ফাঁপরে।
প্রথমে গাছেরা যেহেতু এসেছে তাই সে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। গাছেদের মধ্যে যে শ্রষ্টা আছেন,গাছ তা পারছে না বোঝাতে। তার মুখে কথা দিতে ভুলে গিয়েছিলেন শ্রষ্টা। তাই মানুষের মুখে কথা বসিয়ে মানুষকে আনলেন শ্রষ্টা। মানুষ এই বিশ্ব সংসারকে প্রকাশ করবে,আর সেই সঙ্গে শ্রষ্টাও প্রকাশিত হবেন।
তবে মানুষের আগে গাছেদের জগতে আসার অধিকারে গাছকে দিলেন মানুষের চেয়েও অতিরিক্ত কিছু মহৎ গুণ। তার মধ্যে অন্যতম মানুষকে গাছের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হবে। শুধু গাছেদের গমন নেই। কিন্তু চলন থাকবে।
এই গমনের গুণের জন্য মানুষ শ্রষ্টাকে প্রকাশ করার ক্ষমতা পেল। অর্থাৎ শ্রষ্টা ক্ষমতা দিলেন, নিজের স্বার্থে। তবে এও শর্ত দিলেন, যদি গাছেদের উপর চড়াও হয় মানুষ- গাছ কাটে,ধ্বংস করে নিজের স্বার্থে,সেদিন নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনবে। গাছেদের চেতনা গুণ থাকলেও প্রতিবাদি চেতনা দেওয়া গেল না,দিলে মানুষ নিজের কৃতকর্মের অপরাধে নিজে শাস্তি পাবে না তাহলে। উভয় চেতনা ধারণকারী প্রাণের মধ্যে এই পার্থক্যের সীমারেখা টেনে জগতে তাদের কার কী করণীয় বুঝিয়ে দিলেন।
চেতনা মানুষের মনের উপর লম্ব হয়ে দন্ডায়মান। এই চেতনা দিয়ে জগতের উপর মানুষ প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করল। যে যেমন চেতনার দর বুঝবে তার কদর তেমনি হবে।
এই চেতনার উপর ভর দিয়ে জগতের উপর মানুষ দাঁড়াবে। এই চেতনাই হল প্রাণের বীজমন্ত্র।
উন্নত চেতনা উন্নত মানুষ। এই উন্নত চেতনা দিয়ে চেতন ও অচেতন জগতের উপর প্রভাব বিস্তার করাই হবে মানুষের কাজ।
তবে চেতনা কি আর সহজ কথা। এই চেতনাও বহু স্তর থাকবে। তার বিস্তারের ক্ষেত্রও বহুমাত্রিক হবে। তার মাত্রা আত্মিক ও বৌদ্ধিক হয়ে বিরাজ করবে। তাই হবে চেতনার প্রধান পরিচয়।
এই দু'য়ের মাত্রার হের ফের হলেই মানুষে মানুষে তফাৎ ঘটবে। একে অপর থেকে দুরত্ব নিয়ে চলবে।"-
এই কথাগুলো গড়গড়িয়ে বলে গেলেন নবীন মাস্টার। নবীন ভট্টাচার্য। গোবিন্দপুর গ্রামের গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছেলেপুলেদের খুব প্রিয় মাস্টারম'শাই। তার কথাগুলো মন্ত্র-মুগ্ধ হয়ে ছেলেমেয়েরা শুনছিল।
স্কুলের সামনে একটা প্রচীন বট। বটের প্রাচীনত্ব বোঝা যায় ঝুরি দেখে। আর ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েরা ঝুরিতে দোল খাওয়াতে আপন করে পায় তাদের বটবৃক্ষকে। আপন মায়ের স্নেহের মতই তার ছায়া লাগে। পড়াশোনা বড় বোঝা লাগে। ঐ বটগাছের ছায়া বরং অনেক সহজ। রণিত বলে- "স্যার পড়াশোনা কেন ঐ ছায়ার মতো সহজ হয়না?" তখন নবীন মাস্টার ম'শায় বললেন- "সহজ করে নেওয়ার পথ চিনতে হয়। চিনতে গেলে যত্ন নিতে হয়। যেমন তোমাদের কাছে আমি সহজ, তোমাদের পড়াশোনাকে সহজ করতে চাইছি, এই বটগাছকে যেমন ভালোবাস, তেমনি পড়াশোনাকেও ভালোবাসলে দেখবে সহজ লাগবে। তাই তোমাদের হবে শুভ চেতনা।"
সুনিতা তখন বলে - " স্যার জানেন,পিলুর আটটা কুকুর ছানা আছে। তাদের কি আদরটাই না করে। সেদিন ও দেখালো তারাও মানুষের মতো রাগ, অভিমান, ঝগড়া, খেলাধুলা করে। তার মধ্যে একটা ঘন্টু বলে ছানাটা(পিলু তার নাম দিয়েছে) রাগ করে শুয়ে আছে। ডেকে ডেকেও সাড়া দিচ্ছে না। রাগের কারণ ওকে অন্যদের চেয়ে কম খেতে দিয়েছে। শেষে খাওয়ার দেখাতে উঠে আসছে, কিন্তু যেই না আরেকটা ছানা ছুটে এলো আবার গোসা করে গিয়ে শুয়ে পড়ল। বুঝুন স্যার।"
নবীন স্যার তখন বললেন -"এই আহারের জৈবিক চাহিদা থেকে মানুষের মধ্যে অভিমান, ঝগড়া, অহংকারের,মান, অপমান বোধ জাগে। একেই বলে চেতনা। তাহলে চেতনার অভাব থেকে মানুষ মানুষকে কীভাবে অপমান করছে বলি সক্কলে মন দিয়ে শোনো।
গতকালের ঘটনা। এখান থেকে দশ কিলোমিটার দূরে আরেকটা প্রাথমিক স্কুল,নাম- 'নারকেলদা প্রাথমিক বিদ্যালয়'। সেখানে সরকারি সাহায্যে, জুতো, স্কুল ব্যাগ দেওয়া হচ্ছিল। এখন এক অভিভাবক তার ছেলের পায়ের জুতো ছোটো পড়ে গেছে। বলাই ছিল ছোটো পড়লে ফেরৎ যাবে,পরে প্রমাণ সাইজের দেওয়া হবে। ঐ অভিভাবক না বুঝেই জুতো মাস্টারমশাইয়ের মুখের উপর ছুঁড়ে দিয়ে দৌড়। মুহূর্তে জানাজানি হতে সে কি গন্ডগোল! জুতো ছোঁড়ার মালিক তখন পগার পার।"
"তারপর কী হলো?"-সকলে চিৎকার করে ওঠে।
"এই যে একসুরে জানতে চাইলে,এটাই তোমাদের চেতনার স্তর। যেখানে একটা আত্মসম্মানে আঘাতের কথা তোমাদের বড্ড ভাবিয়ে তুলল। শেষে ঐ অভিভাবক স্কুলে এসে ক্ষমা চাইলেন।"
"এতো সেই ঘটনা ঘটল স্যার।"
"কী ঘটনা?"
"পিলু বলনা। তুই ঐরকম আরেক ধরণের ঘটনা নিয়ে গল্প করছিলি,তোর বাবা তোকে বলেছিল। একে তোর বাবা কী বলেছিল?"
পিলু বলে- "স্যার একে বলে জুতো মেরে গরু দান।"
সকলে হা হা করে হাসতে লাগলো।
**** শেষ ****
@ copyright reserved for Mridul Kumar Das.
বাহঃ,অপূর্ব লিখেছেন দাদা ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।💫💫💥💥❤❤
মুছুনবেশ ভালো।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫💫💥💥🙏🙏
মুছুনদাদার লেখা মানেই শিক্ষণীয় কিছু থাকবে।দুর্দান্ত।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনেক অনেক ভালবাসা।❤❤💫💫💥💥💅💅
মুছুনঅসাধারণ লিখেছেন দাদা,,,,অনেক শিক্ষনীয় লেখা 👌👌👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর 👌😍
উত্তরমুছুন