মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

শুচি-অশুচি (অনিশা কুমার)

 



#বিষয়-ছবিতে লেখনী

#কলমে-অনিশা কুমার


অনেক অনেক বছর আগে, যখন সব মানুষের কাছে জ্ঞানের আলো পৌঁছায়নি,  তখন কিছু সংস্কার দিয়েই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছিলেন কিছু মহান জ্ঞানী মনিষী। আমার মতে তাঁরা নিশ্চয়ই প্রক‌ত জ্ঞানী ছিলেন। সুন্দর নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে সমাজকে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সাধারণ ভাবে মানুষকে কোন কথা বোঝানোর থেকে ধর্মের অনুশাসনে বেঁধে দেওয়াটাই বেশী কার্যকারী হবে।  সেটা অনুধাবন করেই তাঁরা কিছু নিয়মাবলী তৈরী করেন সেই নিয়মে কিছু সু ও কু দুই সংস্কারেরই প্রভাব পড়েছিল। অনেক সময়েই সেই নিয়মের অপব্যবহার হয়েছে। 


 কিন্তু তথাকথিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের জন্য ও যে চিন্তা ভাবনা করা হতো তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরন মেয়েদের বিশেষ চারটি দিনের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা। 

আপাত দৃষ্টিতে হয়তো কুসংস্কার এটি, মাসের বিশেষ কয়েকটি দিন মেয়েদের ঠাকুরঘরে যেতে নেই।  একটি ঘরেই বসে থাকবে। মেঝেতে শোবে। 

যে সময় এই নিয়মটি হয়েছিল, তখন বড়ো বড়ো ঠাকুর ঘর পরিষ্কার করা, কাঁসার পিতলের ভারী ভারী বাসন মাজা, ফল ধোওয়া, ফুল তোলা, তুলসী তোলা অনেক কাজ থাকতো। আর এই সময় মেয়েদের শারীরিক ভাবে বেশ কষ্ট থাকে। তাই তাকে ওই কটাদিন রেহাই দেওয়ার জন্য এমন নিয়ম তৈরী হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এটা আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বললাম। আমাদের ঘরে নারায়ণের নিত্য সেবা হয়। সাধারণত দুই বেলা, গ্রীষ্মকালে তিনবেলা কাপড় কেচে স্নান করে এই কাজগুলো করতে হয়। যখন ছোট ছিলাম মা যেদিন করতে পারতেন না আমি করতাম, তখনই আমার মনে হয়েছিল। বাড়ির মহিলারা নিজেদের শরীর খারাপ হলে বিশেষ গুরুত্ব দেন না। খারাপ শরীর নিয়েই তাঁরা সাংসারিক কাজকর্ম করেন বা অনেক সময় করতে বাধ্য হন। একান্নবর্তী পরিবারে কাজ না করার জন্য বক্রোক্তি ও শুনতে হয় অনেক সময়। সাধারণ ভাবে যদি মানুষকে বুঝিয়ে বলা হয় তার চেয়ে তা  শোনানোর জন্য "করতে নেই" এই ধারণাটাই বেশী কার্যকরী হয়।  


আবার মেঝেতে শোওয়ার ব্যাপারে ও একই কথা বলা যায়। তখন এত সুন্দর সবকিছু ব্যবস্থা ছিল না। বিছানায় দাগ লেগে গেলে তাও ঐ  শারীরিক অবস্থায় তাকেই কষ্ট করে পরিষ্কার করতে হবে। তাই হয়তো এমন নিয়ম প্রচলিত ছিল।


ধীরে ধীরে তা একান্ত ভাবেই কুসংস্কারে পরিণত হলো। এমনকি ঐ সময় তাদের অশুচি বলে মনে করা হতো। কোন শুভ কাজে হাত লাগানো তো দূরের কথা, ছুঁতে অব্দি দেওয়া হতো না।


যেখানে প্রাণের স্পন্দন জাগে,  সেখানে অশুচির তকমা লাগানো অনুচিত। সংস্কার ভালো, তবে তার কুসংস্কারে পরিণত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।বর্তমানে সমাজ অনেক বদলাচ্ছে। ‌আশা করা যায় ভবিষ্যতে আমরা মেয়েরাই এইসব ছুৎমার্গের হাত থেকে নিজেরাই নিজেদের বের করে নিয়ে আসতে পারবো।

১০টি মন্তব্য:

  1. খুব ভালো লাগলো বন্ধু👌🏻👌🏻👌🏻👌🏻

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ। দুর্দান্ত লাগল।👌👌💫💫💥💥❤❤

    উত্তরমুছুন
  3. কি দারুন লিখলে গো অনিদি। অনেক কিছুই জানতে পারলাম

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...