মায়ার বাঁধন
©সুদেষ্ণা দত্ত
শ্রেষ্ঠার যখন থেকে বোধ শক্তি হয়েছে সে তার মাকে ঘৃণার চোখে দেখত।তার বাবা তেজেন্দ্র নারায়ণ সম্পর্কে সে বড় হওয়ার পর অবগত হয়েছে।কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে যায় শ্রেষ্ঠা।শ্রেষ্ঠার মা প্রথমা।শ্রেষ্ঠার ঠিকানা সোনাগাছির যৌনপল্লী।
সুন্দরী প্রথমার গরীব,অশিক্ষিত বাবা তাঁর গ্রাম সম্পর্কে এক দাদাকে বিশ্বাস করে মেয়েকে পড়তে পাঠিয়েছিলেন কলকাতায়।তার নামের প্রতি সুবিচার করে গ্রামের স্কুল থেকে খুব ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছিল প্রথমা।দু’চোখে বড় হওয়ার মায়াঞ্জন নিয়ে বড় শহরে পা দেয় প্রথমা।কিন্তু তার গ্রামতুতো জ্যাঠার বিশ্বাসঘাতকতা ও ভাগ্যের পরিহাসে আজ প্রথমা গোলাপবালা।প্রকৃতির নিয়মে তার দুয়ারেও নীরবে প্রেম এসে উপস্থিত হয়।বনেদী পরিবারের ছেলে তেজেন্দ্রর আসা-যাওয়া ছিল গোলাপবালার কাছে।কীটপতঙ্গের আগুনে আত্মাহুতি দেওয়ার মতই তরুণ-সুদর্শন-সুঠাম চেহারার তেজেন্দ্রর প্রেমে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলাপবালা।বিপরীতেও দেখা যায় একই আকর্ষণ।হায়!দেহপসারিনীর কি প্রেম সাজে!ততদিনে তেজেন্দ্রর যৌনপল্লীতে যাতায়াত ও গোলাপবালার সঙ্গে তার জড়িয়ে যাওয়ার কথা জেনে যায় তার পরিবার।বনেদী পরিবারের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে গোলাপের সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানতে বাধ্য হয় তেজেন্দ্র।এদিকে ততদিনে গোলাপবালার গর্ভে শ্রেষ্ঠার আগমণ ঘটে গেছে।তেজেন্দ্রর তা অজানা ছিল না।
গোলাপবালাকে তার সহকর্মীরা সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়।কিন্তু গোলাপবালা সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।মেয়েবেলায় শুরু হওয়া সংগ্রাম যৌবনে এসে জলোচ্ছ্বাIসের মত আরো স্ফীত হয়।স্বাভাবিক নিয়মে সন্তানের জন্মের সময় আসে।গোলাপবালার কোল আলো করে আসে তার শ্রেষ্ঠা।না বাজে কোথাও শঙ্খ,না হয় উলুধ্বনি,শুধু শ্রেষ্ঠার কান্নার শব্দে মুখরিত হয় কোঠা বাড়ী।ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে শ্রেষ্ঠা।বাড়ীতে শিশুর আগমণ সব বাড়ীর পরিবেশই আনন্দমুখর করে তোলে—হলই বা তা কোঠা বাড়ী।সকলকে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে ফেলে শ্রেষ্ঠা।সকলে মিলে শ্রেষ্ঠাকে মানুষ করতে থাকে আর ভাবে তাদের জীবনের কালো ছায়া যেন শিশুর গায়ে না লাগে।
তেজেন্দ্রও শ্রেষ্ঠার আগমণের খবর পায়।পুরুষ জাতির দুর্নাম কিছুটা হলেও ঘুচিয়ে অবিবাহিত থাকে তেজেন্দ্র এবং দূরে থেকেই শ্রেষ্ঠার আর্থিক দায়িত্ব নিয়ে পিতার কর্তব্য সমাপন করে।নানা বাধা বিপত্তির মাধ্যমে স্কুলের গন্ডি স্বীকৃতির সঙ্গে টপকায় শ্রেষ্ঠা।সে নীরব সাক্ষী থাকে ক্রমাগত ঘরে-বাইরে অপমানিত হওয়া তার মায়ের লড়াইয়ের।মেধাবী শ্রেষ্ঠা ডাক্তারী পড়ার সুযোগ পায়।সেখানেও বন্ধু-বান্ধব ও তাদের অভিভাবকদের অসহযোগিতা শুরু হয়,তারা শ্রেষ্ঠাকে কলেজে রাখার বিরোধিতা করে—কারণ শ্রেষ্ঠার মায়ের পরিচয় কারোর অজানা নয়।কিন্তু অধ্যক্ষ মহাশয় ও সহধ্যাপকরা মেধাবী শ্রেষ্ঠাকে বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত।আজ শ্রেষ্ঠা প্রথমার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ডাক্তারী পাশ করে শ্রেষ্ঠ হতে পেরেছে।ডিগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানে সকলের সম্মুখে সে তুলে ধরে তার মায়ের জীবন সংগ্রামের কথা।কারো চোখে প্রশংসা,কারো চোখে ঘৃণা ঝরে পড়ে।আর দু’কূল প্লাবিত হয়ে অশ্রুধারায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভাসে গোলাপ ও শ্রেষ্ঠা।
একদিকে গোটা সমাজ—সংসার
অন্যদিকে একা মা আমার---
জীবন-যুদ্ধে একা বিজয়িনী,
মা আমার সেরা রমণী।
পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য।
ছবি সৌজন্য-গুগুল।

অসাধারণ গল্প লিখেছো "সু"👌👌
উত্তরমুছুনআমাদের সমাজে যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে তবে হয়তো সমাজের অনেক পরিবর্তন হবে।
ধন্যবাদ বন্ধু।অল্প হলেও ঘটছে।
মুছুনদারুণ লাগলো বন্ধু ❤️🤗
উত্তরমুছুন💝💝ধন্যবাদ বন্ধু
মুছুনখুব ভালো লাগলো...
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনAbar akta sundor lekha.besh bhalo laglo.
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।এভাবেই যেন পাশে পাই।
মুছুনভালো ভেবেছো
উত্তরমুছুনআমার ভাবনা সমাজকে ভাবালেই আমি ধন্য।
মুছুনকি সুন্দর লাগল। অসাধারণ! 👌👌💯💯💫💫💥💥
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দাদা।
মুছুনসুন্দর ভাবনা । এ এক অন্য স্বাদের । অন্য ঘরানার গল্প ।🌷🌷💯💯
উত্তরমুছুনঅন্য স্বাদ দিতে পারলেই আমার লেখা সার্থক।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো। সুন্দর 🌷🌷
উত্তরমুছুনসুব্দর চিন্তাভাবনা
উত্তরমুছুন