শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

# বিষয় - আধ্যাত্মিক- মৃদুল কুমার দাস।

যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি ||

              ( আধ্যাত্মিক)


    ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
                 
                  পর্ব - ১

                    
মানুষের হৃদয়ে ভাব অন্তহীন। তা ঈশ্বরের দান। মানুষকে দিয়েই ঈশ্বর তাঁর লীলার কথা বলিয়ে নিচ্ছেন। মানুষও তাই বিরামহীনভাবে প্রকাশ করেই চলেছে।
     ভগবানের প্রকাশ সর্ব জীবে। সর্ব জড়ে | সর্ব জীবে ও সর্ব জড়ে প্রেম মানেই ঈশ্বরে প্রেম | এই প্রেমেই জগতকে ব্রহ্মের অংশ বলে দেখে মানুষ | এই প্রেম-আত্মোপলব্ধিতে উৎকর্ষ লাভ করতেই মানুষ ঈশ্বরের পায়ে নিজেকে নিঃশর্তে সমর্পণ করে | এব্যাপারে মানুষ স্বয়ংসিদ্ধ ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
        এই শ্রেষ্ঠত্বটুকুও ঈশ্বরের দান। তা
লাভ করে মানুষ নানা গুণে শোভিত |
অসৎ গুণগুলি ঈশ্বরের কৃপায় সৎ-এর দিকে এগোতে থাকে | এই নানা গুণের মধ্যে অন্যতম গুণ সৌন্দর্য-উপাসনা |
  এই উপাসনা গুণে মানুষ গাছের কাছে যায় | পাখির কাছে, ফুলের কাছে,সকলের কাছে | এই গতির সৌজন্যে মানুষ লাভ করে জ্ঞান। যার যেমন জ্ঞান তার তেমন গতি | জ্ঞানই মানুষের মধ্যে পার্থক্য রচনা করে। আবার এক করে দেয় | জ্ঞানের জন্যই মানুষ সবার কাছে যায়।  সবার কাছে যেতে যেতে ঈশ্বরের কাছে যওয়ার যখন প্রবল আস্পৃহা (Aspiration ) জাগবে,তাই হবে সর্বোচ্চ যাওয়া |
     এই সর্বোচ্চ যাওয়ার জন্য ভক্তি-জ্ঞাণ-কর্ম নিয়ে আগে অহংশূন্য হতে হবে | এই অহংশূণ্য হলে তবে ভগবানে আত্মসমর্পণ আসবে | এই আত্ম সমর্পণে থাকবে কেবল ভগবানে নির্ভরতা | ভগবানের হাতে নিজেকে একেবারে ছেড়ে দিয়ে নিস্পৃহ থাকতে হবে | নিস্পৃহতায় কাম-ক্রোধ-লোভ প্রভৃতির মোহশূন্যতা আসে।
এই মোহশূন্য হৃদয় নিয়ে ভগবানের দিকে যাওয়া শুরু হলেই ভগবানও সেই মোহশূন্য হৃদয়ের দিকে আসতে চাইবেন | তবে বিপদ আপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যদি যাত্রা
ভগবানের দিকে হয়,তাহলে তাঁর পরীক্ষা নেওয়া সহ্য করতে হবে | তিনি ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন | ধৈর্য্য ধারণ সম্ভব বিশ্বাস জন্মালে | অবিশ্বাসের রিপু থেকেই যত অবিশ্বাসের জন্ম |একবার অবিশ্বাসের রিপু হৃদয়ে বাস করলে আর ভগবানকে পাওয়া
হল না | এই শর্ত সাপেক্ষে তাই ভগবানকে পাওয়া খুব কঠিন |
          বরং সৌন্দর্যে আত্মস্থ হওয়া অনেক সহজ | সৌন্দর্যে দৌড় যেমন তেমন হলেই হল | কিন্তু ভগবানকে পাওয়ার দৌড় যেমন তেমন হলে চলবে না। তাই ভগবানকে পাওয়ার কঠিন সাধনাকে সহজ করার জন্য অনেকগুলো পথের কথা বলা হল | সবচেয়ে সহজ পথ হল জীবে প্রেম | জীবে প্রেম ভাব এলেই ভগবানকে পাওয়া যায় | আর এটাই ভগবানকে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। যার যত প্রেম,তার তত ভাব | যার প্রেম যেমন,ভাবও তার তেমন | এই প্রেম
ভাবের পথে আসে ভক্তি | ভক্তি আনে
বিশ্বাস | আবার বিশ্বাসও আনে ভক্তি |
বিশ্বাসের পথ ধরে যে ভক্তি আসে তাই হল ভগবান লাভের শ্রেষ্ঠ পথ | আর এই ভক্তির পথ ধরে আসে নিঃশ্বেষে নিবেদন | আর সঠিক নিবেদন ঘটলে তবেই জগতব্যাপী সর্বজীবে ও সর্ববস্তুতে ঈশ্বর দর্শণ লাভ হয় |
                (চলবে)
     
  @ copyright reserved for Mridul Kumar Das. 

   


১৩টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ লেখা খুব ভালো লাগলো 👌👌👌👌💐💐💐

    উত্তরমুছুন
  2. খুব ভালো লিখছো।এগিয়ে যাও এভাবেই।

    উত্তরমুছুন
  3. হ্যাঁ দাদা, আমিও একমত। জীবে প্রেমই পারে ঈশ্বরপ্রাপ্তি ঘটাতে।

    উত্তরমুছুন
  4. দুর্দান্ত!নিতান্তই ব্যবহারিক তথা প্রায়োগভিত্তিক আলোচনা। মানুষের সেবার আধার তৈরি করতে সাহায্য করবে আপনার এই ধারাবাহিক। পরম শক্তির উৎসের সেচ যেন সব হৃদয় জমিকে আবাদি করে তোলে। নিয়ত চর্চার দ্বারাই তা সম্ভব, আমার বিস্বাস।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...