লক ডাউনের পর অফিস তবু কিছুটা সময়ের মার্সি করছিলো, কিন্তু ট্রেন চালু হতেই আবার পুরোনো নিয়মে।এমনিতে বেসরকারি অফিসে নয় দশ ঘন্টা কাজ নর্মাল প্র্যাকটিস তার ব্যতিক্রম মাসে দিন সাতেক তো হবেই হবে।সংসারের কারণে অপর্ণার কাজটা খুব জরুরী ছিলো।অপর্ণা এই অফিসে ডেপুটি আকাউন্টেন্ট,পদটা শুনতে ভারী লাগলেও অপর্ণা আসলে 23/24 বছরের পাতলা ছিপ ছিপে তরুণী,ভগবান রূপের কোনো খামতি দেননি,অনেকের হার্ট থ্রব হলেও নিজে কাউকে এখনো হৃদয়ে বসাতে পারেনি।ভাড়া বাড়ী পঙ্গু বাবা,মানসিক রোগগ্রস্ত ভাই তাঁদের মধ্যেই বাঁচার পথ খুঁজে নিতে পথে নেমেছে অপর্ণা।তার জীবনের স্বপ্নরা আজ তারার মত অমাবস্যার অন্ধকারে ঢাকা।
ইয়ার এন্ডিং ব্যালেন্স সিট জমাদেবার সময় এসে গেছে সেই কাজ করতে করতে এখন রাত প্রায় এগারোটা।লাস্ট রানাঘাট লোকালের পিছনে প্রায় দৌড়ে দৌড়ে তাকে উঠতে হলো।জেনারেল কামড়া হলেও লোকজন খুব একটা বেশি নেই।পিছনের দিকের একটা জানালার দিক ফাঁকা দেখে অপর্ণা বসে পরে।হরিহর কাকাকে ফোন করে দেয় তারজন্য একটু অপেক্ষা করতে তাকে যেনো বাড়ি ছেড়ে দেয়।রাত বারোটা তো বাজবেই বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে।তার সিটের অন্য প্রান্তে একজন বছর 40-42 এর লোক বসে,সে এক দৃষ্টে অপর্ণাকে জরিপ করে চলেছে।পোশাক আশাক দেখে মনে হচ্ছে কোনো কারখানার শ্রমিক, খুব সম্ভবত অবাঙালী।অপর্না সেদিক থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।সামনের সিটের একটা লোক ঘুমে ঢুলছে, তিনটে বছর 25 র ছেলে নিজেদের গেমে মশগুল,অপর্ণার উপস্থিতি সেটাও টের পায়নি।এতো রাতের ট্রেনে একা অপর্না এর আগে কোনোদিন যায়নি,ভয় যে লাগছিলো না সেটা ঠিক নয়।বরানগরে বেশ কিছু লোক উঠলেও সোদপুরে প্রায় পুরোটাই ফাঁকা হয়ে গেলো।ফুটবোর্ডে কিছু বাদাম ওয়ালা,ফল ওয়ালা ছাড়া অপর্নার সিটের কাছে ওই মাঝ বয়সী লোকটা এই মাত্র দুজন।অপর্না নিজের মনে সাহস সঞ্চয় করতে লাগলো।জানলার উপর হাত রেখে তাতে মাথা রাখলো।ঠান্ডা হাওয়া লেগে একটু তন্দ্রা মতো এসেছিলো হটাৎ চমকে উঠলো ঘাড়ে একটা গরম নিঃশ্বাস পড়তে,চকিতে তাকিয়ে দেখে সেই মাঝ বয়সী লোকটা কখন তার গা ঘেঁষে এসে বসেছে,তারই গরম নিঃশ্বাস তার ঘাড় ছুঁয়ে গেছে।ভয়ার্ত চোখে অপর্না তার দিকে তাকাতে লোকটা কি রকম কদর্য ভাবে নোংরা হাসি দিয়ে তার আরো কাছে আসতে উদ্যত হলো।
নাহ দৌড়লে আজ ট্রেনটা ঠিক মিস হতো স্বপ্না দরজার লম্বা রড টা ধরে হাঁফাতে লাগলো।এই লাস্ট রানাঘাট লোকাল তার প্রতিদিনের ট্রেন। গিরশ পার্ক থেকে মেট্রোয় দমদম সেখান থেকে লাস্ট রানাঘাট লোকাল।আজ শালা হারামি বুড়োটার জন্য ট্রেন টাই মিস হয়ে যাচ্ছিল।শালা বুড়োর বাঁধানো দাঁত তাও কাঠ বাদাম খাওয়ার শখ এখনো ষোল আনা।স্বপ্না ঘাড়ে গলায় হাত বুলিয়ে দেখতে থাকে ,শালা সারা গায়ে কামড়ে দাগ ধইরে দিয়েছে।মাল যদিও ডবলের থেকেও বেশি দিয়েছে।আজকে সারাদিনের কামাই খারাপ হয়নি।বুকের খাঁজে লুকানো যৌবন বিক্রির টাকা স্বপ্না টেনে বের করে গুনতে থাকে।
গাড়ি টিটাগর ছাড়লো,লোকজন কমে এসেছে স্বপ্না ভাবলো একটু সিটে বসে জিরবে হটাৎ একটা মেয়ের কথায় তার নজরে আসে ট্রেনের পিছনে জানলার ধারে একটা জন্তু মাংসের গন্ধ পেয়ে লালসা মাখা মুখে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।স্বপ্না নিজেও কেনো জানিনা এই সব জন্তু শিকার করতে ভালোবাসে।তার ভিতরে লুকিয়ে থাকা তার প্রথম ভালোবাসার সেই হিংস্র নখের যন্ত্রনা তাকে আরো হিংস্র করে তোলে।এই পুরুষ জাতটা কে ভালোবেসেই ঘর ছেড়ে আজ সে সোনাগাছির স্বপ্না সুন্দরী।বাপের দেওয়া পূর্ণিমা নামটা স্বপ্নের অমাবস্যায় ঢেকে গেছে।স্বপ্না মুখে হাত দিয়ে একটা সিটি মারে।জন্তুটা অপর্ণার দিক থেকে ঘুরে দরজার দিকে তাকায়।স্বপ্না তখন দক্ষিণী জানলার পাল্লা একটু ফাঁক করে পতঙ্গকে আহ্বান করতে থাকে।জন্তুটা না চাইতে জল পাওয়ার মতো দুটো গাছে দুটো ফল দেখে লোভ সামলাতে পারেনা।নিজের সিট ছেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।স্বপ্নার চোখের মণি শিকার কে কাছ থেকে দেখে জ্বল জ্বল করে জ্বলে ওঠে।
অপর্না দেখতে পায় রাতের রানাঘাট লোকালের বীভৎস দৃশ্য।লোকটা উন্মোত্তের মতো জানালার পাল্লা খুলে বাইরের শোভা খুঁজতে ব্যাস্ত, ট্রেনর যান্ত্রিক আর্তনাদ অন্ধকার চিরে ছুটে চলা তারই মাঝে হটাৎ একটা ধাক্কা অন্ধকার চিরে একটা মানুষের আর্তচিৎকার, তারপর নিস্তব্ধতা শুধু ট্রেনের আওয়াজ খট খট।
স্বপ্না বুকের বোতাম দুটো আটকে নেয়।তাচ্ছিল ভাবে হাত দুটো ঝেড়ে নিয়ে নিজের মনেই বলে শালা,যাহ মায়ের ভোগে যা,কালকের কাগজে ছবি হবি,শখ মারাতে এইছো। অপর্না নির্বাক হয়ে স্বপ্নার দিকে তাকিয়ে থাকে।গাড়ি ব্যারাকপুর ঢুকতে থাকে অপর্ণার দিকে তাকিয়ে স্বপ্না বলে যাও মেয়ে বনের একটা পশু আমি শিকার করে তোমায় এ যাত্রায় বাঁচলাম বলে ভেবোনা আর কেউ আসবে না।আমি এবার নেবে যাবো,বাকি পথ তোমায় একাই যেতে হবে।নিজেকে রক্ষা করতে পারো ভালো না হলে আগামী দিনে তুমিও আমার সঙ্গে এই ট্রেন ধরো।লাস্যময়ী হাঁসি হাঁসতে হাঁসতে স্টেশনের উপর দিয়ে সবুজ শাড়ী পরিহিতা অপর্ণার রক্ষক মিলিয়ে যেতে থাকে। ট্রেন ব্যারাকপুর ছেড়ে গন্তব্যে রওনা দেয়।
💐💐💐সমাপ্ত💐💐

👌👌👌👌 তোমার সব গল্পেই বাস্তবের জ্বলন্ত চিত্র ফুটে ওঠে,এটাও ব্যতিক্রম নয় 😊। খুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনহৈমি😊😊😊তোর ভালো লেগেছে আমি খুশি
উত্তরমুছুনকঠোর বাস্তবের মুখোমুখি হলাম।দুষ্টের দমনে খুশি হলাম।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ😊😊😊
উত্তরমুছুনবাহ! বেশ লাগল। ধন্যবাদ। 👌💫💫💥💥❤
উত্তরমুছুন