সিজোফ্রেনিয়া ( পর্ব-১)
আমি অমিয় চৌধুরী, অনেকক্ষণ বসে বসে একটা হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছি না। আবার একটা চক চাইতেই কেউ জোরে ধমক দিলো। "আর হিসেব মেলাতে হবে না। একটা করে আসে, আর আমাদের ও পাগল করে দেয়।" আমি অমিয় চৌধুরী, আমাকে কেউ ধমকাতে পারে? কিন্তু আমার এখন ওসব ভাবলে চলবে না। হিসাব টা যে মেলাতেই হবে।
আবার নামটা ও ভুলে যাচ্ছি। কোমললতা নাম টা তো আমি দিয়েছিলাম। কখনও কোমল আবার কখনও কমলি বলে ডাকতাম। আবার গভীর মুহুর্তে 'আমার রক্তকমল' বলে ও ডেকেছি। তারপর, তারপর কি হলো? একটা অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার মতো, আর কিছুই নেই?
কত কিছুই তো ছিল আমার জীবনে। ভালো রেজাল্ট করায় মায়ের মুখে গর্বের হাসি। সেই প্রথম মাকে আমার প্রশংসা করতে শুনলাম। তারপর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। সবাই কতো সম্মান দিয়ে কথা বলতো। উফ্ দাদা, আপনার হাইটটা দারুণ! কত হবে? প্রায় ছ-ফুট ।
কেন জানি না, প্রথম বর্ষের শুরু থেকেই আমার সতীর্থরা অনেকেই আমায় দাদা বলে সস্মানে কথা বলতো। দেখতে দেখতে প্রথম বর্ষ শেষ হয়ে দ্বিতীয় বর্ষ শুরু হলো। প্রথম বর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আমরাই উদ্যোক্তা।
দেখলাম প্রথম বর্ষের সব মেয়েরা প্রজাপতির মতো পাপড়ি মেলে আসে আর তাদের উচ্ছ্বাস, অনাবিল আনন্দের প্রকাশ আমার মনকে নাড়া দিয়ে যায়। ছেলে গুলো একটু গম্ভীর। তবু ওরাও ভাব জমাতে চেষ্টা করে নতুন বন্ধু, বান্ধবীদের সাথে। কিন্তু আমার একটা সমস্যা শুরু হলো, সবাই আমায় দাদা বলে এত সম্মানের সঙ্গে কথা বলে। আমার বন্ধুরা সবাই যখন নতুন বান্ধবী নিয়ে ব্যস্ত, তখন আমার নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। আমার ও খুব ইচ্ছে হতো, আর একদিন সেই ইচ্ছা প্রকাশ ও করে ফেললাম। শুভমিতা, সুন্দরী, ফর্সা, সবথেকে ভালো লাগতো ওর হাওয়ায় ওড়া চুল। সবসময় খোলা থাকত, কাঁধ ছাড়িয়ে পিঠ অব্দি। চোখের ওপর নেমে আসত আর ও হাত দিয়ে ঠেলে তুলত। চুল নিয়েই সদাব্যস্ত। মিতা, মনে মনে একটা ডাকনাম ও দিয়ে ফেললাম। তখন অল্পবয়স, মানুষের বাইরের সৌন্দর্য দেখেই মন দেওয়া নেওয়া। অন্তরের সৌন্দর্য ও যে দেখতে হয় সেই বুদ্ধি তখন ও হয় নি।
"কি হলো কি? তখন থেকে খেতে বলে যাচ্ছি, কথা কানে যাচ্ছে না?", কোন মহিলা কন্ঠ বলে উঠলো। উফ্, আবার আমার সব হিসাব গুলিয়ে দিলো। খাবার এনেছে, আমি খাব না, বার বার বলছি একটা চক দিতে, তা ও দেবে না। মনে মনে এত হিসাব করা যায়?
খাব না, খাব না, কিছুতেই খাব না। রাগে চিৎকার করতে ইচ্ছা করলো। কিন্তু আমার আজন্ম লালিত শিক্ষা আমায় বাধা দিলো। আমি খুব গম্ভীর ভাবে বললাম, "খাব না বলেছি তো, অঙ্কের হিসাব না মেলাতে পারলে আমি কোনো দিন খেতে পারি না।" "কি জানি বাবা, কি বিড়বিড় করে যায় সারাদিন। স্যারকে ডেকে আনি।" বলেই মহিলা চলে গেলেন। উফ্, কি শান্তি। কিন্তু অঙ্কটা কোনখান থেকে শুরু করবো? মায়ের মুখে প্রথম আমার জন্য প্রশংসা.... না, না...... তারপর..... কলেজ..... হ্যাঁ, মিতা। মনে পড়েছে।

সুন্দর শুরু, পরের পর্বে ছুটলাম❤️
উত্তরমুছুনআবার পড়লাম। বেশ ভালই। ধন্যবাদ। 👌👌💥💥💯❤❤
উত্তরমুছুনইন্টারেস্টিং. . . .পরের পর্বে
উত্তরমুছুনঅঙ্কের হিসাব কি মিলবে!--অপেক্ষায় সু
উত্তরমুছুনপরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। 👌👌
উত্তরমুছুনপড়া শুরু করলাম অনিদি
উত্তরমুছুনবেশ লাগলো