রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

# বিষয় - 'আধ্যাত্মিক'(দিব্যজীবন)

#বিষয়- 'আধ্যাত্মিক আলোচনা'
  #নাম - 'দিব্যজীবন'
    ✍️ মৃদুল কুমার দাস।
  পার্থিব জীবন ও চেতনার চেয়ে আরো এক উচ্চতর জগৎ ও পূর্ণতর  চেতনা আছে তাই দিব্যজীবন।
 পার্থিব জীবনে আমরা বাঁচি বুদ্ধি নিয়ে, আদর্শবাদ নিয়ে, নৈতিকতা ও ধার্মিকতা নিয়ে। এই সব গুণাবলীই হল দিব্যজীবন লাভের অনুঘটক। আবার এও ঠিক যে এসব গুণাবলী থাকলেও যে দিব্যজীবন লাভ হবে তাও কিন্তু নয়। এই দিব্যজীবন তাহলে কী?
 দিব্যজীবন হলো একপ্রকার আভ্যন্তরীণ সত্তা। মন ও প্রাণের চেতনার স্তর ধরে অন্তরাত্মার নতুন এক জাগরণ। যার ফলশ্রুতিতে পার্থিব মায়া দূর হয়, জগতের সবকিছু তখন সুন্দর মনে হবে। সবই আলোকময়,আনন্দময়,সবই সত্য ও সঙ্গতিপূর্ণ মনে হবে। একেই শ্রীঅরবিন্দ বলেছিলেন -
  "...a hidden sweetness and laughter in things,a sunshine and gladness of life, everywhere a harmony and truth of order."-
 অর্থ পৃথিবী এক আনন্দময় 
চেতনার অংশ,আর মন তারই অংশীদার।
 এই দিব্যজীবনের অংশীদার হতে গেলে জ্ঞান গরীমার বালাই নেই। সব জীবনেই সম্ভব- সে মুর্খ বলে দিব্যজীবন কৃপা করবে না এটি ভাবা নিরর্থক। সব জীবন দিব্যজীবনের অংশ। সব জীবই শিবম্ সত্যম্ সুন্দরম্।
 যত বৈজ্ঞানিক বুদ্ধি বাড়ছে তত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও শক্তিসম্পদ বাড়ছে। জ্ঞাণের অহংকার বাড়ছে।  অহংবুদ্ধি বাড়ছে। আর তত বেশি মানুষ দুঃস্থ হয়েছে, হচ্ছেও। এতে পার্থিব উন্নতি হচ্ছে সত্য কিন্তু তত মানসিক শান্তি কমছে, অপরের সাথে তুলনা করে বাঁচছে, ক্ষোভ-বিক্ষোভ তত নিত্য সঙ্গী হচ্ছে। দুঃখ আর ঘোঁচার নয়। অনন্ত দুঃখ-সমুদ্রে ভেসে চলেছে। পার্থিব চেতনার সুখ ও দুঃখের স্তরে আটকে থাকছে।জগতে সব দুঃখের মূলে কারণ হল তাই। দুঃখ তাই ঘোচে না। 
এই দুঃখ মোচনের জন্যই তো মহাপুরুষগণ নানা পথের সন্ধান দিয়েছেন। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পথ দেখিয়েছেন। সাধু সন্ন্যাসের পথ ধরেছেন। তাঁরা বুঝিয়েছেন সাংসারিক জীবন মানে মিথ্যা মায়ার বন্ধন ছাড়া কিছুই নয়। কেউ কেউ সংসারে থেকেও আধ্যাত্মিক জীবন যাপন করেন তা কেবল দুঃখ থেকে দূরে থাকতে। এই জীবনও সেই অর্থে সমস্যা একেবারে সুরাহা করতে পারে তা কিন্তু নয়। এই পথ ধরে যদি দিব্যজীবন আসে তবেই সব সমস্যার সমাধান হবেই। তখন আর জগতের কোনো মায়া আর ঘিরে ধরতে পারে না।
 সুতরাং দিব্যজীবন বলতে আধ্যাত্মিক জীবনের চেয়েও আরো  বড় রকমের জিনিস, আরো বড় রকমের উচ্চতর চেতনার জগৎ। একেই ভগবান বুদ্ধ বলেছিলেন নির্বান। তাই এক অতিমানস চেতনার স্তর।
 দিব্যজীবন বা অতিমানস চেতনার জগৎ আধ্যাত্মিক জগৎকে ছাড়িয়ে এক উন্নততর চেতনার জগত। আধ্যাত্মিক চেতনা দিয়ে তাকে লাভ করলে আধ্যাত্মিক সংসার থেকে মুক্তি লাভ হয়। আধ্যাত্মিক সংসারে দুঃখকেও ভগবানের পরীক্ষা মনে হতে পারে। কিন্তু দিব্যজীবন লাভ করলে জগৎ সংসারকে দেখার ও অনুভব করার চৈতন্য জাগ্রত হয়। কোনো পরীক্ষা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। তখন শুধুই আনন্দ। পরমানন্দ। পার্থিব সুখ থেকে আধ্যাত্মিক সুখ ছাড়িয়ে এক আনন্দময় চেতনার জগৎ এসে তখন ধরা দেয়। তাই জীবনে পেতে হলে চাই ভাগ্বদীয় কৃপা,ও অনন্ত বিশ্বাস ও নিঃশ্বেষে ঐকান্তিক আত্ম সমর্পণ।
              ********

৩টি মন্তব্য:

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...