সত্য ঘটনা : বাবার কীর্তি
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
একটা সত্য ঘটনা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে চাই ।যাকে ঘিরে এই ঘটনা, তিনি আমার বাবা, কুমার ভট্টাচার্য । ছোটোবেলা থেকেই মনের দিক দিয়ে খুব ভালো ছিলেন । মানে, এতটাই ভালো যে, এই অমায়িকত্বের অনেক বন্ধু বান্ধব সুযোগ নিতে ছাড়তো না ।
এবারে মূল ঘটনায় আসি । বাবার তখন ৬ বছর বয়স । সেই বছর টেরিকট কাপড় কলকাতার বাজারে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে । সবার মধ্যে টেরিকটের প্যান্ট - শার্ট বানিয়ে পরার উত্তেজনা চরমে । আমার বাবা খুব সুন্দর ছিল দেখতে । সেই কারণে আমার ঠাকুর্দার সবচেয়ে প্রিয়পুত্র ছিল সেজো ছেলে কুমার । শখ করে ছেলেকে সেই বছর দুর্গাপূজায় দুটো সেট টেরিকটের শার্ট - প্যান্ট বানিয়ে দিলেন । আমার বাবা তো কি খুশি.....কি খুশি.....
ষষ্ঠীর দিন সকালে স্নান করে নতুন প্যান্ট - শার্ট পরে পুরো খোকাবাবু হয়ে বেরিয়েছে বাইরে । পুঁচকে ছেলে হলে কি হবে, পাক্কা ওস্তাদ । ছোটো থেকেই একা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো অভ্যাস ।
আমাদের বাড়ির অনতিদূরে একটি বস্তি আছে । যেখানে সমাজের অন্তত কুড়ি - পঁচিশ টা আটচালা ঘরে, এক একটা পরিবারের বসবাস । সেই বস্তির সামনে দিয়ে যাবার সময় বাবার সমবয়সী একটি ছেলে, নাম শঙ্কর , বাবার কাছে এসে বললো, "ওমা, কি সুন্দর দেখতে রে এই জামা গুলো । আমার আর ভাইয়ের তো এবছর জামা কেনাই হলো না । বাবার যা অসুখ !!
ওই ছেলেটির কথা শুনে আমার বাবার চোখে জল এসে গেল । ওই ছয় বছর বয়সেও বাবা নিজের প্যান্ট আর শার্ট খুলে সেই বাচ্চা ছেলেটিকে দিয়ে ছেলেটিকে বললো,"শার্ট টা তোর ভাইকে দিস, প্যান্ট টা তুই নিস । নিজে স্যান্ডো গেঞ্জি আর আন্ডারওয়ার পরে বাড়ি ফিরলো ।
বাবার তখন ২২ বছর বয়স । সেই বাচ্চা অর্থাৎ শঙ্কর অশিক্ষার মধ্যে দিয়ে বড়ো হয়ে উঠে পাড়ার মস্তান তৈরি হয়েছে । যেহেতু ঠাকুরদা সেই বছরই গত হয়েছেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে শুরু হলো অশান্তি । আমার বাবার ছোটকাকা, পাড়ার সেই শঙ্কর মস্তানকে টাকা খাইয়ে বাবাকে একদিন মার খাওয়ালো । পাঁচ - ছয়জন মিলে ঘিরে ধরে সদ্য পিতৃহারা ছেলেটাকে বেপরোয়া চড় ঘুষি লাথি চলতে লাগলো । মুখ ফেটে, মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে বাবার ।
ওই অবস্থায় বাড়ি ফিরতে আমার ঠাকুমা কান্নায় ভেঙে পড়লেন । সদ্য বিধবা নারী আহত সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ভরসা দিতে লাগলেন । যদিও বাবার ছোটকাকা পরে এসে ক্ষমা চেয়েছিল । তবুও সব অন্যায়ের তো আর ক্ষমা হয়না । সে যাই হোক না কেন, আমি প্রসঙ্গে আসি ।
এর পর কেটে গেছে আরও পনেরো - কুড়ি বছর । শঙ্কর ফুসফুসের ক্যান্সারে তখন শয্যাশায়ী । আমার বাবা খবর পেয়ে ওকে বাড়ি বয়ে দেখতে গেল, সাথে ফল, মিষ্টি, হরলিক্স ইত্যাদি নিয়ে । শুধু তাই নয়, ওর পরিবার প্রতিপালনের জন্য প্রতিমাসে ওর বড়ো ছেলের হাতে বেশ কিছু করে টাকা গুঁজে দিয়ে আসতো । বাবাকে ঠাকুমা ও আমার মা দুজন মিলে বারণ করলেও বাবা তাদের কথা কানে নিতো না । বলতো, "সে অধম বলে, আমি উত্তম হবো না কেন? বিপদের সময় কারোর পাশে দাঁড়ানোর মতো পবিত্র অনুভূতি আর কিছুতে নেই ।"
শঙ্কর মৃত্যুর আগে নিজের অন্যায় স্বীকার করে বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে গিয়েছিল ।
আমি বলি, হোক আমার বাবা বোকা আর ভালোমানুষ । কিন্তু, এমন কয়েক হাজার মানুষ আছে, যাদেরকে বাবা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন । আজ তিনি নেই, কিন্তু বিপদে যাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা এখনো বাবাকে স্মরণ করেন ।
Copyright © All Rights Reserved
Piyali Chakravorty

কাকুকে আমার শ্রদ্ধার্ঘ।আমার মা-ঠাকুমাকেও আমি এমন কাজ করতে দেখেছি।তাঁদের সন্তান হয়ে আমরাও যেন তাঁদের দেখান পথে চলতে পারি এটাই প্রার্থনা।
উত্তরমুছুনআমারও খুব ইচ্ছে আছে রে,এমন কিছু সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করার । অনেক ধন্যবাদ বন্ধু । কাকিমা ও ঠাকুমাকে আমার প্রণাম🙏
মুছুনকাকুমনি কে অনেক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও প্রনাম থাকলো আমার।🙏🙏
উত্তরমুছুনতুমিও কিন্তু এরকমই মানুষ, ভীষণ helpful, সবার দরকারে তুমি আগে এগিয়ে আসো, তোমাকেও অনেককককক ভালোবাসা পুচু😘😘😘😘😘❤❤❤🤗🤗🤗
অনেক অনেক অনেক ভালোবাসা তোমাকে ডান্সার । লাভ ইউ ❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫
মুছুনলাভ ইউ টুুুু ডিয়ার❤❤❤❤❤😍😍😍😍
মুছুন🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫
মুছুনওরকম লোক দুটো হয় না। ভগবান এক পিস ই বানিয়েছিলো
উত্তরমুছুনসত্যি একপিসই ছিল 🙏🤗
মুছুনঅসাধারণ। দারুণ! ধন্যবাদ। 👌👌👍👍💯💯💯💫💫💥💥❤❤💅💅
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদা 🙏
মুছুনশ্রদ্ধেয় পিতা, আজ আমদের শিক্ষা দিলেন ।নিজের সততা চিরকাল বজায় রাখার। অনেক ধন্যবাদ এই সুন্দর সত্য গল্পটি উপহার দেবার জন্য।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ বন্ধু🍫🤗🍫🤗🍫
মুছুনআপনার বাবাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।সত্যিই অনেক বড় মনের মানুষ ছিলেন।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ বন্ধু 🍫🤗🍫🤗🍫
মুছুনউনার আত্মার শান্তি কামনা করি। লেখাতেই বোঝা যাচ্ছে অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ বন্ধু 🤗🍫🤗🍫🤗
মুছুনএই বোকা মানুষগুলো যতদিন পৃথিবীতে থাকবেন জানবি ততদিন পৃথিবী বাস যোগ্য থাকবে।তারপরই সব অন্ধকার অরণ্যে ঢেকে যাবে👍👍👍
উত্তরমুছুনঠিক বলেছ দাদাভাই । অনেক ধন্যবাদ 🙏🙏🙏🙏
মুছুনস্মৃতি এ রকম মানুষ কে দেখাই ভাগ্যের ব্যাপার আর আশির্বাদ পাওয়া আরো অনেক সৌভাগ্য নিজেকে আজ খুব সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। ওনার আশির্বাদ সব সময় তোদের পারে থাকবে।
উত্তরমুছুনবাবার কখনো তুলনা হয় না,,,,,অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন তিনি,,,,, ,,💐💐💐💐🙏🙏🙏🙏🙏😊😊😊😊
উত্তরমুছুন