রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

সিজোফ্রেনিয়া~পর্ব-৪ (✍©অনিশা কুমার)






সিজোফ্রেনিয়া (পর্ব-৪)

আমি গান বন্ধ করলাম। কথাকলি ও খুব সুন্দর গান করতো। ওর বাবা আমায় খুব স্নেহ করতেন। বন্ধুর মতো গল্প করতেন আমার সাথে। কথাকলি আমার কাছে পড়ত না। এমনিতেই আমি ওকে অনার্সের নোটস গুলো দিতাম। খুব খুশী হতো। এত সুন্দর মেয়ে আমি খুব কম দেখেছি। নতুন নতুন রান্নার রেসিপি জোগাড় করতো। আর যেদিন ওদের বাড়ি যেতাম সেদিনেই ওকে সেই রেসিপিটা রান্না করতে হবে। ওর বাবার সঙ্গে গল্প করছি, হঠাৎ সেই নতুন বানানো খাবার নিয়ে চলে এলো। কোন ওজর আপত্তি চলবেই না। খেতেই হবে। সবসময় যে সুখাদ্য হতো তা বলব না। তবে আমাকে খাওয়ানোর জন্য ওর ব্যাকুলতা আমি খুব উপভোগ করতাম। আমি ও উপদ্রব করতাম, গান না শোনালে আমি খাবার মুখে ও তুলব না। কখনো কখনো ওর সঙ্গে ওর বাবা ও গলা মেলাতেন।  

কখনো এমন হতো আড্ডা দিতে দিতে ওর বাবার স্নানের সময় হয়ে যেত। "তোমারা কথা বলো, আমি বরং চট্ করে স্নানটা সেরে আসি", বলে উনি স্নানে চলে গেলেন। আমি বললাম, "এই যে ম্যাডাম, রান্না ভালো হয়েছে।" লজ্জায় দেখি মুখে লাল আভা। যে মেয়ে বাবার সামনে বসে কথায় খই ফুটছে, তার এত লজ্জা কেন? তবে কি ....? একটু কাছে এগিয়ে বললাম, "কি হলো? কিছু বললে না যে? আমার দিকে তাকাও।" চোখ তুলে চাইতে পারলো না আমার চোখের দিকে। আমি আলতো হাতে বুকের কাছে টেনে নিয়ে ওর কপালে আমার ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ  করলাম। দু চোখ বন্ধ করে সেই অপার্থিব ভালোলাগা অনুভব করলো।‌ আমি আসছি বলে চলে এলাম।  এই প্রথম আবার আমার নতুন করে ভালো লাগা শুরু হলো। কিন্তু এত্ত বাচ্ছা মেয়ে, ওর সুন্দর একটা ভবিষ্যত পড়ে আছে। ওকে নিয়ে তো আর আমি খেলতে পারি না। এই প্রথম আমি নিজের বিবেকের কাছে হার মানলাম। বাড়ি এসে ভাত খেয়ে গুছিয়ে একটা ঘুম। আবার বিকেলে পড়ানো আছে সোমালী কে।


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...