সিজোফ্রেনিয়া (পর্ব-৫)
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম একটু। মাথায় একটা সুপরিচিত হাতের স্পর্শ পেলাম আর মৃদু স্বরে কথোপকথনের আওয়াজ। "মা ? মা, তুমি কখন এলে?" মা বলল, "এইতো বাবু, একটু আগে। কেমন আছিস বাবু ?" আমি অবাক হয়ে বললাম, "ও মা, আমার কি হয়েছে? আমি তো খুব ভালো আছি।" তারপর আস্তে আস্তে বললাম, "শুধু একটা হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছি না।" মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, "আবার বিড়বিড় করে নিজের মনে? মনে করার চেষ্টা কর না বাবু! একবার মনে পড়লেই সব ঠিক হয়ে যাবে দেখিস। তোর বাইকটার কথা মনে নেই? কত শখ করে বুলেট টা কিনলি ? একটু মনে কর।" মায়ের গলায় অনুরোধের সাথে কান্না মিশে গেল।
সব মনে আছে আমার। এই তো সেদিন হঠাৎ রাস্তায় দেখা। তখনো সে স্নিগ্ধা। আমার কোমল হয়নি। আমাকে দেখে কেমন লজ্জায় লাল হয়ে গেল। শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখটা চাপা দিল। পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর ওর মুখে এসে পড়েছে। একেই কি বলে কনে দেখা আলো? কোনো কথা বলার সুযোগ হয়নি সেদিন।
কই কিছুই তো ভুলে যাই নি। সোমালীর কোনো পড়াশোনার দরকারে ও কাকীর ফোন থেকেই মেসেজ করে। এখন ওর কাকী খুব ভালো বন্ধু। কয়েক বছর আগে কাকা মারা যাওয়ার পর নিঃসন্তান কাকী নিজের মায়ের কাছে চলে গিয়েছিলেন। আবার কাকীর মা ও হঠাৎ মারা যেতে কাকীর আর ভাইদের সংসারে থাকতে ইচ্ছা করেনি। তাই আবার ফিরে এসেছেন। এখন এখানেই থাকবেন। শুনে আমার মনটা অনাবিল একটা আনন্দে ভরে গেল।
ধীরে ধীরে পড়াশোনার পাশাপাশি গান, হালকা জোকস্ পাঠাতে শুরু করলাম ফোনে।
ধীরে ধীরে কথা বার্তা আদান-প্রদান হতে শুরু হলো। আমার ভালো লাগার গভীরতা বাড়ছিল। আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না।
আমার ভালোলাগা ক্রমশ ভালোবাসার রূপ নিয়েছে প্রথম সেটা মা কে জানালাম। মা ভাবতেই পারেন নি আমি আবার কাউকে ভালোবাসতে পারি। অনেক মেয়ে, বৌকেই আমার ঘরে ডেকেছি। বাবা, মা কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে চিৎকার চেঁচামেচি করে থামিয়ে দিতাম। একদিন সোমালীর কিছু খাতাপত্র আমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার বাড়িতে ডাকলাম স্নিগ্ধা কে। মা ও একবার দেখতে চাইছিলেন ও কে। প্রথমবার আমাদের বাড়িতে পা রাখল সে। আর সময় নষ্ট করিনি। সেদিনেই ওর সামনে বসে নিজেকে প্রকাশ করেই ফেললাম। সলজ্জ মুখখানি
দুহাতে ধরে শুধু বললাম, "কোমল, আমার রক্তকমল"।

খুব ভালো লাগলো 👌
উত্তরমুছুনবাহঃ খুব ভাল।
উত্তরমুছুন