সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

স্পন্দন

 

*#বিষয়_অনুগল্প*
*#গল্প_:স্পন্দন*



*#কলমে:_সৌগত*
একবারে যুদ্ধ কালীন প্রস্তুতিতে সরকার বাড়ির বড়ো নাতনী অনুসুয়ার বিয়ে পাশের গ্রামের সদ্য বিপত্নীক মাধব রায় মানে রায়বাবুর ছোট ছেলের সঙ্গে স্থির হয়ে গিয়েছিল তাই রক্ষে, না হলে এই অসবর্ন বিয়ের কলঙ্ক সরকার বাড়ির এতদিনের আভিজাত্য চুরমার করে দিয়েছিলো আরকি।ঠিক সময় ব্যাপারটা নজরে এলো তাই।ছেলেটার সাহস ছিলো ,বাগদীর ছেলে দু কলম বিদ্যে পেটে ঢুকেছে আর শহরে একটা সরকারি আপিসের কেরানীর চাকরি করে বলে ধরা কে সরা জ্ঞান করছিলো।সরকার বাড়ির জামাই আদরের স্বপ্ন দেখা যে কি মহাপাপ সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলো।কালিদীঘির কুমির গুলোর অনেক নোলা ,বর্ষার আধ পোড়া মরা খেয়ে খেয়ে সব সময় জিভ লক লক করে চড়ে বেড়ায়।
   অনুসুয়া কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত হয়ে গেছে।খুরিমা ঘষে ঘষে মাথার সিঁদুরের দাগ আবছা করে দিয়েছে,শাঁখা পলা ভাঙার কাটায় হলুদ দিয়ে কিছুটা হলেও মিলিয়ে দিয়েছে, কিন্তু অন্তরের ভিতরটা সেটাতো কেউ মুছতে পারেনি।ভিতরের নারীর স্পন্দন এখনো তো অর্ণবকে তার বুকে বেঁধে রেখেছে।
   বাইরে নহবত বেজে উঠেছে । নতুন বর দেখতে সবাই নিচে দৌড়েছে,রঙিন বেনারসী পড়ে আবার নতুন নববধূর সাজে সেজে উঠেছে অনুসুয়ার শরীরটা যেটা আজ বিক্রী হবে মাধব রায়ের কাছে।অনুসুয়ার গা টা গুলিয়ে ওঠে,পেটের ভিতর স্পন্দন টা এখন যেনো আন্দোলিত হচ্ছে।অর্ণবের ভালোবাসা যেনো হাত পা ছুঁড়ে বলতে চাইছে ,অনু তুমি শুধু আমার আর কারো নয়।অনুসুয়া মুখে হাত চাপা দিয়ে জানলার সামনে দৌড়ে যায়।শিক বিহীন দোতলার জানলা থেকে নিচের পদ্ম পুকুর দেখা যায়।অনুসুয়া বিস্ফোরিত চোখে দেখে জানলার নীচে অর্ণব দাঁড়িয়ে আছে।মুখে মৃদু হাঁসি, দুটো হাত উপরে তার দিকে প্রসারিত।
   নহবতের শুর, উলুধ্বনি, শাঁখের আওয়াজে তখন পদ্ম দীঘির কল্লোল তোলা ঝপাং ধ্বনি গ্রাস করছে।নিশীথ রাতে চাঁদের আলোয় তারারা  এঁকে ফেলেছে পবিত্র ভালোবাসার এক মিলনের কাব্য।
     ----সমাপ্ত----

৯টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ লিখেছ... ছোট্ট লেখা, কিন্তু মনকাড়া👌👌👌 _ Haimanti.

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...