রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

বিশ্বাস



*কলমে:_সৌগত*

আত্মা যখন পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হবার জন্য আকুল হয়ে ওঠে,সংসারের সব চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে যিনি রয়েছেন,সেই সৃষ্টি কর্তার হাত ধরে তার জগৎ মেলার রস অস্বাদনে উদগ্রীব হয়ে।মনের অন্তঃকোনে বাসা বাঁধে সেই আধ্যাত্মিকতা।কারো শুরু থেকেই কারো বা অন্তে।এ যেনো সেই শিশুটি যে হাজার মেলার সঙ্গমে মায়ের হাত ধরে কিংবা বাবার কাঁধে চড়ে নির্ভরশীল ভাবে মেলার আনন্দ উপভোগ করে,থেকে থেকে বায়না করে,কখনো বকা কখনো আদরে ভরিয়ে দেয়।বিশ্বাস ভরসা যাঁর উপর ছেড়ে নিশ্চিন্তে জীবনের উপভোগ করা চলে সেটাই আধ্যাত্মিকতা।এখানে লোভ নেই হিংসা নেই শিশুর মনে শিশু সুলভ সময় কাটানো।

    এই আধ্যাত্মিকতা কেউ শিখিয়ে কিংবা জোর করে কারো উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।মন অন্যের কথা শোনেনা, অন্যের দেখানো পথে বাধ্য হয়ে চললেও অবশেষে সে নিজের পথেই চলতে চায়।কেউ ঈশ্বর কে চেনার চেষ্টা করে একক রূপে কেউ বহু রূপে,কেউবা জীবের মাঝে সবের পথ সেই আধ্যাত্মিক পথেই চলা।জগৎ সৃষ্টিকারী জগদিস্বর তার সব সৃষ্টির মধ্যে নিজেকে বিলীন করে রেখেছেন তাই তো মাছ যে জলে জীবন পায় সেই জল বিশ্ব সংসারে সবার প্রাণ বাঁচায়।আবার মাছকে সেই জল থেকে তুললে তার মৃত্যু ঘটে, আবার অন্য প্রাণী সেই জলেই পতিত হলে ভবলীলা সাঙ্গ করে।একই আধার কখনো প্রাণ কখনো নির্বাণ।এই নানা রঙের খেলা যে একক শক্তির মধ্যে নিহিত সেই শক্তিকে খোঁজা তাকে উপলব্ধি করা তারই নাম আধ্যাত্মিকতা।এ বিষয় অনন্ত আকাশ কিংবা অতল সাগরের মতো ঠিকানা বিহীন পথে চলা।তবুও জন্ম জন্ম মানুষ খুঁজে চলেছে তাঁকে খুঁজবেও তাঁকে ঠিক যেমন মরুভূমির মরীচিকার কথা সবাই জানলেও তপ্ত মরুভূমির বুকে ছুটে চলে তৃষ্ণার্ত পথিক। শুধুমাত্র বিশ্বাসের উপর ভর করে,একদিন পথের শেষে তার দেখা মিলবে।

৩টি মন্তব্য:

  1. খুব খুব খুব সুন্দর লিখেছ....গম্ভীর একটা বিষয় কে এত সুন্দর করে সহজ ভাষায় লিখেছ👌👌,পড়তে ভালো লাগছিল। খুব সুন্দর হয়েছে। _ Haimanti

    উত্তরমুছুন
  2. দারুণ বিশ্লেষণ দাদা। এর আগে গ্রুপে পড়েছি।

    উত্তরমুছুন
  3. খুব সুন্দর ভাবে বিশ্লেষণ করলেন দাদা👌👌👌👌💐💐💐😊😊😊

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...