মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

#নাম- অপেক্ষা। ✍ - চন্দনা লাহা নাগ।

*নদী*:    কি চাও বলো আমার কাছে?

*রবি*:    কিছু চাইনি তো আমি।

*নদী*:    তবে অমন সকাল-বিকেল আমায় ছুঁয়ে ডাক দিয়ে যাও কেন?

*রবি*:   ভালো লাগে।

*নদী*:   শুধু ভাল লাগা? আর কিছু নয়?

*রবি*:   ভালোবাসি।

*নদী*:   ভালোবাসো?

*রবি*: কেন তুমি বাসো না আমায়?

*নদী*: ভেবে দেখিনি তো

*রবি*:      সত্যিই কি তাই? কোন পুরুষ যখন প্রতিদিন কোন নারীর সঙ্গে দু'দণ্ড বসে গল্প করে তাকে আরো কাছে পেতে চায় তখন কি তা সত্যিই ভাবনার বাইরের জিনিস?

*নদী*:  আমিও একবার পুরুষ হয়ে তোমাকে নারী রূপে দেখতে চাই।

*রবি*:  না ও কথা আর কখনো বলোনা।

*নদী*:   কেন রবি?

*রবি*:    নারী যখন পুরুষ হয়ে ওঠে তখন তার মধ্যে মায়া মমতা কিছু থেকে গেলেও চোখের ভাষা বদলে যায়।

*নদী*:  ভারী অদ্ভুত ভাবনা তো তোমার। শুনলে হাসি পায়।

*রবি*: হাসি পায়।  তা পাক। তবুও তুমি পুরুষ হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করবে না কখনো। তুমি চাইলে ক্ষণিকের জন্য বীরাঙ্গণা হও। তবুও পুরুষ হতে চেওনা। আমি দেখতে চাই না ওই বেশে তোমায়।

*নদী*:   কেন রবি! এত ভয় কেন?

*রবি*:     কারণ আমি তোমার শান্ত কোমল স্নেহময়ী রুপের কাছে আমার সকল সুখ খুজে পাই, তোমার নরম কোলে আমার শান্তি, তোমার নিষ্পলক চোখের গভীরে আমার ভালোবাসা খুঁজে পাই।

*নদী*:    আমিও তো তোমার বীরপুরুষের মতো তেজো দীপ্তিতে মোহিত হই। 

*রবি*:  সত্যি বল দাবদাহের গ্রীষ্মে আমার প্রখরতা তোমার ভালো লাগে? নাকি শীতের সকালে যখন হালকা মেজাজে থাকি তখন ভালো লাগে!

*নদী*:   যাও তোমার সাথে কথায় পারবো না।

*রবি*: মৃদু হাসি।

*নদী*:   তবে আমি কিন্তু দেখেছি ওই মানুষের মধ্যে মোটা চেহারার পিতৃ মাতৃহীন জীবনসংগ্রামের তাগিদে নারীটিকে ধীরে ধীরে কাজকর্মে পুরুষ হয়ে উঠতে।

*রবি*:   তুমি ওকে ঘর বাঁধতে দেখেছো?

*নদী*:   না তো। তবে ওর মধ্যে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলাম একবার। কিন্তু কেউ ওকে সাহায্য করেনি। সমাজ ওকে মরদ আখ্যা দিয়েছে। কোন পুরুষ কাছে এসে ওর মনে নারীত্বকে জাগিয়ে তুলতে চাইনি।

*রবি*:  তবে যে!

*নদী*:   তবে কি? সব নারী পুরুষের মত কাজ করলে কি পুরুষ হয়ে যায়?

*রবি*:    না তা হয় না। তবে বহু সংসারী মানবী নারীকে সময় আর পরিস্থিতি পুরুষ করে তোলে। তখন সে হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব সত্তা। তাই আমারও ভয় হয়।

*নদী*:   হ্যাঁ তা ঠিক। আমিও দেখেছি এমন।

*রবি*:   ছাড় ওসব। দেখো সবুজ বনানী দূরের ঐ সারস এর দল কেমন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এবার আমার বিদায়ের পালা। আবার কাল এসে শীতের চাদরের মতো জড়িয়ে ধরব আরেকবার। ততক্ষণ বিদায়।

*নদী*:   বেশ তবে যাও হে রবি। তোমার আমার  না দেখার সময় টুকুর নাম দিই ক্ষনিকের নির্বাসন।

*রবি*:  না নির্বাসন নয়। বল অপেক্ষা!
                 ********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর চন্দনা লাহা নাগ।

১৫টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ! অপূর্ব লাগল। 👌👌❤❤⚘⚘🖋

    উত্তরমুছুন
  2. অসম্ভব ভাল বললেও কম বলা হবে।খুব অভিনব লাগল।

    উত্তরমুছুন
  3. উফ, কি অসাধারণ। এতো নতুনত্বে ভরা লেখা। মন মুগ্ধ হয়ে গেলো

    উত্তরমুছুন
  4. অপূর্ব অপূর্ব বেশ নতুনত্ব আছে মন ভরিয়ে দিলো👏👏👏

    উত্তরমুছুন
  5. অসাধারণ 👌
    নতুনত্বের স্বাদ পেলাম গো, মা তোমার কাছে বারবার পাই।💕🌷🎉

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...