মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

নিশা - দিশা (পিয়ালী চক্রবর্তী)


বারুইপুরের কাছেই বর্ধিষ্ণু ভট্টাচার্য বাড়ি । জমি - জমা, সম্পত্তি - প্রতিপত্তি কি নেই তাদের । বড়কর্তা, বিপত্নীক অমরীন্দ্রনাথ বাবু গত পরশু থেকে শয্যাশায়ী । আজ সন্ধ্যায় ইহজগতের মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন । রেখে গেলেন দুই পুত্রসন্তান ও তাদের পরিবার এবং সাথে প্রচুর অর্থ - সম্পদ ।


ওনার শ্রাদ্ধশান্তির পরে দুই ভাই একদিন আলোচনায় বসলো । অনেক দিন থেকেই বাবার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে ছিল তারা । আজকে সেই সুবর্ণ সুযোগ তাদের হাতের মুঠোয় । তলে তলে এক প্রোমোটারের সাথে দুই ভাই আগেই কথা বলে রেখেছিলো । ওদের বিশাল জমি ও বাড়ি সেই প্রোমোটারের হাতে তুলে দিয়ে তারা নিজেরা নিজেদের মতো কলকাতায় বহুতল আবাসনে ফ্ল্যাট কিনে থাকবে সেই প্ল্যান । 


মাসখানেকের মধ্যেই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো । দুই ভাই আগে থেকেই ফ্ল্যাট বুক করে রেখেছিল । সেখানে তারা নিজের নিজের পরিবার সাথে নিয়ে স্থানান্তরিত হলো । 


দুই ভাইএর দুই মেয়ে । বড়ো ভাই দীনেন্দ্রনাথের মেয়ের নাম দিশা । আর ছোটভাই নৃপ্রেন্দ্রনাথের মেয়ের নাম নিশা । দুই বোন পিঠোপিঠি । দুজনের মধ্যে যাকে বলে হরিহর আত্মার সম্পর্ক । কেউ  কাউকে ছেড়ে একটা কাঁচা আমের টুকরো পর্যন্ত খায় না । ছোটো থেকে একসাথে বড়ো হয়েছে । একসাথে খাওয়া, শোওয়া, ওঠা, বসা, পড়া, খেলা এমনকি অসুস্থও হতো তারা একসাথেই । 


বাবা ও কাকা আলাদা আলাদা ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠতে দুই বোনের যেনো নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা । বাচ্চাদুটো সারাদিন মনমরা হয়ে থাকাতো । না ঠিক করে খাওয়া, না ঘুম, না পড়াশুনায় মন, এমনকি আজকাল স্কুলেও যেতে চায় না তারা । সারাদিন ওদের মায়েরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকে ওদের নিয়ে । 


ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে ফুলের মতো দুটো প্রাণ । শয্যা নেয় দিশা । ওদিকে নিশার অবস্থাও তথৈবচ । ওদের মা বাবারা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না কেনো ওদের এই অবস্থা । বিলাসবহুল আবাসনে পার্ক, বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী কোনো কিছুরই অভাব নেই । তবুও তারা আজকাল কারুর সাথে কথাই বলতে চায়না, মিশতেই চায় না । 


নিশা করার সাথে কোনো কথা বলেনা । চুপ হয়ে গেছে চঞ্চল  মেয়েটা । 


ওদিকে ধুম জ্বর দিশার । ডাক্তার এলেন দেখতে । অভিজ্ঞ ডাক্তারের চোখে ধরা পড়লো অসুস্থতার আসল কারণ । মনকষ্টে ভুগে, অনাহারে ইমিউনিটি ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে আট বছর বয়সী মেয়েটার । তাই এই জ্বর । ডাক্তারবাবু দিশার বাবা - মায়ের কাছ থেকে জানতে চাইলেন দিশার মনকষ্টের কারণ । কথায় কথায় বেরিয়ে এলো আসল সত্য । সহোদরার মতো প্রিয় বোনের থেকে বিচ্ছেদের কারণেই ছোট বাচ্চাটির এই মনের অসুখ । 


সব শুনে ডাক্তারবাবু নিদান দিলেন, "যদি বাচ্চাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আবার ফিরে পেতে চান তবে ওর বোনের সান্নিধ্য ওর জন্য খুব জরুরী । আপনারা শত ওষুধ - পথ্য করেও ওকে ঠিক করতে পারবেন না যদি না ওর বোনকে ওর কাছে এনে দেন । "


ডাক্তারের কথায় দুই ভাই ও তাদের বউদের টনক নড়লো ।  তারা ঠিক করলো একসাথে একটা বড়ো ফ্ল্যাটে যৌথ পরিবার হিসেবেই থাকবে । সত্যিকথা বলতে তাদের কারুরই এমন অণু পরিবারে থাকার অভ্যাস নেই । সবারই কম বেশি কষ্ট হচ্ছিল । 


বাচ্চারা তাদের সঠিক দিশা দেখালো । পারিবারিক মিলনের পরে ধীরে ধীরে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেল তারা । 


এই গল্পটি থেকে আমরা বুঝতে পারি, মানসিক সুস্থতাই শারীরিক সুস্থতার চাবিকাঠি । 

Copyright © All Rights Reserved

Piyali Chakravorty

ছবি সৌজন্যে : গুগল
 

৩৫টি মন্তব্য:

  1. দারুন। মানসিক অবসাদের ফলে মানুষ অসুস্থ হতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। ভালো লাগলো

    উত্তরমুছুন
  2. ঠিক বলেছিস। খুব সুন্দর লাগল। ধন্যবাদ। 👌👌💫💫💥💥💯💯

    উত্তরমুছুন
  3. খুব সুন্দর লাগল। ধন্যবাদ। 👌👌💥💥💫💫💯💯

    উত্তরমুছুন
  4. খুব সুন্দর লিখেছো বন্ধু। 👌👌👌👌👌

    উত্তরমুছুন
  5. খুব সুন্দর লিখেছো বন্ধু। 👌👌👌👌👌

    উত্তরমুছুন
  6. খুব সুন্দর লিখেছো বন্ধু। 👌👌👌👌👌

    উত্তরমুছুন
  7. উত্তরগুলি
    1. এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

      মুছুন
    2. অনেক ধন্যবাদ । কিন্তু আমার নামে এর অ্যাকাউন্ট বানিয়েছেন কেন? কে আপনি?

      মুছুন
  8. খুব ভাল হয়েছে বন্ধু।মনের কষ্টের তল পাওয়া ভার।

    উত্তরমুছুন
  9. পারিবারিক গল্প মিষ্টি গন্ধে ভরা। 🦋🦋

    উত্তরমুছুন
  10. Sundor lglo didi....tomar lekhoni nia Kichu bolar nei...sob e khub sundor hoi ....

    উত্তরমুছুন
  11. অসাধারণ লাগলো দিদি... দারুন...👌👌

    উত্তরমুছুন
  12. Khub bhalo laglo golpo ta......sotti Mon bhalo na thakle sorir kharap hoye badhdho

    উত্তরমুছুন
  13. অসাধারণ 👌👌👌👌💐💐💐💐🤗🤗🤗🤗🤗

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...