সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

ঝরা পাতার কথা



*কলমে:সৌগত*          

কি রে বকুল সপ্তা শেষের শনিবার সন্ধ্যা বেলায়  এখন সাজগুজা না করে বসে আছিস বড়ো।আজকি ধান্দা বন্ধ নাকি লো।শরীর খারাপ? স্বপ্না বকুলকে জিজ্ঞাসা করে।

   শহরের একটি নামকরা পতিতালয়ের  পুরোনো বাসিন্দা বকুল।ওর মায়ের ব্যাবসা টা নিজে ধরে নিয়েছে। 22টা বছর প্রতি রাতের রানী সাজা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।মা চাইনি বকুল এই লাইনে আসুক,সেই ভয়ে বকুলকে হোস্টেলে রেখে পড়াতো।বছরে একবার পুজোর সময় বাড়ি আসতো।তাও সেটা মাত্র চারদিনের জন্য।ওই কটা দিন মা মেয়ে সারা কলকাতা চোসে ঠাকুর দেখে ফুচকা ঝাল মুড়ি খেয়ে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতো।

​স্কুলের পাঠ শেষ করে কলেজে পড়ার সময় সৌম্য র সঙ্গে মন দেওয়া নেওয়া হয়।সৌম্য র বিশ্বাসী হাত ধরে নতুন জীবন পাওয়ার লোভে নারী স্বত্তার সব থেকে বড়ো অহংকার কুমারীত্ব সৌম্য র কাছে সঁপে যখন নিঃস হয়ে গিয়েছিলো।তারপর পরই সৌম্য র চেতনা এসেছিলো শরীর জুড়ে আর বকুল বেশ্যার মেয়ে।সৌম্য র ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছিলো তাকে ছেড়ে আর এক নতুন ডালে।বকুলের গর্ভে তখন অন্ধকারের আলো জ্বলে সুপ্রভাতের কুঁড়ি💐💐💐 কলঙ্কিনী অপবাদের রূপে।বকুল ফিরে এসেছিল মায়ের কাছে,শুরু হয়েছিলো বকুলের নতুন জীবন তার ছোট্ট মেয়ে মায়ার জন্য,বকুল সেজে উঠেছিলো সন্ধাতারার রূপে অন্যের মনোরঞ্জন করতে।

   নাগো মাসি আজ কাজে বসবো না,এখন দিন পাঁচেক ঘরের বাতি জ্বলবে না।দেউড়ির আলো জ্বালা থাকবে।মেয়েটার ছুটি পড়ছে কদিনের জন্য ঘরে আসতে চায়।কাল ও আসছে তাই একটু ঘরটা পরিষ্কার করে ধুপ গঙ্গা জল দেব।

   বকুলের কথায় স্বপ্না বাঁকা হাসি হেসে বলে ধুপ গঙ্গা জলে কি সুদ্দী হবে লো।যে পাঁক গায়ে লেগেছে ও জন্ম জন্মান্তর লেগে থাকবে।পারবি কি মেয়েকে আগলে রাখতে।

  বকুল ডুকরে ওঠে ,অমন কথা বোলো নি,এ লাঞ্ছনার জীবন যেনো আমাতেই শেষ হয়।মেয়ে আমার রাজ রানীর জীবন পায় এই আশীর্বাদ করো।

     মায়ার এই জায়গাটা একদম ভালো লাগে না,কিন্তু মাকে ছেড়ে বেশিদিন থাকতেও পারে না।সকাল যেমন তেমন রাত যত বাড়ে রঙিন চটকদার সাজের সঙ্গে মদ আর পান বাহারের গন্ধে তার গা গুলিয়ে ওঠে।ওপরের বন্ধ ঘরে বসে সে অসহ্য যন্ত্রনায় ছটপট করে।আগে দেখতো মা মধ্যরাতে সদ্য স্নান করে আসা ঠান্ডা শরীর নিয়ে তার পাশে শুয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো।

    একি মা তোমার কপালটা খুব গরম।তোমার জ্বর এসেছে।দাঁড়াও ডাক্তার খানায় নিয়ে যাবো।বকুল মায়ার হাত চেপে ধরে।না মায়া তুই কোথাও যাবি না এ ঘর ছেড়ে।স্বপ্না মাসি এলে ওকে দিয়ে ওষুধ নিয়ে আনা করাবো, ও সেরে যাবে তুই চিন্তা করিস না।

     মায়ার মাথায় বাজ ভেঙে পড়েছে বকুলের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে।বকুলের ব্লাড ক্যানসার লাস্ট স্টেজ, ডায়লসিস করাতে হবে।লাখের বেশি টাকা চাই ,হাতে মাত্র কুড়ি দিন কোথা থেকে জোগাড় হবে টাকা কে দেবে।তবেকি টাকার অভাবে তার মা টা মরে যাবে।অসহায় মায়া কিছু ভেবে পায় না সে কি করবে।

    আজ এক ধাক্কায় তিরিশ হাজার টাকায় ভুপেশ সামন্তের হাতে সদ্য ফোটা কুঁড়ি এসে পড়েছে। শিলাজিতের আসল খেলা দেখাবে আজ তার ষাট বছরের তরুণ শরীর ষোড়শী দেহের খাঁজে খোঁজে। বকুলের দেউড়ির আলো নিভে গেছে,ঘরের রক্তাভ আলো আঁধারী লাইটটা জ্বলে উঠেছে ,মায়ার কিশোরী শরীর জড়িয়ে বেয়ে উঠছে এক শ্বাপদ,অজগরের মত তার থল থলে শরীর নিয়ে।মায়া ভয়ে ঘেন্নায় চোখ বন্ধ করে।

              --------সমাপ্ত--------


  


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...