সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

#বিষয়- অনুগল্প

# নাম - 'কামস্বরূপিনী'
 # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

ইমারত বাঁধানো চারদিকে চারটি ঘাট। পূব পশ্চিমে মেয়েদের। আর উত্তর দক্ষিণে ছেলেদের ঘাট। বিঘা তিনেক জায়গার উপর পুকুর। টলটলে জল। দখিনা বাতাস খেললে পাড়ে ছলছলাইয়া ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়ে, দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। 
অনুরাগিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঐ ঢেউয়েদের দেখে। আর অনুভব করে যেন আহা হা পাড়ের কি সৌভাগ্য! অনুরাগিনী মনকে বলে "দেখো দেখো- ঢেউ রঙ্গিনী বেশে যত আঘাত করে পাড়ের কি সুখ। যেন ঢেউ বাতাসকে বলছে - একটু জোরে বাও! ঢেউকে আছড়ে আছড়ে ফেলো। তোমার প্রতি অঙ্গ লাগি,মোর প্রতি অঙ্গ কান্দে।"
বাতাস বলে- "আমার সাধ্য কি জোরে বহিবার! আমারও তো সংস্কার,রীত,নিয়ম কানুন আছে। ঢেউকে আমার সাধ্যমত সাহায্য করছি। ঢেউয়ের তোমার গায়ে সজোরে ঝাঁপিয়ে পড়লে সুখ আছে সত্য, কিন্তু তোমার দেহাবরণ আলুলায়িত হলে তখন কি হবে? তাই সংযম মেনে যদি হয় তাতে ধৈর্য্য ধরে ধীরে ধীরে গ্রহণ করো।" পাড় বলে-
"না আমার ভেতরে কামনা কি তর সয়। সে তরঙ্গের জন্য হৃদয়ে বড়ই চঞ্চল। গুমরে মরছে।"
অনুরাগিনী হঠাৎ সম্বিত ফিরে পায়। পুকুর ঘাট সুনসান থাকে এই সময়টা। মাথার উপর সূর্য রক্তচক্ষু মেলে অনুরাগিনীকে যেন বলছে "যা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যা। গা ডুবিয়ে শরীর তো ঠান্ডা করলি,আর কত জলকেলি করবি? তপ্ত বাসনা দমন কর।"
অনুরাগিনী অনুযোগের সুরে বলে - ঘাটে একটা বছর পনরোর উদম ছেলে রতন সাঁতার কেটে সেই মাঝ পুকুর পর্যন্ত সেই এলো,ভুল করে ডুবে ডুবে এদিকটায় এলে হয়তো মৃদু ভর্ৎসনা করতাম, কিন্তু বেশ লাগতো।  ভীরু দেখ্ কেমন চলে গেল। এখনতো পুকুর খুব নিরিবিলি। ঢেউয়ে পাড়ে যেমন মাখামাখি,রতনে আমাতেএকটু হলে ক্ষতি কী?"
তখন ডাঙার উপর হাঁসেরা একাঠ্যাঙা হয়ে  ধ্যানের ছলে বিশ্রাম নিচ্ছে। ঐ ঈশানকোনে বটগাছটার ছায়ায় বসে কেউ নেই, যে দেখে ফেলবে। 
একদিন অনুরাগিনী একদিন রতনকে বলে - "তুই সাঁতার দিতে অত পটু নস কেন? একটু সাঁতরে হাঁপিয়ে যাস।"
রতন নিজেই জানে সে সাঁতারে কতো পটু। অনুরাগিনীর কথায় অহংকারে লাগল। রতন বলল "ঠিক আছে কালই তাহলে দেখিয়ে দেব এক ডুবে তোদের ঐ ঘাটে যেতে পারি কিনা।" চোখ বড় বড় করে বলে রতন।
   কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে ভাবে গাঁ থেকে বারণ করা আছে মেয়েদের ঘাটে ছেলেদের যাওয়া। 
রতন একডুব সাঁতারে অনুরাগিনী যে ঘাটে সেখানে পৌঁছে গেল।  রতন দেখল  অনুরাগিনীর গায়ের কাপড় অগোছালো। রতন খুব লুকিয়ে ডুব দিয়েছিল,যাতে অনুরাগিনী জানতে না পারে। অনুরাগিনী বুঝতে পারলে সাবধান হয়ে যেত। ঐ সময় অনুরাগিনী সিড়ির ধাপের দিকে মুখ করে রতনের কথা ভাবছিল। হঠাৎ রতন পায়ের কাছে হুস করে ভেসে উঠতে,অনুরাগিনী ভড়কে গিয়ে সামলাতে না পেরে রতনের গায়ে গিয়ে পড়ল। রতনের গায়ে সমস্ত শরীরটা পড়তে, রতনের সুখ..
অনুরাগিনী স্নানরতা। গোপনীয়তা রক্ষায় বেসামাল। আস্ত ঢেউ হয়ে রতন অনুরাগিনীর শরীর ছুঁল। যেমন ঢেউ ছোঁয় পাড়কে।
@copyright reserved for Mridul Kumar Das.

৪টি মন্তব্য:

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...