শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

প্রেতপুরী পর্ব - ২ (পিয়ালী চক্রবর্তী)

 




Copyright©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
মনের ভয় মনে চেপে বিকাশ প্রানপনে ঈশ্বরের নাম জপ করতে লাগলো | কিছুক্ষনের মধ্যেই বাথরুমের দরজাটা নিজে থেকে খুলে গেলো , আর একটা প্রবল হাওয়ার ঝাপ্টা এসে লাগলো ওর চোখেমুখে |

কাঁপা কাঁপা পায়ে বাথরুমের ভেতরে গিয়ে ও দেখলো ভেজা ফ্লোরে একটিমাত্র পায়ের ছাপ | কোনো খোঁড়া মানুষ যেন ওখানে একটু আগেও বিরাজমান ছিল |
ভয়ে ওর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো | বন্ধ ঘরে , বন্ধ বাথরুমের ভেতরে একজন খোঁড়া মানুষ কিভাবে ঢুকতে পারে !

বিকাশ ভূতে বিশ্বাসী নয় , কিন্তু আজকের রাতের ঘটনাটা ওর মনে পৈশাচিক শক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বিস্তার করলো | কোনো অশরীরীর প্রভাব নিশ্চই এই বাড়ির আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে |

চুপ-চাপ গিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে ও ঘুমোনোর চেষ্টা করলো , কিন্তু ঘুম কি আর অতো সহজে আসে ! কাউকে কিছু বলতেও পারবেনা এই ব্যাপারে , তাহলে সবাই ওকে ভীতু ভেবে উপহাস করতে পারে |

ভোরের আলো ফোটার আগে পর্যন্ত ও দুচোখের পাতা এক করতে পারলোনা | ঘুম যখন ভাঙলো , সবাই তখন মোটামুটি রেডি হয়ে গেছে সাইট যাবার জন্য | যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি নিজেকে সাইটের জন্য রেডি করে ও নিচে নেমে ব্রেকফাস্ট করে নিলো |

লক্ষ্য করলো ওদের রাঁধুনি রজনীশ যেন গতকালকের তুলনায় অনেক বেশি চুপচাপ | চোখেমুখে কেমন যেন একটা অস্বাভাবিক ভাব রয়েছে ওর | সাইটের তাড়া থাকায় বিকাশ ওকে কিচ্ছু জিজ্ঞাসা করতে পারলোনা |

সারাদিন সাইটে পরিশ্রম করে ক্লান্ত শরীরে ওরা যখন বাড়ি ফিরে এলো , তখন রাত প্রায় আটটা বেজে গেছে | যে যার ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে ডাইনিং রুমে নেমে এলো চা - জলখাবার খাওয়ার জন্য | সবাই নিজেদের মধ্যে গল্প করতে করতে টিভি দেখছে আর চা খাচ্ছে |

বিকাশের মন কিন্তু পড়ে রয়েছে গতকালের ঘটনায় | ও চেয়ার থেকে উঠে রান্নাঘরের দিকে গেলো | রজনীশ রাত্রের খাবার প্রস্তুত করতে ব্যস্ত |

বিকাশ ওকে জিজ্ঞাসা করলো , ' আচ্ছা , ভাই তুমি তো কালকে রাত্রে একা নিচের ফ্লোরে ছিলে সারারাত | কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা বা শব্দ পেয়েছিলে কি ? '

ওর মুখের কথা শেষ হতে না হতে , রান্নাঘরের জানালার বাইরে একটা কালো কুকুর এসে করুন স্বরে কাঁদতে শুরু করলো | মিনিট তিনেক করুন অথচ ভয়ানক কান্নার পর কুকুরটা নিজে থেকেই সেখান থেকে চলে গেলো | কুকুরটার জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে হিংস্রতার ছাপ স্পষ্ট |

রজনীশ বিকাশকে বললো , ' স্যার , আমি একা একা নিচের ঘরে থাকতে পারবোনা | দয়া করে কিছু একটা ব্যবস্থা করুন | '

বিকাশ : কিন্তু ওপরে তো আর ঘর নেই , না আছে থাকার অন্য কোনো ব্যবস্থা | আমি প্রশান্ত স্যারের সাথে আজকে কথা বলে দেখি কি করা যায় তোমার জন্য |

রজনীশ : তার মানে আজকেও !

বিকাশ : আজকেও ? আজকেও কি ? সব বলো আমাকে |

রজনীশ বলতে শুরু করলো , ' গতকাল রাত্রে ঠিক নয়টার সময় এই কুকুরটা এসে রান্নাঘরের জানালার সামনে ডাকতে শুরু করেছিল , আমি প্রথমে অতো পাত্তা দিইনি | খাবার ঘরে টেবিল গুছাচ্ছিলাম |

হটাৎ রান্নাঘর থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাই | কোনো মেয়েমানুষ গুমরে গুমরে কাঁদলে যেরকম শব্দ হয় , ঠিক সেরকম শব্দ | কৌতুহলবশতঃ আমি তাড়াতাড়ি রান্নাঘরের দিকে যাই |

গিয়ে দেখি জানালার বাইরে দুটো চোখ আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে | মরা মানুষের চোখের মতো ঘোলাটে দৃষ্টি সেই চোখে | কি ভয়ানক সে দৃষ্টি , আমার অন্তরাত্মা কেঁপে কেঁপে উঠছিলো ওই চোখের দিকে চেয়ে | কিন্তু কি এক অমোঘ আকর্ষণে আমি কিছুতেই ওই চোখের থেকে নিজের দৃষ্টি সরাতে পারছিলাম না |

হটাৎ আমি চিৎকার করে উঠি , কিন্তু সেই চোখদুটো তখনো জানালার সামনে থেকে একচুলও নড়লোনা | ভয়ের চোটে আমি রান্নাঘরের দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে খাবার ঘরে এসে চুপ করে হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে ছিলাম |

কেউ যেন আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো , ' অনেক দিন পর কেউ এলো , অনেক দিন পর আবার পাবো পুরুষসঙ্গ | '

আমি ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছি | একটা ঠান্ডা হাওয়ার ঝটকা আমার সারা শরীরে বয়ে যাচ্ছিলো | অদ্ভুত ভালো লাগতে শুরু করেছিল সেই স্পর্শ | হটাৎ সম্বিৎ ফিরে পেয়ে আমি এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াই আর আমার মায়ের দেওয়া তিরুপতি থেকে আনা বিভূতি মাথায় ছোঁয়াই |

আস্তে আস্তে সেই হীমশীতল বাতাস আমার থেকে দূরে সরে গেলো | সারারাত ঘুমোতে পারিনি আমি | আজকের রাত্রে যদি আরও ভয়ানক কিছু হয় , তখন আমি কি করবো বলতে পারেন ? বাড়িতে আমার বৃদ্ধা মা একা থাকে , অসুস্থ মানুষটার ওষুধের খরচও চালানো অসম্ভব হয়ে যাবে যদি চাকরিটা ছেড়ে দিই | দয়া করে আমার থাকার ব্যবস্থা আপনাদের সাথে করে দিন |

সব শুনে বিকাশ বললো , ' আমি এখনই প্রশান্ত স্যারের সাথে কথা বলছি | দেখি কি করা যায় | '

রজনীশ খানিকটা নিশ্চিন্ত হলো | নিশ্চই বাবুরা কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেবেন সেটাই আশা করা যায় |

কিন্তু তখনো ও ঘুণাক্ষরে জানতোনা , কি ভয়ানক পরিস্থিতি ওর জন্য অপেক্ষা করে আছে সেই রাতে |
Copyright©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty

চলবে ..............


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...