#শিবানীর স্বপ্ন
#কলমে: শুভ্রজিত চক্রবর্তী
#ছবি: সৌজন্য গুগুল
All rights reserved © Subhrajit Chakravorty
শিবানী আজ বড়ই খুশি। আজকে ওর বিয়ে। বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি চলে যাবে এই নরক ছেড়ে। হ্যাঁ, নরকই বটে! ছোটবেলাতেই মা মারা গেছেন। মায়ের মুখ টা আবছা আবছা মনে পড়ে। বাপটা বেহেড মাতাল, আর জুয়া খেলে দিন রাত কাটায়।
শিবানী লোকের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। ওকেও যে কেউ একজন বিয়ে করবে, ও স্বপ্নেও ভাবে নি। স্বপ্নেও ভাবেনি বললে ভুল হবে। ও স্বপ্ন দেখতো, ওর স্বপ্নের রাজকুমার পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে এসে ওকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পর মুহূর্তেই হেসে উড়িয়ে দিতো সেই স্বপ্ন।
কিন্তু আজ ওর জীবনেও ওর স্বপ্নের রাজকুমার আসবে। সে যদিও ঘোড়া চালায় না। সে রিক্সা চালায়। তাকে নিয়েই শিবানী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। দিন পনেরো আগে, ভট্টাচার্য কাকু ওর সম্বন্ধ টা করে দেন বিমল এর সাথে। শিবানী ভট্টাচার্য কাকুর বাড়িতে দু বেলা রান্না করে। ওকে কন্যা স্নেহে ভালোবাসেন উনি।
বিমল ওনাকে রিক্সা চালিয়ে বাজার নিয়ে যাওয়া আর আসা করে। অন্যান্য সময় শহরে রিক্সা চালায়। মোটামুটি আয় করে। বিমলের কেউ নেই।
শিবানী স্বপ্ন দেখে, বিমল রিক্সা চালিয়ে পরিশ্রান্ত ও ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে দুপুরে খেতে বাড়ি ফিরেছি। ও পরম মমতায় ওকে ভাত বেড়ে দিচ্ছে। খেয়ে দেয়ে বিমল ওকে আদর করে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে আবার বেরিয়ে যায় রিক্সা নিয়ে। যাবার সময় ওকে হাল্কা চুমু খেয়ে যায়। রাতের বেলা আবার বাড়ি ফেরে, ওর জন্য কিছু নিয়ে হাতে করে।
যদিও বিমলকে ও আগেও দেখেছে দু একবার। কিন্তু সেদিন যখন ভট্টাচার্য কাকু দুজনকে দেখা করানোর বাহানায়, বিমলকে রাতে বাড়িতে খেতে ডাকেন, আর ও ভট্টাচার্য কাকুর মনের কথাটা বুঝে যায়, সেদিন বিমলকে দেখে ও যেনো লজ্জায় মাটিতে মিশে যাচ্ছিলো। কোনো ভাবে রান্না সেরে ভট্টাচার্য কাকুকে রান্না বুঝিয়ে দিয়ে ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে চলে এসেছিলো।
তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল অন্তহীন অপেক্ষার। দিন যেনো কাটতেই চায় না শিবানীর। ভট্টাচার্য কাকুই একটা শাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। দিয়ে বলেছিলেন, বিয়ের দিন এটা পরে আসবি। ভট্টাচার্য কাকুর বাড়িতেই বিয়ে হবে। পাশের বাড়ির সেন কাকু, যিনি পেশায় উকিল, বিয়েটা করিয়ে দেবেন। নিজেকে অনেকবার প্রস্তুত করে নেয় শিবানী, কিভাবে মালা টা পরাবে বিমলের গলায়।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিয়েছে শিবানী। পাশের বাড়ির ১২ বছরের মিষ্টিকে বলে দিয়েছিলো, যখন বিমল, ভট্টাচার্য কাকুর বাড়ি আসবে, সাথে সাথে যেনো ওকে খবর দেয়। বিমলের মুখটা যেনো সারাক্ষন চোখে ভাসছে আজ। আর থেকে থেকেই লজ্জা পাচ্ছে শিবানী।
স্নান সেরে শাড়িটা পরে নিয়েছে। আয়নায় নিজের মুখটা বার বার দেখছে আর কল্পনা করছে সিঁদুর পরে ওকে কেমন দেখাবে।
All rights reserved © Subhrajit Chakravorty
জানলা দিয়ে হঠাৎ দেখতে পেলো মিষ্টি দৌড়ে আসছে। মিষ্টিকে দেখতেই ওর সারা শরীরে যেনো বিদ্যুৎ দৌড়ে গেলো। নিশ্চই বিমল এসে গেছে। কেমন লাগবে বিমলকে দেখতে? নিশ্চই পাঞ্জাবি পরেছে! গলায় হয়তো ফুলের মালা রয়েছে। শিবানী বিমলের জন্য একটা ইমিটেশন এর চেন কিনে লুকিয়ে পাঠিয়েছিলো মিষ্টির হাত দিয়ে। নিশ্চই সেটা পরে আসবে।
মিষ্টি দৌড়তে দৌড়তে এসে ঢুকলো। মিষ্টি যা বললো, শিবানী মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো, "দিদি, তোমার হবু বর আত্মহত্যা করেছে। ভট্টাচার্য কাকুর ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।"
চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এসেছে। এ হতে পারেনা। মিষ্টি নিশ্চই কিছু ভুল দেখেছে। এক দৌড়ে নিমেষের মধ্যে শিবানী চলে যায় ভট্টাচার্য কাকুর বাড়ির সামনে। দেখে ভিড় জমে আছে। পুলিশের গাড়িও এসেছে। কাউকে যেনো পুলিশ গাড়িতে তুলছে। গলায় একটা ইমিটেশনের চেন ঝুলছে। চারদিক কালো হয়ে এসেছে। শিবানী জ্ঞান হারালো।
All rights reserved © Subhrajit Chakravorty

মর্মাহত হলাম🙂
উত্তরমুছুনপরের টা তে মন ভালো করে দেবো
মুছুনThis has to be read in conjunction with the previous one... amazing
উত্তরমুছুনYes
মুছুনখুব ভালো লিখেছেন। 👌👌👌👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুনখুব ভালো লিখেছেন। 👌👌👌👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুনবিমল কেনই বা আত্মহত্যা করতে গেলো তা তো বুঝতে পারলাম না। তার কি বিয়েতে আপত্তি ছিল না এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে? বুঝিয়ে বললে ভালো হয়।
উত্তরমুছুনতার আগের ছোটো গল্প "ঝরা পাতা" পড়ার অনুরোধ রইলো। ঝরা পাতার বিনয় এখানে বিমল। ধন্যবাদ।
মুছুনEta ki jhara pata r continuation?
উত্তরমুছুনঠিক ধরেছ
মুছুন