বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

ভদ্রতা কখন ও কতটা জরুরি (পিয়ালী চক্রবর্তী)


মার্জিত ব্যবহার বা শালীনতা একটি উত্তম গুণ, যা সবার মধ্যে থাকেনা । মার্জিত স্বভাবের জন্য আমরা অপরের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে পারি । সুন্দর বাচন ভঙ্গী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ যা প্রত্যেকের মধ্যে থাকা উচিত । 


কিন্তু.... কিন্তু....কিন্তু.....

পরিস্থিতির চাপে কখনও কখনও মানুষ অভব্যতা বা অমার্জিত আচরণ করতে বাধ্য হয় । সেই সময় হয়তো তার কোনো দোষ থাকেনা, তবুও পরিস্থিতির শিকার হয়ে পড়ে অশালীন আচরণ করা ছাড়া তার কাছে আর অন্য কোনো পথ খোলা থাকেনা । 

উদাহরণ দিয়ে বলি -

মনে করুন আপনি একটি মহিলা, ভীড় বাসে করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন । এমন সময় পিছন থেকে কোনো বিকৃতকাম মানুষ আপনার সাথে অভদ্রতা করলো । সেই সময় আপনার কি কর্তব্য!! আপনি কি সেই ক্ষেত্রে শালীনতা দেখিয়ে বা ভদ্র ভাষায় বলে সেই নোংরা মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারবেন!! তার বদলে যদি নিজের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে আপনি সেই কদর্য বদমাশের জামার কলার চেপে ধরে তাকে ঠাসিয়ে কটা থাপ্পড় মারতে পারেন, সেই ক্ষেত্রে সেটাই হবে আপনার জন্য শালীনতা । যাতে সেই ব্যক্তি আপনার সাথে এরকম নোংরামি করতে আর সাহস না পায় । 


মার্জিত হওয়া ভালো , কিন্তু, এতোটাও না যে , যেকেউ আপনার মাথার ওপর দিয়ে হেঁটে চলে যাবে । কথায় আছে, "অতি বড়ো হয়ো না, ঝড়ে পড়ে যাবে, অতি ছোটো হয়ো না ছাগলে মুড়াবে ।" আমি এই কথাটা ভীষণভাবে মেনে চলি । আমার সাথে যে ভালো , তার সাথে আমি আরো বেশি ভালো । আর আমার সাথে কেউ যদি খারাপ, তাহলে আমি তার সাথে তার দশ গুন বেশি খারাপ ।


আসলে আমারা যদি সত্যিই মুন্নাভাই এম.বি. বি.এস. এর পন্থা মেনে চলে, আমাদের আঘাতকারীর দিকে গাল বাড়িয়ে দিই, তাহলে সে কোনো "জাদু কি ঝাপ্পি" দেবেনা, চড়ই দেবে গালে । তাই ও পন্থার অনুসরণকারী আমি নয় । আমি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পন্থায় চলতে পছন্দ করি । কেউ যদি একগালে চড় মারে, তবে তাকে দুগালে আমার হাতে ঠাসিয়ে চড় খেতে হবে । 


কোনো কোনো মানুষ আছে তারা মার্জিত ব্যবহারের যোগ্য নয় । তাদের সাথে যত ভালো করেই কথা বলিনা কেন, যতই বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে মিশি না কেন, তারা খোঁচা মেরে মেরে খারাপ ব্যবহার করতে বাধ্য করবে । আর যেই খারাপ ব্যবহার করে ফেলবো, তখন তারা বদনাম করবে লোকের কাছে, "এর ব্যবহার একদম ভালো নয়" বলে । 


অনেক জায়গা ঘুরেছি, অনেক মানুষের সাথে মিশেছি, এই শিক্ষা লাভ করেছি যে, "যত দূর, তত মধুর" । বেশি মেলামেশা মানেই তিক্ততার উৎপত্তি ।


ভার্চুয়াল জগতে যতোটা পারা যায়, মার্জিত থাকার চেষ্টা করাই ভালো । কিন্তু, এখানেও সেই একই পন্থা আমার, "কেউ যদি ছোবল মারে, তবে উল্টে অন্তত ফোঁস করা উচিত ।" কারণ নরম মাটি দাবাতে সবাই মজা পায় । অতও নরম  হওয়া উচিত নয় যে এক বালতি জল ঢেলে দিয়েই ধুয়ে চলে যাবো ।

 

আশা করি আমার বক্তব্যে আমি স্পষ্ট । ধন্যবাদ ।

© Piyali Chakravorty

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...