শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

ব্ল্যাক হোলের পরে

 

 



সাইমন্স একনাগাড়ে বলে যেতে লাগলো আসলে স্বাভাবিক ভাবে কোনো একটি নক্ষত্রর মৃত্যু অর্থাৎ চুপসে গেলে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়।তবে নক্ষত্রের ভর হয় অনেক বেশী।আমাদের সবথেকে কাছের নক্ষত্র সূর্যের বিস্তৃতি প্রায় 1.3x10^9km এবং এর ভর 2x10^30kg এর।কাছাকাছি ।নক্ষত্র গুলির অস্বাভাবিক ভরের জন্য এদের মাধ্যাকর্ষণ ও অনেক বেশি।আমরা জানি মাধ্যাকর্ষণ এর সঙ্গে ভরের একটা অনন্য সম্পর্ক আছে।যার ফলে বিপুল পরিমাণ ভর বিশিষ্ট কোনো বস্তু যার মহাকর্ষের প্রভাব আলোক বর্ষ পর্যন্ত পালাতে পারেনা।কিন্তু আমরা যদি এমন কিছু যান আবিষ্কার করতে পারি যে এই পরিমিত ভরের থেকে কম,এবং যা আলোক তরঙ্গ ভেদে সক্ষম তাহলে আমরা অনায়াসে এই ব্ল্যাক হোল পথ অবলম্বন করে সূর্যের পিছনে অবস্থিত কোনো একটা নক্ষত্রে পৌঁছতে পারবো।

   আমি এতক্ষন হা করে সাইমনসের কথা শুনছিলাম।বুঝলাম ও ব্যাটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে ।পৃথিবীতে বসে ও ভর হীন যান তৈরী করে তাতে চেপে পৃথিবীর বাইরে বেরিয়ে ব্ল্যাক হোল ধরে সূর্যের পিছনের নক্ষত্রে অভিযান চালাবে।আমি বিরস বদনে চায়ের কাপে চুমুক দিলাম।

     সাইমন্স বোধহয় আমার মনের কথা বুঝতে পারলো আমায় বললো আমার কথা গুলো পাগলের প্রলাপ ভাবছো তো।এই দেখো আমার প্লান তৈরি প্রথমে আমি মঙ্গলে আমাদের মহাকাশ স্টেশনে যাবো আমাদের যান ওখানে তৈরি করবো। মাস দুয়েক সময় লাগবে একবার রেডি হয়ে গেলে তুমি এখানে চলে আসবে তারপর বড়জোর দু বছরের খোঁজ আমরা সূর্যের পিছনে একটা নক্ষত্রের খোঁজ করে ফিরে আসবো।

    লোকটা আসতো পাগল সূর্য নিজেই কত আলোকবর্ষ দূরে আছে তা একটা ক্লাশ এইটের ছেলে জানে আর ও দুবছর এ সেই দূরত্ব অতিক্রম করবে!! সাইমন্স আবার বলে জানি তুমি কি ভাবছো।খোলা চোখের দূরত্ব আর ব্ল্যাক হোলের দূরত্বের মধ্যে অনেক ফারাক কয়েক শো আলোকবর্ষ।বুঝলে গুপ্ত আমি সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই বলছি।তুমি বাড়ি যাও মনকে প্রস্তুত করো আমাদের পরবর্তী অভিযানের জন্য।

       ভারতে ফিরে এসে নিজের মহাকাশ গবেষণা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ি।হঠাৎ মাসচারেক বাদে নাসা থেকে জরুরী তলব,সাইমন্স তার করেছে সে রেডি আমি যেনো পত্রপাঠ চলে আসি।লোকটা ভাবছে কি এটা কি হাওড়া শিয়ালদহ ডেলি পাসেঞ্জারি বললো আর বেরিয়ে পড়লাম।যদিও আমি অকৃতদার আগে পিছে কেউ নেই।ওখানে পৌঁছে শুনলাম মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে যে রিলিভার যাচ্ছে আমাকে তাদের সঙ্গে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

      সাইমন্স নিরুদ্দেশ খোঁজের যে যান টা আমায় দেখালো সেটা 8ft/4ft একটা ক্যাপসুল টাইপের,দুজন যাহোক করে বসে থাকা যাবে।এতে করে দু বছর অভিযান আমি প্রোমদ গুনি কিন্তু কিছু করার নেই।যান টা তৈরী হয়েছিলো প্লাটিনাম এবং সোনার প্লেটে ।উপরের প্লাটিনাম তারপর সোনা এইভাবে চারটি প্রলেপ,মাধ্যাকর্ষণ থাকলে এর ওজন আনুমানিক 12 kg কিন্ত এখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ওটা ভর শুন্য করা হয়েছে।নিউট্র হাইড্রোক্লোরাইট কার্বন এবং জিঙ্ক সহযোগে কিছু একটা প্রলেপ তৈরী করে বডিতে লাগানো রয়েছে তাতে আলোকরশ্মি বিকিরণে বাঁধার সৃষ্টি হবে।মহাকাশের পোশাকে সেখানে ঢোকা যাবে না।একটা তামা রুপার দ্বারা তৈরি স্বচ্ছ পোশাকে,আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করি অক্সিজেন মাস্ক খুলে আমরা বাঁচবো কি করে।সাইমন্স আস্বস্ত করে ওখানে অক্সিজেন তৈরি করে আমাদের প্রয়োজন মেটানোর ব্যাবস্থা আছে।আর কিছু ট্যাবলেট আছে যেগুলো এই দিনগুলো আমাদের খিদে তেষ্টা নিবারণ করবে।

       আমরা অজানা নক্ষত্রের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।যান চালু হবার সাথে সাথে সেটা বৃত্তকার ঘুরতে লাগলো,সে গতি একসময় এতো প্রবল হতে আরম্ভ হলো মনে হতে লাগলো পেটের নাড়িভুঁড়ি মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে।যখন প্রায় আধমরা হয়ে গেছি তখন সাইমন্স একটা সবুজ বোতামে চাপ দিলো।মনে হতে লাগলো ঘূর্ণন কমতে শুরু করেছে।কিছুক্ষন বাদে ঘূর্ণন একদম থেমে গেলো।আমি বিরক্ত হয়ে সাইমন্স কে বলি এই ঘূর্ণন থামানোর উপায় যদি তোমার জানা ছিলো তো খামোকা কষ্ট দিলে কেনো?সাইমন্স হেসে বলে উপায় ছিলোনা বন্ধু,যান তার সর্বশেষ গতির কাছা কাছি না পৌঁছুলে আমি কোনোমতেই বিপরীত প্রতিক্রিয়া চালু করতে পারিনা।তাতে আমাদের এই যান থেকে ছিটকে ফেলে দিতো।আমি জিজ্ঞাসা করি তারমানে

সাইমন্স বলে আমরা এখন বাইরে যান ঠিক যত গতবেগে ঘুরছে আমরা এখানে ঠিক তত জোরে বিপরীত মুখী ঘুরে চলেছি।আমরা এখানে কতক্ষন যাত্রা করছি তোমার অনুমান।

আমি বলি খুব বেশি হলে আধঘন্টা হবে।

সাইমন্স বলে এই আধঘন্টা য় যানটা পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ গতিশীল যানের দশ বছরে যতটা পাড়ি দিতে পারে আমরা ঠিক ততটা পথ অতিক্রম করেছি।আমি অবাক হয়ে ভাবি এই টেকনোলজি যখন সাইমন্স জানে পৃথিবীতে বসে তৈরি করলে মহাকাশ গবেষণায় সময় রকেট খরচা সব বাঁচে।সাইমন্স আমার মনের কথা বুঝতে পারে।স্মিথ হেসে বলে আমি জানি বন্ধু তুমি কি ভাবছো।কিন্তু ওটা সম্ভব নয় মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ভিতরে তুমি কোনো ভর বিহীন বস্তুর কথা কল্পনাতেও আনতে পারোনা।আর দ্বিতীয় ত বায়ুর চাপ এতো তীব্র এই যানের গতির সঙ্গে সংঘর্ষে ছাই হতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেবে।দাঁড়াও তোমায় একটু বাইরের দৃশ্য দেখাই।একটা সবুজ সুইচ টিপতে একটা 20 ইঞ্চি tv র স্ক্রিনের মত ফুটে  উঠল।সেখানে ফুটে উঠলো মিস কালো অন্ধকারে কিছু জোরালো আলোক বিন্দু।সাইমন্স বললো যা দেখছো এগুলো সব নক্ষত্র,আমরা যত এগোবো এদের উজ্জ্বলতা বাড়বে।আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি এগোচ্ছি না দাঁড়িয়ে আছি।হঠাৎ আমাদের যান কাঁপতে শুরু করলো ,কি ভীষণ কাঁপুনি টিভির স্ক্রিনে তীব্র আলোর ঝলকানি।সাইমন্স চিৎকার করে উঠলো গুপ্ত চোখ বন্ধ করো, আই মাস্ক টেনে দাও,তারপরেই ওর সিটের পাশে থাকা একটা লিভারে টান দেয় সঙ্গে সঙ্গে আমি উল্টে শোয়ার অবস্তায় চলে যাই।বিশাল একটা বিস্ফোরণের তীব্র আওয়াজ তারপর নিশ্চিহ্ন অন্ধকার,যানের আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে গেছে অতল সমুদ্রের ঠান্ডা জলের ভিতর যেনো ভাসমান কোনো ডুবোজাহাজে ভেসে আছি।কতো সময় কত দিন কাটলো জানিনা,আমি ঘুমিয়ে আছি না জেগে কিছুই জানিনা।এরকম অবস্তায় সাইমন্স এর গলা শুনলাম।গুপ্ত ঠিক আছো।আমি উত্তর করি হ্যাঁ, কিন্তু আমরা এখন কোথায়।সাইমন্স বলে আমরা ব্ল্যাক হোলের মধ্যে,ওই বিস্ফোরণের আওয়াজ আমাদের যানের ফার্স্ট লেয়ার খুলে যাওয়ার।আমার গায়ে কাঁটা দেয়।আমি জিজ্ঞাসা করি এ অবস্থায় আমরা কতদিন থাকবো।সাইমন্সের উত্তরে আমি চমকে উঠি,সে বলে জানিনা কতদিন থাকতে হবে,যদি কোনো মুখ আমাদের যান ভাসতে ভাসতে খুঁজে না পায়,আমরাও বাকি সবের মত হারিয়ে যাবো।আমি আমার প্রিয় পৃথিবীকে শেষ প্রনাম জানাই।মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দিন গুনি।

     অনেক দিন বোধহয় কেটে গেছিল একদিন হঠাৎ আবার এক বিস্ফোরণ তারপর যানের প্রচন্ড ঘূর্ণন।সাইমন্স উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে ওঠে গুপ্ত আমরা বেরোতে পেরেছি ,ব্ল্যাক হোলের খোলা মুখে আমাদের যান বেরিয়ে গেছে।অনেকক্ষন বাদে যানের ঘূর্ণন থামে,যান্ত্রিক আওয়াজ কানে আসতে থাকে।সাইমন্স মনিটর অন করে।অবাক বিস্ময়ে দেখি আমরা এক হালকা নীলাভ কোনো নক্ষত্র না গ্রহ সেখানে অবস্থান করছি।ঠিক যেনো সমুদ্রের তলায় কোনো দেশ।এবার আমাদের যান কি সব অদ্ভুত শব্দ করতে থাকে।মনিটরে থেকে থেকে লাল রং ফ্ল্যাশ হতে থাকে।সাইমন্স বলে বাস্তবিকে আমাদের যান অদৃশ্য থাকলেও আমরা যেখানে এখন যেখানে রয়েছি তারা আমাদের থেকে প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে তারা আমাদের যান দেখতে পাচ্ছে কি না বলতে পারবো না। তবে যানের উপস্থিতি টের পেয়েছে এবং সুরক্ষা রে দিয়ে যান বিকল করতে চাইছে ।আমাদের এখুনি কোথাও ইমার্জেন্সি ল্যান্ড করতেই হবে।

      আমরা এখন একটা জায়গায় অবতরণ করেছি।যেটা ঠিক সমুদ্রের তল দেশের মত।সেখানে যে সব গাছ পালা রয়েছে অবিকল শ্যাওলা র মত কিন্তু বিশাল বৃক্ষের আকার নিয়ে ঢেকে রেখেছে।পুরো নীলাভ একটা জায়গা।গরম নয় আবার খুব ঠাণ্ডাও নয় জায়গাটা।আমাদের অদৃশ্য পোশাক যাতে অক্সিজেন ভরা আছে পরে বাইরে বেরোনোর পর সাইমন্স বললো গুপ্ত মাস্ক খুলে ফেল এখানে প্রচুর পরিমানে অক্সিজেনে ভরপুর।

     আমরা আমাদের আবিষ্কৃত জায়গার তল্লাশি শুরু করলাম।কিছুদূর যাবার পর পিছন ফিরে দেখি সাইমন্স নেই,আমি ভয় পেয়ে গেলাম।চিৎকার করে সাইমন্স কে ডাকলাম কিন্তু গলার স্বর কেমন যেনো শিসের মত তীক্ষ্ণ শোনাচ্ছে,আমার কাঁধে একটা সজোরে হাত এসে পড়ে।দেখি সাইমন্স হিশ হিশে গলায় বলে এখানে চিৎকার করে কথা বলো না।আমার সঙ্গে এসো তোমায় একটা দারুন জিনিস দেখাই।এই বলে আমায় টানতে টানতে একটা ভাঙা চোরা মহাকাশ যানের কাছে নিয়ে এলো। যানের একটা জায়গা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে আমায় বললো এটা পরো।আমি দেখলাম তাতে লেখা রোহিনী 309,আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সাইমন্সের দিকে তাকাই।সাইমন্স বলে তোমার কিছু মনে পড়ছে না।আমাদের মহাকাশ গবেষণা বইয়ে রোহিনী 309 এর কথা পারোনি।প্রায় 200 বছর আগে ভারত নামক এক মহাদেশ থেকে একটি যান বিক্রম হারিয়ে যায় তার খোঁজ করতে আসে রোহিনী 309 ,দুজন বিজ্ঞানী তার নেতৃত্বে ছিলো একজন USA বলে একটা দেশ যা আজ সমুদ্রের তলায় চলে গেছে সেখানের বিজ্ঞানী রোসেল আর ভারতীয় বিজ্ঞানী সুপ্রকাশ দত্ত কে নিয়ে রওনা দেয় কিন্ত তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।তারমানে রোহিনী সেদিন ব্ল্যাক হোলে পরে এবং কোনো ভাবে আমরা যেখান দিয়ে এখানে ঢুকেছি সেখান দিয়ে এসে এখানে পরে।অবসম্ভাবীব ভাবেই 200 বছর আগের কেউই আজ আর বেঁচে নেই।তবু চলো ভিতরে ঢুকে যদি কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারি।

       ভেঙে পড়া 309 ঢোকার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।এতবছর তার সারা গা ওই শ্যাওলা আকারের লতা গুল্ম আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে ধরেছিলো।অনেক অনুসন্ধান করার পর একটা ভাঙা অংশের সন্ধান পাওয়া গেলো।সেখানে পৌঁছে আমরা হতবাক নরম কাদা মাটির উপর মানুষের একাধিক পায়ের ছাপ।সাইমন্স প্রায় চিৎকার করে উঠলো,গুপ্ত এ কি করে সম্ভব,এই গ্রহে মানুষ কি করে আসবে।আমি নিজেও হতবাক বললাম হয়তো মানুষ নয় এমন কোনো জীব যার কোনো না কোনো অঙ্গ মানুষের সাদৃশ্য।

        ভাঙা সুড়ঙ্গের ভিতর হামাগুড়ি মেরে ঢুকতে লাগলাম,পুরোনো মরচে পড়া ধাতব অংশে ক্ষত বিক্ষত হতে লাগলাম।কিছুটা চলার পর একটা ফাঁকা জায়গায় এলাম।পকেটের এনার্জি লাইট বার করে জ্বাললাম ভিতরের অন্ধকার কাটলো।এটা মহাকাশ যানের রেস্ট রুমের মতো।সমস্ত অংশ কালের চাপে ধ্বংশ হয়ে গেছে।অনেক খোঁজাখুঁজি র পর দুটো তালা দেওয়া ভল্ট পেলাম।একটার উপরের ময়লা ঘষে তুলে দেখলাম তাতে লেখা এসেল রোসেল,পরের টায় লেখা দীপ্ত দত্ত।সাইমন্স উচ্ছাসিত গুপ্ত দেখো আমাদের প্রথম আবিষ্কার পৃথিবীতে যদি ফিরতে পারি 200 বছরের জিজ্ঞাসার উত্তর আমাদের হাতের মুঠোয়।আমরা ভল্ট খোলার চেষ্টা করতে লাগলাম।রোসেলের ভল্ট খোলা গেলো।মহাকাশ গবেষণার অনেক পুরোনো যন্ত্র পাতি এবং একটা জরাজীর্ণ ডাইরি পেলাম।ডায়রির ভিতরে আরো চমক লুকিয় ছিলো।রোসেল মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি মানব শরীর রক্ত শেল নিয়ে কোনো গবেষণা চালাচ্ছিলেন তার উল্লেখ তিনি বার বার করছেন।শেষ পাতার লেখা আরো চমকে দেওয়ার মত তিনি মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী বিনা রক্তচাপ ছাড়াই বাঁচিয়ে রাখার কোনো ফর্মুলা আবিষ্কার করে ফেলেছেন,শুধু পরীক্ষা বাকি। সাইমন্স আমার দিকে তাকায় তবে কি ওই পায়ের ছাপ রোসেলের।আমাদের বিশ্বাস হতে চায় না।কিছু গবেষণা করার সামগ্রিক সেখান থেকে সংগ্রহ করে আমরা বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিই।

      বাইরে আমাদের জন্য আর এক বিপদ দাঁড়িয়ে ছিলো।বাইরে বেরোনোর সাথে সাথে দেখি আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে এক কিম্ভুত কিবাকার জন্তু শরীর বলতে ঠিক যেনো একটা মুড়ির টিনের উপর একটা গোল ছোটো হাঁড়ি বসানো যার দুপাশ দিয়ে দুটো লম্বা নল উপরে উঠে একটা চার চৌকো বাক্সে আটকে আছে।দুটো সরু সরু ছয় ফুটের মত লম্বা নলের উপর মুড়ির টিনটা দাঁড়িয়ে যার নীচে দুটো বাক্স।দুটো ফ্লেক্সসেবেল হাতের মতো লম্বা নলে সাঁড়াশির মত আঙ্গুল। সাইমন্স ফিসফিস করে বললো এই গ্রহের এলিয়ান,এটা ওদের গ্রহ ,মুখের মাস্ক টেনে নাও আলোক রশ্মি বিচ্ছুরণ বন্ধ করে দিলে ও আর আমাদের দেখতে পাবে না।আমি তড়িৎ সেই কাজ করতে যেতেই কানের ঠিক পাশে কে যেনো পরিষ্কার ইংরেজী তে বললো,চেষ্টা বৃথা বন্ধু তোমাদের কোনো প্রযুক্তি এখানে কাজ করবে না।তোমাদের যান নিজের ইচ্ছায় এখানে ল্যান্ড করে নি আমাদের ম্যাগনেট ওকে নামিয়েছে।আমি সাইমনসের দিকে তাকাই বুজতে পারি আমি যা শুনছি ও ঠিক তাই শুনছে।

      এলিয়ানটা বলতে থাকে আমাকে ভয় পাবার দরকার নেই আমিও তোমাদের মতোই এখানকার মহাকাশ বিজ্ঞানী।আমার নাম হিসা তোমাদের গ্রহে যেমন যথেচ্ছ গাছপালা কেটে নষ্ট করে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বাড়িয়ে নিজেদের প্রযোজনীয় অক্সিজেনের ভাড়ার শূণ্য প্রায় করে নিজেদের ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে গেছো,এখন প্রতিকার খুজছো।আমাদের এখানে ব্যাপারটা খানিকটা ওই রকম ,তবে উলটো দিক থেকে।আমাদের শরীর চলে কার্বন ডাই অক্সাইডে কিন্তু এখানে ড্রাই অক্সিজেনের প্রভাব বেশী থাকার কারনে আমাদের শরীরে ময়েশ্চার বাড়ছে ফল সরূপ আমাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।তোমরা যেখানে রয়েছ এটা তোমাদের ভাষায় আমাদের কবর স্থান।এই অবস্থার পিছনে আমাদেরই একটা গবেষণায় ভুলের মাশুল আমরা গুনছি। আমাদের এখানে কার্বন ডাই অক্সাইড যখন কমে আসছিলো তখন আমরা জানতে পারি তোমাদের গ্রহের গাছপালা সালোক সংশ্লেষের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ে আমাদের জানার ভুল ছিলো এটাই এই প্রক্রিয়া সূর্যালোক দিয়ে হয়।আরো ভুল ছিলো এই গাছ অক্সিজেন ছাড়ে যার দ্বারা তোমরা বেঁচে থাকো।আমাদের দ্বিতীয় ভুল গাছ নির্বাচনে আমরা সমুদ্রের তলার গাছ সংগ্রহ করি যাদের কার্য আরো বিপরীত মুখী এরা তো কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি শুধু করতে পারে না তা নয় এরা অক্সিজেন বাহক জলের তলার জীবকুল বাঁচিয়ে রাখার কাজ করে।এগুলো সংগ্রহ করে লাগানোর পর সূর্যালোক বিহীন পরিবেশে এগুলো মহা বৃক্ষে পরিণত হলো।আমাদের বিপদ বাড়তে আরম্ভ করলো বেশী পরিমান অক্সিজেন আমাদের বায়ু মন্ডল দূষিত করতে লাগলো।আমি গবেষণায় জানতে পারলাম এখান থেকে বাঁচার একমাত্র রাস্তা পৃথিবীর প্রাণিকুল তারা অক্সিজেন গ্রহণ করে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করতে সক্ষম।আমি সহবস্থান নীতির দ্বারা উভয়ের প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগ নিলাম।কিন্ত আমার কিছু সহকর্মী আমার এই সহবস্থান নীতির বিরোধিতা করলো।তারা ভাবলো প্রাণীদের হৃৎপিন্ড এই কাজ করে থাকে সেটাকে এনে প্রযুক্তির মাধ্যমে চালিয়ে এই অবস্থা থেকে নিজেদের মুক্তির পথ করে নেবে।কিন্তু কোনো ভিন্ন গ্রহের প্রাণীকে এখানে ঢুকতে দেবে না।আমি এই নৃশংস কাজের বিরোধ করেছিলাম।ফলস্বরূপ ওরা আমার মেমোরি বক্সে প্রচুর পরিমান অক্সিজেন জোর করে ভরে আমার সিস্টেম নষ্ট করে এই পাহাড়ে ফেলে দিয়ে যায়।তোমাদেরই মত দুটি বিজ্ঞানী আমায় আবার জাগিয়ে তোলে।ওরা কিভাবে এখানে এলো কিংবা কিভাবে ছিলো আমার জানা নেই।তবে ওদের ভিতরে ব্লাড ভেসেল যেগুলো তোমাদের সিস্টেম চালায় সেটা কোনোভাবে ফ্রিজিঙ্গ করা ছিলো।

   আমি বলি সাইমন্স ও রোসেল আর দত্তের কথা বলছে না তো।

হিসা বলে ঠিক বলেছ আমার ওই বন্ধু প্রাণীদের নাম ওটাই।কিন্তু ওরা এখন বিপদের মধ্যে।

সাইমন্স বলে কিসের বিপদ

হিসা জবাব দেয় আমাদের গ্রহের বন্দী, আমার ধারণা ওরা ওদের হৃৎপিণ্ডের উপর গবেষণা চালাবে।আমি ওদের বাঁচাতে চাইলেও এই মুহুর্তে আমি আমার ল্যাবে যেতে পারবো না।উপায়ান্ত যখন পাচ্ছিলাম না তোমাদের যানের সংকেত আমি পাই এবং ওদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানে টেনে নাবাই।তোমাদের যান এখন আমার ল্যাবে র কাজ করবে।

সাইমন্স বলে কিন্তু ওই যানের কোনো ক্ষতি হলে আমরা পৃথিবীতে ফিরবো কেমন করে।

  হিসা বলে ওঠে বিজ্ঞানী হয়ে বোকা বোকা কথা বলছো।ব্ল্যাক হোলের আকর্ষণে তোমরা ঢুকে গেছো ঠিকই আর আকর্ষণ সীমা রেখা শেষে এসে এখানে পড়েছ এও সত্যি।কিন্তু ওটা তো আসল পথ নয় ওটার হদিস না তুমি পাবে,আর পেলেও সেখানে ঢুকতে কিংবা ব্ল্যাক হোলের মুখ দিয়ে কোনোদিনই বেরোতে পারবে না।

      আমি করুন মুখে বলি তবেকি আর কোনোদিন আমরা ফিরতে পারবো না।

   হিসা অভয় দেয় আমি তোমাদের ফেরৎ নিয়ে যাবো কথা দিলাম,তোমরা কি চাও না তোমাদের বন্ধু বিজ্ঞানী ফিরে যাক তার নিজের গ্রহে।

     আমরা নত মস্তক সম্মতি দিই।ফিরে চলি নিজেদের যানে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি ফিরলে হারানো ইতিহাস সাথে করে পৃথিবীর বুকে ফিরে যাবো।

 

-------------------------------------------------------------  --   

শেষ আমি এখনই বলবো না,কারণ সাইমন্স গুপ্তের মত আমিও চাই রোসেল ,দত্ত ফিরে আসুক পৃথিবীতে।ওদের সঙ্গে হিসা আছে।আপনার আমার পাঠক যদি আমার সঙ্গে থাকেন নিশ্চই ওই চার মহাকাশ বিজ্ঞানী পৃথিবীতে ফিরে আসবেই-----????????????????


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...