শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

উমনো-ঝুমনো (অনিশা কুমার)

 #বিষয় - অনুগল্প

#কলমে - অনিশা



উমনো-ঝুমনো



উমনো-ঝুমনো

ট্রফিদের বাড়ির গেটটা খোলা পেতেই উমনো আর ঝুমনোকে নিয়ে এক ছুট্টে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল সে। যাক, যেমন ভেবেছিল সিঁড়ির নীচে টা বেশ ফাঁকা আছে। উমনো, ঝুমনোকে নিয়ে বেশ থাকা যাবে। 

ট্রফি উমনো, ঝুমনোর বাবার মতোই আর একটা কুকুর। ওকে ঐ বাড়িতে সবাই মানুষের মতোই নাম রেখেছে। ঐ নাম ধরে ডাকে। তাই দেখে সে ও নিজের সন্তানদের নাম রেখেছে। 

সন্তান ভাবতেই দীর্ঘশ্বাস নেমে আসে তার। মোট সাতটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিল সে। সন্তানের গর্বে মনটা ভরে উঠেছিল। কিন্তু প্রচণ্ড খিদে।  ওদের রেখে তো খাবারের সন্ধানে ও তো যেতে হয়। এত করে বাচ্চাদের শাসন করে, না বেরোবার জন্য। কিন্তু ও যেই খাবারের সন্ধানে যাবে বাচ্চাগুলো ও মা কে না দেখতে পেয়ে বেরিয়ে আসবে। একটা একটা করে গাড়ি, বাইক চাপা পড়ে এখন দুটো বেঁচে আছে। একটু বড় হয়েছে ওরা। আর একটু বড় হলে নিশ্চিন্ত।

ট্রফিদের বাড়ির লোকজন খুব ভালো। ট্রফিকে কত্তো আদর করে, খেতে দেয়। পাড়ায় ওদেরও কখন ও বিস্কুট দেয়। অনেক দিন ধরেই ট্রফি ওকে ডাকছে। কিন্তু উমনো, ঝুমনোর বাবা তখন সঙ্গে সঙ্গে থাকত। তাই আসতে পারত না। আবার ট্রফি কে ওদের বাড়ির লোকজন বেরোতে দেয় না। সেটা দেখে ও ভয় করত। 

যাইহোক, এই দুটো কে বাঁচাতে ট্রফিদের বাড়ি ঢুকতেই হলো। সিঁড়ির তলাটায় খুব নিশ্চিন্তে বাচ্চাদের নিয়ে শুয়ে পড়ল। অনেক দিন পর নিশ্চিন্তে। 

একটু পরেই ওদের বাড়ির ছোট ছেলে স্কুল থেকে ফেরে। ওদের দেখেই চিৎকার করে নিজের মা কে ডাকে। ওর মা এসে পরম মমতায় উমনো, ঝুমনোর গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। ছেলেটি ও মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। একটু আদর করার পর ওর মা উমনো, ঝুমনোকে দু হাতে নিয়ে গেটের বাইরে রেখে আসে। উমনো, ঝুমনোর মা ও পিছু পিছু আসে। এবার ওরা বাড়িতে ঢুকে গেটটা বন্ধ করে দেয়।


এতক্ষণে সে বুঝতে পারে ওদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো।  কিন্তু সে এটা বুঝতে পারে নি তখন ও, নিজের দেশের কুকুরদের কেউ কেন থাকতে দেয় না। কেন বিদেশী কুকুদের সমাদর করে ঘরে রেখে দেয় এ দেশের কুকুর প্রেমীরা?



১৪টি মন্তব্য:

  1. বাহ্! অসাধারণ! ধন্যবাদ।👌👌💫💫💥💥💯

    উত্তরমুছুন
  2. দারুণ লাগলো বন্ধু । অনেক শুভেচ্ছা ।

    উত্তরমুছুন
  3. ওই যে বলে গেঁয়ো যুগী নিজ দেশে ভিক্ষা পাইনা, সেরকম আরকি। সুন্দর লিখেছ

    উত্তরমুছুন
  4. খুব ভাল লাগল।একটা অন্যরকম বার্তা আছে।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...