সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

#বিষয় - অনুগল্প

#বিষয় - *অনুগল্প* 
  # নাম - *'ভালবাসা কারে কয়'*
     ✍ মৃদুল কুমার দাস। 

  রমেশ বাবু। রমেশ দত্ত। অফিসে দত্ত বাবু। বড় বাবুর চেয়ে দত্ত বাবু নামে বেশী হাঁক ডাক। 
  বয়স এখন সবে অবসরে সদ্য সদ্য। ঐ আর কি ষাট ছুঁয়ে সপ্তাহ খানেক। মাইনে এখন হাফ হয়ে গেছে। দত্ত বাবুর কাছে পেনশন বেশ রোগাটে লাগে। পেনশন চিরকাল ঐ রকম রোগাপানাই হয়। কে না জানে। জেনেও মনটা তবে এমন করে কেন! মোটা থেকে রোগা না হলে তার নাম পেনশন হবে কেন এ কথা বুঝেও অবুঝ মন শুকনো শুকনো লাগে। 
 ক'টা দিন প্রথম প্রথম কেন,বছর খানেক আগে থেকেই কতটা রোগা হতে পারে তারই হিসেব মন ফুরসৎ পেলেই করিয়ে নিত। দুঃখটা বছর খানেক হল কমতে কমতে এই কটা দিন মানানসই  লাগছে দত্তবাবুর। এই বছরখানেক থেকেই গিন্নি একটু বাজার হাট মন খুলে বললেই বলতেন - "নবাবীটা একটু কমাও। আর বছরখানেক মাত্র ..."
রমলা দেবীর প্রথম প্রথম খুব রাগ হতো। ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতেন। বলতেন - "সাজগোজের পেছনে কোনো খরচ নেই। একটু ভাল খাব তাতেই এতো গা খুবলে খাচ্ছে!"
 দত্তবাবুর দাপট বাইরে যতই  চলুক গিন্নির কাছে সিকি মূল্যও নেই। কেননা খাওয়ার কার্পণ্য  করলেই তেড়ে ওঠেন। আর দত্তবাবু ভোজন রসিক বলে মাথা নিচু করে গিন্নির সঙ্গে সন্ধি করে থাকতে বাধ্য হন। রমলা দেবীও কম যান  না। বলতে ছাড়বেন কেন - "ভালো খেতে হলে ভালো বাজার  করতে হয়। ...।"
  ফুল মাইনে দিয়ে গেছে তার পেনশন পার্টনারকে। মৃত্যু পর্যন্ত সাথে থাকবে। মৃত্যুর পর রমলার জন্য পেনশন বাকি অর্ধেক শরীর নিয়ে থাকবে। এমন ভাবতে ভাবতে মনটা বেশ বশে আসে ধীরে ধীরে।
কিন্তু রমলা বাজারের আর সেই  ফরমায়েস দেয় না। আগের ব্যাগ সব পুরনো হয়ে গেছে বলে বাদ। নিজে সব নতুন ব্যাগ কিনেছে। সাইজে সব ছোটো। বলে - "বাজার মেপে করবে। রিক চাকরি পান আবার বড় ব্যাগ কিনব।"
ছেলে রাকেশ। ডিজাইন নিয়ে পড়ছে। চাকরি পেতে না বললেও এখনও বছর তিনেক বাকি। দত্ত বাবু বললেন- "গিন্নি তোমার হলোটা কী? অত ভাবছ কেন! অন্যান্য সব খরচের কাট ছাট করে দিচ্ছি,খাওয়া খরচ যেমন ছিল থাক।"
 রমলা দেবীর উত্তর-"সবেতেই কাট ছাট। পেনশন মানে তাই। এবার রোগকে দূরে রাখতে নোলায় রাশ টানো।"
 দত্তবাবুর জবাব- "এতো দিনের  অভ্যাস পারবে সহ্য করতে।"
 রমলার ছোট্ট উত্তর- "পারব।" বলে বাজারের ব্যাগ বাড়িয়ে কি কি আনতে হবে বলে দ্রুত চলে যায় ভেতরে।
  এক গ্রীষ্মেরে রাতে ডালের বড়া দিয়ে জল ঢালা ভাত খেয়ে শুয়েছেন। সকালে উঠতে এতো দেরি তো করে না রমলা। দত্তবাবুবিরক্ত হন। বিরক্তির সুরে বলেন - " কই গো বাজারের ব্যাগ দাও। একটু দেরি হলেই ভাল ভাল সব অন্যের দখলে চলে যাবে।  একটু বাজার খারাপ  হলেই গিন্নি তুমি তো রাগে গরগর কর।" তাই  ডাকতে ডাকতে কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিয়ে ঠেলা দিতেই মানুষটা বুঝিয়ে দিল দত্তবাবু আপনি বিপত্নীক হলেন। 
 ছেলের চাকরি হল। রিকু বউ আনল। কিন্তু রমলা...
   বউমা ঋষিতা হয়েছে ঠিক শাশুড়ি মতই। ছেলে রিকু বাবার মতই  ভোজন রসিক। সব ঠিকঠাক  চলছে আগের মতই। শুধু রমলা নেই। রমলা পাশে আছে ধরে রাখতেই রমলার কেনা নতুন বাজারের ব্যাগ সরিয়ে রেখে আগের  পুরনো বাজারের  ব্যাগ হাতে দত্তবাবু বাজারে যান। ছেলে হাজার বার বলেও বাজারের ব্যাগ হাতে পায় না। কারণ দত্তবাবুর মনে হয় রমলা যে বাজারের ব্যাগ নিয়ে আজও পাশে পাশে বাজারে গিয়ে বলেন  এটা কেন, ওটা কেন ....
               ********

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...