সাহিত্যের একটি বিশেষ রূপ হলো ছোটগল্প যা কাহিনীনির্ভর এবং দৈর্ঘ্যে উপন্যাস বা বড়োগল্পের চেয়ে কম । ছোটগল্পের আকার সম্বন্ধে কোনো সর্বজনবিদিত সিদ্ধান্ত নেই । এককথায় বলা যেতে পারে, যেসব গল্প আকারে ছোট এবং রকমভেদে গল্প তাকে ছোট গল্প বলে ।
ছোটগল্পের কয়েকটা শর্ত আছে । যেমন -
●একটি বা দু-তিনটি মূলচরিত্র, স্বল্পসংখ্যক পার্শ্বচরিত্র থাকা বাঞ্ছনীয় ।
●একটিমাত্র ঘটনা সম্বলিত হওয়া বাঞ্ছনীয় ।
●যৌক্তিক পরিণতি থাকা বাঞ্ছনীয় ।
●শুরুটা হবে একটি আকস্মিক ঘটনা বা স্মৃতিকথা দিয়ে যাতে, যা পাঠকের কাছে আকস্মিক বিস্ফোরণের মতো হবে এবং পাঠক পরবর্তী ঘটনায় আকর্ষণ অনুভব করেন ।
●ছোটো গল্পকে সময়ের দাবীতে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন । পাঠকের হাতে সময় কম । সেই ভেবেই লিখতে হবে । কিন্তু চরিত্র ও ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাও থাকবে তার মধ্যে ।
●ছোটো গল্প হবে, ছোটোখুশি ছোটোদুঃখ, ছোটোব্যাথা ও ছোটো ছোটো কথা দিয়ে গড়া একটি মর্মার্থপূর্ণ লেখনী ।
●ছোটো গল্পে পূর্ণাঙ্গ জীবন প্রকাশিত হবে না, প্রকাশ পাবে খন্ড খন্ড জীবনের অদ্ভুত মাহাত্ম্য ।
●অনাবশ্যক ভাষা, চরিত্র এবং ঘটনার বর্ণনা না করে, নাটকীয় গুণসম্পন্ন ও গতিময় ছন্দে এগিয়ে যাবে গল্প এবং পরিসমাপ্তি ঘটবে আকস্মিক ।
●তত্ত্বকথা উপদেশমূলক ভাবনা এড়িয়ে লেখকের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটবে ছোটোগল্পের মাধ্যমে ।
ছোটগল্প একান্তভাবেই আধুনিক সাহিত্যচর্চার একটি ধারা । ছোটগল্পের আদি উৎসস্থল ইউরোপ । নবজাগরণের পরে পুঁজিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে যখন, সেই সময় থেকে ছোটো গল্পের উদ্ভব ও বিকাশ । দেশ- থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি এর । তুলনামূলক ভাবে দেরি হলেও ভারতও তার রসে বঞ্চিত হয়নি ।
ভারতে ছোটগল্পের জনক হলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । মধ্যযুগেও যদিও কাব্যকাহিনী ছিল । এদেশে পুরাণের গল্প, রূপকথার গল্প, ঈশপের গল্প ইত্যাদি নানা ধরনের কাহিনীর মধ্যেই ছোটগল্পের বীজ ছিল লুক্কায়িত । রবীন্দ্রনাথই এই লুক্কায়িত বীজের সন্ধান করে পূর্ণাঙ্গ ছোটো গল্পের রূপ দেন । ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে, কবিগুরুর লেখা ‘ভিখারিণী’ গল্পের মাধ্যমে বাংলায় ছোটগল্পের প্রথম পদার্পন হয় ।
ধন্যবাদ ।
© Piyali Chakravorty

বাহ্! পয়েন্ট চমৎকার। ধন্যবাদ। 👌💯💫💫💥💥
উত্তরমুছুন