বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

# বিষয়- অনুগল্প

# বিষয় - অনুগল্প -১
# নাম - 'না'
#কলমে -মৃদুল কুমার দাস।

 

"মা সোনাই একবার পোষ্টাপিসের দিকে যা না। আমার রামুর চিঠি এলো কিনা। একবারটি যা। রতন পিয়নকে বলবি তিলু ঠাকুমা পাঠিয়েছে। রামুর চিঠি যদি আসে দিতে বলবি।"
"আমি যাবো না ঠাম্মা। রতন পিয়ন খুব বদমাশ। শুধু আমার গাল ধরে টিপবে। বসিয়ে রাখবে। শেষে বসিয়ে রেখে রেখে চলে আসতে বলবে। আমার এখন খেলা আছে।
   শিউলি, রমনা, ছুটকি এক্ষুনি এসে যাবে। চারটা বাজে। আর তোমার চিঠি আনতে গিয়ে আমার  সময়টাই বরবাদ হয়ে যায়। আর ওরাও ফিরে যায়। অন্যকে খেলায় নিয়ে নেয়। আমার আর খেলায় যোগদান হয়না। তোমাকে কে এত চিঠি পাঠাবে শুনি? তোমার সাতকুলে কেই বা আছে। ঐ একটাই তো রামু। সে তোমাকে প্রতিদিনই বা চিঠি পাঠাবে কেন? তার কি কাজ নেই। শুধু চিঠি লিখেই যাবে।এই গত পরশু তোমার নামে চিঠি এল। সাদা খামে ভরা। চিঠি কি কেউ প্রতিদিন লেখে। না পাঠায়। আর রতন পিয়নের তো দিয়ে যাওয়ার কথা।"
"হ্যাঁ,কথাতো। সবার শেষে আসে। হয়তো আজ আসবেই না। আজকের চিঠি কাল দেবে। একটা চিঠি তো বই নয়। পড়ে দিতে বলি বলে সবার শেষে সময় করে আসে। ঐ সাদা খামের চিঠিটাই এখনো কেউ পড়ে দিল না।
আচ্ছা আজকের মতো যা। তোকে আমের আচার দেব। আজই বানিয়েছি।" 
ওই লোভ দেখিয়ে সব কাজ করিয়ে নাও। শেষে চিমটে খানিক দিয়ে তাড়িয়ে দাও।"
"হবে না কেন বল। পোষ্ট কার্ড এলে তার মতো আচার পাবি। পোষ্টকার্ডে আমার মন না ভরে,তোর তেমনি আঁচারে না মন ভরে। খাম ভর্তি চিঠি এলে দিইনি হাত ভর্তি করে আচার বল? তুই এনে দিলি বলে তোকে দিলাম। যে পড়ে দেবে তাকেও দিতে হয়। আমার আঁচারটাই তো বিলি করতে করতে সব শেষ হয়ে যায়।" 
  বুড়ির এই আঁচারটুকুই সম্বল। আর আঁচারের লোভে বুড়ির চিঠি পড়ে দেবে এমন জনের সংখ্যা হাতে গোণা। হ্যাঁ তবে বুড়ির আঁচার তৈরীর হাত আছে বলতে হয়!
"তুই নিয়ে এলে আবার রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কাকে পাই?"
   তাকে এনে চৌকি পেতে বসাবে। তারপর চিঠিটা খুলে বার বার পড়াবে বুড়ি। যেখানে ভালো লাগে সেখানে আবার পড়তে বলে। বুড়ির এই কেরামতির জন্য চিঠি পড়ে দিতে কেউ চায়না। নেহাত বুড়ির প্রতি দয়া হয় বলে কেউ কেউ পড়ে দেয়। আবার আচারের লোভে কেউ কেউ পড়ে। সেই সাদা খাম ভর্তি চিঠিটাই এখন পড়ে কেউ দেয়নি। রতন চিঠিটা দিয়ে বলেছিল - "এখন ব্যস্ত। পরে এসে পড়ে দিয়ে যাব।"
"সে আর আসেনি। সোনাই তুই এখনো চিঠি পড়তে পারিসনি কেন? কবে পড়তে শিখবি?
   যা,যা। সে আবার চিঠি বিলি করতে বেরিয়ে যাবে। পাশে ভেলো বসে বসে শুনছিল। সে বুড়ির নিঃসঙ্গ জীবনের অন্যতম সহায় বটে! বুড়ির তাকে নিয়ে বাড়তি আহ্লাদও আছে। তাই প্রভুর প্রতি ভক্তিতে গদগদ। 
যেই না সোনাই এক ছুটে রতন পিয়নের কাছে চিঠি আনতে গেল অমনি ভেলোটাও ছুটল সোনাইয়ের পিছু পিছু। 
রতন সোনাইকে বলে দিল 'না'কোনো চিঠি আসেনি। তাই শুনে চলে এলো সোনাই। ভেলো মনমরা হয়ে বুড়ির দাওয়ায় শুয়ে পড়ল। আর যেদিন বুড়ির হাতে চিঠি দেখে,ও চিঠিটা ভালো চেনে, খুব খুশিতে ল্যাজ নাড়ে। শরীর দোলাতে থাকে।
এই এতক্ষণ একটা ছোট্ট চিঠির বার্তা নিয়ে এতো আকূতির প্রকাশ ঘটল, পিয়নের ছোট্ট 'না' কত ভাবনার স্রোত হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে গেল। মনটা কেমন করে না!
তিলোত্তমা বুড়ি চিঠির চির প্রতীক্ষার বেদনা হয়ে গেল!
  সাদা খামটার ভেতর এখনো খবর মুক্তির পথ দেখেনি। রামু ঠিক আছে তো। কবে আমার সোনার মুখ দেখব? বুড়ি আর রামুর মাঝে চিঠির খবর শুধু মুক্তির পথ খোঁজে!!!
                ********
 # অনুগল্প -২
 # নাম - 'জীবনসঙ্গী'
  # কলমে -মৃদুল কুমার দাস।

   জীবনের তরে জীবন কথাগুলো আসে জীবনের উপর ভর করে। জীবন কি একা থাকতে পারে? না কখনোই নয়। তাহলে?
জীবন যে অগণিত। আচ্ছা আকাশে অত তারারা কী করছে?
ওরাই হচ্ছে আকাশের সংসার।
তেমনি জীবনের পরিসর আকাশের মতো। এক একটা খন্ড খন্ড জীবন নিয়েই হল জীবনের সংসার। আর এই খন্ড খন্ড জীবন চলমান বলেই জীবনের সংসার চলমান। 
  সবই বিশ্ব প্রকৃতির অংশ। যেমন জড় জগৎ তেমনি জীব জগৎ। জীব মানেই জীবন। জীবনের আবার কত ধরন। এরা শ্রেনীগত হয়ে যে যার মতো অবস্থান করে আছে। সব জীবনই
প্রকাশমান। 
   জীবনের মানেটাই একটু বেশিরকম প্রকাশিত হচ্ছে। তা কিন্তু নয়। জড়েরও প্রকাশ অপরিসীম। এই প্রকাশমান বিশ্বের জীব ও জড়ের প্রকাশ তাই আপেক্ষিক। এও বলতে পারি জড় প্রকাশিত হচ্ছে বলে জীবন এতো বেশি জড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে।
আসলে বিশ্ব অবিরত সম্পর্কে সম্পর্কিত। বস্তুর সঙ্গে বস্তর। বস্তুর সঙ্গে জীবনের। আর জীবনের সঙ্গে জীবনের। এ হল এক নিরন্তর সম্পর্কের প্রক্রিয়া যা অনবরত অনুষ্ঠিত হয়েই চলেছে।
    আর এই সম্পর্ক থেকে বিশ্ব গতিশীল। কত কান্ডই না ঘটছে। দৃষ্টির মধ্যে ও দৃষ্টির বাইরে। যেমন ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি যদি হঠাৎ জেগে ওঠে, তখন সে দৃশ্যকে সঙ্গী করার সৌভাগ্য ক'জনের হয়। ক'জন সেই ঘটনাকে সঙ্গী করে নিতে পারে। কিম্বা ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সৌভাগ্য একটা নির্দিষ্ট এলাকা লাভ করল,বিশ্বের সবাই তো এই দুর্লভ দৃশ্যের সঙ্গী হতে পারেনি। কিম্বা মহাবিশ্বে প্রতিনিয়ত যে ঘটনা ঘটছে তার খবর পাওয়ার সাধ্যি ক'জনের। আকাশের দিকে তাকানোর জন্য চাই হাই পাওয়ার লেন্সের টেলিস্কোপ। নাশায় বিশ্বের মোট মানুষের ক' শতাংশের সৌভাগ্য মহাকাশকে সঙ্গী করার।
মহাকাশে যদি দু'টো ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ হয় তাহলে সে যে সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে তার সঙ্গী কোনো মানুষের পক্ষে কি সম্ভব! নিশ্চয় নয়। তাহলে সে সৌন্দর্যের সঙ্গী কে হতে পারে? হতে পারে একমাত্র জ্ঞাণ। তাহলে দাঁড়ালো কী? জীবন সঙ্গী নিয়ে আমাদের অবস্থান কতটা? জীবনসঙ্গীর রসদ আত্মিক ও বৌদ্ধিক।
  একটি নারী একটি পুরুষের সঙ্গিনী হওয়ার মধ্যেই জীবনের সবটাই কি চরিতার্থ হয়? না করা যায়? 
জীবনসঙ্গী হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত অপোজিট সেক্স নিয়ে ভাবি। কেননা জৈব প্রবৃত্তি আমাদের হাতের কাছে সহজ লোভ্য বলে। আগে তাই পূরণ হোক। 
   জন্মানোর সময় প্রথম সঙ্গী মা,বাবা,তারপর জ্ঞাণ,বুদ্ধি, তারপরে বিশ্বভূবন।
  তাহলে এটাই দাঁড়াচ্ছে সংসার সঙ্গীর বিচিত্র সমাবেশে সুন্দর। শুধু জীবন দিয়ে জীবনের সঙ্গীর মধ্যে পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটে না। তবে দুটি প্রাণ যখন সঙ্গী হয়, তখন বিশ্বময় আরো যত সঙ্গী আছে সবের সঙ্গে যুক্ত হলে জীবন তবেই পূর্ণতা পায়। আর তা থেকেই সবার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চলে নিরন্তর প্রচেষ্টা। যতদিন জীবন ততদিন নিজের সীমার মধ্যে কেবল সঙ্গী খুঁজে চলার নামই জীবন।
         এবার আরেক সঙ্গী মৃত্যুর কথায় আসি। জীবনের সঙ্গে সদাই পাশে পাশে চলে। কেননা ওই তো জীবন নিয়ে আসে। মৃত্যুর পাত্র থেকে জীবন জেগে ওঠে। মৃত্যু শাশ্বত, মৃত্যু সুন্দর। জীবন সরিয়ে নিলে পড়ে থাকে মৃত্যু। জীবন রক্ষা করে চলতে হয়, মৃত্যুকে নয়। মৃত্যু না থাকলে জীবন আসতোই না। আবার মৃত্যুই আনে জীবনের মুক্তি। মৃত্যুতেই জীবনের ঋণ শোধ হয়। মৃত্যুও জীবনের সঙ্গী। মৃত্যু সঙ্গে আছে বলেই আয়ুর সঙ্গী সকলে। এই আয়ুই আনে জীবনের নানা স্তরে রূপান্তর।
  তাহলে জীবনের সঙ্গী হয়ে যারা যারা অবস্থান করবে, তারাই জীবনের পরিমাপ দেবে। রাষ্ট্রপরিচালক, বিজ্ঞানী,ডাক্তার,সাহিত্যিক,কৃষক,
কামার... কর্ম আর ধর্ম (ধারণ করা) দিয়ে জীবনসঙ্গী আমাদের জীবনের জয়গান।
              **********
# বিষয়- অনুগল্প - ৩
# নাম -  'ঠিকানা'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।
             
    জীবনের মানেটাই হলো শুধু ঠিকানায় দৌড়নো! ওতে জীবন বড়ই রসবাদী। ও ছাড়া জীবন হয়না।
    কোন সে ঠিকানা?
শিবের জটা থেকে ভগীরথ যেদিন গঙ্গাকে এনেছিলেন এখনো সেই ঠিকানা পাইনে! 
আমি কেন পারিনা সেই ঠিকানায় পৌঁছতে?
যেভাবে কাশ্যপ তাঁতি তাঁত বুনেছিল তার কাছে পারিনি এখনো যেতে।
   দুখু মিঞা হাল ধরে চতুর্দশীর গাঙে তোলপাড় করা ভরা ঢেউয়ে জাপটে হাল ধরে বসে থাকত যখন..., ঢেউ পেরনোর জোরসে গতর লাগাতে বলতো তাঁর সঙ্গী দাঁড়ওয়ালাদের..., সেই ঠিকানায় আজও পারিনি যেতে! 
আগুন তার রাগ লোহায় চাপিয়ে বিধু কামারকে হাতুড়ির ঘা দিতে যেভাবে বাধ্য করত... হাতুড়ির শাসন ও শোষণ করিয়ে নেওয়ার সেই বিধু কামারের ঠিকানা এখনো খুঁজে বেড়াই।
মতিন জেলের জাল রূপোলি মাছেদের ঠিকানা যেভাবে জানতো..., আমার জানা হয়নি এখনো।
কেউ ঠিকানা দিতে পারো বদর আলি মিঞার। সুতো কলে ছুটি নিয়ে ঈদের উৎসব পালনে ঘরে ফেরার মনে সেই আনন্দের ঠিকানা।
নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে নকশাল বাড়ির আন্দোলনের ফারাকের সেই সময়কার ঠিকানা!
দেশভাগ, উদ্বাস্তু,খাদ্য সমস্যা,মণ্বন্তরের সেই দুঃসময়ের ঠিকানায় আজও যাওয়া হয়নি! যেতে পারিনি।
ঠিকানাগুলোতে এ জীবনের সব হারানোর ব্যথায় নিজের ঠিকানা গোছগাছ করে ওঠা হয়নি। সামনে শুধু মৃত্যুর ঠিকানায় সব কৌতূহল মুছে গিয়ে এখন আমি ক্লান্ত এক পথিক। দুদন্ড শান্তি দেওয়ার অনেকে থেকেও নাই ঠিকানায় আমি আরো কিছু দূর যাবো...!
              **********
# অনুগল্প- ৪
# নাম - 'শহরেই আটকে'
 # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

যাক এখানে এলাম একটু প্রাণ জুড়োতে। কি সর্বনেশে শহর রে বাবা। শরীরে সর্বত্র শব্দ দূষণ কিলবিল করে। এক দন্ডও তিষ্ঠোতে দেয় না। চারদিকে শুধু গলি আর গলি! লুডো বোর্ডের সাপেদের মতো হাঁ করে হিসহিসিয়ে বাইছে। যেন গিলে নিতে আসছে। শুধু গলিময়  অবলা জীবেদের লাশ, দুর্গন্ধের হল্লা! 
  আমার শহর মানে টাকার হুন্ডি নিয়ে মানুষে মানুষে কি চরকিবাজি! আর মেয়েমানুষের কাঁচা মাংসের লোভে শহরের শরীর আমিষের গন্ধ গায়। ব্যবসা বাণিজ্যের পায়ে জীবনগুলো শুধু ঘুরঘুর করে। আর যান্ত্রিক কলরবে প্রাণ আইঠাই! নরক গুলজার যেন। নশ্বর জীবন তবুও স্বপ্নের ঢেউ গোনে যেখানে জীবন দেখে কামনা বাসনার ষড়রিপু-মোহের জীবনানুরাগ।
   হোক না যান্ত্রিক, জীবিকার কলুর ঘানিতে খুটি। যত ঘোরে তেল তত চুঁইয়ে পড়ে। 
    শহর ছাড়িয়ে দূরে যাই চলে যখন ভাবে রতিকান্ত, কিন্তু শহরকে ঘিরে রমনের ইচ্ছে আসে বার বার ঘুরে। রতিকান্ত তাই  শহর থেকে দূরে যাওয়ার কথা ভাবে-বন-জঙ্গল-পাহাড়ের কথা ভাবে অনেক দিন যাওয়া হয়নি তার। যখনই ঐ অনেক দিন যাওয়া হয়নি ভাবে তখনি যায় আটকে। অনেক দিনটার কথাতে আটকে থাকে। চিরতরে সেদিনই যাবে যেদিন বোবা ভগবান তাকে সঙ্গে নেবে। এই যে শহর থেকে দূরে যাওয়া আর ঈশ্বরের কাছে যাওয়া রতিকান্তের কাছে এক মনে হয়। কেননা তার ভাবনার পথ ধরে যে কেবলই আসে এই শহর তার নশ্বর দেহ ধারণের মন্ত্র। আর শহর ছাড়িয়ে দূরে মানেই ঈশ্বর, সেখানে যাবে একদিন সময় হোক। শহর করে একটা জীবদ্দশার দৌত। হঠাৎ ঘুম ভাঙতে রতিকান্ত দেখে এই তো আমার শহর,স্বপ্নে সুখ এতক্ষণ ভিড় করে ছিল। স্বপনে ঐ যে সুদূরের হাতছানি। এই শহরে বসেই, যে স্বপ্নে এসে তো আমার জীবনে আনে স্বাদ বদলের হরেক গুঞ্জন।    
             ********** 
 #অনুগল্প - ৫
#নাম- 'জীবনের বন্ধন'
 # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।
          
   না আমার দ্বারা কিছুই হবে না। সময় হেলা ফেলা করে নষ্ট করেছি। যখন যেমন করার ছিল করিনি। খুব ফাঁকি দিয়েছি। আস্ত ফাঁকিবাজের তকমা নিয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়িয়েছি। আমার নাকি খুব বুদ্ধি ছিল। পড়াশোনায়। কিন্তু ফাঁকি দিয়েছি‌। বাবার খুব বকুনি ছিল। ছোটো বেলা মারধরও ছিল। একটু পড়াশোনা যাতে করি। তাতে কোনো কাজ হয়নি। কে শোনে কার কথা। 
   বইয়ের পাতাগুলোর উপরে কালো কালো অক্ষরগুলো দেখলে খুব রাগ হতো। ওরা আমাকে গিলতে আসে যেন। আমার মনে হতো। কিন্তু ওদের গেলার কথাই তো আমার ছিল। 
আর আজ এই মধ্যবয়সে বই দেখলে বইকে আমি পরম বন্ধু মনে করি। জানি বই পড়ার বয়সের সীমা নেই। কিন্তু হায় বই পড়ে আমার সমসাময়িক বয়স্যরা যে এগিয়ে গেল! এখন বইয়েরা ডাকে। যাই ওদের সাথে কোলাকুলি হয়। জড়াজড়ি, মাখামাখি,সোহাগ সে তো অন্তহীন! কিন্তু এরা তো এই মধ্য বয়সের মনের খোরাক জোগানোর সাথি! 
পেটের ভাত দিত যে সেই সব বন্ধু বইয়েদের করেছি অবমাননা। উপেক্ষা। বাবার মারধরেও কিছু হয়নি। পারিনি তাদের আপনার বন্ধু করে নিতে। ফল যা হওয়ার হলো।
আমার বয়স্যরা যারা বইকে বন্ধু করে নিয়েছিল,এখন শুধু দেখি তারা সব শহুরে।
     অফিস,আদালত, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়ায় ওরা কলার তুলে দিব্যি কলহাস্যমুখর। ওরা পয়সার পেছনে ছোটে না। পয়সা ওদের পেছনে ছোটে। 
বিয়ের সময় ধুলো উড়িয়ে গাড়ি ছোটালো। বরপণ কাড়িকাড়ি পেল। সোনার বউ ওদের। ওদের সোনার সংসার।
ওদের আকাশ উঁচু বাড়ি হলো, নিজের গাড়ি হলো,ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে নাকি লাফিয়ে লাফিয়ে অঙ্ক বাড়ে... গর্বের সঙ্গে বলে এবারের ফ্যামিলি ট্যুর ইওরোপের কোনো একটা দেশে হলে ভালো হয়।
ওরা সব ওপরওয়ালা বাবু হয়ে গেছে। রাজনীতির দাদাদের সঙ্গে ওদের খুব ওঠাবসা। 
  অথচ আমার কোনো চিন্তা নেই। কেন আমি তো ভালো বন্ধু হতে পারিনি,বইকে নিয়ে। বন্ধনহীন বন্ধুত্বের এক উড়েখই গোবিন্দায় নমঃ ছিলাম। আজ ওদের দিকে ফ্যালফ্যালিয়ে শুধুই তাকিয়ে দেখি। আমার দাদা ধরার কোনো ক্ষমতাই নাই।
এখন আমি সমসাময়িক বয়স্যহীন, টাকাকড়িহীন মধ্যবয়সের ফকির। নিজেকে ভাবি ফকিরদের সম্রাট। আর রাগ হলে ভরা পুকুরের দিকে ঢিল ছুঁড়ি। সেই ঢেউয়ে কত ছোটো-বড় ঢেউ ওঠে। এই ঢেউয়ের একটাও আমি হতে পারিনি।
কিন্তু পারিনি বলে কোনো খেদ নেই! আমি আছি আমার মতো। তাল গাছ থেকে তাল পড়লে তা কুড়িয়ে গুলগুলি বানিয়ে খাই। ধান বোনার সিজিনে হাঁটু শুদ্ধ কাদায় ডুবিয়ে চাষের জমি চষি।
  রাসমঞ্চে কীর্তন গান শুনি। পালা গান কবে হবে খবর নিই। 
হ্যাঁ আমার দ্বারা কিছুই হয়নি। ঐ যে গোড়ায় গলদ। তোমাদের বিচারে। আমি পারিনা লোক ধরে আঁখের গোছাতে। অযোগ্য শুনে শুনে কানে তালা লেগে গেছে। সবই এখন নীরবে শুনি। একটাই বন্ধুকে অবজ্ঞা করেছি বলে আমি নাকি সারাজীবন অকম্মার ঢেঁকি। আলগা, ফকির মানুষ! ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স কি, নুন আনতে পান্তা ফুরোয়! এ জীবনের লেনদেন ওটাই করতে এসেছি,তাই তো মানিয়ে চলি।
  আমার শান্তিতে আমি কেবল খুঁজি নিজেকে। আর সবাই আমাকে দ্যাখে অন্য চোখে,যাদের চোখগুলো ঠিক তাদেরই মতো। তারা তো আমার মতো নয়। বন্ধনহীন ওখানে আমি। আমাকে তাদের মতো করে পায়না বলে আমার দিকে তাকালে ওদের তেমনি উপেক্ষা, অবজ্ঞা! সেই সেদিনের মতো যেদিন বইয়ের থেকে বন্ধনী মুক্ত রাখতাম নিজেকে,ঠিক সেই মতো! আজও  আমি আমার মতো। কারো মতো হওয়ার বন্ধনী হতে পারিনি।
   আমার জগতে আমিই আমার জীবনের বন্ধন!  
            **********
 #অনুগল্প - ৬
 # নাম- 'হারানোর গপ্প'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

অপূর্ব নস্করের ফেলে আসা ছেলেবেলা নিয়ে আছে কত ঘটনার ঘনঘটা! কোনটা শোনায় তা নিয়ে যেন বাঁশ বনে ডোম কানার মতো অবস্থা চায়ের আড্ডায় আমার কাছে। তাই নিয়ে হারানোর গপ্প বলল সেদিন অপূর্ব। তাদের গৃহস্থালির হ্যারিকেন, চিমনি,চৌপল, লম্ফ ছিল যেন চার ভাইয়ের মত। আর এদের একমাত্র বোন যেন প্রদীপ্তা।
  বোনটি আজও আছে সঙ্গে সঙ্গে। ঘরের ধর্মীয় উপাসনার জন্য নিত্য সঙ্গী। প্রদীপ্তার সঙ্গী শাঁখ, কাসর,ঘন্টা - প্রতি সন্ধ্যায় এরা চলে আসে দল বেঁধে। প্রদীপ্তার অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্যে স্থান নেবে বলে, তুলো তার শরীরের তেলে  অবগাহন,তারপর গাত্র মার্জনা সেরে প্রদীপ্তার সুচলো মুখে বসে যায় সন্ধ্যা নামলেই। আর শাঁখ,ঘন্টা,কাঁসর সাথে সাথে চলে আসে। 
   অপূর্ব বলছিল তাদের গাঁ উদ্ধবপুরে অনেক সমস্যা, সামাজিক বিধিবিধানের নানা ফিরিস্তির মাঝে কিন্তু ঐ সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ঘরে একই সময়ে প্রদীপ্তা জ্বলবে,শাঁখ, ঘন্টার হাঁকডাকে গ্রাম ছেড়ে অপদেবতা দূরে সরে যাবে। এই নিয়ম আজও যেমন ছিল ঠিক আছে। আমিও বলি "এতো সব গাঁয়ের সর্বজনীন সান্ধ্য- উৎসব।"
        অপূর্ব আক্ষেপের সুরে বলে "এখন তার ছেলেবেলা হারানোর সাথে হারিয়েছে এই চার ভাইকে।  
     আঁধার নামলে হ্যারিকেন, চিমনি,লম্ফ,চৌপল ছিল একমাত্র নিত্য সঙ্গী। আঁধার নামলে যে যার অবস্থান নিয়ে নিত। মায়ের রান্না ঘরে লম্ফ। লম্ফের একটু লাটসাহেবি কায়দায় বসার জন্য স্ট্যান্ড ছিল। সেখানে সোজা হয়ে যেন সে পদ্মাসনে বসত।
  হ্যারিকেন ঘরের পড়ুয়াদের জন্য সেবা দিতে জো হুজুর হয়ে হাজির হতো। চিমনিও তাই হরেক আকারের - ছোট,বড়,মেজো আকারের। হ্যারিকেনের সঙ্গে পার্থক্য হ্যারিকেনের মাথায় ছত্রি ছিল, হাতে ঝুলিয়ে নেওয়ার দুই বাহু প্রমাণ সাইজের আংটা ছিল। কিন্তু চিমনিতে না ছত্রি, শুধু তলদেশে সোহাগ করে ধরতে হতো। আলো দানে হ্যারিকেনের সমকক্ষ। গৃহস্থের পড়ুয়াদের জন্যও এরা হাজির হত।"
  অপূর্ব আরো বলে - "তখন ক্লাস ফোরে বিত্তি পরীক্ষার সময়। স্কুলে এক মাস থাকতে হলো। হ্যারিকেন বইখাতার মতো সমান গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হ্যারিকেন। সেদিন বুঝলাম হ্যারিকেন জীবনের আলো জ্বালতে প্রধান সহকারী। ভোর চারটার সময় শিক্ষক মহাশয় টেনে তুলে দিতেন,পড়ার জন্য। সকলের হ্যারিকেন একসঙ্গে জ্বলে উঠল। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, ভেতরে সার সার হ্যারিকেনের আলো। আজও তার চোখের উপর নাচন দেখি।" চায়ে চলছে চুমুক। আর চলছে সমানে রসিয়ে গল্প।
"স্কুল-হোস্টেল জীবন! বছর পাঁচেক। হ্যারকিন জীবনের প্রধান অঙ্গ মালুম হল। ঘরে মা ঠাকুমা যেভাবে হ্যারিকেন পরিস্কার করতেন হোস্টেলে গিয়ে রীতিমত রপ্ত করে ফেললাম। 
সন্ধ্যায় প্রার্থণার সময় হোস্টেল বারান্দায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হত। আর প্রত্যেকের সামনে নিজ নিজ হ্যারিকেন জ্বলত। দূর থেকে সে দৃশ্য যারা দেখতেন,অনেকে এই দৃশ্য দেখে খুব উপভোগ করতেন।
যার হ্যারিকেন থাকত না,বোর্ডিং সুপার স্যার কান ধরে উঠবোস করাতেন। এমন ঘটনা কতবার হয়েছে। এবার রাতে ডিনারের অ্যাটেন্ড্যাস শেষ হলে যে যার হ্যারিকেন নিয়ে চলে যেতাম নিজ নিজ স্থানে পড়ার জন্য। বসার আধঘন্টা পর শুরু হয় ঝিমুনি,তারপর চিৎপটাং প্রায়ই।
সেই সুযোগের তক্কে থাকত বন্ধুরা। অমনি ঘুমিয়েছি তো নিজের হ্যারকিনের তেল সাশ্রয়ের জন্য নিভিয়ে, হ্যারকিন হয়ে যেত হাত সাফাই। অন্ধকারে পড়ে,মশার মিছিলে আমি তখন। এদিকে হোস্টের সুপার স্যার রাউন্ডে বেরিয়ে অন্ধকারে অপূর্বর গায়ে পা লেগে কতবার হুমড়ি খেয়ে পড়ার অবস্থা হয়েছে! তারপর ঘা কতক ধোলাই। অনেক কষ্টে হ্যারিকেন প্রাপ্তি!"
    অপূর্ব আরো বলল - "যখন হামাগুড়ি দিচ্ছি,জ্ঞান তখন শিকেয়, দিদিরা পড়ছিল হ্যারিকেনে। আমি অপূর্ব ডানা গজানো পিঁপড়ের মত গিয়ে পড়লাম হ্যারিকেনে। তারপর যা ঘটল এই দেখ - অপূর্ব দেখালো বাইসেপসের উপর পোড়া ক্ষত থেকে লম্বা দাগ। কোথাও হারিয়ে গেলে যাতে খোঁজা সহজ হয়,হ্যারিকেন সেই দাগিয়ে রেখেছিল। এ শোনা গল্পের পেছনে হাসি চিরকাল চিপকে আছে।" এই হলো দু'জনের হারানো  ছেলেবেলার গল্প! কি এই গল্প আপনাদের সঙ্গে মিলবে তো?
হায় সেই হ্যারিকেন ছেলেবেলার ছাত্রজীবনে কেমন আত্মা জুড়ে ছিল,আর আজ কোথায় হ্যারিকেন হারিয়ে গেল। চিমনি গেছে,চৌপলও গেছে। স্মৃতি ভারে পড়ে আমিও অপূর্বর মতো। তাদের ইতিহাস এখন সযত্নে বুকে নিয়েছে তুলে। আমার ফেলে আসা বয়সের মতো ওদেরও ফেলে এসেছি। ইতিহাসের ঘরে ঘুরে ফিরে এখন গল্প করি,গল্প শুনি। তাই নিয়েইতো জীবন।
            **********
#অনুগল্প -৭
  # নাম -  'চাঁদবণিক'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

        চন্দ্র তুমি আলোর বণিক! তুমি স্নিগ্ধ আলোর পসরায় সর্বজনীন।
    আলোর পসরায় তোমার লাভ লোকসানের কোনো হিসেব নেই। সবার প্রাণে খুব দরকার। তোমাকে সবার চাই।
     তোমায় সবাই পায় নিজের মতো করে। কোনো বাছ বিচার নেই। তোমার আলোয় জুড়ায় তাপিত প্রাণ! তোমাতে জুড়ায় খুশি,সুখ,দুঃখ আনন্দ! তুমি বিলাও অনন্তের বাণী। 
তোমার হৃদয় থেকে উজান বেয়ে জোয়ার আসে,ভাটার টানে গল্প ছোটে - তোমার জন্য সবাই বাঁচে যে যার মতো করে। 
  পক্ষকালীন সময় ধরে হৃদয়ে তোলো আলো, সেই আলো তো পক্ষ জুড়ে দেদার খইয়ের মতো ছড়াও।
   সবার প্রাণে মুক্তোধারা ছড়িয়ে দিয়ে নিশ্বেসিত হওয়ার গল্প তুমি বল!
নদীর ধারে,পোড়ো মন্দিরের সাথে যেদিন ছিলাম আমি, নদীর থেকে বাতাস এনে হৃদয়ে মাখিয়ে দিলে। 
   বাঁশ বাগানের মাথার উপর দাঁড়িয়ে ছিলে যখন, আমি তখন তারই নিচে উদাস মনে চেয়ে, লুকোচুরি কাকে বলে চিনিয়ে দিলে তুমি।
শিউলি-নিশি তোমার দেওয়া জ্যোৎস্না-বাসে তুমি সারদশশী,সারদপ্রাতে শিশির-সিক্ত সারা রাতের কাব্যকথায়.....
                      ইতি
                      তোমার 
                          রবি।
       ‌         *******"""
# বিষয় - অনুগল্প -৮
# নাম-  'ডাকবাক্স'   
 # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

     গ্রামের নাম কমলপুর। শ'খানেক পরিবার নিয়ে গ্রাম প্রাণোচ্ছল। গ্রামের মধ্যে শান্ত প্রকৃতির মাঝে দিনকে দিন আধুনিকতার ছোঁয়া যত লাগছে গ্রামকে ঝকঝকে তকতকে লাগছে। কিন্তু পুরনো হয়ে পেছনে আছে সেই বুড়ো শিবমন্দির, বটতলা,শ্মশানভূমি। আগে অনেক ষাঁড়েদের এখন একটা দু'টোয় ঠেকেছে, দুধেল জার্সি গরু এখন ঘরে ঘরে বলেই। ফসল নষ্ট করে বলে গ্রামবাসীদের খুব বিরক্তি অতীত।
     আর এই ডাকবাক্স! লাল রঙ কবেই চটে গেছে। দাওয়ার এক কোনে ঝুলে আছে। গোলাকার চেহারা। মরচেতেই তার বয়স সহজেই অনুমেয়। অনেক মাস্টার ও পিয়ন এসেছেন ও গেছেন কিন্তু বাক্স বাজারের এক কোণে সেই আদ্যিকালের বটগাছের বয়সি হয়ে ঝুলে আছে। বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাইরে।  
 বাজারে স্কুল,  মনোহারি,মুদি,কাপড়,টেলারিং সব রকমের দোকানপাট রয়েছে। আর এক কোনে একটা রেডিও সারাইয়ের দোকান। 
 এই রেডিও সারাইয়ের দোকানের মধ্যবয়সি রমেশ সরকারের দোকান বাপ ঠাকুর্দার আমলের। খড়ের চালা। মাটির দেওয়াল। তবে মেঝে সিমেন্টের। দোকানটিও আদ্যিকালের।
  রমেশবাবু বাবার কাছে থেকে রেডিও সারাইয়ের কাজ শিখেছেন সেই ছোট্ট থেকে।
   রেডিও সারাই এখন আখছার। ঐ ছোট্ট দাওয়ায় ঘন্টা তিনেকের জন্য যে অফিস বসবে তাই তার যেন অনেক সাধের। কত চিঠি আসে, যায়! এক প্রবীনের যেন চির নবীন হয়ে চলমান ঐ প্রতিদিন তিনটা ঘণ্টা! আর পাশে ডাকবাক্সই যেন সবের ধারক বাহক। আজও বাক্স মানে কমলপুরের কত স্মৃতি। কতজনের চাকরি, মৃত্যুর খবর, মায়ের কোল খালি, মায়ের কোল ভর্তি.... সে কাহিনির শেষ নেই। আর আজ সত্যিই তার বয়স হয়েছে বলে যেন কেউ গুরুত্ব দেয়না। 
  পাশে সুশান্ত শিকদারের 'ইন্টারনেট সজ্জন'এ উপচে পড়া ভিড়,এন্ড্রয়েড দুনিয়া ডাকবাক্সে বয়সের মরচে পড়ার উপেক্ষা যেন।
 দোকানের দাওয়ায় রোজ তিনটা বাজলে একটা কাঠের বাক্স সমেত,যেটা ঐ দোকানেই থাকে,তাই নিয়ে একটি তক্তপোষের উপর মাদুর পেতে বসেন পোষ্টমাস্টার রামহরি সমাদ্দার। সঙ্গে সঙ্গে জোটেন পিয়ন রঘুরাম মিদ্যা। দাওয়ায় হাজির হয়ে রঘুরামের প্রথম ডিউটি চাবি দিয়ে ডাকবাক্সের দরজা খুলে ভেতরে যত গাদাগাদি হয়ে চিঠিপত্র আছে  তা বের করা। কখনো হিউজ তো কখনো দু'চারটা। তাই চাবি খুললে কত আছে তাই ভাগ্যের লটারি কাটে রঘু। চাবি খোলে আর গুন গুন করে সুর ভাঁজে। দরজা খুলে যা বেরয় বেশ কিছু চিঠি ঠিকানাহীন। তা আলাদা করে সাত কিলোমিটার দূরে হেড অফিসে আদ্যিকালের হারকিউলিস সাইকেলে চেপে সব চিঠি পৌঁছে দিতে যাবে। সকাল এগারোটার সময় হেড অফিস থেকে আনা একটা পুঁটলি এই তিনটার সময় মাস্টারের জিম্মায় দেবে। সেই পুঁটলির বহর এখন কমেছে। আবার দিয়ে আসার পুঁটলিও কমেছে। কাজ কমেছে।
  কিন্তু হেড অফিস এখন নতুন ঘর নিয়েছে। কর্পোরেট অফিসের মতো সাজিয়েছে। আর ডাকবাক্স রমেশ সরকারের দাওয়া থেকে অফিসে উঠে গেছে। লাল রঙের নতুন ডাকবাক্স এসেছে। হায় কেজি দরে মূল্য নিয়ে চলে গেল চাষির ঘরের বলদ যেমন বৃদ্ধকালে রামশাম দরে বিক্রি হয়ে চলে যায়, ঠিক তেমনি।
 সেই ডাকবাক্স আর চোখের সামনে নেই। কমলপুরের এখন স্মৃতিভারে দিন কাটে। কেজি দরে স্মৃতি সমেত পেছনে থাকে কত স্মৃতির কাহিনি! 
  এখন কেজি দরে বিক্রি হয়ে, কোথায় নতুন লোহায় রূপান্তরিত হয়েছে জীবাত্মার মতো নতুন বস্তু আত্মায় পরিণত হয়েছে,সে জানার কৌতুহল মেটার উপায় নেই। উত্তরসুরীর কাছে ডাকবাক্স আমরা তো সবাই!
                 **********     
#অনুগল্প -৯
# নাম - 'নদী ও নারী'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

জীবন শতায়ু হোক। শতায়ু যে হবে সে কাকে কাকে নিয়ে শতায়ু হবে? শতায়ু যখন জীবন হতে চাইছে, তাকে শতায়ু করতে কার কার ভূমিকা থাকবে।
  বীতনুকে এই প্রশ্নের দুই এপার ওপার ক'দিন ধরে চরকির মতো ঘোরাচ্ছে। 
     শতায়ু হওয়ার দায় নিজের বেশি না,কেউ শতায়ু হতে সাহায্য করবে! সেই সাহায্য নিয়ে শতায়ু হতে হবে। 
একদিন নদীর ধারে বসতে বসতে হঠাৎ অপর তীরটার দিকে দৃষ্টি দিয়ে বিতনু চমকে উঠল। আরে এই সহজ সত্যটা আসতে এতো দেরি হল! নদীর ধারে না আসব,ঐ পিঠোপিঠি প্রশ্নের উত্তরটা পেয়ে যাব! 
  সে আজ একা। হাতে আই ফোন। ফোনের ক্যামেরা এ ক্লাস। মনটা খুব সতেজ। সবে ঘুম থেকে উঠেই চোখে মুখে জল ছিটিয়ে সটান নদীর তীরে হাজির।
তখন ছিল খুব ভোর। কাকভোর! এসেছে নদীর ধারে। নদীর ভেতর থেকে ওপারে সূর্য কেমন ধীরে ধীরে জাগবে তাই দেখতে। আর ক্যামেরা বন্দি করতে।      
      তখন শীতের সকাল। দিগন্ত কুয়াশার চাদরমুড়ি ধীরে ধীরে সরাচ্ছে। আকাশটাকে মনে হতে লাগল পূবকে দিনের প্রথম সাষ্ঠাঙ্গে প্রণাম দিয়ে দিন শুরু করছে। ঠিক তখনই বিতনু পেয়ে গেল তার প্রশ্নের উত্তর।
মনটা ইউরেকা ইউরেকা! পেয়েছি পেয়েছি করে মন একটা নৃত্য করতে লাগল। কত্থক! না ভারতনাট্যম! না, না ছৌ... ও যা হোক একটা হচ্ছে। নিজের ভেতরের নৃত্য সে কাকে বোঝাবে? এ তো নিজের জীবনের গান ও তার সুর। 
    আর হরদম ফটো তুলে গেল। আর ফটো তুলতে তুলতে এবার মন পেয়ে গেল আরেক সুলুক সন্ধান। ভাবছে মনটার আজ এ কি পাগলামিতে পেয়ে বসল রে বাবা! তাই বলবে সে অন্তিকাকে। 
ততক্ষণ কি ধরা পড়ল !  সূর্য উঠে জলের দিকে প্রথম তাকায়। সে নদী হোক বা সমুদ্র। জলে তাকায়। মাটিতেও তাকায়। কিন্তু তাকানোকে কে যুৎসই ছবি দিতে পারে? কেন পাহাড়ও কি দেয়না? যে যার জায়গায় যে যার মতো।
তাই সবার কাছে জীবন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নদীর কাছে জীবনের গতি যেন অতি সহজ। সমুদ্র ও পাহাড় যেন সাত রাজার ধন মাণিকের মতো দুর্লভ। আবার বেশ লাটসাহেবি চাল...! আবার রাজার মত গুরু গম্ভীর!
   কিন্তু নদী আটপৌরে জীবনের মায়া মমতায় ভরা। দুই পারের জীবন নিয়ে কত ভাষা,নদী কেন্দ্রিক জীবন...কত কত স্বাদ-আহ্লাদের ছবির পর ছবি! 
       জীবন তাই পুষ্ট হয়ে শতায়ু হয়। আর ঠিক এই জায়গাতেই বিতনু অন্তিকার ভেতরের রহস্য ভেদ করে বসে।
  ওঃ! নদী তুমি দিলে অন্তিকার ভেতরের সব রহস্য আমার মধ্যে উপুড় করে। নদীর ওপার শুধুই বলছে আমিই অন্তিকা... আমিই অন্তিকা।
              **********
#অনুগল্প- ১০
# নাম - 'নারী তুমি কেমন'
 # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

পূজনীয়
        বিধাতা,
           নারী নিয়ে একটা চিঠি ক'দিন ধরে লিখব লিখব ভাবছিলাম,আজ সেই সুযোগ এলো। তাই নিয়ে এই চিঠি।
   নারীকে তুমি প্রকৃতির অংশ করে পাঠালে। নারীর মধ্যে প্রকৃতি চলমান।
    আমাকে পুরুষ করে পাঠালে। পুরুষ হয়ে আমার ভেতরে বিধাতা আপনি যা দিলেন, ঠিক তার বিপরীত দিলেন নারীতে। নারীতে আকৃষ্ট হওয়ার সব উজাড় করে দিয়ে দিলে !
   আকর্ষণ বলতে আকর্ষণ,এক এক সময় তোমার নারীতে আকর্ষণের গুণ সাপ্লাই দেওয়া দেখে তোমার উপর খুব হিংসা হয়। তোমাকে তো পাইনা হাতের কাছে,নারীর প্রতি হিংসা করে শোধ তুলি। তাই আমার মধ্যে একটা পুরুষকারের কাঠিন্য বলে পরিচিতি দিলে।
    আকাঙ্ক্ষা দিলে, সংযম পালনটা কষে দিলে না। পরিবেশ দূষণ ও নারী দূষণের একই ঘটনা আমার উপর চাপিয়ে দিলে।
     অবশ্য আছে সমাজের চোখে। এই সমাজ তুমি করোনি আমরা পুরুষেরা করেছি। তাই তো সমাজের যা কিছু বিধিবিধান আমাদের পক্ষে করে নিয়েছি....।
   নারীকে দুর্বল ভাবা তার নারীর উপর একাধিপত্য কায়েম করার কৌশল একটা জৈবিক প্রতিশোধ পুরুষকে দিলে। এত নারীর প্রতি আকর্ষণ পুরুষের বেলায় একদম প্রকাশ্যে, নারীর বেলায় গোপনে।
তাইতো শকুন্তলার ভেতরে ব্যাসদেব, ও কালিদাসকে প্রবেশ করতে হলো। পুরুষ চিরকাল তাই করবে। শকুন্তলা পতিগৃহে যাচ্ছে তো প্রকৃতিকে তুমি এতো কাঁদালে কেন? বুঝতে বড় অসুবিধা হয়। আমার হিংসা হয়।
    নারীতে এতো রূপ, আমি তাই দেখে দেখে শেষ করে উঠতে পারিনা কেন? আমার খুব ইচ্ছে করে নারীর ভেতরটায় কী আছে খান খান করে দেখি। ওই যে একটুকু ছোঁয়া পেলাম বেশ রক্ত ছলকে ওঠে কেন? ঐ তো এক নারীকে দেখছি। পরক্ষণে আরেকজনকে দেখতে ওকে আরো ভালো লাগে কেন? এতো নারী চোখের সামনে,তবু নারী দেখে দেখে আঁশ মেটে না কেন? 
  না পাওয়ার রিক্ততায় জিঘাংসা জাগে কেন? নারীর ভেতরটা তুমি যা দিয়েছ তাই পাওয়ার জন্য আমাকে পাগল করলে কেন?
তুমি বলবে নারীর ভেতরেও একই হয়।  সে হয়টা কেমন খুব জানতে ইচ্ছে করে।
     তার চেয়ে এক কাজ করো পরের জন্মে আমাকে নারীই করিও। তাহলে এজন্মের কৌতূহল পরের জন্মে মিটে যাবে।
ইতি
    তোমার 
          পুরুষকার।

           **********
# অনুগল্প ১১
 # নাম : 'বিশুর কথা বড়ই ভাবি'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

বিশু অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। বয়স কত সকলে আন্দাজ করতেই পারে। বিশু ক্লাসে বসে এক টুকরো কাগজে কিছু একটা লিখে পকেটে রেখেছে। ক্লাসে তার সহপাঠী শীতল দেখে ফেলেছে। লেখাটা কী ছিল শীতল তক্কে তক্কে থাকে আবিষ্কার করে ছাড়বে। ব্যাপারটায় একটু পরে আসছি।
ঠাকুমার খুব আদরের নাতি বিশু। বাবা বিশ্বনাথের কাছে মানত করে পাওয়া। তাই তার নাম বিশু। বিশু ক'দিন খুব মন মরা। দিন কয়েক আগে ঠাকুমা পরলোকগমন করেছেন। যাওয়ার সময় ঠাকুমা কিছু বলে যায়নি,আর ঠাকুমার কোলে আশ্রয় চিরতরে হারিয়ে বিশুর দশা বেঘোরে। তার উপর শীতল ঠাকুমাকে নিয়ে খোঁচায়। তাতে আরো মন মরা হয়ে পড়ে। শীতল তার ন্যাড়া মাথায় সুযোগ বুঝে হাত মারে। এতে আরো রাগে গরগর করে। তাতে শীতল আরো মজা পায়। রতন বিশুর চোখের বিষ। শীতলের নামে অভিযোগের পর অভিযোগ অঙ্কের স্যার শিব বাবুকে জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। উল্টে শীতলের আরো আনখুটানি বেড়ে গেছে।
আমার ক্লাসে ঐ টুকরো কাগজের রহস্য শীতল আনতে উসখুস করে। যাতে শীতলে নজর দিই তাই বিশুকে খোঁচায়। রাগে গরগর করতে করতে বিশু হেস্তনেস্ত করার জন্য আমাকে কাঁদন মাদন হয়ে শীতলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। তখন আমাকে ব্যাপারটায় হস্তক্ষেপ করতে হলো। শীতল বলল স্যার ও একটা কাগজে আমার বিরুদ্ধে আজ স্কুলে এসে  কী লিখে পকেটে রেখেছে,রমেশ আমাকে বলেছে।
নাছোড়বান্দা বিশু কাগজ দেখাবে না। আমিও সমানে বিশুর গায়ে হাত বুলিয়ে, খুব আদর করে কাগজটা হাসিল করে, টুকরোতে যা দেখলাম, আমার তো চক্ষু চড়কগাছ। লিখেছে - 'আমার মৃত্যুর জন্য শীতল বেশী দায়ী,শিব বাবু কম।'
সর্বনাশ! ওর মাকে ডাকতে বললে ও তীব্র আপত্তি জানায়। মা খুব বকে, মারধরও করে। কিন্তু মাকে আনা হলো। স্কুলে মায়ের অভিযোগ কম নয়। মা বলে- 'পড়াশোনা করতে চায় না, ছবি আঁকার জন্য পাগল। এন সি সি অন্ত প্রাণ। গার্লস্কুলে বোনটা প্রতি ক্লাসে ফার্স্ট হয়। ওর একদম পড়াশোনায় মন নেই। পড়া না পারলে বেদম মারবেন।'
এরকম অসংখ্য বিশু আছে। বিশুর জন্য তাই ভাবি।
            ***********
#অনুগল্প - ১২
# নাম - 'বুড়ি তুমি ক্যামন'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

    " ঐ আকাশটো এত্ত বড়! দেহন দেহি এক চিলতে জায়গা জুড়ে এক বুড়ি ক্যামন বইসে আছে। নামডা 'চরকা কাটা বুড়ি।' ক্যান গা তোমরা নাম দিতে পারলা না গো!"
  "ওটাই তো পারা যায়নি গো। ও যে কোন অনন্ত কাল থেইক্যা ওখানে বইস্যা বইস্যা সুতা কাইট্যা আসতাছে ত আসতাছেই! একইভাবে। কবে শ্যাষ করবা কে জানে। কেউ জানে না। কত্ত লোক দ্যাখছল,তারা চলি গেল। কত্ত লোক দ্যাখছে,তারাও চলি যাবে। সব্বাই আইসে,দ্যাখে,চলি যায়! বুড়ির ঐ একডাই কাম আর ফুরয় না। মাইনষেরও দ্যাখনের ক্লান্তি নাই,বুড়িরও সুতা কাটায়... চলছি তো চলছিই। বুড়ির য্যামন নাম নেই,এই কাজেরও শ্যাষ নাই। মানষিই তো মানষিই। নাম নানা হলি কাম তার নানা হয়। পরিচয় কত্ত! কত্ত! বুড়ির মত লয়গো! বুড়ির মত লয়! বুড়িকে তাই সব্বাই দ্যাখে। এ দ্যাখা চলছেই! চলবে!
               *********
         
#অনুগল্প -১৩
 # নাম - 'কৃষক তুমি'
  # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।
            

  কৃষক তুমি কার? তোমার সৃষ্টি সুখের উল্লাস কাকে দাও? তোমার শরীরময় ঘাম-রক্ত ঝরিয়ে যে ফসলের উপাসনা করো সে কি শুধু তোমার জন্য?  কি হলো ওভাবে মূক হয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন? কিছু বলো। জানি বলার কিছুই নেই...!

তোমার সৃষ্টিতে ভোক্তাই শুধু অধিকার ফলায়। তোমার সোনার ফসল শুধু ভোক্তার অধিকার বোধ আছে, তোমার কষ্টের জন্য ক'জন ভাবে! তুমি রোদে পুড়ে জলে ভিজে কোদাল, কাস্তে, কৃষি সরঞ্জাম... আর শরীর দিয়ে যা সৃষ্টি কর, মাটির ডাকে তুমি আনন্দে উল্লসিত হও...জল, মাটি,আকাশ,রৌদ্রের সাথে মিতালী করে যে সোনার ফসল ফলাও, যাদের মাটির সঙ্গে কোনো যোগ নেই তারাই হয় তোমার সোনার ফসলের লুঠেরা।
লুঠেরা বলব না কেন? ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মধ্যসত্ত্ব ভোগী ফড়েরাজ কেমন দালালি করে, ফসলের দাম নির্ধারণের ওরাই নিয়ন্ত্রক হয় কেমন করে, সে ঘোলা জলের খবর তোমার জানা থাকলেও কিছুই করার নেই তোমার। জানলেও তুমি কি করবে? তোমার ফসল তুমি আঁকড়ে বসে থাকবে, তাহলে তোমার ফসল আর ভোক্তার মুখ দেখল না!

    তুমি অত কষ্টে ফসল ফলিয়েও তোমার মূল্য কেউ দেয় না। এত দুঃখের মধ্যে দাম নগন্য, কিন্তু আনন্দ সে তো অপার। তাই তোমাকে ওরা সমাজের শ্রেষ্ঠ বন্ধুর শিরোপা দিয়েছে। ব্যাস ঐ টুকুই!
কৃষি উন্নয়নে ব্লক, জেলা,রাজ্য ধাপে ধাপে সরকারের প্রশাসনিক পরিকাঠামো আছে। তোমার জন্য। ফসল মজুতের হিম ঘর,ফসল বিক্রির কিষান মান্ডি, সরকার সহায়ক মূল্য তোমার হাতে তুলে দিয়ে তোমার পাশে দাঁড়ানোর কত কসরত দেখাচ্ছে! কিন্তু সব শেষে তোমার চোখের জলে আছে তোমার সর্বনাশের অনেক অনেক কথা। 
ফড়েরাজ মধ্যসত্ত্বভোগী তোমার ফসলের লুঠেরা। তোমার তিন ফসলি জমি এখন কমজোরি। সেভাবে ফসল দেয় না। ফসল দিলেও উৎপাদন বেশী হলে বিপদ উপযুক্ত দাম পাবে না,কম হলে উৎপাদনের খরচই উঠবে না। কত শত আত্মহত্যার খবর আসে। কি বিপদ বলো তো! 
মাটির সঙ্গে প্রকৃত যোগ তোমার , ফসল উৎপাদনের হোতা তুমি - তুমিই

'শুধু দুটি অন্নখুটি কোনোমতে কষ্টে ক্লিষ্টে প্রাণ রেখে দাও বাঁচাইয়া।'

ফসল ফলাও হে গুণি, ক্ষুধার সাথে তোমার যোগ বেশি সবাই মানি - স্রষ্টার দুঃখ বেশি না হলে সৃষ্টির মূল্য কি হয়! না পাবে! 
   হে কৃষি তোমার সন্তানের দেখভাল তুমিই পারো না করতে... তোমার সন্তান থাক তোমার,যত দুঃখ,যত কষ্ট সে তোমারি দান, সোনার ফসল তারি মাঝে দেয় আনন্দের সন্ধান।
           **********
# অনুগল্প - ১৪ 
  # নাম - 'পূর্ণিমা রাতের স্বপ্ন'
      # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

" পূর্ণিমা তার দেহ থেকে চাঁদিনীর রাতের অপরূপ সাজ তোমাদের দিকে উপহার করে পাঠাচ্ছে, তাতেও তোমাদের সখ মেটানোয় এতো খামতি কেন! আরো চাই! আরো চাই! এই করে করে মরো কেন?
আমরা বরং পূর্ণিমাকে নিয়ে তত আহ্লাদ করিনা বলে আমাদের পাওয়ারও কিছু নেই,আর হারানোর কিছু নেই।
না পাওয়ার বেদনায়, অনেক অপূর্ণতা থেকে একটা বিজ্ঞাপন চড়িয়ে দিয়েছি, তোমরা বেশ খেলে বটে! বিজ্ঞাপনটা সেই চাঁদকে দিয়ে!"
   "আমি বলব এ তোমাদের তাকে ছোট করে দেখার বিলাসিতা। না পাওয়ার হতাশা থেকে তাকে একপ্রকার হেনস্থা করে নিজেদের সখ মিটাচ্ছ।
তাকে ঝলসানো রুটি করে দেখালে নাকি তোমার দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা দুঃখের, বাস্তবতার এক পাহাড়প্রমাণ ক্ষোভের বোঝা নামে। ঠিক আছে নামল তাতে। পূর্ণিমার চাঁদের কি যায় আসে।
জীবনকে ওভাবে দেখিয়ে কি চরিতার্থতা পাও। উত্তরে তুমি বলবে পাওয়া গেছে - রোমান্টিক সৌন্দর্য,ভাববাদাকে দূরে সরিয়ে আমার ভেতরের হতশ্রী অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই সব মালিক, মজুতদারের প্রাসাদে মৃত মানুষের হাড় গোনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য সাহসে বুক বাঁধতে পেরেছি। প্রতিদিনের পোড়া রুটির সঙ্গে পূর্ণিমার চাঁদকে মিলিয়ে নিয়ে ভাবের ঘরে চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস লাভ করেছি।
  যখন বলি দুটো ভাত দাও গো বাবুরা,ও বাবারা...ঐ অট্টালিকার দিকে এই রোগা রোগা হাত তুলে বলেছি! আমাদের ঘাম-রক্ত শোষন করা ঐ সব বড় মানুষের দল, কই আমাদের মাঝে নেমে তো আসেনি! 
একটা পূর্ণিমা রাতকে খুব আবেগ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করার চরিতার্থতা খুঁজে পাও তোমাদের খোঁজা তোমাদের কাছে থাক, আমার খোঁজার মধ্যে পূর্ণিমা রাত আসুক আমার পেটে ক্ষুধার অন্ন হয়ে।
পূর্ণিমাকে নিজেদের ঢঙের সঙ্গে মিলিয়ে নাও যখন, তখন হাসি পায়। তোমরা কত নিজেরাই সহজে পন্য সেজে বসে আছো। যেই না ঝলসানো রুটি করে দিয়েছি, তোমরা বিজ্ঞাপন করে নিলে। ওটাই সত্য। তোমাদের কাছে পূর্ণিমার সৌন্দর্য সাজানো। তোমরা ঠিক বুঝতে পারলে। এমন করে সহজ সত্যটা তো কোনদিন শোনোনি। ওকে বিজ্ঞাপণ বানিয়ে আমাকেও তার সঙ্গে জুড়ে দিলে।
   আর আমি আমার ভেতরের সহজ সত্য দিয়ে পূর্নিমা আসুক আমাদের জীবনে খাওয়ারের সংস্থান নিয়ে। তোমরা আজো কি তাই করে দেখাও? না তোমরা পূর্ণিমাকে নিয়ে আছো তোমাদের মতো। আমরা আছি আমাদের মত। আর পূর্ণিমা আছে তার মতো।
সব পূর্ণিমা রাত একটাই হোক। পারবে কেউ একটাই গানের সুর আনতে!
               *********
# অনুগল্প - ১৫
  # নাম  - 'কে!- কি!- কেমন!'
      # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

আমি মনোতোষ। মধ্য বয়সে এসে মনে পড়ে সেই ছিলাম কি! এখন কে? শেষ করব কেমন করে? 
  জানো শিলু। শিলু বলে আমি বলতাম। আমার দেওয়া নাম। তোমার শিউলি নামটা অতটা উচ্চারণ করতে ভালো লাগতো না বলে। আর শিলু নামে ডেকে বেশ আদর অনুভব হতো,আর নিজেকে জাত প্রেমিক বলে মনে হতো।
তোমাকে আজ খুব মনে পড়ে। তোমার সঙ্গে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করতাম। লালচাঁদ,রামু ওরফে রমেশ যদি দেখে ফেলে আর রক্ষা থাকবে না বলে। জানলেই বাকি সব বন্ধুদের ছুঁচো বাজির মতো তিলকে তাল করে রিলে করে দেবে। ওরা যেন রেডার হয়ে সবসময় আমাদের দিকে তাক করে থাকত। 
তোমাকে কোনো কথাই লুকোতাম না। মনে পড়ে সংস্কৃত ইচ্ছুক বিষয় হয়ে গেল বলে সবাই ছেড়ে দিল। খুব কঠিন বলে। তোমার বিষয়টা খুব ভালো লাগত। ঐচ্ছিক হয়ে যেতে তুমি গোপনে খুব কেঁদেছিলে বাড়িতে। তোমার বাবা স্কুলে এসে সংস্কৃতের ভৈরব গাঙ্গুলি স্যারকে বলেছিলেন এমন ঘটনার কথা। তা থেকেই তো জানতে পারি। স্যার সাকুল্যে একজন ছাত্রী তোমাকে পেলেন। আরো যাতে জনা কয়েক ছাত্র হয় অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু কেউ বিষয়টা পড়তে রাজি নয়। আমারও ভালো লাগতো না। একদিন বন্ধুদের সামনে বালখিল্যতা বশত বলেই ফেলি- "বাঁচা গেছে।" আর সেই তোমার সঙ্গে ক্লাস করার সখ মেটাতে সংস্কৃত নিয়ে নিলাম। ছাই বুঝি। তোমার সঙ্গে ক্লাস করব,তাই রাজি। স্যার তো খুব খুশি। তুমিও। কিন্তু আমার জান জেরবার হত। বন্ধুরা বেদম লাগত। লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের ক্লাস দেখত। আর মুচকি হেসে, বলাবলি করে কি গসিপটাই না করত! জানো তো খুব টেনশন হতো। রীতিমত টিজিং করত। আমি হয়ে গেলাম শাঁখের করাত। ছাড়লে তুমি ভাববে ভীরু - ভীরুদের প্রেম মানায় না। আবার ছেড়ে দিলে বাঁচি,এদের টিজিং আর ভালো লাগে না। সেই দিনগুলো মনের উপর খুব নৃত্য করে আজও। 
  একদিন তোমার বিয়ের সম্বন্ধ এলো। সবেতো ক্লাস নাইন। এরই মধ্যে বিয়ে! তখনকার বিচারে মানে বিয়ের অনেক বয়স হয়েছে। কুড়ি পেরলেই বুড়ি। বিয়ে দিয়ে দাও। আর দেখতে ভালো হলে তো কথাই নেই,ছোঁ মেরে নিয়ে চলে যাবে। 
  এখানেও বালখিল্য দোষ কতটা ছিল, আজ বুঝতে পারি। সমবয়সের প্রেমিক- প্রেমিকা খেলাঘর টেকে না,আর ঐ টুকু বয়সে কি প্রেম! ছেলে হয়ে কত দায়িত্ব! ভালো চাকরি পেলে মেয়ে সে অনেক অনেক আসবে। বরপণ আসবে। উৎসব বাড়ি হবে, আমন্ত্রিত অতিথি ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে। সামাজিকতা বলে কথা। ঐ বয়সে প্রেম আর বিয়ে এ একটা অলীক কল্পনা! মনে হয়েছিল বন্ধুরা বেঁচে গেছে। আমি বোকা। তাই হয়তো আমাকে নিয়ে মজা করে ওদের কাটত। এভাবে নিজেকে সামলেছি।
     তবে সম্পর্কের কি নির্মলতা ছিল আজ মনে পড়ে। বর্তমানে চারদিকে প্রেম যে পন্য হয়ে গেছে,তা হতে আলাদা একটা আনন্দ বেশ মনে হয়।
  শিউলি তুমি সেই সেদিনের ঘ্রাণ হয়ে আমার স্মৃতির বর্ণপরিচয়ের দিনগুলোর মতো আজও ছুঁয়ে আছো।
মনে পড়লে বেশ সময় কাটে। যেদিন শেষ দেখা , সেদিন বলেছিলে- "বিরাট চাকরি পেলে, সুন্দর দেখে বউ হলে জানাবি কিন্তু..."
আজ সেই স্মৃতিই আমার ভেতরের চৈতন্যের একটা অংশ হয়ে ভেতরে ও বাইরে আমি কে, তাই আমার এখন খুব মালুম হয়। শুরুতে বললাম না- 
কি! কে! কেমন!... আমার ভেতর ও বাইরে আমিকে খুব করে চিনতে পেরেছি।

 
# অনুগল্প- ১৬
   # নাম - 'আজও দেখি'
        # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

সত্যিটা সত্যিই হয়। আজ যা চিরকাল তাই থাকে। আমি তিলু। তিলক সর্দার। বাবা নিধিরাম সর্দার। 
  ছোটোবেলা বাবা ছিলেন খুব রাশভারী মানুষ। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী যাকে বলা হয়। তাঁর শাসনের লক্ষ্মণরেখার বাইরে যেতে খুব ভয় করত। যেন তাঁর শরীরের চারদিকে চোখ লাগানো আছে মনে হতো। সেই শাসনের চৌহদ্দিতে কাটিয়েছিলাম বলে মানুষ হয়েছি কিনা বলতে পারব না, তবে এক একটা ঘটনা যেন জ্যান্ত হয়ে উঠে আসে। তারই একটা ঘটনা যেমন এই বলছে- 
   "কি তিলু মনে পড়ে চুল কাটা নিয়ে তোমার আর আমার সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা। আমি সেই সেদিনের ঘটনা। তোমার বাবা ছিলেন আমাদের মধ্যিখানে পরিচালক।"
   "মনে পড়বে না মানে। তুমি সেই অতীত। আজও দিব্যি একই আছো! একই দেখছি।"
"আমি এতো সত্য ছিলাম ভাবতেও পারোনি তো এই হাফ সেঞ্চুরিতেও। সেই একই ভাবে ঘুরে এলাম যেভাবে, তোমার ছেলের বেলায়ও ঘুরে আসার সুযোগ... সুযোগ পেলেই আমি এভাবে আসব। উপর থেকে তোমার বাবা দেখছেন, তুমিও একদিন উপর থেকে দেখবে। তোমার ছেলে যখন তার ছেলের ধারায় যুক্ত করবে নিজেকে।"
সেই ঘটনা আজও একইভাবে দেখলাম। হ্যাঁ চুল কাটার ঘটনা। 
    বাবা নিজের হাতে চুল কাটবেন ছেলের মাথায়। এ তাঁর শখ। নিজে যাবেন সেলুনে। আর আমার বেলায় নিজেই কাটবেন। কামারশাল থেকে আগের দিন কাঁচি শান দিয়ে আনবেন। আর রবিবার স্নান পর্বের আগে গাছতলায় নিয়ে গিয়ে ঘরের পিড়ি পেতে বসিয়ে দেবেন। এবার ছাট চলবে। ঘাড়ে, মুখে যত চুল পড়ত খুব কুটকুট করত। মাথা নড়ত। আর বকা সমানে চলত। এই চুল কাটতে চোখে জল চলে আসত। মাকে বলতাম। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হতো না। যেন বাঘ বন্দি আমি একটা ছাগল। চুল কাটার পর বাবার ভাব হতো যেন করুক্ষেত্র জয় করে ফিরেছেন। কি যে সে উপদ্রব সয়ে কম্মটি সারতে সায় দিতে হতো,আর ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হতো সে একমাত্র উপরওয়ালা জানতেন
খুব মনোযোগ দিয়ে আমাকে দেখেই চলতেন দু' এক দিন। আমাকে নয়, আমার মাথার চুল কাটা কেমন লাগছে তাই।
বন্ধুরা কাটতো সেলুনে। তাই নিয়ে আমার মনে মনে বাবার উপর খুব রাগ হতো। কিন্তু অসহায়। বন্ধুরা পেছনে লাগত। তাদের চোখ সেট না হওয়া পর্যন্ত একদিন দু'দিন তো মোটামুটি চর্চার খিচুড়ি হতাম।
এখন সেই যন্ত্রণার দিনের ঘটনা উঠে এল সবে। ঘটনার সেই সেদিন ছিল খুব কষ্টের আর বর্তমানে বেদম হাসি পাচ্ছে। ঘটনা একই হয়ে ঘুরে আসার জন্য।
কোভিদ-১৯, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে বিশ্বের থরহরি কম্প শুরু হল। লকডাউল চেপে বসল। সেলুন বন্ধ। যদিও লকডাউন উঠল কিন্তু সেলুনে যাওয়া বারণ। তাই আমাজন কুরিয়ার হোম ডেলিভারী সার্ভিস থেকে কিনলাম একটি স্ট্রিমার। তাই দিয়ে মাথায় রাক্ষুসে বোঝা চুল নামালাম, আমি ছেলের মাথা থেকে,আর ছেলে আমার মাথা থেকে। আর আমি তিলক সর্দার ছেলের কাছে এই ঘটনা হাসতে হাসতে বলাবলি করি। আজও দেখি সেই সত্যকে। ও যে বংশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকবে। 
                *******
#অনুগল্প -১৭
   # নাম - 'পিতৃদিবস'
       # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।
         
শ্রীচরণ কমলেষু,  
                   বাবা।
       আজ পিতৃদিবস। 
         খুব মনে হল।
মনে পড়ে সেই সেদিনের কথা
রথের মেলায় প্রথম
 হাত ধরে নিয়ে গেলে।
বললে - "খোকা,দ্যাখ ঐ রথ।
আম- কাঁঠালের গন্ধ নে
একটা ছোট্ট আলফানসো চারা
ধর। ঐ যে খিড়কির পুকুর ঘাট,তার এক কোনে লাগাব।"
সেই আম গাছ আজ কত্ত বড় হয়েছে! কত কত আম! 
আমি যেন তোমার হাতে বোনা তসর,জামদানি,বালুচরির মতো। খুব কদর আমার। আমি মানুষের মতো মানুষ হয়ে তোমার সত্তা- স্মৃতি-ভবিষ্যৎ। আমি এখন অনেক বড়,নাম অনেক। অনেক কিছু হয়েছে, তোমার হাতের সেই মিষ্টি আদর আজো রথের মেলায় পাই, কোথাও খুঁজেও এমনটা আর হয়না...রথের মেলায় এজন্য যাই। সেই প্রথম দিন আজও সাথে ছিল। 
      ইতি - 
         তোমার
              বিল্টু।
        ***********
       
 # অনুগল্প -১৮
    # নাম - 'নৃত্যই জীবন'
       # কলমে - মৃদুল কুমার দাস।

আমার এই ক্ষুদ্র প্রাণ তিলমাত্র। এতেই কত সুর! সুরের প্রকাশে নৃত্য তার প্রাণ।
সেই প্রাণ সুরের যেন তরণীতে চেপে ভেসে চলেছে। আয়ু তার স্রোত।খেলার ছলে শিশু যেমন কাগজের নৌকা বানিয়ে স্রোতের মুখে আলতো করে ছেড়ে দেয় এও ঠিক তেমনি। 
এ বিশ্বের স্রষ্টা হলেন অনন্ত। তিনিই যেন শিশুর মতো।
একের পর এক প্রাণ কাগজের নৌকার মতো বানিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন,আর এক অপূর্ব কৌতুকে ধরণী তাকে বুকে স্থান করে দিচ্ছে। প্রাণ সকল আয়ুস্রোতে ভাসতে ভাসতে আবার স্রষ্টার কাছে চলে যাচ্ছে। স্রষ্টা আবার তাকে নবীকরণ করে আয়ুস্রোতে ঠেলে দিচ্ছেন। 
  আর প্রাণকে স্রষ্টা তাঁর লীলাময় জগতে দিচ্ছেন এক নৃত্যের ভঙ্গিমা। কত তার ভঙ্গিমা। সুখ- দুঃখ- আনন্দ- হাসি - কান্না....এই ভঙ্গিমায় প্রাণ নৃত্য করতে করতে আসছে স্রষ্টার কাছ থেকে। আবার নৃত্যের ভঙ্গিমায় স্রষ্টার কাছে ফিরে যাচ্ছে। তাই হল প্রাণের আনন্দ। এই নৃত্য এক খেলা খেলা! তারই নাম অনন্তের লীলা। প্রাণের সেই লীলায় অপূর্ব নৃত্যের ঢঙে জীবন প্রকাশিত। যে যত জগতে সুন্দর নৃত্যের মহড়া দিচ্ছে তার জীবন তত আরো আনন্দময় হচ্ছে। তাই জগৎ আনন্দময়। নৃত্য তার দোসর।
               _ সমাপ্ত -
@copyright reserved for Mridul Kumar Das

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...