কলমে: Black Panther (জিৎ)_শুভ্রজিত চক্রবর্তী
All rights reserved ©Subhrajit Chakravorty
সোমনাথ যখনই ওর নিজের নাম টা লেখে, তানিয়ার কথা মনে পড়ে যায়। তানিয়া ওর নাম টা Somnath না লিখে সবসময় Somenath করে লিখতো, একটা এক্সট্রা E যোগ করতো। ও অনেকবার বারণ করেছিলো, তানিয়া বলতো "সোম" লিখতে গেলে "Some" করে লিখতে হয়।
আজ প্রায় দশ বছর হতে চললো। কলেজে ভর্তির কয়েকদিনের মাথায় স্যার জানালেন যে এসকার্শনে যেতে হবে। সবাই সবাইকে ঠিক মতন চেনেও না। সবার নাম লেখার দায়িত্ব পড়েছিলো একটা মিষ্টি মেয়ের হাতে। সোমনাথ যখন নিজের নাম টা বললো, মেয়েটা Somenath করে লেখায় সোমনাথ আপত্তি জানিয়েছিলো। তানিয়া ঠিক করে নিতে যাবে, ঠিক সেই সময় সোমনাথের মুখের দিকে তাকালো, কিছু একটা ভাবলো, তারপর চূড়ান্ত অধিকার নিয়ে বললো, তোর নামের সঠিক বানান এটাই। তখনই সোমনাথ অর্ধেক কাহিল হয়ে পড়লো।
তারপর এসকার্শনে গিয়ে বন্ধুত্ব, আর ৫ বছর কলেজ জীবনে ভালোবাসা। একজন আরেকজনকে ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারতো না। তানিয়া কলেজ শেষ করে বাড়ি পৌঁছতে না পৌঁছতেই সোমনাথ ফোন করে খোঁজ নিতো ঠিক ঠাক পৌঁছেছে কি না। গাঢ়, গভীর ও পবিত্র ভালোবাসা যাকে বলে।
কলেজ শেষ করতে না করতেই সোমনাথ চাকরি পেয়ে গেলো। ঠিক করে রেখেছিলো ২ বছর চাকরি করে টাকা জমিয়ে ওরা বিয়ে করবে। সব কিছুই ঠিক হয়ে রয়েছে। দুজনের বাড়ি থেকেই রাজি।
এর মধ্যেই তানিয়ার GRE র ফল বেরোলো আর ও পেয়ে গেল আমেরিকার নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে MS করার সুযোগ, সাথে মোটা টাকা বৃত্তি। সোমনাথ কিছুতেই মানতে চায় না। তানিয়া বোঝায়, আমাদের প্ল্যানিং তো দু বছরের। এই দু বছরের মধ্যেই আমি ফিরে আসবো, সাথে নিয়ে বিশাল ডিগ্রী আর বৃত্তির বিশাল অংকের টাকা। সোমনাথ নিমরাজি হয়ে অনুমতি দেয়। শর্ত রাখে রোজ রাতে এক ঘন্টা করে ভিডিও কল করতে হবে। আমেরিকার সময় আর ভারতীয় সময় হিসেব করে ওরা একটা সাধারণ সময় নির্ধারিত করে। সেই সময় রোজ চলতে থাকে ভিডিও কলিং।
এভাবেই চলছিল ওদের একান্ত অথচ দূরত্বের প্রেম। কিছুদিনের অপেক্ষা, তারপরেই মিলন।
সেদিন তানিয়ারা সব বন্ধু মিলে ঘুরতে বেড়িয়েছিলো। বরফের চাদরে মোড়া আমেরিকাকে দেখাচ্ছিলো ভিডিও কলের মাধ্যমে সোমনাথে কে। তীব্র গতিতে গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে, চারদিকে বরফ ই বরফ। হঠাৎ ঘটে গেলো সেই দুর্ঘটনা, যেটা নিয়ে এসেছিলো সোমনাথের জীবনে অন্ধকারের ছায়া। বরফের রাস্তায় স্কিড করে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোবাইলের স্ক্রিন অফ হয়ে যায়। ১৫ দিনের মাথায় তানিয়ার দেহ পৌঁছায় কলকাতা। এখনো ভুলতে পারছে না সোমনাথ। তানিয়ার সাথে কাটানো এক একটা মুহূর্ত স্পষ্ট মনে পড়ছে ওর। আজ দশ বছর হয়ে যাচ্ছে। সেদিন হঠাৎ email এর chatbox টা ঘাট তে গিয়ে পেয়ে গেছিলো তানিয়ার সাথে করা চ্যাটিং এর ব্যাকআপ। চোখের জল আটকাতে পারে নি "Somenath" বানান টা দেখে।
অফিসের এই ডেস্কে বসেই তানিয়ার সাথে চ্যাটিং করতো সোমনাথ। প্রতিটা কোনার সাথে যেনো তানিয়ার স্মৃতি জড়িয়ে। আজকাল যেনো কাজেও মন বসছে না। ঠিক এরকম সময়েই এক নামী কোম্পানি থেকে চাকরির সুযোগ নিয়ে ঢুকলো একটা ইমেইল। সোমনাথের কি মনে হলো, ভাবলো, সুযোগ টা নিয়েই দেখা যাক। পরের দিন চলে গেলো ইন্টারভিউ দিতে।
অফিসে ঢুকে রিসেপশনে গিয়ে থমকে গেলো সোমনাথ। রিসেপশনে তানিয়া বসে রয়েছে। একমনে মাথা নিচু করে কাজ করছে। অজান্তেই সোমনাথ "তানিয়া?" বলে উঠলো। মেয়েটা মুখ তুলে তাকিয়ে মিষ্টি হাসলো।
"স্যার আমি পূর্বা, How May I help you?"
সোমনাথ: আমি ইন্টার্ভিই দিতে এসেছি।
পূর্বা: ও আচ্ছা।
বলে একটা ফর্ম বের করলো।
পূর্বা:আপনার নাম টা বলবেন স্যার।
সোমনাথ: আমার নাম সোমনাথ গাঙ্গুলী
পূর্বা ফর্মে লিখলো "Somenath"
সোমনাথ আপত্তি জানায়, বলে ওই "e" হবে না।
পূর্বা মুখ তুলে তাকায়, চুড়ান্ত অধিকার নিয়ে বলে, "সোম" লিখতে গেলে "Some" করে লিখতে হয়।
সোমনাথ নির্বাক হয়ে শোনে, কিছু বলতে পারেনা। শুধু ভাবে, " ভালোবাসা কি জীবনে বার বার আসতে পারে?"
---------সমাপ্ত-------------
All rights reserved ©Subhrajit Chakravorty

বাহ্। সুন্দর
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। পাশে থাকবেন।
মুছুনএক নিঃশ্বাসে পুরো গল্পটা মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়লাম...খুব সুন্দর.... তবে প্রশ্ন একটাই,পূর্বাই কি তানিয়া?না কি অন্য কেউ?গল্পের শেষে এক প্রশ্নের রেষ থেকে গেলো...
উত্তরমুছুনতানিয়ার মৃত্যু হয়েছিলো গাড়ি দুর্ঘটনায়। কিন্তু পূর্বার মধ্যে সোমনাথ তানিয়াকে খুঁজে পাচ্ছে। ধন্যবাদ। পাশে থাকবেন।
মুছুনKi dicchen dada...just awesome
উত্তরমুছুনধন্যবাদ ভাই। পাশে থেকো।
মুছুনদুর্দান্ত ভালো লাগলো ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। তোমার ভালো লেগেছে এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মুছুনখুব ভাল লাগল।অদ্ভুত সমাপতন।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। পাশে থেকো
মুছুন