#কলমে: সৌগত মুখোপাধ্যায়
এখন রাত বারোটা,অমলেন্দুর চোখে ঘুম নেই।প্রতিদিন রাতে মৌ এর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে অমলেন্দু অনেক কথা বলে,তারপর অনুভবে মৌ ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় ও ঘুমিয়ে পরে।আবার সকালে মৌ এর ডাকে ঘুম ভাঙে,মৌ ছবির ভিতর থেকে তারা দেয় কতো ঘুমোব ওঠো।বাজার যেতে হবে না,ছেলেটা অফিস বেরোবো একটু মাছ মুখে না দিয়ে।নাতিটার স্কুলের সময় হয়ে যাবে,বৌমা ছোটো মেয়ে একা হাতে সব পারে। এইভাবেই ১৫ টা বছর কেটে গেছে।বাবান বিয়ে করেছে ওদের তিনবছরের ছোট্ট ছেলে তাতান ,একদম দাদু অন্ত প্রাণ,দাদু ও নাতি ছাড়া চোখে অন্ধকার দেখে।আজথেকে ১৫ বছর আগে মৌ সবাইকে ছেড়ে চলে গিয়েও যেতে পারেনি তার অমু আর বাবানের জন্য রয়ে গেছে। অমলেন্দু তার মৌ কে সর্বদা অনুভব করে ,দুজনে মিলে সারাদিন ছোট্ট তাতান কে নিয়ে কাটায়,তাতান মৌ কে দেখতে পায় না ঠিকই,কিন্তু মৌ সারাদিন নাতির পিছু পিছু ঘোরে ,এই নাতি পরে গিয়ে কোথাও না লেগে যায়।অমলেন্দু ওদের দেখে আপন মনে হাঁসে, ওর হাঁসি দেখে মৌ চোখ পাকায়,অমলেন্দু র হাঁসি আরো বেড়ে যায়।ছোট্ট তাতান বোকার মতো প্রশ্ন করে দাদান হাতচ কেনো।কালকের পর পুরো বাড়ি ফাঁকা হয়ে যাবে।বাবান বৌমা আর তাতান কে নিয়ে শহরে ফ্ল্যাটে চলে যাবে।ওরা তো বলছে বাবানের অফিস যাওয়ার অসুবিধা হচ্ছে তাই।যদিও বৌমা শহরের মেয়ে মফস্বলের এই পুরোনো বাড়ি হয়তো তারও ভালো লাগছে না।তাই ওরা ওদের। মতো করে নিজেদের বাসা খুঁজে নিচ্ছে।
মৌ তুমি কাঁদছো ,বিশ্বাস করো আমি তোমার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছি, ওকে বুক দিয়ে এতদিন আগলে রেখেছি, বাবা মা দুজনের আদরে বড়ো করে তুলেছি।কিন্তু দেখো ওদের একটা জীবন আছে সেখানে আমরা বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারিনা। আমি তো আছি এ বাড়ী ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।এরপর তো অফুরন্ত সময়,কোনো কাজ নেই।হাসনা হানা তলায় এবার থেকে আমরা দুজন সারাদিন রাত কাটাবো।
***** *****
জিনিস পত্র প্রায় প্যাক করা হয়ে গেছে।বাবান তাতান কে নিয়ে শুয়ে পরেছে। মিতালী কিছু টুকি টাকি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জিনিষ পত্র এক করে গুছিয়ে তুলছে।নতুন করে সংসার সাজানোর হ্যাপা কম।যদিও মা বলেছে বোনকে দিন সাতেকর জন্য ওর সঙ্গে থাকতে,তাও একটা চিন্তা তো থেকেই যায়।এদিকে বাবা এখানে একা থাকবে তার দেখভাল করার জন্য লোক ঠিক হয়েছে তাকেও সব বুঝিয়ে দিয়ে যেতে হবে।নিজের ফ্ল্যাট গুছিয়ে নিয়ে একবার এখানে এসে দেখে নিতে হবে বাবার যত্ন আত্তির কোনো ত্রুটি হচ্ছে কি না।
একটা পুরোনো বাক্সোর ভিতরে কিছু কাগজ পত্র একবার চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিল মিতালী,দরকারি কিছু যদি রয়ে যায়। বাক্সের নীচে মায়ের একটা ছবি এটা এখানে কে ভরলো।বাক্সটার কাগজ পত্র বেশিটাই বাবার।মিতালী শ্বাশুড়ী মায়ের ছবিটা যত্ন করে তুলে কাপড় দিয়ে মুছে নিয়ে যাবে ঠিক করে,বাবান মায়ের ছবিটা পেলে খুশি হবে।মিতালী মুচকি হাঁসে। এই বাড়িটা ছেড়ে যেতে মিতালীর যে খুব আনন্দ হচ্ছিলো তা নয়।আসলে এই স্যাঁতস্যাঁতে সন্ধ্যে সাতটায় জনমানবহীন পরিবেশে সে যেনো হাঁফিয়ে উঠছিলো।ছবিটা আনমনে মুছতে মুছতে ছবির পিছনে আটকে থাকা একটা কাগজ মিতালীর কোলে এসে পরে।একটা চিঠি,কার চিঠি।মিতালী কৌতূহল বশত চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করে-----
আমার প্রীয় অমু
তুমি আজ অনেক দিন বাদে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছ।তোমার ঘুমন্ত মুখটা দেখে কি ভালো লাগছে।আমি একটা অন্যায় করেছি ,জানি তুমি ক্ষমা করে দেবে।আমার কোনো অন্যায়ের সাজা তুমি কোনোদিন দাওনি,শুধু ভালোবাসা দিয়ে আমায় আমার কৃতকর্মের লজ্জা দিয়েছ।আমরা সব সময় যা পেয়েছি ভাগ করে খেয়েছি তাই এই না বলা অন্যায় আমি কোনো ভুল খুঁজে পাইনি।কি করবো বলো রাতের পর রাত তোমার চিন্তিত মন জোর করে আমাকে ভালো দেখানোর চেষ্টা,বিছানায় ছটপট করা বিনিদ্র রজনী ,আমার ঘুমের ওষুধ খাওয়া আধাজাগা মনের চোখ দিয়ে আমি তোমাকে প্রতিরাত অনুভব করেছি।আমার অর্ধেক মন যে তোমার সঙ্গে জোড়া গো তুমি বোঝনা।তাই আজ লুকিয়ে তোমার দুধে আমি আমার একটা ঘুমের বড়ি মিশিয়ে দিয়েছি।আজ সারারাত আমি তোমায় দেখবো ,তোমার দিকে তাকিয়ে আমাদের ফেলে আসা দিনগুলো ভাববো । তুমি যখন এই চিঠি পাবে হয়তো ভাববে আমি স্বার্থপর তোমাকে একা করে ,তোমাকে হারিয়ে দিয়ে চলে গেলাম।লক্ষীটি আমায় ভুল বুঝোনা তোমাকে হারানোর মতো শক্তি,দুঃসাহস আমার কোনোদিন ছিলো না আজো নেই।তুমিতো আমার চোখে অজেয়।কিন্তু তোমাকে সবার কাছে নিচু হয়ে তিলেতিলে হারার মুখে চলে যেতে দেখতে আমি আর পারছিলাম না,তাই আমার এই যাওয়া আমাদের দুজনের লড়াইয়ের জিৎ বলে মনে কোরো।আর আমি কোথাও যাচ্ছিনা তো, তোমার মধ্যে একবারে থেকে যেতেই তো আমার এই যাওয়া। তোমার সুন্দর মুখটায় হাত বোলাতে বোলাতে আমার খুব হাঁসি লাগছিল,এই মুখ আমার সামনে কোনোদিন মিথ্যা বলতে পারে না।তবুও কতবার চেষ্টা করেছো মিথ্যা বলার ,ধরা পড়ে গেলে হেঁসে আমায় জড়িয়ে ধরে লাজুক মুখে স্যরি বলেছো।সেদিনও তুমি আমায় মিথ্যা বলে ধরা পরে গিয়েছিলে, আমি শুধু তোমার মিথ্যা ধরেও তোমাকে বুঝতে না দিয়ে মেনে নেবার ভান করেছিলাম।আমি তার আগেই জেনে গিয়েছিলাম আমার শরীরে মরন রোগ ধরেছে ,আমার শিরা উপশিরায় বইতে শুরু করেছে তার বিষ।যেদিন তুমি বাড়ি ফিরে কৃত্তিম হাঁসি হেঁসে আমায় বললে ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট বলছে ভয়ের কিছু নেই আমার এনিমিয়া হয়েছে সেদিন দুপুরে ক্লিনিক থেকে তোমাকে রিপোর্ট কালেক্ট করার যে ফোনটা এসেছিল,তুমি বাথরুমে ছিল ফোনটা আমি রিসিভ করি।এবং মিথ্যা পরিচয় দিয়ে রিপোর্ট আগেই জেনে নিয়েছিলাম।তুমি বোকা বোকাই রয়ে গেলে, ঠিক সেই ২২ বছরের গাবলু গুবলু আমার সেই অমু যে আমায় ভালোবাসি বলতে গিয়ে চোখমুখ লজ্জায় লাল করে ফেলেছিল। ভিড় দেখলেই আমার হাত ছেড়ে দিতো।সবার মাঝে খুঁজে বেড়াতো কোনো চেনা লোক নেইতো ,যে আমাদের লুকিয়ে প্রেম করা দেখে ফেলছে।খুব খুব বোকা ছিলে আজো আছ, না হলে আমাকে যে হসপিটালে নিয়ে গিয়ে বলতে ডাক্তার বাবু এখানে চেক আপ করাতে আসতে বলেছে,আমি জানতাম ওখানে কিসের চিকিৎসা হয়।প্রথম প্রথম খুব হাঁসি পেতো জানো তুমি যখন বলতে আমার ডায়লসিস করা হচ্ছে আমার রক্তের প্লাজমা ঠিক করানোর জন্য আমার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।মনে পরে আমাদের বাবান যখন আমার পেটে এলো ডাক্তার চেক আপ করানোর পর সেই উৎসুক মুখে তোমার ডাক্তার বাবুকে করা বোকা বোকা প্রশ্ন গুলোর কথা? আমাকে না চাইতেও তোমার দেওয়া সেই সান্ত্বনা র কথাগুলো মৌ দেখো তোমার কোনো কষ্ট হবে না।আমি ডাক্তার বাবুকে বলেছি তোমায় সিজার করতে যাতে তোমার একটুও কষ্ট না হয়।মনে হতো আমার থেকে বেশি ভয় তুমি পেয়ে গেছো।যদিও বাবান আমার নর্মাল হলো কিন্তু মায়ের মুখে শুনেছি আমার শত কষ্টে চেপে রাখা প্রসব বেদনার আওয়াজ মাঝে মাঝে নার্সিংহোমের লেবার রুমের বাইরে বেরিয়ে আসে, যা শুনে তুমি সবার মাঝে বাচ্ছা ছেলের মতো কাঁদছিলে,লক্ষ্মীটি কাল আমাকে হারিয়ে আর তুমি কেঁদোনা, তুমি কাঁদলে আমার বাবান টাকে কে সামলাবে।বাবনটার ২০ বছর বয়স টাই হয়েছে,এখনও থেকে থেকে মা আমায় আদর করো বলে আমার কাছে ঘেঁষে আসে।কাল থেকে তো ওকে আমার আদরটাও তোমাকেই করতে হবে গো।আমি যে ওর আর তোমার মধ্যে কাল মিশে যাবো।তুমি আমায় বলতে আমাকে তুমি কারো হাতে ছেড়ে যাবে না,তাই হলো আমি তোমার পাশেই রয়ে যাচ্ছি, শুধু আমি আমার কথা রাখতে পারলাম না।গয়না গাটি গুলো রেখেছিলাম ছেলের বউকে সাজাবো বলে ,আর একটু একটু করে ব্যাংকে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম আমার বুড়ো টাকে যেনো আমি না থাকলে কেউ কষ্ট না দেয় তার জন্যে।কিন্তু আমি আমার কথা রাখতে পারলাম না।কালকের পর আমার গয়না গুলো বিক্রি করে বাজারের দেনা মিটিয়ে দেবে,ব্যাংকের টাকাও তুলে নেবে শুধু চিক টা পারলে বাবানের বউয়ের জন্য রেখে দিও।বড়ো শখ ছিলো বাবানের বউয়ের মুখ দেখবো ওটা দিয়ে।আমি জানি এই মারণ রোগের পয়সা জোগাড় করতে করতে তুমি তোমার সব বিকিয়ে দিয়েছ,যে মানুষ কোনোদিন কারো কাছে হাত পাতেনি তাঁকে আজ রিকভারী এজেন্টের হুমকি শুনতে হচ্ছে।কিন্তু তোমার ঐ এক জেদ আমার গয়নায় হাত দেবেনা।ওটা নাকি ঘরের লক্ষী,লক্ষ্মী তো সেটাই যেটা দরকারে কাজে আসে। তুমি আমাদের এই সাধের বাড়িটা বিক্রি করার কথা ভেবেছো।না অমু কোনোদিন এটা করবে না কথা দাও,এই বাড়ি তোমার আমার ছোট ছোট স্বপ্ন,কষ্টের ইঁট দিয়ে তৈরী আমাদের স্বপ্ন বাবানের জন্য।এটা তুমি বিক্রি কোরোনা।তোমার মনে পরে বাবান তখন আমার পেটে,রং মিস্ত্রীর টাকা তোমার কাছে নেই লক্ষী ভাঁড়ে জমানো টাকা দিয়ে রং তুলি কিনে দুজনে মিলে জানলা দরজা রং করেছিলাম।সেই রং তুমি যত্ন করে এতদিন ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখেছ।আজ কি করে তা অন্যের হাতে তুলে দেবে অমু।
এই দেখো অমু লিখতে লিখতে আমার চোখটা জ্বালা করছে।মন চাইছে না তোমাদের ছেড়ে যেতে কিন্ত যেতে আমাকে হবেই, তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকতে হলে আমাকে এই পথ বেছে নিতে হতই।আর আজ নয় কাল এটাই তো আমার শেষ ঠিকানা।শুধু ভগবানের কাছে একটাই প্রশ্ন আমাদের মতো গরিবের ঘরে ভালোবাসা ছাড়া তো কিছুই দাও না তবে কেনো এরকম রোগ দাও যাতে পুরো পরিবার একসঙ্গে শেষ হয়ে যায়।
পাশের ঘরে বাবানকে অনেক আদর করে এসেছি ঘুমের ঘোরে আমার গলা আঁকড়ে ধরেছিল অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে এসেছি।এইবার এই সব ঘুমের ওষুধ গুলো একসঙ্গে খেয়ে তোমার পায়ে নয় বুকে মাথা দিয়ে তোমার মধ্যে হারিয়ে যাবো।তুমি একদিন বলেছিলে না বাঁচতে হলে তুমি আমার বুকে মাথা দিয়ে বাঁচবে মরলেও আমার বুকে মাথা দিয়ে।
তোমার কথা রেখেছে গো তোমার মৌ,আমার এই অন্যায় তুমি ক্ষমা করে দেবে কথা দাও।আমি কোথাও যাবো না তোমাদের ছেড়ে।বাড়ির পিছনে যে হাসনা হানা গাছটা তুমি আমি পুঁতেছিলাম ওখানে প্রতিদিন অফিস ফেরৎ তুমি আসবে তোমায় আমি দেখবো।যদি না আসো জানবো তুমি আমায় ক্ষমা করোনি।আর বাবানকে বোলো ওর মা কোথাও যায়নি ওর কাছেই আছে।এতদিন ও ওর মায়ের আদর খেয়েছে ওর মা এবার ওর মেয়ে হয়ে এসে ওর কাছে আদর খাবে।
এবার তাহলে আসি,আমায় হাঁসি মুখে বিদায় দাও
তোমার
অভাগী দুস্টু মৌ
চিঠির শেষ লাইনটা পড়তে পারেনা মিতালী,তার চোখ জলে ভিজে আবছা হয়ে উঠেছে।শ্বাশুড়ি মায়ের ছবি বুকে চেপে হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে।তারপর ধীর পায়ে তাতানের বিছানার পাশে আসে।তাতানের ঘুমন্ত মুখটা দু হাতে ধরে অনেক চুমু খায়।তারপর ধীর পায়ে পাশের ঘরে গুছিয়ে রাখা জিনিষ পত্র যেখানে আছে সেখানে চলে যায়।
******* ******
ভোরের আলো ফুটে উঠেছে অমলেন্দু ব্যাস্ত হয়ে ওঠে বাবানদের ডেকে তুলতে হবে।এখুনি গাড়ী এসে। যাবে এতো মালপত্র একা হাতে ছেলেটা কি করে কি করবে।তড়িঘড়ি অমলেন্দু দরজা খোলে অবাক বিস্ময়ে দেখে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে মিতালী হাতে গরম চা।অমলেন্দু বিস্ময়ে বলে মা তুই এতো সকালে।মিতালী ঘরে ঢুকে চায়ের কাপ টা রেখে বলে,বাবা আমরা কোথাও যাচ্ছি না মায়ের ছেলেকে মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে গিয়ে আর একটা মা কি সুখে থাকতে পারে। অমলেন্দুর চোখ জলে ভরে ওঠে,কি ভাষায় মিতালী কে আশীর্বাদ করবে খুঁজে পায় না। মিতালী অমলেন্দু র পা ছুঁয়ে প্রণাম করে।বাইরে হাসনা হানা গাছটা শরৎ এর নির্মল হওয়ায় কেঁপে কেঁপে ওঠে।হয়তো মৌ তার আনন্দ অশ্রু এইভাবেই শিশিরের রূপে তার বৌমার মাথায় আশীর্বাদ দিয়ে নিজেকে তৃপ্ত করে।
💐💐💐সমাপ্ত💐💐💐

খুব সুন্দর গল্প👌👌👌👌👌💐💐💐😊😊😊😊😊
উত্তরমুছুন😊😊😊ধন্যবাদ
মুছুনঅসাধারণ একটি গল্প
উত্তরমুছুনধন্যবাদ😊😊😊
মুছুনDarun🥰👌....
উত্তরমুছুনধন্যবাদ💐💐💐💐
মুছুন