#বিষয় - অনুগল্প
#নাম -'কেরামতি চরিত'
তখন শীতকাল। ঝিলম ঝিলে আসে অনেক পরিযায়ী পাখি। মানুষের ভিড়ের ঢল নামে। পরিযায়ীদের দেখবে।
ঝিলমের পাড়ে একশ' দু'শ বছরের গাছ অনেক অনেক। বট,অশ্বত্থ তো আছেই, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া,শাল, দেবদারু,দেশ ঘরের খিরিশ,বাবলা - বাবলায় আবার স্বর্ণলতা যেন তাবু গেড়ে বসে। রবার গাছের সে অপূর্ব শোভা! ঋতুতে ঋতুতে ঝিল হরেক সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়! সে ঈশ্বরের এক লীলা। ঝিল ও গাছে বাসা বাঁধেন ভগবান।
ঝিলটি সরকার অধিগ্রহণ করে বরের ঘরে পিসি ও কোনের ঘরের মাসি যেন। ঝিল তদারকিতে সরকারের কেয়ার টেকার বিমল সামুই। এই বিমল সামুইয়ের পোয়া বারো শীতকাল এলেই। দু'পয়সা উপরি কামায়। দেমাক কি! বিমল সামুই যেন এনেছে ঐ সব পরিযায়ী পাখিদের ধরে ধরে। কোকিল, টিয়া,বাবুই, ময়না,শালিক,বৌকথা,পায়রা,কাকাতুয়া, আর সাদা সাদা হরেক আকৃতির বক যেন সাদা চাদরে গাছেদের মুড়ে দেয়। এসব তুচ্ছ সামুয়ের কাছে। পরিযায়ী তার নয়নের মণি!
এই যে ঝিলম ঝিলের পরিযায়ী পাখিদের আগমন এই শীতেই তা ঝিলের গায়ের গন্ধে। সে গন্ধের কারিগর ঈশ্বর জানেন!
আর সামুই বলে আমার কারসাজির জন্য ঝিলমে গন্ধ জাগে, সেই টানে পরিযায়ী দল আসে। পাখিরা কিছু নয়। এই সামুই সব। দাও উপরি দেখাবো হরেক পাখি। যারা দেখে তারাও দেখার লোভে চুপিচুপি পয়সা হাতবদল করে। আর দেখাতে দেখাতে নিজের জন্য এই পরিযায়ী পাখি যে আসে তাই ফলাও করে বলে - *"যেদিন সামুই থাকবে না, সেদিন পরিযায়ী আর আসবে না।*
দেশী পাখিরা ঐসব শুনে হাসে। বক তাই শুনে ভাবে এ সব কি তাহলে ফকির সামুইয়ের কেরামতি! বক তখন সবাইকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলল। বকের দেশোয়ালি ভাইবোনদের নিয়ে চুপিচুপি একটা সম্মেলন হয়ে গেল কিচিরমিচির স্বরে। সবাই ঠোঁট মুখ নেড়ে ব্যাপারটা বুঝল। কাঠঠোকরা আর মাঝরাঙা না একটু দুষ্টবুদ্ধি গোচের। তারা কারো উন্নতি সহ্য করেনা। তলে তলে বুদ্ধি আঁটে। দুজনে যুক্তি করে পরিযায়ীদের আসার আগেই ওদের ব্যাপার জানিয়ে সামুইয়ের কেরামতি রুখতে হবে। আবার বকও ভাবে এই কৃতিত্ব তাকেও নিতে হবে। বলাকা সারি হয়ে সে সব খবর দিয়ে আসবে।
আর গাছেরা দেশোয়ালি পাখিদের ও সামুইয়ের কান্ড কারখানা দেখে হাসে। ভাগ্যিস ঈশ্বর তাদের মুখে কথা দেয়নি। তারাই আসল পরিযায়ী পাখিদের আসার কারণ! দেখো সামুই মুখে তুবড়ি ছুটিয়ে মানুষকে কি বোঝাচ্ছে! পাখিরা তাদের কিচির মিচির ও তাদের ভাষায় তারা এর বিরোধিতা করছে। ঈশ্বর আর এই সব নশ্বর জীবের মধ্যে আমিই অনুঘটক এরা মানে না,মানবেও না। আর এ জন্য আমাদের বয়স দু'শ- চারশ' বছর। আর এই কেরামতির জন্য এই রা নশ্বর। তাই এরা মানছেই না! ফকিরের একেই বলে কেরামতি! সকলেই কেরামতি নিয়ে খেলে। ঈশ্বরের সঙ্গে যোগ যে আমিই গাছ করি তা কেউ মানে? মানলে এত ঘটনার জন্য কেরামতির কি হবে! আসলে বক ও ফকিরের কেরামতি আর আমি ঈশ্বরের দূত ঝড় হয়ে এদের মাঝে বিরাজ করি।
# কলমে ~ মৃদুল কুমার দাস।
অসাধারণ গল্প👌👌👌👌😊😊😊
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা 💐💐🌻
মুছুনঅসাধারণ গল্প👌👌👌👌😊😊😊
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। 💐💐🌻🌻
মুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।💐💐🌻🌻
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনুপ্রাণিত।💐💐🌻🌻
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।💐💐🌻🌻
উত্তরমুছুনঅসাধারণ বর্ণনা। দাদার লেখনীতে যেনো জাদু আছে👌👌👌👏👏🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনুপ্রাণিত হলাম।💐💐🌻🌻
মুছুনখুব সুন্দর।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনুপ্রাণিত হলাম।💐💐🌻🌻
মুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। কৃতজ্ঞ।💐💐🌻🌻
মুছুন