শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

প্রেতপুরী পর্ব - ১ (পিয়ালী চক্রবর্তী)

 


নমস্কার পাঠকবন্ধুগণ | আজ থেকে শুরু করছি একটি সত্যি ঘটনার ওপর নিজের কল্পনার রঙ মিলিয়ে একটি ভৌতিক মিনি সিরিজ | আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য 🙏🙏🙏

+++++++++++++++++++++

Copyright©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
এলাহাবাদের আম্বেদকর নগরের অভিজাত পরিবারের ছোটছেলে বিকাশ শর্মা | সদ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী হাতে পেয়ে সে বাড়ি এবং পাড়ায় বেশ চর্চিত | আর হবে নাই বা কেন , ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ থেকে ওর সিলেকশন হয়েছে এক নামজাদা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে |

কিন্তু তাও ওর মনটা খারাপ | কোনোদিন বাড়ি ছেড়ে ও কোথাও গিয়ে একা থাকেনি | চাকরি ভালো পেলেও , ওর জব লোকেশন হলো সুদূর গোয়া শহরে | ওর বাবা - মায়ের যত না বেশি মন খারাপ তার চেয়েও ওর মনখারাপের পরিমানটা অনেক বেশি |

তার কারণ হলো তানিয়া মিশ্র , ওর ছোটবেলার খেলার সাথী , কৈশোরের ভালোলাগা আর যৌবনের প্রেম | একই সাথে একই কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ওকে যেতে হচ্ছে গোয়া আর তানিয়া এলাহাবাদেই সিউয়েজ প্রজেক্টে চাকরি পেয়ে গেছে |

মনটা রাজি না থাকলেও তানিয়া অনেক বোঝানোর পর ও যেতে রাজি হলো | দূরে থাকলেও তানিয়া ওরই হয়ে থাকবে সেই স্বান্তনা বুকে নিয়ে গোয়ার ফ্লাইটের টিকিট কাটা হলো | গোছগাছ সব প্রায় রেডি |

বিনোদ শর্মা অর্থাৎ ওর বাবা ওদের কুলগুরু জ্যোতিরানন্দ চতুর্বেদীজীকে ছেলেকে একবার আশীর্বাদ করে যাবার অনুরোধ জানালেন | যথাসময়ে চতুর্বেদীজী ওদের বাড়িতে এসে বিকাশকে আশীর্বাদি ফুল দেওয়া তাগা ডানহাতের কব্জিতে বেঁধে দিয়ে গেলেন | বিকাশের অবশ্য এসবের ওপর কোনো বিশ্বাস ছিলোনা | তবুও , বাবা - মা - দাদা - বৌদির কথা রাখতে ও তাগাটা হাতে বাঁধতে সম্মত হলো |

নির্দিষ্ট দিনে , নির্দিষ্ট সময়ে ওর পরিবার এবং তানিয়ার কাছে চোখের জলে ভেসে বিদায় পর্ব সেরে ও উঠে বসলো গোয়াগামী ফ্লাইটে |

ফ্লাইট গোয়া এয়ারপোর্টে যখন পৌঁছলো তখন দুপুর দুটো বেজে গেছে | অফিসের গাড়ি ওর জন্য এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলো |

গাড়িতে আরো 4 জন আছেন | ফোরম্যান অনিল কুমার , কুক রজনীশ , সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মিঃ প্রশান্ত আগারওয়াল আর সার্ভেয়ার অয়ন ভট্টাচার্য |
গাড়িতে বসেই সবার সাথে পরিচয় পর্বটা সারা হলো |

ওদের থাকবার জন্য একটা দুতলা বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে কোম্পানির তরফ থেকে | বাড়িটা সমুদ্রের একদম ধারেই অবস্থিত | দেখে মনে হচ্ছে বেশ পুরোনো দিনের বাড়ি | সামনে ছোট্ট একফালি বাগান , সেখানে বিভিন্ন ধরণের জংলী গাছে ভরা | বাড়িটাতে কেমন যেন একটা স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ |

ভেতরটা অবশ্য বেশ পরিপাটি করে সাজানো | বারান্দায় ফুলের টব , খাবার ঘরে বাহান্ন ইঞ্চি এল . ই . ডি টিভি , ফ্রিজ , শোবার ঘরগুলোতে এয়ার কন্ডিশনার , বাথরুমে গিজার , দামি বেসিন সবই মোটামুটি আছে | 

নিচের তলায় রান্নাঘর আর খাবার ঘর , আর ওপরে পাশাপাশি দুটো থাকার ঘর | রজনীশ যেহেতু রাঁধুনি , সে খাবার ঘরের একপাশে নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিলো | সার্ভেয়র অয়ন এবং ফোরম্যান অনিল ওপরের তলার একটি ঘরে থাকবে | আর সমুদ্রের ধারের বারান্দাওয়ালা ঘরটাতে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত আর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিকাশের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে |

রান্না - খাওয়ার পাঠ চুকতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে গেলো | নতুন জায়গায় এসে গোছগাছ করতে করতে সবাই পরিশ্রান্ত | রাত্রে হালকা খাবার খেয়ে ওরা খুব তাড়াতাড়ি ঘুমোনোর ব্যবস্থা করতে লাগলো |

বিকাশের অতো তাড়াতাড়ি ঘুম আসেনা |    প্রশান্ত স্যার ততক্ষনে ঘুমিয়ে কাদা | বিকাশ বারান্দায় বসে খানিক্ষন তানিয়ার সাথে চ্যাট করে , তারপর একটা মুভি দেখবে বলে ইয়ারফোনটা কানে গুঁজে সবে বসেছে , এমনসময় সশব্দে বাথরুমের দরজাটা খুলে গিয়ে আবার বন্ধ হয়ে গেলো |

প্ৰশান্ত স্যার তখনো ঘুমোচ্ছেন | বিকাশ একাই উঠে গিয়ে দেখতে গেলো ব্যাপারটা কি ! আশ্চর্য হয়ে ও দেখলো , বাথরুমের দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ | কিন্তু ওদের ঘরে প্রশান্ত আর বিকাশ ছাড়া তো কেউ নেই | বাইরে থেকে যে কেউ এসে ভেতরে ঢুকেছে তাও অসম্ভব , কারণ ঘরের দরজাটাও ভেতর থেকে লক করা |

বিকাশ জোরে জোরে বাথরুমের দরজায় ধাক্কা মারতে লাগলো | ভেতরে অদ্ভুত সব আওয়াজ হচ্ছে | কেউ ক্র্যাচেজ নিয়ে হাঁটলে যেমন আওয়াজ হয় অনেকটা সেরকম | ভয়ের চোটে ওর শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেলো |
Copyright©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty

চলবে ..............


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...