নমস্কার পাঠকবন্ধুগণ ।
ভূমিকা
রুবি , মিকা , প্রীতম , ঋষি আর সুমন একই অফিসের সহকর্মীই নয় , অভিন্ন হৃদয় বন্ধুও বটে | প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজোর পরে ওরা একসাথে ছুটি কাটাতে যায় বিভিন্ন জায়গায় , লক্ষীপূজোর পরে বাড়ি ফিরে আসে | এরকমই চলছিল গত কয়েকবছর ধরে |
এবছর মিকা আর প্রীতম মিলে ঠিক করলো , এবারে আর পাহাড় বা সমুদ্র নয় | এবারে যাওয়া হোক জঙ্গল ভ্রমণে | বাকিরা নিমরাজি হয়েও ওদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলো |
অনেক খুঁজে খুঁজে ওরা বান্ধবগড়ের জঙ্গলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো | কথামতো ট্রেনের রিজারভেশন , হোটেল বুকিং , কার রেন্টাল সার্ভিস সব ঠিক করা হলো | এবারে শুধু দিন গোনার পালা |
দশমীর পরের দিন , অর্থাৎ একাদশীর দিন ওরা সবাই একত্রিত হলো হাওড়া স্টেশনে | দুপুর ১ : ২৫ এর শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকিট কাটা আছে ওদের | গন্তব্য হলো কাটনি স্টেশন | সেখান থেকে কার রেন্টাল সার্ভিস নিয়ে ওরা যাবে দুর্ধর্ষ বান্ধবগড়ের জঙ্গলে |
সবাই খুব উত্তেজিত এই টুর নিয়ে | প্রথমবার ওরা এরকম রোমাঞ্চকর জঙ্গলাভিযানে যাচ্ছে | সবাই বেশ জুত করে উঠে বসলো ট্রেনে | গল্প , হাসি , আড্ডা , গানের মধ্যে দিয়ে সময়টা কিভাবে কেটে গেলো ওরা যেন বুঝতেই পারলোনা |
ট্রেন প্রায় ২ ঘন্টা মতো লেট্ করায় ওদের কাটনি পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় বিকেল হয়ে গেলো | ট্রেন থেকে নেমে ওরা আগের থেকে বুকিং করে রাখা একটা ফোর হুইল ড্রাইভ বোলেরো গাড়িতে উঠে বসলো | এখনও প্রায় ২ - ২ : ৩০ ঘন্টা লেগে যাবে বান্ধবগড়ের কোর এরিয়াতে পৌঁছতে |
ওদের কোর এরিয়ায় যাবার স্পেশাল পারমিশান নেওয়া আছে , কারণ ওখানে সাধারণ ভ্রমণকারীদেরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না | কোর এরিয়ার একটু দূরেই ওদের কটেজ বুক করা আছে | ওখানে পৌঁছে ওরা তো কটেজ দেখে খুব খুশি | তিনটে ঘর , সাথে এটাচড বাথরুম , কিচেন আর সামনে লম্বা টানা বারান্দা |
ওরা এখানে পাঁচদিন থাকার প্ল্যান করে এসেছে | ঘর ভালো না হলে মনটাই খারাপ হয়ে যেত | কটেজের দেখাশুনো , রান্নাবান্না , সাফসুতরো করার জন্য একজন মাঝবয়সি পরিচারক আছেন | ওনার নাম দুর্জন সিং |
এবারে আসা যাক মূল ঘটনায়
ঋষি আর সুমন একটা রুমে থাকবে আর রুবি আর মিকা আরেকটা রুম শেয়ার করবে | প্রীতম একাই থাকবে একটা রুমে |
সেদিন রাত্রে দুর্জনের রান্না করা চিকেন রোস্ট আর বিয়ারের নেশা পুরো জমে উঠেছে | বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে ওরা গল্প - আড্ডা আর জঙ্গলের বিভিন্ন পশু ও নিশাচর পাখির ডাক শুনতে শুনতে বিভোর হয়ে পড়েছে |
মিকা আর প্রীতমের জোরাজুরিতেই বাকি সবাই এখানে আসতে রাজি হয়েছিল | রুবি মিকা আর প্রীতমকে উদ্দেশ্য করে বললো , ' থাঙ্কস ইয়ার , এরকম একটা গা ছমছমে রোমাঞ্চকর জায়গা সাজেস্ট করার জন্য | "
রুবির কথায় সুমন আর ঋষিও সহমত জানালো | রাত বাড়ছে , বেড়ে উঠছে জংলী জানোয়ার আর নিশাচর পাখিদের ডাক | ওরা বন্ধুরা এখন শুধু বিয়ারেই সীমাবদ্ধ নেই | একটা দামি সিঙ্গেল মল্ট হুইস্কির বোতল ওপেন করে শুরু হয়েছে উদ্দাম নেশা |
বেশ কিছুক্ষন এরকম চলার পর দুর্জন ওদেরকে ডাকতে এলো , ' সাহেব , মেমসাহেম রাত্রের খাবার কি এখানে দিয়ে যাবো ? '
প্রীতম : হ্যাঁ , দিয়ে যাও , বেশ জঙ্গলের মধ্যে বসে খাবার মতো অনুভূতি আসছে |
কথা বলতে বলতে প্রীতমের হাত থেকে কাঁচের গ্লাসটা পড়ে ভেঙে গেলো | ও ব্যস্ত হয়ে কাঁচের টুকরো তুলতে যেতেই একটা টুকরো লেগে ওর ডানহাতের তর্জনী বেশ খানিকটা কেটে গিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোতে শুরু করলো |
রুবি , মিকারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে | কেউ ওষুধ আনতে ঘরে ছুটলো , কেউ কাটা জায়গাটায় নিজের রুমাল দিয়ে চেপে ধরে রেখেছে | সবার যেন ঝট করে সব নেশা কেটে গেছে |
বেশ ভালোই রক্ত বেরোচ্ছে | রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে টপ টপ করে তার ফোঁটা পড়ছে মেঝেতে | ব্যস্ততার মধ্যে কেউ লক্ষ্য করলোনা সেই রক্তের ফোঁটাগুলো দেখে দুর্জন জিভ দিয়ে নিজের ঠোঁট চেটে নিচ্ছে | লোলুপ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ওই রক্তবিন্দুগুলোর দিকে |
Copyright© All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
সেদিন রাত্রে সবাই যে যার মত ঘুমিয়ে পড়লো | রুবির কিছুতেই ঘুম আসছেনা | ও ভাবলো , বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিশুতি রাত্রের জঙ্গলের পরিবেশ উপভোগ করা যাক |
ঘরের দরজাটা নিঃশব্দে খুলে ও বেরিয়ে এলো বারান্দায় | বারান্দায় বেরিয়ে লক্ষ্য করলো , কেউ যেনো মাটিতে জন্তুর মত বসে , জিভ দিয়ে মাটি থেকে চেটে চেটে কিছু খাচ্ছে |
ওর কৌতূহল বেড়ে গেলো , ' কে ও ! মাটিতে জিভ দিয়ে কি চেটে খাচ্ছে ! '
ও চাপা অথচ দৃঢ়কণ্ঠে বলে উঠলো , ' কে ওখানে ? '
ওকে চমকে দিয়ে দুর্জন উঠে দাঁড়ালো , ' জি , আমি , দুর্জন ' |
রুবি : ওখানে কি করছো ? মাটিতে জিভ দিয়ে কি চেটে খাচ্ছিলে ?
দুর্জন : মেমসাব , আমার একটা ওষুধ পড়ে গিয়েছিল ওখানে , ওটাই চেটে খেয়েছি |
রুবি : আচ্ছা , ঠিক আছে , এখন এখান থেকে যাও |
দুর্জন : জি আচ্ছা | বলে ওখান থেকে কেমন যেনো ঝুঁকে পড়ে দ্রুতবেগে চলে গেলো নিজের ঘরের দিকে | রুবির মনে কিরকম একটা অজানা আতঙ্ক জাগলো , ' ঠিক যেনো স্বাভাবিক নয় এই লোকটা | যাই হোক , আমরা পাঁচদিনের জন্য ঘুরতে এসেছি , ঘুরে ফিরে চলে যাবো | কে কিরকম তা জেনে আমাদের কি লাভ ! '
রুবি বারান্দায় একটা বেতের চেয়ার টেনে নিয়ে বসে জঙ্গলের নিঝুম পরিবেশ অনুভব করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো ও নিজেও জানেনা | হটাৎ ঋষি আর মিকার হৈচৈ তে ঘুম ভেঙে দেখে , সকাল হতে গেছে | ওরা সবাই রেডি হচ্ছে জঙ্গল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে | ওদের ভাড়া করা গাড়ি এসে গেছে | রুবি তাড়াতাড়ি রেডি হতে চলে গেলো | তাড়াহুড়োর মাথায় গতকাল রাত্রের দুর্জনের অদ্ভুত ব্যবহারের কথা বলতে বেমালুম ভুলে গেলো |
গাড়িতে উঠে বসে সবাই খুব এক্সাইটেড | কোর এরিয়ার ভ্রমণের সৌভাগ্য তো সবার কপালে জোটেনা | যত কোর এর দিকে এগোচ্ছে , থমথমে ঝিমধরানো সৌন্দর্য আরো বেড়ে উঠছে | বিভিন্ন ধরনের গাছপালার ঘন বনানীর মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে একদল স্পটেড ডিয়ার ওদের গাড়ির একেবারে সামনে দিয়ে চলে গেলো |

ওরা আনন্দে হইহই করে উঠলো | গাড়ির ড্রাইভার কাম গাইড ওদেরকে বললো , ' এই তো সবে শুরু , একদিনে আপনারা জঙ্গলের ১০% এরিয়াও কভার করতে পারবেন না , এত বৈচিত্রপূর্ণ এই জঙ্গল |
গাইড ওদেরকে প্রথমেই আশপাশের গাছপালার বর্ণনা দিলো | এখানে ফ্লোরা অর্থাৎ গাছপালার মধ্যে , সাজ , অর্জুন , পলাশ , বাবুল , বট , আম , কালোজাম , কদম , খেজুর , সালাই , বাঁশ ঝাড় , বের , মধুকা ইত্যাদি নানানরকম গাছগাছালির সম্ভার |


এত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে ওরা মুগ্ধ | তবে গাড়ি থেকে নামা এখানে বারণ , কেননা কোর এরিয়াতে জংলী জনোয়ার সবসময় ঘুরে বেড়ায় বন্ধনহীন ভাবে | গাড়ি থেকে নামলে বিপদের সমূহ সম্ভবনা |
জংলী কুকুর প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণীদের সামনাসামনি দেখে ওরা হতবাক | তারপর এলো সম্বর , বার্কিং ডিয়ার , চিতল হরিণ ইত্যাদি দেখার পালা | গাড়ির ভেতর থেকেই ওরা ছবি তুলতে লাগলো প্রাণভরে |

এইপর্যন্ত দেখতে দেখতেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো | জঙ্গলে হটাৎ করে অন্ধকার নেমে আসে | ড্রাইভার ওদেরকে যখন কটেজে পৌঁছলো , তখন প্রায় অন্ধকার হয়ে গেছে |
কটেজে প্রবেশের মুখেই ওরা লক্ষ্য করলো , কোন যেনো প্রাণীর হাড়গোড় পড়ে আছে | ওরা ভাবলো , হয়ত কোনো জংলী জানোয়ারের উচ্ছিষ্ট |
সারাদিনের ক্লান্ত শরীর এখন চায় বিশ্রাম | ওরা একে একে স্নান করে ফ্রেশ হয়ে নিলো | তারপর যথারীতি গতকালের মতো পানাহারের পর্ব শুরু হলো | মিকার আজকে ইচ্ছা রান্না করার | ও সবাইকার জন্য আজকে চিকেন তন্দুরি বানাবে বলে ঠিক করে রেখেছে | দুর্জন ওকে সাহায্য করবে |
কিচেনে মশলা আর ম্যারিনেশনের উপকরণগুলো গুছিয়ে মিকা দুর্জনকে ফ্রিজ থেকে চিকেন গুলো নিয়ে আসতে বললো |
দুর্জন ফ্রিজ থেকে চিকেন আনতে গেছে , বেশ অনেকক্ষ হয়ে গেলো , এখনো ফিরলোনা তো ! মিকা বিরক্ত হয়ে ভেতরে ফ্রিজারের ঘরে গেলো দুর্জনকে খুঁজতে |
গিয়ে ও যা দেখলো , তাতে ওর শরীরের রোমকূপ খাড়া হয়ে উঠলো | ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আলো- আঁধারির মধ্যে মিকা দেখে , দুর্জন একটা বেশ বড়োসড়ো মেঠো ইঁদুর ধরে কচকচিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে | মুখের দুপাশ দিয়ে কষ বেয়ে পড়ছে তাজা রক্ত |
দুর্জনের চোখেমুখ বন্য জানোয়ারের চেয়েও বেশি হিংস্র | চোখদুটো যেন আগুনের ভাঁটার মতো জ্বলজ্বল করছে | দুর্জনকে দেখে ঠিক যেন মানুষ বলে মনে হলোনা মিকার | যেন আধা মানুষ আর আধা শ্বাপদ জন্তুর অবয়ব দেখছে ও চোখের সামনে |
ভয়ে মিকার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না | মিকার দিকে দৃষ্টি পড়তেই দুর্জন যেন মুখ দিয়ে কেমন জান্তব শব্দ করে তীরবেগে জানালা দিয়ে পালিয়ে গেলো বাগানের দিকে |
কিংকর্তব্যবিমূঢ মিকা চেঁচাতে চেঁচাতে ছুটে গিয়ে সবাইকে বললো দুর্জনের কান্ড | রুবিরও গতরাতের কথা মনে পড়ে গেলো | সবাই মিলে টর্চ নিয়ে বাগানে দুর্জনকে খুঁজতে চলে গেলো |
অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা বাবলা গাছের নিচে দুর্জনের অচেতন শরীরটা পড়ে থাকতে দেখে ওরা চমকে উঠলো |
Copyright ©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
বাগানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সুমন আর ঋষি দুজনে মিলে ধরাধরি করে দুর্জনকে বাড়িতে এনে, ওর ঘরে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলো |
চোখে - মুখে জলের ঝাপ্টা দিতে দিতে দুর্জনের জ্ঞান ফিরলো | দুর্জন জ্ঞান ফিরে নিজেকে ওর বিছানায় আবিষ্কার করে যেন কিরকম চমকে উঠলো |
মিকা দুর্জনকে জিজ্ঞাসা করলো , ' তুমি একটা বড়ো মেঠো ইঁদুর কাঁচা খাচ্ছিলে , আমি দেখে নিতেই দুরন্তগতিতে জানালা দিয়ে পালিয়ে গেলে কেন ? জ্যান্ত ইঁদুর ধরে খাচ্ছিলেই বা কিভাবে ? আমাদেরকে সব বলো , নাহলে আমরা তোমাকে পুলিশর হাতে তুলে দেবো | প্রথম থেকেই তোমার আচরণ আমাদের সন্দেহজনক লাগছে | '
দুর্জন মনে মনে মিকার প্রতি সাংঘাতিক প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠলো , কিন্তু বাইরে সাধু সাজার ভান করে ডাহা মিথ্যে বললো , ' আপনি ভুল দেখেছেন মেমসাহেব , ওটা আমি ছিলাম না , ওটা একটা নেকড়ে বাঘ ছিল , আমি ওকে ইঁদুর খেতে দেখে তাড়া করতেই , ও জানালা দিয়ে পালালো | আমি তখন ওর পিছু ধাওয়া করতে , ও আমাকে আক্রমণ করে | আমি ভয়ে পালতে গিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে জ্ঞান হারাই | '
মিকা এরকম সাজানো মিথ্যা শুনে প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিলো | কিন্তু , সুমন , ঋষি-দের দুর্জনের কথায় বিশ্বাস হয়েছে | ওরা পরস্পরের সাথে আলোচনা করতে লাগলো , ' সত্যিই হয়তো মিকা ভুল দেখেছে | মেশার ঘোরে হয়তো কি দেখতে, কি দেখে ফেলেছে , জীবন্ত ইঁদুর ধরে কখনো মানুষ খেতে পারে নাকি ? মেয়েদের সব ব্যাপারেই বেশি ভেবে নেওয়া স্বভাব | '
ওদের কথা শুনে রুবি প্রতিবাদ করলো , ' আমিও সেদিন ওকে বারান্দায় মাটি থেকে কিছু চেটে চেটে খেতে দেখেছি , আমিও মিকাকে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করতে পারছিনা | তোরা একতরফা ভাবছিস কেন বলতো ? '
ঋষি : তোদের বেশি ভয় , এইজন্যেই মেয়েদেরকে সব জায়গায় নিয়ে যেতে নেই |
রুবি : দেখ , ফালতু বকবিনা | তুই আমাকে এনেছিস এখানে ? আমি নিজের পয়সায় , নিজের ইচ্ছায় এসেছি | তোদের সাথে আর কোত্থাও যাবোনা কোনোদিন | বলে রুবি সেখান থেকে নিজের ঘরে চলে গেলো |
রাত তখন প্রায় দশটা বেজে গেছে | সবাইকার মদ্যপানের নেশাও কেটে গেছে এসব ঝামেলায় পড়ে | খিদেও পেয়েছে সবার | রান্না হয়নি আজকে কিচ্ছু |
ওরা যে যার সাথে আনা শুকনো খাবার অপ্ল অল্প খেয়ে নিজেদের ঘরে ঘুমোতে চলে গেলো | কালকে আবার ভোরবেলা জঙ্গলভ্রমণে বেরোতে হবে | তাই বিশ্রামের দরকার এখন |
মিকা অনেক রাত পর্যন্ত বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে লাগলো | দুর্জনের সেই জ্বলন্ত দৃষ্টি আর কষ বেয়ে পড়া রক্ত ওর চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে | এত নেশা হয়েছিল যে এতটা ভুল দেখলো ও ? এসব চিন্তাই ওর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে |
রাত তখন প্রায় দুটো বাজে | মিকা বাথরুম যাবে বলে বিছানা থেকে উঠেছে | বাইরে খুব কাছেই নেকড়ে জাতীয় কোনো জন্তুর আর্তচিৎকার শুনতে পেলো ও | একটু ভয় করতে লাগলো | কিন্তু , বাথরুম তো যেতেই হবে | রুবি অকাতরে ঘুমোচ্ছে | ওকে ডাকা উচিত হবেনা | মিকা একাই ভয়ে ভয়ে বাথরুমের দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকে গেলো |
ও জানতো না যে এই ওর শেষ রাত |
বাথরুমের দরজাটা বন্ধ করতেই ও চমকে উঠে চেয়ে দেখে , দুর্জন প্রচন্ড আক্রোশে ওর দিকে চেয়ে আছে | মিকার শরীরটা কেমন যেন অবশ হয়ে আসছে | মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছে না | সম্মোহিতের মতো ও চেয়ে আছে দুর্জনের দিকে |
ধীরে ধীরে দুর্জনের মুখচোখ কেমন যেন বদলে যেতে লাগলো | চোখদুটো যেন সবুজ আলোয় জ্বলছে | নিজের জামাকাপড় সব ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করছে | পিঠের দিকের হাড়গুলো উঁচু হতে লাগলো , আর হাতগুলো পরিণত হতে লাগলো নখরযুক্ত থাবায় |
সারা শরীরে ঘন কালো লোমে ছেয়ে গেলো দেখতে দেখতে | মুখটা পরিবর্তিত হয়ে ঠিক যেন একটা নেকড়ে বাঘের চেহারা ধারণ করলো |
জিভটা টকটকে লাল | লকলকে লালাঝরা জিভের দুপাশ দিয়ে বেরিয়ে আছে তীক্ষ্ণ সাদা দুটো শ্বদন্ত |
মিকা হতবাক হয়ে , সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে আছে সেই দিকে |
একটা মৃদু চাপা গর্জন করে ও লাফিয়ে পড়লো মিকার ওপরে | মিকার গলায় বসিয়ে দিলো তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত | ছিঁড়ে নিলো একখাবলা মাংস |
যন্ত্রনায় ককিয়ে উঠে মিকা প্রাণ ত্যাগ করলো | মিকার শরীরের আবরণগুলো নখে দাঁতে টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে ও পরম তৃপ্তিতে খেতে লাগলো নরমাংস | নরমাংসের স্বাদ ওর মনমস্তিষ্কে এক অদ্ভুত প্রশাম্তি এনে দিচ্ছে | মিকার শরীরের শেষ টুকরোটা কচকচিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ও আবার ধীরে ধীরে মানুষের রূপ ধারণ কিরে নিলো |
বাথরুমের ভেতরে থাকা মিকার বস্ত্র , মাথার চুল ইত্যাদি যথাসম্ভব পরিষ্কার করে ও চুপি চুপি বেরিয়ে গেলো বাথরুম থেকে |
মানুষের রক্তের স্বাদ যখন একবার পেয়েছে , এবারে এদের আর নিস্তার নেই |
Copyright © All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
পরেরদিন সকালে সবাই ঘুম থেকে উঠে পড়েছে | রুবি ঘুম ভেঙে মিকাকে দেখতে পেলোনা | সারাবাড়ি সবাই মিকাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও মিকার দেখা পেলোনা | বাথরুমের দরজার কাছে মিকার ক্যাপ্রির একটা টুকরো পড়ে থাকতে দেখা গেলো |
সবাইমিলে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার সিদ্ধান্ত নিলো | দুর্জনকে কোথাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছেনা | সবাইকার সন্দেহ দুর্জনের দিকেই গিয়ে পড়লো | নিশ্চই ও মিকাকে কোনোভাবে মেরে তারপর প্রমান লোপাট করার চেষ্টা করেছে |
ততক্ষণে ওদের রেন্টেড কার এসে গেছে | তাকে নিয়ে গিয়ে ওরা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে গতকালের সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করে , দুর্জনের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করলো | পুলিশ দুর্জনের বিরুদ্ধে এফ . আই . আর জমা নিলো | আর ওদেরকে বলে দিলো , মিকার খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ যেনো জঙ্গল ছেড়ে না যায় |
মিকাকে খোঁজাখুঁজি , পুলিশ স্টেশনে দৌড়াদৌড়ি করে ওদের এবেলাটা কেটে গেলো | বিকেলের দিকে সবাই বিষন্নমনে বাড়ি ফিরে এলো | মিকার বাড়িতেও ফোন করে সব জানানো হয়েছে | ওদের বাড়ির লোকজন হাহাকার শুরু করে দিয়েছে মেয়ের হটাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় | ওরা আজকেই রওনা দেবে বান্ধবগড়ের উদ্দেশ্যে |
গতকাল রাত থেকে রুবিদের সেভাবে খাওয়া দাওয়াও হয়নি | ওরা কোনোমতে চাউমিন বানিয়ে খেয়ে যে যার মতো ঘরে বিশ্রাম করতে চলে গেলো | ঘুম তো কারুর চোখেই নেই , তবুও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে এখন | রুবি একাই ছিল রুমে | মিকার জন্য খুব মনখারাপ করছিলো ওর |
রাত তখন প্রায় নয়টা বাজে | রুবি বাথরুমে যাবে বলে উঠতে গিয়ে দেখে , ওদের ঘরের জানালার বাইরে দুটো সবুজ চোখ জ্বলজ্বল করছে | রুবি চিৎকার করে উঠলো | ওর চিৎকারে সুমন , ঋষিরা ছুটে এলো ওর ঘরে | চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ততক্ষনে ওই সবুজ চোখ কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গেছে |
সবাই একই ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিলো | যতদিন না পর্যন্ত মিকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে , ততদিন পুলিশ ওদেরকে জঙ্গল ছেড়ে না যাবার নির্দেশ দিয়েছে | ওরা সবাই মিলে হুইস্কির বোতল খুলে রুবির ঘরেই বসে অল্প অল্প খেতে শুরু করেছে | রাত্রের জন্য সেদ্ধভাত কোনোরকমে বানিয়ে রেখেছে ওরা |
মদ্যপান করতে করতে রাত গভীর হয়ে উঠলো | পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় জঙ্গলের শোভা দেখার জন্য ওরা সবাই বারান্দায় এসে বসলো | অপূর্ব মিষ্টি হাওয়া বইছে বিস্তৃত বনানীতে | কেমন একটা মন উদাস করা ভালোলাগা আর কষ্ট যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে |
রুবি রান্নাঘরের দিকে গেলো সবার জন্য খাবার আনার জন্য | খাবারের প্লেটগুলো সবে ধুয়ে রেখেছে , এমনসময় স্টোররুম থেকে কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ পেলো ও | ভাবলো হয়তো কোনো ইঁদুর বা ঐধরণের কোনো প্রাণী ঢুকে পড়েছে স্টোররুমে |
কৌতূহলবশতঃ দেখার জন্য স্টোররুমের ভেতরে পা রাখতেই ওর সারাশরীরের রক্ত হীম হয়ে গেলো | ও কি ! এ কি কিরে সম্ভব ? ও দেখলো , দুর্জন ধীরে ধীরে মানুষ থেকে এক অতি ভয়ানক নেকড়েতে পরিণত হয়ে উঠছে |
সবুজ চোখ গুলো জ্বলছে আর লাল জিভের দুপাশ দিয়ে বেরিয়ে আসছে শ্বদন্ত | দুর্জনের তখনো রুবির দিকে নজর পড়েনি | দেখতে দেখতে দুর্জনের সারাশরীর ঘন কালো লোমে ঢেকে গেলো | জলজ্যান্ত একটা মানুষকে এরকমভাবে চতুস্পদী হিংস্র জানোয়ারে পরিণত হতে দেখে রুবি সব বুঝতে পারলো |
আজকেই তো পূর্ণিমার রাত | ওয়ারউল্ফ রা তো আজকের রাতেই পূর্ণ শক্তি ধারণ করে | তার মানে মিকাকে ওই দুর্জনই মেরেছে | এখন আর কারোর নিস্তার নেই | ওর জিভ মনুষ্যরক্তের স্বাদ পেয়েছে যখন ওদের কাউকে এই ভয়ানক জীব ছাড়বেনা |
রুবি উপস্থিত বুদ্ধির জোরে ধীরপায়ে ওই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে থেকে ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দিলো | একদৌড়ে ঋষিদের কাছে এসে ব্যাপারটা জানালো ও | ওর কথা শুনে সবাই সাংঘাতিক ভয় পেয়ে গেলো | একথা যদি সত্যি হয় তাহলে বাঁচার কোনো পথই নেই | এত রাত্রে জঙ্গলের মধ্যে বনদফতরর কোনো লোকজনকেও পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না |
ওরা সবাইমিলে ঠিক করলো আজকের রাতটা ঘরের মধ্যে দরকা বন্ধ করে থেকে যাবে | তাড়াতাড়ি একটা ঘরের মধ্যে ঢুকে , দরজাটা ভেতর থেকে লক করে বসে ওরা দ্রুত সকাল হবার অপেক্ষা করতে লাগলো |
ওদিকে ওই সাংঘাতিক ওয়ারউল্ফ যখন খেয়াল করলো , ওকে কেউ ঘরের ভেতরে বন্ধ করে দিয়েছে , ওর তেজ আরও অনেকগুন বেড়ে গেলো | জানালার কাঁচ ভেঙে একলাফে ও বেরিয়ে এলো বারান্দায় | নাসিকাকুঞ্চিত করে মনুষ্যগন্ধের উৎস ঠাওর করতে লাগলো | যখন বুঝতে পারলো সামনের ঘরের ভেতরেই রয়েছে ওর খাদ্য , ও মরিয়া হয়ে দরজার গায়ে নখ দিয়ে আঁচড়াতে লাগলো |
এ তো আর সাধারণ নেকড়ে নয় | কোনো নেকড়ের অভিশপ্ত আত্মা ঢুকে আছে দুর্জনের মধ্যে | তাই সেই পৈশাচিক শক্তি সাধারণ নেকড়ের তুলনায় অনেক বেশি |
দরজায় আঁচড় শব্দ পেয়ে ওরা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো | ওদের আর ওই পিশাচের মধ্যে শুধুমাত্র এই কাঠের দরজার ব্যবধান | আর বেশি দেরি নেই ওদের প্রাণ হারানোর | এক একটা আঁচড়ে কাঠের দরজার ছাল উঠে গিয়ে দরজা ফুটো হতে লাগলো |
আরো প্রবল জোরে নেকড়েমানব দরজায় আঁচড় মারছে , আর ভেতরে ওরা প্রস্তুত হচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য | এভাবে আঁচড়াতে আঁচড়াতে দরজাটা পুরো ফেটে চৌচির হয়ে গেলো | ওরা সবাই ভয়ে অজ্ঞান হবার অবস্থা |
দরজার ফাটলের বাইরে হিংস্র দুটো সবুজ জ্বলজ্বলে চোখ , আর তীক্ষ্ণ সাদা শ্বদন্তের দর্শনে রুবি অজ্ঞান হয়ে গেলো | নরপিশাচটা একধাক্কায় দরজা ভেঙে ঢুকে রুবির ওপর লাফিয়ে পড়তে যাবে , ঠিক এমন সময় একটা লোহার বর্ষা এসে আঘাত করলো নেকড়েমানবটার পিঠের ওপর |
বর্ষার তীক্ষ্ণ ফলায় বেশ অনেকটা কেটে গিয়ে রক্ত পড়তে লাগলো পিশাচটার শরীর থেকে | সবাই হতবাক হয়ে চেয়ে দেখলো বাইরে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে | সুঠাম চেহারার এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক | মাথায় লাল কাপড় জড়ানো আর পরনে একটা সাদা ধুতি |
পিশাচটা রাগতঃ দৃষ্টিতে ওই ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে এক লাফে ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো | ভদ্রলোক খালিহাতেই ওই পিশাচের সাথে লড়তে লাগলেন |
ততক্ষনে সুমন ওই বর্ষাটা নিয়ে ছুটে গিয়ে ওই নরপিশাচটাকে পেছন দিক থেকে সজোরে আঘাত করলো | এবারে নেকড়েটা ওই ভদ্রোলোককে ছেড়ে যেই সুমনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাবে , সুমন বর্ষার ফলাটা সোজা গেঁথে দিলো নেকড়েটার বুক লক্ষ্য করে |
ছটফট করতে করতে ওটা মাটিতে পড়ে গেল | মাটিতে পড়ে বেশ কিছুক্ষন ছটফট করার পর ওটা আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়লো | ওর শরীরটাও ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে দুর্জনের রূপ ধারণ করলো |
ইতিমধ্যে রুবিরও জ্ঞান ফিরে এসেছে | মৃত দুর্জনকে দেখে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ওই বৃদ্ধ ভদ্রলোকের দিকে এগিয়ে গেলো সঠিক সময়ে এসে ওদের প্রাণ রক্ষা করার জন্য |
ওই লোকটি ওদেরকে বললেন , ' আমার নাম মাধো সিংহ | আমি বহুবছর ধরে এই জঙ্গলের কোর এরিয়াতে আছি | এখানে প্রত্যেক পূর্ণিমার রাতেই ওয়ারউল্ফদের শক্তি সাংঘাতিক বৃদ্ধি পায় | ওয়ারউল্ফদের কাছে আমি ত্রাস | আজ পর্যন্ত এই নিয়ে ছয়টা ওয়ারউল্ফকে শেষ করেছি |
এক অতি সাংঘাতিক নেকড়ে ছিল এই জঙ্গলে | তার অত্যাচারে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষ কারোর শান্তি ছিলোনা | আমি তখন বনদফতরের অফিসার | নিজে দায়িত্ব নিয়ে সারারাত জেগে , ছাগলের টোপ দিয়ে ওটাকে শিকার করি | কিন্তু , ওই শয়তান নেকড়ের আত্মার এখনো মুক্তি হয়নি | ও শুধু শরীর পরিবর্তন করে | গত কয়েকবছর ধরে যেমন দুর্জনের শরীরে আশ্রয় নিয়েছিল |
আমি সবই জানতাম | সবাইকে বলেছি ওর একটা ব্যবস্থা করার জন্য | কিন্তু আমার কথা সবাই হেসেই উড়িয়ে দিতো | আমি চেয়েও ওকে কিছুতেই মারতে পারছিলাম না | কিন্তু যখনি কানাঘুষো শুনলাম যে , এক পর্যটক নিখোঁজ , তখনই আমি বুঝে যাই , এ নিশ্চই ওই পাপী নেকড়ের আত্মার কীর্তি |
নিরীহ মানুষ এবং পশুদেরকে আক্রমণ করে , তাদেরকে মেরে, খেয়ে ও এখনো নিজের প্রতিশোধের পালা চালাচ্ছে | আগে যতবার মেরেছি , ততবার ওই আত্মা অন্য কারুর শরীরে স্থান নিয়েছে |
কোনো ব্যক্তির শরীরে যদি ওর নখ বা দাঁতের আঁচড় লাগে এবং তারপর যদি ঐ ওয়ারুলফের মৃত্যু হয় , তাহলে ওর পাপাত্মা ওই ব্যক্তির শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে | আর সেই ব্যক্তি পরিণত হয় নেকড়েমানব বা ওয়ারউল্ফে |
আমি জানতাম , আজকে পূর্ণিমার রাত্রে সর্বশক্তি ধারণ করে ও তোমাদেরকে আক্রমণ করবে | তাই আমার নিজের তৈরী বর্ষা নিয়ে চলে এলাম ওকে মারতে |
ওই বর্ষা দিয়ে শুধুমাত্র ওর বুকে আঘাত করলে তবেই ওকে মারা সম্ভব ছিল | অজান্তে হলেও তোমরা সেই কাজটা করতে পেরেছো | সবাই সুমনকে বাহবা দিতে লাগলো | শেষরক্ষা হলো তাহলে | সবাই মিকার জন্য আফসোস করছে | কিছুক্ষন আগের বিভীষিকাকে পরাস্ত করার আনন্দে সবাই মশগুল |
কেউই খেয়াল করলোনা যে , নেকড়ের সাথে লড়ার সময় মাধো সিংয়ের হাতে ওই পিশাচের নখের একটা আঁচড় লেগেছে |
++++++++++সমাপ্ত++++++++++

চমৎকার। ধন্যবাদ। 👌💫💫💥💯
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদা
মুছুনBeautiful ❤❤❤
উত্তরমুছুনOnek dhonyobad
মুছুনআরে ব্বাস একেবারে ভয় পেয়ে গেছি ,দারুণ লেখা
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ বন্ধু
মুছুনKhub sundor....but ekon to madho Singh hoi jibo
উত্তরমুছুনহ্যাঁ, তারপরে আসবে সিজন ২ । অনেক ধন্যবাদ ।
মুছুন