রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

শেষ দেখা (ছোটো গল্প)


Copyright © All Rights Reserved 

Subhrajit Chakravorty

প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে শৌর্য হোটেলের রুম থেকে বেরিয়ে রিসেপশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কেমন তিন তারা হোটেল, ফোনটাই কাজ করছে না। একে তো ফ্লাইট সাংঘাতিক দেরি করেছে ছাড়তে, তারপর কিসব গোলযোগের জন্য কলকাতা থেকে মুম্বাই আসতে মাঝখানে দিল্লিতে দু ঘন্টা হল্ট দিলো। প্রায় সারারাত জেগে। ভাবলো সোজা হোটেলের রুমে গিয়ে ব্রেকফাস্টের অর্ডার টা দেবে, কিন্তু অভাগা যেখানে যায়, সাগর শুকায়ে যায়, ফোনটাই কাজ করছে না। অগত্যা রিসেপশনে এসে অর্ডার টা দিয়ে যাবে।

কিন্তু হঠাৎ করে এক মুহূর্তের জন্য ওর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো, পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো, পুরো দুনিয়া টা এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেলো অর্চিসা কে লাউঞ্জের সোফায় বসে থাকতে দেখে।

এক লহমায় মনে পড়ে গেলো দশ বছর আগের কলেজের শেষ দিনটা। অর্চিসার সাথে শেষ দেখার দিন। শৌর্য অনেক বুঝিয়েছিলো যে, পরবর্তী পড়াশুনো দেশে থেকেই করা যাবে। শৌর্য এও আশ্বাস দিতে চাইছিলো যে আগামী দু বছরের মধ্যে ও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং বিয়ে করতে সক্ষম হবে। কিন্তু অর্চিসার বিদেশে পড়ার শখ আর তাঁর বাবার শৌর্যের প্রতি অকারণ ঘৃণা দাঁড়ি টেনে দিয়েছিলো ওদের চার বছরের গভীর প্রেমের।

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির কয়েক দিনের মাথায় আকর্ষণ অনুভব করেছিলো দুজনে দুজনের প্রতিই। সেই আকর্ষণ প্রেমে পরিণত হতে বেশিদিন সময় লাগেনি। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা যাকে বলে। পুরো কলেজে ওদের প্রেম বিখ্যাত ছিলো। এতো সুন্দর জুটিকে অকপটে পুরো কলেজ মেনে নিয়েছিলো। স্যার, ম্যাডামরাও খুব স্নেহের চোখে দেখতেন এই জুটিকে। শুধু মেনে নিতে পারেননি অর্চিসার বাবা।

শৌর্য এইসব আকাশ পাতাল ভাবছিলো, এমন সময় অর্চিসার ডাকে শৌর্যের সম্বিৎ ফিরলো। এক ঝলকেই চিনতে পেরে গেছিলো পুরোনো প্রেমকে অর্চিসা। দৌড়ে এসে জাপটে জড়িয়ে ধরলো শৌর্যকে। হাজার হলেও প্রথম এবং প্রকৃত ভালোবাসা, দুজনেরই। চোখে চোখেই যেনো অনেক কথা হয়ে গেলো। দশ বছর বিরহের পর দেখা।

সোফায় বসলো দুজন। বাক্যালাপ শুরু হতে যাবে, এমন সময় শৌর্যের মোবাইল বেজে উঠলো। তৃণা,  মানে শৌর্যের স্ত্রী ফোন করে তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট নিয়ে যেতে বললো, ওদের তিন বছরের ছেলের খিদে পেয়েছে সারারাত জার্নির পর। ওদিকে অর্চিসার স্বামীও এসে অর্চিসা কে বলতে লাগলো যে হোটেলের রুম ওনার পছন্দ হয়নি, তাই এই হোটেলে ওনারা থাকবেন না। ব্যাগ পত্র গাড়ি থেকে নামানো হয়নি, সেই জন্য আবার গাড়িতে উঠতে বললেন। ঋষি, অর্থাৎ স্বামীর হাত ধরে অর্চিসা বেরিয়ে চলে গেলো হোটেলের দরজা দিয়ে।

মোবাইল হাতে নিয়ে শৌর্য ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো লাউঞ্জে। বুকের বাঁ পাশটা চিন চিন ব্যাথায় ভরে উঠছে। একই অনুভূতি কি অর্চিসার ও হচ্ছে?
©Subhrajit Chakravorty


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...