সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

একাকীত্ব। ( ছোট গল্প । পারমিতা মন্ডল।)

গল্পের নাম--- একাকীত্ব।

লেখিকার নাম ---পারমিতা মন্ডল।

আমি মৃনালীনি । মফস্বলের মেয়ে ছিলাম । ওখানেই স্কুলে পড়াশোনা করেছি । কলেজও মফস্বলেই। গ্রামের মেয়ে । তাই কলেজের পড়া শেষ হতে না হতেই বাবা বিয়ে দিয়ে দিলেন।  গ্রামের সবাই বলতো মেয়েদের  বেশি লেখাপড়া শিখিয়ে কি হবে ? বিয়ে দিয়ে দাও  ।কিন্তু আমার বাবা শোনেনি । আমাকে কলেজে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। কলেজে পড়তে পড়তেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। আমার স্বামী ডাক্তার ছিলেন । এতো ভালো পাত্র বাবা হাত ছাড়া করতে চাননি । তাই দূর হলেও বিয়ে দিয়ে দিলেন।

    আমার স্বামীর পৈত্রিক বাড়ি কিন্তু গ্রামেই ছিল । কিন্তু কর্মসূত্রে উনি কলকাতায় থাকতেন। বিয়ের পর কিছুদিন গ্রামের বাড়িতে থাকার পর আমাকেও নিয়ে গেলেন কলকাতার ভাড়া বাড়িতে। একুশ বছর বয়সে কলকাতায় এলাম  স্বামীর সাথে সংসার করতে।গ্রামের মেয়ে । শহরের আদব কায়দা কিছুই জানি না । তারপর ভাড়া বাড়ি। আগে কখনোই থাকিনি । কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই আমরা একটা দোতলা  পুরনো  বাড়ি  কিনি। বাড়ওয়ালা কি কারণে যেন বিক্রি  বিক্রি করে দিচ্ছিল । আমরা কিনে নিলাম। একটু সারাই টারাই করে, রং করে নতুন  বাড়ি হয়ে গেল। আজ পঁয়ত্রিশ বছর হয়ে গেল, আজও আমি সেই বাড়িতেই বসবাস করছি। কত সুখ দুঃখের স্মৃতি জড়ানো আছে এই বাড়িতে। এই বিশাল বড় বাড়িতে আজ আর কেউ নেই। আমি একা ।
   
স্বামী মারা গেছেন আজ পাঁচ বছর হলো । একমাত্র ছেলে বিদেশে চাকরি করে ।  ছেলে আমার খারাপ নয় । সব সময় খোঁজ খবর নেয়।  ওদের সাথে নিয়ে যেতেও চেয়েছিল । কিন্তু আমি যাইনি। কি করবো ওখানে গিয়ে ? ওদের ভাষা তো বুঝবো না । কথা বলতে পারবো না । আর ছেলে বৌমা সব সময় ব‍্যস্ত  । আমার আরো বেশী একা লাগতো ।  তার চেয়ে এই ভলো ।কত স্মৃতি জড়ানো এই বাড়ি ছেড়ে  কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না ।  কলমি আমার দেখা শোনা করে । বড় ভালো  মেয়ে সে। সারাদিন থাকে ।  সন্ধ্যা হলে বাড়িতে চলে যায়। আমার সব কিছু হাতের কাছে গুছিয়ে দিয়ে যায়। এমনিতে কোন অসুবিধা নেই।

  ভাবতে  ভাবতে  কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম । কলমির ডাকে সম্বিৎ ফিরে এলো। কলমির যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।ডাক দিয়ে বলল ", দিদা আমি আসছি গো । টেবিলে তোমার  খাবার ঢাকা দেওয়া আছে । সময় মতো খেয়ে নিও ।," বলেই ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল । ওর ও  বসার সময় নেই। খুব ব‍্যস্ত। আরো এক  বাড়িতে বিকেলে রান্না করে। তারপর বাড়ি যায় । শুধু আমারই অনন্ত অবসর । আজ আর কোন কাজ নেই । দিন কাটলেও রাত যেন কিছুতেই কাটতে চায়না।  দেওয়াল গুলো মনে হয় যেন গিলতে আসছে । আজ সেই মাসিমার কথা বড্ড মনে পড়ছে ।. পরিবারের একটু সঙ্গ পাওয়ার জন্য মানুষ কতো  কিছুই  না করে ? তবুও ছেলে মেয়েরা তা বোঝে না ।

  তখন আমার নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে । বরের সাথে বাসা বাড়িতে এসে উঠেছি । শহরের কোন কিছুই তেমন জানিনা । স্বামী বেরিয়ে গেলে সারাদিন একা ।  উনি তো ডাক্তার ছিলেন। সেভাবে কখনোই সময় দিতে পারতেন না । গ্রামে লোকজনের  মধ্য থেকে এসে , এখানে সম্পূর্ণ একা । কথা বলারও কোন লোক নেই। সবাই যেন খুব ব‍্যস্ত। তাছাড়া যেহেতু আমি গ্রামের মেয়ে , শহরের তেমন কিছু বুঝি না ,  তাই আমার স্বামী বার বার বল দিয়েছিলেন , সেলসম্যান বা অন্য কেউ এলে যেন দরজা না খুলি । এখানে নাকি এভাবে চুরি হয়। সেই ভয়ে আরো  কারো সাথে কথাই বলতাম না। গুটিয়ে থাকতাম নিজের মধ্যে।

  এমনই একদিন দুপুরবেলায় সব কাজ সেরে স্নান করে এসেছি। এমন সময় শুনি কলিং বেলের আওয়াজ। ভাবলাম উনি মনে হয় এসেছেন। অনেক সময় ম‍্যানেজ করে  সুযোগ পেলেই বাড়িতে চলে আসতেন , আমকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য । দৌড়ে ছুট্টে গিয়ে দরজা খুলতে গেলাম।  কিন্তু মনে পড়ে গেল  ;  "না দেখে দরজা খোলা যাবে না। "  স্বামীর সাবধান বানী  ।  তাই আইহোল দিয়ে উঁকি দিলাম। কাউকে দেখা গেলনা। আবার বেলের আওয়াজ। এবার দরজাটা একটু ফাঁক করে দেখি একজন বয়স্ক মহিলা ।  এই আমার মায়ের মতো বয়স হবে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে একটি পুঁটুলি। খুব ঘেমে আছে। দরজা খুলতে গিয়ে আবার মনে পড়ে গেল। এরকম সেজে আসে  কলকাতা শহরে চুরি করতে ।

বর অনেক বার সাবধান করে দিয়েছে। দরজা খোলা যাবে না।

আমি একটু ফাঁক করেই বললাম  ;"কে ? কি চাই?"

উনি বললেন ,; মা একটু জল হবে ? খুব জল পিপাসা পেয়েছে । "

আমি দরজা না খুলেই ফাঁকা দিয়ে এক গ্লাস জল এগিয়ে দিলাম।

উনি এগিয়ে এসে জলটা নিয়ে এক নিমেষে শেষ করে ফেললেন।

আহা রে ! বুড়ো মানুষ। রোদে রোদে ঘুরছে। খুব কষ্ট হচ্ছে মনে হয়।

আমি বললাম ; "মাসিমা তোমার বাড়ি কোথায় গো ? এদিকে কোথায় যাচ্ছো ? "

উনি বললেন;  " বাড়িটাই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি মা । পাচ্ছি না তো ? কোথায় যেন বাড়িটা ছিল ?"

তার মানে  ?  তুমি পথ হারিয়ে ফেলেছো ? বাড়ি চিনতে পারছো না ? সেকি ? এবার তাহলে কি হবে ?

উনি বললেন  ; " আমাকে একটু সাহায্য করবে ?  আমি সব ভুলে গেছি । কোথায় বাড়ি ? কি নাম আমার ?"

বললাম দাঁড়াও আমার বর তো ডাক্তার, অনেক কিছু জানে।অনেক লোককে চেনেও। দেখি তোমার বাড়ি খুঁজে দিতে পারে কিনা ?
 

এই বলে মাসিমাকে বসতে বলে আমি ভিতরে এসে আমার বরকে ফোন করলাম। এখনকার মতো তখন এতো মোবাইলের চল ছিল না। ল‍্যান্ডফোনে ফোন করতে হতো। ব‍্যস্ত থাকলে ধরতে পারতো না।কিন্তু আমার কপাল ভালো একবারেই ফোনটা ধরলো। আমার সব কথা শুনে উনি বললেন কোন ভাবেই যেন আমি দরজা না খুলি । ওদের নাকি গ‍্যং থাকে। এভাবেই ওরা চুরি করে। উনি বললেন চেষ্টা করছেন যতো তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িতে আসতে। আরো বললেন আমি যেন ওনার ছেলের  ফোন নাম্বার নিয়ে নেই।  কিন্তু উনি তো কিছুই মনে করতে পারছেন না।

ফিরে এসে দরজা ফাঁক করে দেখি মাসিমা কেমন যেন নেতিয়ে পড়েছে। ক্ষিদে পেয়েছে মনে হয়। যতোই আমার বর বলুক না কেন আমার কেমন যেন মায়া হলো

বললাম , "মাসিমা , কিছু খাবে ?
 
"উনি ক্লান্ত শরীরে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন;" ক্ষিদে তো পেয়েছে মা । কিন্তু তুমি তো আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না?"

ওনার কথায় লজ্জা পেয়ে গেলাম। সত্যিই আমি ওনাকে বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা উনি বুঝে গেছেন।  আসলে মাসিমাকে দেখে কোন ভিখারী বলেও মনে হচ্ছে না । পরনে জামা কাপড়, চেহারায় বেশ আভিজাত্য আছে । গরীব ঘরের বলেও মনে হচ্ছে না । সত্যিই হয়তো বাড়ি খুঁজে পাচ্ছেন না ।

কি করি এখন  ?  মনে মনে ভাবি  ;উনি বাড়িতে এলে না হয় দেখা যাবে। এখন ওনাকে কিছু বলার দরকার নেই   ।  অন্য ঘর গুলোতে তালা দিয়ে এই বসার ঘরে বসিয়ে মাসিমাকে একটু খাবার দিয়ে তাড়াতাড়ি উনি আসার আগেই বিদায় করে দেই। ততক্ষণে নিশ্চয় ওনার বাড়ির কথা মনে পড়ে যাবে।

এই ভেবে দরজা খুলে দিলাম।  উনি ভিতরে এসে বসলন । পাখা চালিয়ে দিলাম। একটু যেন স্বস্থি  পেলেন। 

দেয়ালে আমার বরের  ছবি দেখে  উনি বললেন " এই বুঝি তোমার বর ? খুব সুন্দর দেখতে তো !  তুমি আর তোমার বর  থাক এখানে ? ভারি মিষ্টি মেয়ে তুমি ।
  
বললাম ;হ‍্যাঁ ,আমরা দুজনেই এখানে থাকি । আমি সারাদিন একা থাকি । একটুও ভালো লাগে না । ওর তো সময় নেই। খুব একা লাগে। তবে আজকে একটু ভালো লাগছে। তুমি এসেছো। একটু কথা বলতে পারছি।

হঠাৎ মনে পড়ে গেল ,কেন এসব কথা বলছি আমি ? এরা তো ইনফর্মার হয় । এভাবেই খবর যোগাড় করে । আমার বর কতো সাবধান করে দিয়েছিলো আমাকে । আর আমি কিনা সব বলে দিচ্ছি ? কি বোকা আমি !  ধ‍্যাৎ !

একে তো ঘরে ঢুকিয়েছি । ও জানতে পারলে রাগ করবে । ঠিক এই সময় ফোনটা বেজে উঠলো ।

" হ‍্যালো ? কি খবর ? তোমার ঐ বুড়িটা গেছে তো ?"
 
  আমি আমতা আমতা করে বললাম ; " না মানে বসার ঘরে একটু বসতে দিয়েছি । একটু খাবার দেবো। এখনই চলে যাব।"

"সেকি ? তুমি ঘরে ঢোকালে ? বিপদ না বাড়িয়ে ছাড়বে না দেখছি ।এতো করে  সাবধান করলাম তাও ?  এদিকে আমার আজ একটা অপারেশন পড়ে গেছে । তাড়াতাড়ি আসতেও পারছি না । দেখো বাড়ির ঠিকানা বা ফোন নাম্বার কিছু বলে কিনা ? ছেলের নাম জিজ্ঞেস করো । নাহলে পুলিশে জানাতে হবে ।  খুব সাবধানে থাকো। আমি আসছি। "

আমারও যে ভয়  লাগছিল না তা নয়। তবে বেশ ভালোও লাগছিল। একজনের সাথে অন্তত কথা বলতে পারছিলাম। বললাম ;"  মাসিমা তোমার কয়টি ছেলেমেয়ে ? তাদের করো নাম মনে পড়ছে না ?  কিকরে তুমি বাড়িতে ফিরবে ? ওরা হয়তো তোমাকে খুঁজছে । "

"আচ্ছা তুমি কি আমাকে চলে যেতে বলছো ?  কিন্তু আমার তো কিছুই মনে পড়ছে না ? তাছাড়া বাইরে যা রোদ ! একটু রোদটা কমলেই আমি চলে যাবো । তুমি খেয়ে নাও । কোন ভয় নেই তোমার । আমি চোর না।  "

"না, না মাসিমা , সেকি ? আমি সে কথা বলছি না ।"-- তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম । আসলে কোথায় যেন আমার ও ভালো লাগছিল এই নির্জন দুপুরে , অচেনা এই মাসিমার সঙ্গে কথা বলতে । আমিও তো সারাদিন একা থাকি ।

  না, মাসিমাকে আমার ও খারাপ বলে মনে হচ্ছে না । তবুও সাবধানের মার নেই । ঘরে তালা দিয়ে আমি স্নান করতে গেলাম।ফিরে এসে দেখি  অবাক কান্ড। মাসিমা রান্নাঘরে ঢুকে সুন্দর করে থালা বাসন ধুয়ে খাবার বেড়ে ফেলেছেন। আমি তো অবাক। হঠাৎ যেন মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। মাও তো এভাবেই খাবার বেড়ে দিতো । কতদিন কেউ এভাবে খাবার বেড়ে দেয়নি। চোখে জল চলে এলো। দুজনে মিলে বেশ গল্প করতে করতে খেলাম।

কিছুক্ষন বাদেই বরের ফোন এলো । বলছে; " কিগো তোমার মাসিমা চলে গেছে ? নাকি এখনো আছে ?"

বললাম , না যায়নি । এই মাত্র খেয়ে উঠলাম আমরা।"

" তার মানে ?" তুমি ঘরে ঢুকিয়ে নিলে নাকি ? বাড়ির কথা কিছু বললো ? ইচ্ছা করে ভুলভাল বলছে নাতো ? তুমি সাবধানে থেকো। আমি কিছুক্ষনের মধ্যেই আসছি।" বলে ফোনটা কেটে দিল।

আজ চারটে বাজতে না বাজতেই ডাক্তার বাবু মানে আমার বর চলে এলো।  বেল বাজাতেই তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিলাম। উদ্বিগ্ন মুখে বলল ; "কোথায় তিনি ? " আমি বললাম , আস্তে বলো, শুনতে পাবে। রান্না ঘরে আছে। সেকি ! তুমি রান্না ঘরে ঢুকিয়ে নিয়েছো ? চিনি না শুনি না ।

আমি তাড়াতাড়ি বললাম ; "রাগ করোনা । হাত মুখ ধুয়ে নাও। তারপর খেতে খেতে কথা বলো ।"

হাতমুখ ধুয়ে বসার ঘরে এলেই গরম গরম চা আর বড়া ভাজা দিলাম। বললাম মাসিমা বানিয়েছে । "খেয়ে দেখ । কি সুন্দর। সারাদিন তো আমাকে কোন কাজই করতে দিলো না । সব নিজে করলো ।" উনি কিছু বলতে যাচ্ছিলেন । এমন সময় মাসিমা চলে এলো । বললাম ; মাসিমা এই আমার বর । ডাক্তার । তুমি বলো ; তোমার কি হয়েছে ?  চেষ্টা করো সব কিছু মনে করতে । তোমার ছেলের নাম, বাড়ি কোথায় ?  আমরা তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসবো।"

  উনি কেমন যেন একটু আনমোনা হয়ে পড়লেন। মুখটা ফ‍্যাকাসে হয়ে গেল।  আমার বর চুপিচুপি বলল  ; "এখনই পুলিশে খবর দিতে হবে। নাহলে রাত হলে বিপদ হতে পারে।"

এমন সময় মাসিমা বললেন ; "তোমাদের পুলিশে খবর দিতে হবে না। আমার সব মনে পড়ে গেছে । আমি চলে যেতে পারবো। "

কিন্তু কেমন যেন মায়া পড়ে গেছিল ওনার উপর।  তাই বললাম চলো গাড়িতে করে তোমাকে আমরা বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি। না হলে আবার যদি রাস্তা হারিয়ে যায় ? আর ছেলেকেও আচ্ছা মতো একটু বকে আসি । মাকে দেখে রাখতে পারে না? যদি কোন খারাপ লোকের পাল্লায় পড়তো ? "

মাসিমা রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে গেল । গাড়ি এসে থামলো "আনন্দ আশ্রমে"। আমি বললাম  ; "এটা তো বৃদ্ধাশ্রম । এখানে তোমার বাড়ি ?  "

মাসিমা বললেন;  -- "বাড়ির ঠিকানা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। এখন এটাই আমার ঠিকানা। আমার সব মনে ছিল। কিছুই ভুলিনি। ছেলে আমার বিদেশে চাকরি করে । বড় অফিসার। ওদের কাছে আমার জায়গা হয়নি। কিন্তু মন চায় তোমাদের মতো পরিবারে ছেলে, বৌ , নাতি, নাতনি নিয়ে থাকতে। তাই মাঝে মাঝে এভাবে বেরিয়ে পড়ি।  তোমাদের খুব টেনশন দিলাম সারাদিন। পারলে এই বুড়িটাকে ক্ষমা করো । " এই বলে  উনি গেট খুলে  আস্ত আস্ত ভিতরে চলে  গেলেন।  নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে দু'ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।

আজ সেই মাসিমার মতো আমিও একা ।  দিন কাটে তো রাত কাটে না । দুপুর হলে আমিও বেরিয়ে পড়ি একাকীত্ব দূর করতে  কোন পরিবারের খোঁজে   ------–---।

সমাপ্ত।

 
 


৪টি মন্তব্য:

  1. খুব সুন্দর লাগল। ধন্যবাদ। 👌💫💫💥💥💯💯

    উত্তরমুছুন
  2. ব্যথাতুর হৃদয়ে পড়া শেষ করলাম।মন খারাপ করা অপূর্ব লেখনী।আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষদের আগামী পরিণতি বোধহয় এমনই।

    উত্তরমুছুন
  3. একাকিত্ব মানুষকে অসহায় করে ।ভালো ❣ লাগলো

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...