#কলমে:_সৌগত*
জগদিশের তিনকুলে কেউ ছিলো না।আদর করে কেউ কোনোদিন খাওয়ায় নেই,তবুও রতনের বউ চম্পা বৌদি যখন টিফিনে রতনকে সোহাগ করে ইটখোলার পাশে ভাত বেড়ে দিতো, ইঁটের পাঁজারে বসে মুড়ি কাঁচালঙ্কা খেতে খেতে জগদীশ অপলক দৃষ্টিতে দেখতো আর ভাবতো এটাই বোধহয় ভালোবাসা।দিল্লীর চাঁদনী চক বাজারের পাশের বস্তিতে রতন দা পরিবার নিয়ে থাকতো।দুটো বাচ্ছা নিয়ে রতন দার সংসার।জগদীশ মাঝে মধ্যে ওঁদের ওখানে যেতো।ওঁদের সুখ দুঃখের কখন ও নিজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিল।2020 মার্চ মাসে ইঁট খোলা বন্ধ হয়ে গেলো সারা দিল্লী মহামারিতে ছেয়ে গেলো।সবার মত জগদীশ ও ঘর বন্দী, বে রোজগার।সবাই দেশে ফিরতে চায়,কিন্তু জগদীশ কোথায় যাবে ওর তো দেশ নেই।জন্মেছিল বেগুসরাই কিন্তু সেখানে এক দূর সম্পর্কের কাকা ছাড়া আর কেউ নেই।শ্যাম খবর দিলো রতন দা পরিবার নিয়ে অনাহারে রয়েছে, সোনারপুরে ওর গ্রামে ফিরে যেতে চায় কিন্তু যেতে পারছে না।জ্বর শরীর খারাপ কাশিতে শয্যাশায়ী।জগদীশ আর ঘরে চুপ করে থাকতে পারে না।সব কার্ফিউ উপেক্ষা করে রতনের বাড়ী যাবার মনস্থির করে।
একি চেহারা চম্পা বৌদির ,সেই রঙিন শাড়ি,মাথা ভর্তি সিঁদুর,কপালে টিপ কিছু নেই।সাদা থানে একটা পাথর বসে আছে দুটো বাচ্ছা খিদের জ্বালায় কাঁদতে কাঁদতে সেই পাথর মূর্তিকে আঁকড়ে ধরে আছে।রতন দা গতকাল করোনায় মারা গেছে।
ঘরের পাশে গাঁট বাঁধা দুটো পুটলি জগদীশ কাঁধে তুলে নেয়।একটা বাচ্ছা কাঁধে আর একটা কোলে তুলে নেয়।চম্পার কাঁধে হাত দেয়,চম্পার জমে থাকা কান্নাটা বুক ঠেলে বেরিয়ে আসে।অসহায় চম্পা সহায় সম্বলহীন জগদীশের হাত ধরে বাঁচার আশ্রয়ে পরিযায়ী অনির্দিষ্ট পথে জীবনের খোঁজে পাড়ি জমায়।
💐💐সমাপ্ত💐💐

খুব সুন্দর হয়েছে.... করোনা অতিমারির একটুকরো জীবন্ত দৃশ্য...👌👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ💐💐💐💐
মুছুনKhub sundar.👌👌💫💫💥💥
উত্তরমুছুনধন্যবাদ💐💐💐
উত্তরমুছুন