বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

# বিষয় -অনুগল্প - দহিজুড়ি

 #বিষয় - অনুগল্প।

#নাম - 'দহিজুড়ি'


শীতের কুয়াশামাখা প্রান্তর রাত্তিরের হিমশীতলতায় ছিল ঠায় দাঁড়িয়ে,আকাশের নক্ষত্রদের দিকে তাকিয়ে। সকালের রোদ্দুরে শরীর জুড়ে কুয়াশার চাদর আস্তে আস্তে  সরছে, মঞ্চের ড্রপসিন যেমন সরে সরে যায়।

     রবি ফসলের মরসুম। ধান চলে গেছে কৃষকের গোলা ভরাতে। সোনালী ধানের গল্প এখন ঘরে ঘরে।খই মুরকি, মোয়া,খেজুর রসের শালে শালে রূপান্তরের কাহিনিতে নলেন গুড়ের আসর লাগে গল্প দাদুর আসরের মত। কৃষক তার গোলায় ধান ভরে তোলার সাথে সাথে বলদ হাঁকিয়ে, কাঁধে লাঙ্গল চাপিয়ে রবি শষ্যক্ষেতে আসে দলে দলে। আলু, কপি, টমেটো, সর্শে, এবং কড়াই তার লতানে শরীরে ধরে রাখা শিশির জলে কৃষকের পা ধুইয়ে দিচ্ছে। আর রবি ফসলের জন্য সম্বর্ধনা দেয় সারিবদ্ধ কৃষক আসে যে যেমনভাবে। কৃষক পিঠে রোদ লাগিয়ে বীজ বোনে। চারাগাছ পোতে। ফসল-মিত্র স্যালো জলসত্র।জল নিয়ে আপন খুশির বেগে ছোটে ফসলের তৃষ্ণা মেটাতে,যার যার যেমন প্রয়োজনে।   

  কৃষক মহাজনের কাছে ঋণে করে ফসল বোনে। ফসল এত্তো এত্তো ফলে, কৃষকের আনন্দের সীমা আর যে ধরে না। তারপরে আসে কিন্তুর ঝড় ! জিজ্ঞাসা কী হবে এত্ত সব ফসলের? ফসল-ফোড়েরা রপ্ত করে কৃষক ঠকানোর বিদ্যা।

     ফসলের ফলন এতো বেশি কৃষকের কপালে উৎপাদিত মূল্য জোটে না। কৃষকদের বারমাস্যা যেইকে সেই।

     এতক্ষণ আমি যে আত্মকথা নিয়ে গড়গড়িয়ে বলে গেলাম, আমার পরিচয়ের সূত্রে আসি। টুকলিপোতা আমি। সহরের আস্ত লেজের শেষে আছি। অখ্যাত আমি। দহিজুড়ির দৌলতে আমি এক পার্শ্ব চরিত্র। দহিজুড়ির পরিচয়ে আমার পরিচয়কে ধন্য মনে করি। কোন বিখ্যাত জনের জন্য দহিজুড়ির এত নাম, তা সকলের জানা।  আমার শরীর ঝোরা ইস্তক কাহিনিতে আমি নিতান্তই এলেবেলে। আমি তার কেবল লাগোয়া। এতে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। একদিন দহিজুড়ির সঙ্গে মিশে গেলাম আমার অহং মুছে ফেলে।  আমার গায়ের গন্ধে কৃষকের অভিমান খুব বেশি পাবে। অভিমান কেন জানেন আমার ফসল নিংড়ে সহর যেন অহংকারে টগবগে টাট্টু। কনকদুর্গা আমার উপাসনালয়। বহিরাগত দর্শনার্থীদের আনাগোনার হট্টমেলা। মন্দিরে মায়ের পূজা পাঠ শেষে সহরকে এফোঁড় ওফোঁড় করে, আমার বুকের উপর দিয়ে যে রাজপথকে আশ্রয় দিয়েছি,তার উপর দিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে গন্তব্য লালজল, বেলপাহাড়ি হবেই। লক্ষ দ্রুত যাওয়া ও ফিরে আসার ফিসফিসিয়ে আলোচনার সাথে সাথে চোখ এদিক ওদিক ক্রমাগত ঘুরতে থাকবে আমার সবুজ আর সবুজের রূপের প্রশংসা করতে করতে, শেষ সীমা বেলপাহাড়ির দিকে হু হু হু করে ছুটে যাবেন। আর ফেরার পথে দহিজুড়িতে নামার কথা বলতে বলতে কখন আমাকে ছাড়িয়ে যাবেন টেরও পাবেন না। 

    দহিজুড়ি নামটা বেশ! এই শরীরের গন্ধ অনেক দিন থাকে, ঘরে ফিরে শুধু মানস নেত্রে দহিজুড়ি দেখতে পান। তাই তো গন্ধটা চারপাশে জড়িয়ে থাকে। দহিজুড়ির কৃষিখামার দেখার লোভ সামলাতে পারবেন না। কয়েক শ' বিঘা জুড়ে অবস্থান। আমার শরীর থেকে উৎপন্ন ফসল তুলে নিয়ে যায়  খামারটি। তা থেকে কত রকমের লেবেল এঁটে প্যাকেট খাবার বাজারে চলে যায়। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসার আমি পন্য। খামারের বিজ্ঞাপনে আমি এক ঝলক মুখ দেখাই। সকলে আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। ভাবছ এই নিয়ে আমার অহংকার হয়। না একটুও না। কৃষি আমার জৌলুস। এই কৃষি আমার মূল্যবোধের ভিত্তি। আর মূল্যবোধের জন্য আমার নয়নের মণি স্কুল। আমার অর্থনীতির এরা দুই স্থপতি। আর যা কিছুকে আমি অনুসারী ভাবি।

# কলমে ~ মৃদুল কুমার দাস।

 @ Copyright - (All copyright for reserved Mridul kumar Das.)

২টি মন্তব্য:

  1. আহা! কি অনবদ্য, অসামান্য এক গল্প যেনো ছোটবেলায় আমার নিজের গ্রামের সেই প্রতিচ্ছবি! দহিজুড়ি নামটাও বেশ 👌👌👌

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...