#বিষয়- 'জীবন চর্চা'
# নাম - ' শিবরাম চক্রবর্তী স্মরণে'
মালদার চাঁচল বিখ্যাত অনেক কারণেই। অন্যতম কারণ শিবরাম চক্রবর্তী ও রাজা ঈশ্বর গুপ্ত। রাজার দুই স্ত্রী। সিদ্ধেশ্বরী ও ভূতেশ্বরী। অপুত্রক অবস্থায় রাজার মৃত্যু হয়। তখন সিদ্ধেশ্বরী বোন বিন্ধ্যেশ্বরীর ছেলে শিবপ্রসাদকে দত্তক নেন। শিবপ্রসাদের পুত্র শিবরাম চক্রবর্তী।
শিবপ্রসাদের সংসারে মন বসে না। বাউন্ডুলে। সংসারে থেকেও সন্যাসী। ইচ্ছে হলেই আধ্যাত্মিক ভাবের টানে বেরিয়ে পড়তেন। মা বিন্ধ্যেশ্বরীও অনুরূপ আধ্যাত্মিক জগতের বাসিন্দা। বাবা ও মায়ের সন্তান হয়ে শিবরাম কি আর ব্যতিক্রমী স্বভাবের হতে পারেন? শিবরামও ছোট্ট থেকেই বাড়ি ছেড়ে কোথায় পালাতেন কেউ জানতেন না। তাই নিয়ে পরিণত বয়সে লিখেছিলেন একটি উপন্যাস 'বাড়ি থেকে পালিয়ে'। যার কাহিনি নিয়ে ঋত্বিক ঘটক সিনেমা করে ছিলেন।
শিবরাম চক্রবর্তী নিজের নামের মধ্যে একটা চির এক অমিমাংসিত দ্বন্দ্ব নিয়ে বলতেন-
".... নামের প্রথম অংশ শিব,যাঁর অনুচর ভূত-প্রেত। পরের অংশ রাম,ভূত-প্রেত তাড়ানোর জন্য যাঁকে ডাকা হয়। আমাকে সারাজীবন এই টানাপোড়েন নিয়ে চলতে হয়।"
সকলে ডাক্তার,উকিল হওয়ার স্বপ্ন দেখুক, বাব্বা যা ঝক্কি! শিবরাম স্বপ্ন দেখেন খুব বড় দেশপ্রেমিক হবেন। একদিন তো স্কুলের মাষ্টার মশাইয়ের কাছে একটা আস্ত রচনা লিখে ফেললেন বড় হয়ে কি হতে চান বিষয় নিয়ে। সেই কথা জানাজানি হতেই সহপাঠী সতীশ তাঁকে বিপ্লবী দলে ভিড়িয়ে নিলেন। সপথ করিয়েও নিলেন মরতে ভয় নেই। প্রমাণ দিতে তাই একদিন এক সভায় এক সাহেবকে গুলি করে মারার দায়িত্ব পড়ল। পকেটে পিস্তল ভরে দেওয়া হল। আর কথা ছিল সাহেবকে গুলি করে মারার পর নিজেও যেন মরতে ভয় না পান। তাই হবে।
মঞ্চে যেইনা সাহেব উঠেছেন,অমনি দর্শক আসন থেকে শিবরাম উঠে দাঁড়ালেন। পিস্তল বের করার জন্য সবে পকেটে হাত ঢুকিয়েছন, অমনি মাইকে ঘোষিত হল-
'শিবরাম চক্রবর্তী মঞ্চে এসো, উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইতে হবে।'
সেদিনের সেই ঘটনা তিনি পরে খুব মজা করে বলেছিলেন, সাহেবের বিরুদ্ধে gun ধরার বদলে সাহেবের জন্য গান ধরতে হল।
এই ঘটনার কিছুদিন পর চাঁচলে সভা করতে এলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। দেশবন্ধুর ভাষন শুনে এমনই মুগ্ধ হলেন, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। দেশবন্ধুর ফেরার ট্রেনে শিবরামও সটান উঠে বসলেন। দেশবন্ধুর সহযাত্রী হলেন। কলকাতা অত বড় সহর। খাওয়া পরার সমস্যার ভরসা হলেন দেশবন্ধু।
দেশবন্ধু তাঁকে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছলেন। দেশবন্ধু তাঁকে তুললেন এক মেসে। ঐ মেসটি ছিল কেবল অল্পবয়সী স্বদেশীদের। তারা স্কুলে যায়, চরকা কাটে, নানা হাতের কাজ শেখে। শিবরামেরও তাই গতি হল।পড়াশোনার সাথে সাথেই দেশসেবার নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হলেন। কিন্তু পড়াশোনায় মন বসে না। পড়াশোনার জন্য একদিন দেশবন্ধুতো মেস ম্যানেজারকে দশটা টাকা দিয়েছেন বই,কলম খাতাপত্র কিনে দেওয়ার জন্য। অমনি সেই টাকা মেস ম্যানেজারকে পটিয়ে পাটিয়ে হাতান। আর দুদিনেই সেই টাকায় সিনেমা, রাবড়ি,চপ, কাটলেট খেয়ে উড়িয়ে দেন। ম্যানেজারের সে কি ধমক! সে যাত্রায়ও ত্রাতা সেই দেশবন্ধু। তবে তাঁকে মেস ছাড়তে হয়েছিল, আর সব ছেলেরা এহেন বখাটের সংস্পর্শে বখে যাবে এই বদনামের ভাগিদার হয়ে। ত্রাতা যেখানে দেশবন্ধু তার আবার চিন্তা কিসের। স্কুল পাস করেছিলেন দেশবন্ধুর কড়া নির্দেশে।
ম্যাট্রিক পাস করে স্বদেশী আন্দোলনের হোল টাইমার হয়েছিলেন। এজন্য তাঁকে বেশ কয়েকবার জেলে যেতেও হয়। জেল ফেরত বাবুর দুবেলা খাওয়া জুটত মার্বেল প্যালেসের প্রতিষ্ঠাতা রাজেন মল্লিকের লঙ্গরখানায়। আর রাতে শুতেন ঠনঠনিয়া কালিমন্দিরের সামনের ফুটপাথে। শুরু করলেন খবরের কাগজ ফেরির। হেদুয়া, শ্যামবাজার, বউবাজার,গোলদিঘি ঘুরে ঘুরে কাগজ ফেরি করে বেড়ান। তাতেও কি স্বস্তি! যেখানে যান কাগজ ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে খুব টক্কর দিতে হয়। কেবল রবিবার সে হ্যাপা ছিল না। ফেরিওয়ালারা কাগজ ততটা তুলত না। শিবরাম চক্রবর্তী এই দিনটিকে বেশি কাজে লাগাতেন। তিনি রবিবার সকালে ততটা কাগজ ফেরি না করে সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার সিনেমা হলের বাইরে সন্ধ্যার শোয়ে কাগজ নিয়ে দাঁড়াতেন। সকলে বাংলা,হিন্দি,উর্দুর যেকোনো একটা কাগজ কিনে হলে ঢুকতেন। শিবরাম নিজের জন্য আলাদা করে একটা কাগজ সরিয়ে রেখে বাকি সব নিমেষে বিক্রি করে দিতেন। প্রত্যেকের কাগজ লাগত হলের চেয়ারগুলোতে ছারপোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। কাগজ না পেতে বসলে উপায় ছিল না বলে। সিনেমার টিকিট আগেই কেটে রাখতেন তিনি। কাগজ বিক্রি শেষ হলে নিজে হলে ঢুকতেন।
কাগজ বিক্রির সূত্রে কাগজ ওয়ালাদের খুব নজরে পড়লেন। তা থেকেই দৈনিক বসুমতীর সম্পাদক হেমেন্দ্র প্রসাদ ঘোষ তাঁকে বসুমতীতে লেখালেখির কাজে নিয়ে নিলেন। অর্থাৎ কাগজের ফেরিওয়ালা হচ্ছেন কাগজের লেখক। এমন দৃষ্টান্ত বাংলা সাহিত্যের লেখকদের জীবনী ঘাঁটলে অন্তত দেখা যাবে না।
শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তিনি ছিলেন খুব ভক্ত। ভক্তিতে গদগদ হয়ে একদিন তো কথাশিল্পীর 'দেনাপাওনা' উপন্যাসের নাট্যরূপ দিলেন 'ষোড়শী' নামে। ভারতী প্রত্রিকায় নাটকটি ছাপা হল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে,কারণ প্রত্রিকা বেশি বিক্রি হবে এই যুক্তিতে। তাই তিনি মানলেন। নাটকটি খুব খ্যাতি পেল। মঞ্চস্থ করার জন্য ধরলেন নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ীকে। ভাদুড়ী মশায়তো নাটকটি পড়ে উচ্ছ্বসিত। নাটকটি মঞ্চস্থ হল। শুরু থেকেই সুপারহিট। হাউস ফুল। বেশ রমরমিয়ে চলছে। শিবরাম শিশির বাবুকে কিছু টাকা দিতে বললেন,দেনার দায়ে জর্জরিত অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য। শিশির বাবু নাটকের বেনিফিট শো-এর দিন আসতে বললেন। শিবরাম গেলেন শো শেষে সাজঘরে। হাত পাততেই শিশির বাবু বললেন,'দেরি করে ফেললেন। আজ টিকিট বিক্রির সব টাকা শো শেষ হতেই শরৎবাবু এসে সব নিয়ে চলে গেলেন।' হতবাক শিবরাম বলেছিলেন-
'সে কি! আপনি বললেন না আমার কথা!'
শিশির ভাদুড়ী তখন বললেন-
'বলেছিলাম। শরৎ বাবু শুনে বললেন, না, না। এই বেনিফিট নাইটের বখরা ওকে দিতে যাব কেন? এ রাত্তিরে টিকিট বিক্রি হয়েছে আমার নামে।এর মধ্যে শিবরাম আসছে কোথা থেকে।এই বলে টাকার থলে নিয়ে বেশি তাড়াতাড়ি চলে গেলেন শরৎ বাবু। হয়তো আপনার মুখোমুখি যাতে না হতে হয় সেই জন্যই।'
শিশির বাবুকে এর জন্য দায়ী করে, নাট্যাচার্যের মাদকাসক্তিকে ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন-
'তুমি শিশির নও,তুমি বোতলের।'
এই ঘটনার শেষ দেখতে ও ব্যপারটির হেস্তনেস্ত করতে তিনি শরৎ বাবুর বাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করেছিলেন। অতিথি আপ্যায়নতো দূরের কথা,স্তাবক পরিবৃত শরৎ বাবু সবার সামনে স্তাবক অবিনাশকে দিয়ে খুব অপদস্ত করেন। আর প্রিয় পোষ্য কুকুর ভেলি মনিবের আস্থা বজায় রাখতে শিবরাম বাবুকে একদম বাড়ির বাইরে বের করে আসে। এর কিছুদিন পর ভেলি মারা যায়। সেই খবর সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হলে, শিবরাম চক্রবর্তী টিপ্পনী কেটে বলেন, 'ভেলির মৃত্যু নেই,ভেলি অবিনাশ।' সেই সাথে শরৎ বাবুর প্রতি ভক্তি চিরতরে বিদায় নেয়।
কলকাতায় পা দিয়ে মেস, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মেস বাড়ি ছিল তার একমাত্র ঠিকানা। ঠিকানা মুক্তারাম স্ট্রিট। আসবাব বলতে একটিমাত্র তক্তাপোষ। চির অকৃতদার। ঘরের দেয়ালে দেয়ালে অজস্র নাম ঠিকানা, আর ফোন নম্বর। এহেন উদ্ভট আচরণের যুক্তি খাতা হারিয়ে যেতে পারে কিন্তু দেওয়াল হারানোর কোনো সুযোগ নেই।
একদিন এক সন্ধ্যায় একটা ধূপকাঠিওয়ালার ছদ্মবেশে এক চোর এল তাঁর ঘরে। গোটা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোথাও কোনো কিছুই পেল না। খালি হাতে ফিরে গেল।
শিবরাম বাবু ঘরে ঢুকেই দেখলেন জামাকাপড়, কম্বল, বালিশ সব তছনছ। আর তক্তাপোষের উপর রাখা একটি দশ টাকার নোট,এক প্যাকেট ধূপকাঠি এবং একটি চিঠি। চিঠিতে লেখা -
'ভাই তোমার ঘরে চুরি করতে এসে দেখলাম তোমার অবস্থা আমার থেকেও খারাপ। কাজকম্ম বোধয় কিছুই করো না। এই দশটা টাকা রেখে গেলাম। এই টাকায় এই কোম্পানির ধূপকাঠি কিনে ফেরি কোরো। এইভাবে কতদিন চলবে? আমার পরামর্শ মানলে জীবনে অনেক উন্নতি করবে।'
আরেকটি ঘটনা। কলকাতায় জাপানি বোমা পড়ার ভয়ে সৌখিন নাগরিক সবের শহর ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। শিবরাম চক্রবর্তীর মেষও একেবারে শূন্য। তিনি একা। একদিন এক পুলিশ এসে বললেন -
'জাপানিরা এসে পড়লো বলে। আপনি একা পড়ে আছেন।'
উত্তরে তিনি বললেন -
'আমরা লেখক। যেই আসুক আমাদের কোনো অসুবিধে নেই। যখন মুঘলরা এসেছিল তখন আমরা ডানদিক থেকে বাঁদিকে লিখতাম, এরপর ইংরেজরা এল আমরা বাঁদিক থেকে ডানদিকে লিখতে শুরু করলাম, এবার যদি জাপানিরা আসে আমরা উপর থেকে নিচে লিখব।'
ভাগ্যে কানাকড়ির খুব অভাব। তাই টাকার জন্য ঘোড় দৌড়ের রেসের মাঠ খুব পছন্দের ছিল। যদি একটা জ্যাকপট মেরে দিতে পারেন তাহলে কপাল খুলে যাবে, সেই আশায়। প্রকাশক এম.সি.সরকারের কর্ণধার সুধীর চন্দ্র সরকার শিবরাম চক্রবর্তীকে খুব ভালোবাসতেন। দুজনের হয়ে টাকা লাগাতে দিতেন সরকার মশাই। রেসখেলা তাঁর খুব প্রিয় ছিল। ঘোড়া তাঁর অত্যন্ত প্রিয় প্রাণী ছিল। ঘোড়া তাঁর অনেক গল্পে তাই এসেছে। যেমন দুটি বিখ্যাত গল্প 'ঘোড়ার সঙ্গে ঘোরাঘুরি' ও 'পঞ্চাননের ঘোড়া'। অথচ তিনি সঞ্চয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন। যত্র আয় তত্র ব্যায়ে বিশ্বাস করতেন বলে, কোনো দিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেননি। নগদে প্রকাশকদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। সকলের বিরক্তির পাত্র হয়েও কোনো দিন ভ্রুক্ষেপ করতেন না।
আরো এক মজার ঘটনা। শিশু সাহিত্যিক অখিল নিয়োগী(স্বপন বুড়ো)-র উদ্যোগে জোড়াসাঁকোয় রবীন্দ্রমঞ্চে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে। মঞ্চে শিবরাম। পাশে স্বপন বুড়ো। মানপত্র পড়া হল। একে একে বক্তারা বক্তব্য রাখলেন। শেষে পাশে বসে থাকা স্বপন বুড়োকে বলছেন -
' মানপত্র নিয়ে আমি কী করবো? দেওয়ালে পেরেকই নেই।'
স্বপন বাবু বললেন-
'সে পেরেক আমরা লাগিয়ে দেব।'
শিবরাম বললেন -
'এত হাঙ্গামা না করে রাবড়ি আনানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়, খুব খিদে পেয়েছে।'
রাবড়ি এল। মঞ্চে বসেই তিনি মনের আনন্দে খেলেন। আরো কতশত মজাদার ঘটনা, বলে শেষ করা যাবে না।
লোককে বেশি বিশ্বাস করতেন বলে বেশি ঠকতেন। আয়ু যত কমছে স্মৃতি শক্তি ক্রমে দুর্বল হচ্ছিল। জীবন কপর্দকশূন্য।
আর বলতেন -
'জিনিসপত্র সব বাঁধা হয়ে গেছে। এবার একটা ট্যাক্সি ডাকলেই চলে যাব।'
তাঁকে ঠকানোর লোকেরও অভাব হত না। প্রকাশকরাই বেশি ঠকিয়েছে। শেষদিকে সরকার তাঁর চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য মাসে মাসে যে ছ'শ টাকা দিত তাও পাড়াতুতোরা হাতিয়ে নিত।
হঠাৎ একদিন বাথরুমে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে সারারাত ধরে পড়ে ছিলেন সেখানেই। পরদিন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান। কোনো আত্মীয় স্বজন না নিতে আসায় হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকেন। মর্গে মৃতদেহ তখন ঠাসা। বাদল বসু আইনি জটিলতা কাটিয়ে মর্গে লাসের পর লাস উল্টে পাল্টে অনেক কসরতের পর শিবরাম চক্রবর্তীকে সনাক্ত করেন। সৎকার সম্পন্ন করেন বাদল বসু।
#কলমে ~ মৃদুল কুমার দাস।
Copyright reserved for Mridul Kumar Das
বাহ্, অপূর্ব👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনুপ্রাণিত।🌻🌻💐💐
উত্তরমুছুনঅতুলনীয়,,,,,,, খুব ভালো লাগলো 👌👌👌💐💐💐😊😊😊
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। অনুপ্রাণিত।🌻🌻💐💐
মুছুনDarun sundor 👌👌👏👏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। 🌻🌻💐💐
মুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।🌻🌻💐💐
মুছুনসুন্দর, মনোরম। খুব ভালো লেগেছে।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।🌻🌻💐💐
মুছুন