বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

বর্তমান যুগে মহাকাব্য আর রচিত হয় না কেনো (প্রবন্ধ) (পিয়ালী চক্রবর্তী)

 #বিষয়_বর্তমান_যুগে_মহাকাব্য_আর_রচিত_হচ্ছে_না_কেন

#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী



যে কাব্যে দেব - দেবী বা অসাধারণ গুণী মানুষের কিংবা একই বংশের এক বা বহু রাজা-বাদশাহের বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়, তা মহাকাব্য নামে পরিচিত। 


মহাকাব্য রচনাকারী কবি 'মহাকবি' আখ্যা পেয়ে থাকেন। দেবতা বা দেবতুল্য মানবের বৃত্তান্ত নিয়ে এক বিশেষ পন্থায় রচিত বৃহৎ কাব্য রচনাকে 'মহাকাব্য' নামে অভিহিত করা হয় । 


মহাকাব্যে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী ও তার পরিবর্তন বর্ণিত থাকে এবং এতে কমপক্ষে আটটি কিংবা ততোধিক সর্গ বা খণ্ড থাকে। উদাহরণ - রামায়ণ, মহাভারত, মেঘনাদবধ ইত্যাদি। 


আজকালকার যুগে মহাকাব্য রচনা হচ্ছে না তার কারণ বিভিন্ন । যেমন -


●মহাকাব্যের নায়ককে হতে হয় পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক আদর্শ নায়ক । ইদানিং কালে সেই ধরণের পৌরাণিক বা মনে দাগ কাটার মতো ঐতিহাসিক চরিত্রই বা কোথায় । 


●মহাকাব্যের বিষয়বস্তু হবে পৌরাণিক ইতিহাস আশ্রিত অথবা সত্য ঘটনানির্ভর । সেই ধরণের ঘটনা আজকাল বিরল ।


●মহাকাব্য লেখার জন্য যে নিষ্ঠা, ভক্তি, ধৈর্য্য, জ্ঞান, বিবেক, উপলব্ধির প্রয়োজন তা আধুনিকযুগের কবিদের মধ্যে পাওয়া সম্ভব নয় । তারা যথেষ্ট ভালো লিখলেও, কেউ মহাকবি হবার যোগ্য নন ।


●মহাকাব্য কেউ সাহস করে রচনা করতে চাইবেনও না, কারণ, এখন আমরা অণুগল্প, অণুকবিতার যুগে এসে পৌঁছেছি । কেউ রচনা করতে উদ্যম পাবেন না, কারণ অতো দীর্ঘ রচনা পড়বার এখন কারোর ধৈর্য্য বা সময় নেই ।


●স্বর্গ-মর্ত-পাতাল এই তিনলোকের সমারোহ থাকবে একটি মহাকাব্যে । কিন্তু, এখনকার দিনে মানুষের মধ্যে সেই ঈশ্বর ভক্তি বা ঈশ্বরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকেছে । আমরা কতজন হলফ করে বলতে পারি যে, আমরা রামায়ণ বা মহাভারতের কতটা পড়েছি!!!বিশ্বাসহীনতা-ভক্তিহীনতায় ভোগা মানুষ মহাকাব্যের প্রতি উদাসীন ।


●মহাকাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ, মিলন-বিরহ ইত্যাদির বর্ণনা থাকে । এখনকার দিনের যে যুদ্ধ, তা মহাকাব্যে স্থান পাবার যোগ্য নয় । যোগ্য যুদ্ধপটভূমি না থাকায় মহাকাব্য রচনা সম্ভব নয় । এখনকার দিনে মিলন-বিরহ ভগবানের (রাধা-কৃষ্ণের বা রাম-সীতার) মিলন বিরহের মতো খাঁটি নয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই । তাই মহাকাব্যে এর স্থান নেই । 


●মহাকাব্য রচনা হবে অলঙ্কারসজ্জিত এবং রসভাব সম্বলিত । অলঙ্কার শাস্ত্রের সমস্ত রস তথা শৃঙ্গার, বীর অথবা শান্তরসের প্রাধান্য থাকবে মহাকাব্যে । সেই ধরণের রসবোধ বর্তমান যুগের কোনো কবির মধ্যে দেখা যায়না ।


●মহাকাব্যের ভাষা ওজস্বী ও গাম্ভীর্য পূর্ণ হয়ে থাকে । ভাষার সেই জ্ঞান বর্তমান যুগের কবিদের মধ্যে বিরল । 


আমার মনে হয় উপরোক্ত কারণগুলির জন্য, বর্তমানে মহাকাব্য আর রচিত হয় না ।

© Piyali Chakravorty


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...